মধ্যবিত্ত পরিবার থেকেই চাঁদ ধরার স্বপ্নপূরণ! প্রথম মহিলা হিসেবে ইতিহাস রচনার পথে ক্রিস্টিনা

Nasa’s 2024 flight around moon : লড়াই করেই জয়ের পথে ক্রিস্টিনা কোচ, প্রথম মহিলা হিসেবে কীভাবে ইতিহাসে দোরগোড়ায় তিনি?

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
মধ্যবিত্ত পরিবার থেকেই চাঁদ ধরার স্বপ্নপূরণ! প্রথম মহিলা হিসেবে ইতিহাস রচনার পথে ক্রিস্টিনা

আক্ষরিক অর্থেই বামন হয়ে চাঁদ ধরার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি, অবশ্য স্বপ্ন পূরণের সবটুকু দায়ভারও তুলে নিয়েছিলেন নিজের কাঁধেই। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইটা চালিয়েছেন আজীবন, এবার প্রথম মহিলা মহাকাশচারী হিসেবে চাঁদে পা রাখতে চলেছেন ক্রিস্টিনা কোচ। ইতিহাস রচনার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এখন তিনি। মহাকাশ নিয়ে মানুষের মধ্যে চিরকালই একটা রহস্য রয়ে গিয়েছে। যে রহস্য জানার সাধ হয় ঠিকই তবে উন্মোচন করার সাহস সঞ্চয় করা মোটেই সহজ নয়। তবে সেই কঠিন কাজটাকে সহজ করার কাজই করেন মহাকাশচারীরা।

তবে এতদিন পর্যন্ত মহাকাশে যাওয়া, চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ অথবা চাঁদে পা রাখা, এসবের ওপরই কার্যত একাধিপত্য ছিল পুরুষদের, টিবে সেই একচেটিয়া আধিপত্যে এবার থাবা বসালেন একজন মহিলা মহাকাশচারী। নাসার তরফে প্রকাশ করা হয়েছে যে, আগামী বছরের অর্থাৎ ২০২৪ সালের চাঁদে অভিযানে এবার তিনজন পুরুষ মহাকাশচারীর সঙ্গে সফর সঙ্গী হতে চলেছেন ক্রিস্টিনা কোচও। আর এই ঘটনার হাত ধরেই ইতিহাসের পাতায় প্রথম মহিলা মহাকাশচারী হিসেবে নাম তুলে নেবেন তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চাঁদের গায়ে একফোঁটা আশ্চর্য আলোর বিন্দু! সন্ধ্যার আকাশে এ কোন অবাক করা দৃশ্য?

Unusual Light Spot Close to Moon : তার ঠিক কাছেই… ওটা কীসের আলো? চাঁদের একেবারে গায়ে গায়ে যেন লেগে রয়েছে সেই একফোঁটা আলোর বিন্দু।

চাঁদে মানুষের প্রথম পা পড়েছিল আজ থেকে ঢের বছর আগে। ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই মার্কিন মহাকাশচারী নীল আর্মস্ট্রং চাঁদের মাটিতে প্রথম মানুষ হিসেবে পা রাখেন। তার পর থেকে আরও অনেকেই চাঁদের উদ্যেশ্যে রওনা দিয়েছেন। অনেক রদ বদলও ঘটেছে অথচ এতগুলো বছরেও কোনও মহিলা মহাকাশচারীকে দেখা যায়নি এই পথে। তবে আশা করা যায়, ক্রিস্টিনা কোচের দেখানো পথ ধরে আগামীতে আরও অনেকেই এগিয়ে আসবেন স্বপ্ন পূরণের স্বাদ নিতে।

আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা-র উদ্যোগে সম্ভব হতে চলেছে এই ঘটনা। মহাকাশচারী ক্রিস্টিনা হ্যামক কোচকে চন্দ্রাভিযানে পাঠাচ্ছে নাসা। জানা গিয়েছে, আগামী বছরের চন্দ্রাভিযানের বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁকে নিযুক্ত করা হয়েছে। আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে ১৯৭২ সালে শেষ চাঁদের বুকে হেঁটেছিলেন অ্যাপোলো ১৭-এর কমান্ডার ইউজিনি সার্নান। তার পর থেকে এই দীর্ঘ বিরতি। অবশ্য এর মধ্যে নেপথ্যের গবেষণা থেমে থাকেনি। আর সেই চলতে থাকা গবেষণার হাত ধরেই এসেছে সুসময়। তাই আগামী দিনে মহাকাশ বিজ্ঞানকে আরো খানিকটা এগিয়ে নিয়ে যেতে আগামী বছরে নতুন একটি চন্দ্র অভিযানের কথা ঘোষণা করেছে নাসা। জানা গিয়েছে, টানা ১০ দিন ব্যাপী চলবে এই আর্টেমিস-২ অভিযান। এই অভিযানেই থাকবেন ক্রিস্টিনা কোচ। তবে তিনি একা নন, তাঁর সঙ্গে থাকছেন ভিক্টর গ্লোভার, গ্রেগরি রিড ওয়াইজম্যান এবং কানাডার জেরেমি হানসেন নামের তিন মহাকাশচারী। যদিও এই অভিযানে চারজনই হয়তো পা রাখবেন না চাঁদের বুকে তবে ঘুরে বেড়াবেন চাঁদের আশেপাশেই। স্পেস স্টেশন থেকে বিভিন্ন প্রযুক্তি পরীক্ষা করে দেখবেন, যাতে আগামী দিনে চন্দ্রাভিযানের পথ আরও সুগম হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে রওনা দেওয়ার কথা তাঁদের। ১০ দিনের সফর শেষে ফের পা রাখবেন পৃথিবীর মাটিতে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রযুক্তি-অর্থ-ক্ষমতা, সবেতেই এগিয়ে NASA, তবু কোথায় টেক্কা দিতে পারে ISRO?

Space Research: শুরুর দিকে অবশ্য ISRO নয়, নাম ছিল INCOSPAR অর্থাৎ ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কমিটি ফর স্পেস রিসার্চ।

এই সফরের হাত ধরে ইতিহাস রচনা হতে চলেছে মহাকাশের বুকে আর সেই ইতিহাস রচনার কান্ডারী যে মহিলা তাঁর বেড়ে ওঠা জ্যাকসনভিলে। প্রথমে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক এবং পরে নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর পাশ করেন ক্রিস্টিনা কোচ। এখানেই শেষ নয়, পাশাপাশি সাম্মানিক ডক্টরেটও পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি নাসার অধীনে কর্মরত তবে এর আগেও মহাকাশ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার মধ্যে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। আমেরিকার আন্টার্কটিকা অভিযানেরও অংশ ছিলেন।

কর্মজীবনের শুরুতে আন্টার্কটিকায় আমেরিকার গবেষণা কেন্দ্র পামার স্টেশনে কাটিয়েছেন এক বছর। এর পর জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স ল্যাবরেটরির মহাকাশ গবেষণা বিভাগে যোগ দেন ক্রিস্টিনা। পাশাপাশি পুরোদমে পড়াশোনার মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে রাখার জন্য টিউশন পড়াতেন। অতঃপর ২০০১ সালে নাসা অ্যাকাডেমি প্রোগ্রামে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন।

একেবারে ছাপোষা মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা ক্রিস্টিনার। তবে নিজেকে চার দেওয়ালের ওঠা পড়ার বাইরে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন সব সময়। জীবনের যা কিছু না পাওয়া নিজের কাজের মধ্য দিয়ে তাকেই পেতে চেয়েছেন তিনি। লড়াইটা অবশ্য প্রথমে খুব সহজ কিছু ছিল না তবে কঠিনের ভয় কোনদিনই করেননি ক্রিস্টিনা। তাই জোর কদমে চালিয়ে গিয়েছেন পড়াশোনা, পরবর্তী জীবনে গবেষণাও। এর আগেও নাসার মহাকাশ অভিযানে নিজের নাম প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে নাসার ২১তম মহাকাশ অভিযান ক্লাসের আট সদস্যের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ক্রিস্টিনা। এমনকী ২০১৫ সালে প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার মাত্র তিন বছরের মাথায় ২০১৮ সালে প্রথম বার ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে যাওয়ার সুযোগও কেড়ে নেন ক্রিস্টিনা। তাঁর এই অভিযানের প্রোফাইলে রয়েছে ৪২ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের স্পেসওয়াকও। এরপর সেই তালিকাতেই নতুন সংযোজন হতে চলেছে আগামী বছরের সফর। চন্দ্রাভিযানে শামিল হয়ে মুকুটে নতুন পালক যোগ করবেন ক্রিস্টিনা কোচ।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।