যাদবপুরের ছায়া খড়্গপুরে, কেন আত্মহত্যা ইঞ্জিনিয়রিং ছাত্রের?
IIT Kharagpur Student Death: ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছাত্রমৃত্যুর নজির রয়েছে আইআইটি কলেজগুলিতে। এই পাঁচ বছরে অন্তত ৯৮ জন ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে অন্তত ৩৯টিই আত্মহত্যার ঘটনা।

ফের অস্বাভাবিক ছাত্রমৃত্যুর ঘটনা ঘটল আইআইটি খড়্গপুরে। দিন কয়েক আগেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের এক পড়ুয়া-মৃত্যুর ঘটনাকে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা রাজ্য। তার পর সেই ছায়া আবার খড়্গপুরে। অবশ্য খড়্গপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনা কোনও নতুন কথা নয়। গত জুন মাসেই কেরলের এক পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছিল খড়্গপুর আইআইটি। তার রেশ কাটতে না কাটতে ফের এক ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল খড়্গপুর আইআইটি থেকে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে খড়্গপুর আইআইটির খ্যাতি দেশজোড়া। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু পড়ুয়া পড়তে আসেন খড়্গপুর আইআইটি-তে। তেলঙ্গানা থেকে সেখানে পড়তে এসেছিলেন কে কিরণ চন্দ্র নামে ওই পড়ুয়া। আইআইটি ক্যাম্পাসের লালবাহাদুর শাস্ত্রী হলে থাকতেন ওই ছাত্র। জানা যায়, রাত বারোটা নাগাদ হস্টেলের ঘরে ওই পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান অন্য পড়ুয়ারা। সঙ্গে সঙ্গে হইচই শুরু হয়ে যায়। পড়ুয়াকে উদ্ধার করে ক্য়াম্পাসের বিসি রায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
কলেজসূত্রের খবর, হাসপাতালে পৌঁছনোর পরেও কিছুক্ষণ বেঁচে ছিলেন কে কিরণ চন্দ্র নামে ওই ছাত্র। তবে চিকিৎসকেদের বহু চেষ্টা সত্ত্বেও বাঁচানো যায়নি তাঁকে। চিকিৎসা চলাকালীনই মারা যায় তেলঙ্গানার ওই যুবক।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Jadavpur University Ragging: বারবার, রোজ রোজ ঘটে এমন ঘটনা। দু-চারদিন আলোচনা হয়, তার পর সেই চর্চায় পলি পড়ে যায়। আবার কোনও স্বপ্নদীপের মৃত্যু তুলে দিয়ে যায় প্রশ্ন, ফের তা ধামাচাপা পড়ে যায়।
তেলঙ্গানার মেদক জেলার বাসিন্দা বছর বাইশের কে কিরণ চন্দ্র ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে এসেছিলেন খড়্গপুর আইআইটিতে। চতুর্থবর্ষের ছাত্র ছিলেন তিনি। কিরণের ভাইও একই কলেজের ছাত্র। জানা গিয়েছে, ভাইয়ের সামনেই মারা যান ওই পড়ুয়া। ইতিমধ্যেই কিরণের পরিবারকে গোটা ব্যাপারটি জানানো হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে, আত্মহত্যাই করেছেন কিরণ। ঠিক কী কারণে আত্মহত্যা, তার এখনও কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। কিরণের বন্ধুবান্ধব, সহ-আবাসিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Jadavpur University CCTV: প্রগতিশীলতার বা প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার নামে আসলে কী চলে এখানে? নজর রাখা দরকার।
খড়্গপুর আইআইটি-র মতো বিশ্বমানের একটি কলেজে বারবার ছাত্রমৃত্য়ুর ঘটনা কেন? স্বাভাবিক ভাবেই উঠে গিয়েছে প্রশ্ন। গত জুন মাসেই কেরলের তিরুঅনন্তপুরমের এক ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ক্যাম্পাসের ভিতরে। যা নিয়ে তোলপাড় হয়ে উঠেছিল কলেজ ক্য়াম্পাস। হস্টেলের ঘরে অসুস্থ বোধ করার পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত্য়ু হয় ওই পড়ুয়ার। তবে শুধু তিরুঅনন্তপুরমের বাসিন্দা দীপেনই নয়, গত বছর অক্টোবর মাসেও খড়্গপুর আইআইটি-র হস্টেল থেকে তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া ফৈজান আহমেদের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় সিআইডি তদন্ত বা সিট গঠনের দাবি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিল পরিবার।
আর এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার যে কোনও কমতি নেই খড়্গপুর আইআইটিতে, তা ফের প্রমাণ করে দিল কিরণ চন্দ্রের মৃত্যু। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছাত্রমৃত্যুর নজির রয়েছে আইআইটি কলেজগুলিতে। এই পাঁচ বছরে অন্তত ৯৮ জন ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে অন্তত ৩৯টিই আত্মহত্যার ঘটনা। আর তার মধ্যে বোধহয় প্রথম সারিতেই থাকবে খড়্গপুর। ব়্যাগিং থেকে শুরু করে পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ, মানসিক অবসাদ, নেপথ্যে রয়েছে অসংখ্য কারণ।
কিছুদিন আগেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে প্রাণ যায় বাংলা প্রথম বর্ষের পড়ুয়া স্বপ্নদীপের। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলের তিনতলা থেকে নিচে পড়ে মৃত্যু হয় তাঁর। সেই ঘটনায় ব়্যাগিংয়ের অভিযোগ তুলে সরব হয়ে ওঠা গোটা রাজ্য। ক্যাম্পাসে সিসিটিভি বসানোর দাবিতে তোলপাড় হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। অন্যদিকে একদল পড়ুয়া তার বিরোধিতায় সরব হয়। এই নিয়ে তোলপাড় হয়ে ওঠে গোটা রাজ্য-রাজনীতি। যাদবপুরের পর খড়্গপুর আইআইটি-তে ফের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে ফের।
















