পাটিয়ালা নেকলেস থেকে শুরু করে হিরের মুকুট, ভারতের সবচেয়ে দামী রাজকীয় গয়না কোনগুলি?

Indian most Expensive Jewels : ইতিহাসের পাতায় আজও মেলে হদিশ, এক ঝলকে দেখে নিন ভারতের রাজকীয় গয়নাগুলি...

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
পাটিয়ালা নেকলেস থেকে শুরু করে হিরের মুকুট, ভারতের সবচেয়ে দামী রাজকীয় গয়না কোনগুলি?

বৈচিত্রের কোনও নির্দিষ্ট যে ধরন হয় না, তার পরিচয় মেলে আমাদের এই ভারতবর্ষেই। উত্তরে কাশ্মীর থেকে শুরু করে দক্ষিণে কন্যাকুমারী, গোটা দেশ জুড়েই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ঐতিহ্যের খোঁজ। একদিকে প্রাচীন সৌধ, দুর্গ, প্রাসাদ, অন্যদিকে লড়াইয়ের গল্প সব মিলিয়ে আজও কাঁটা দেয় ভারতের ইতিহাস। বিভেদের মাঝে মহা মিলনের বার্তাও দেয়। প্রাচীন কাল থেকে ভারতেই এমন বেশ কিছু রাজকীয় পরিবারের গল্প শোনা যায় যারা তাদের শ্বাসরুদ্ধকর দূর্গ, প্রাসাদ এবং সর্বোপরি তাদের রত্ন ভান্ডারের মাধ্যমে রাজকীয়ভাবে তাদের বিশাল সম্পদের ঝলক দেখিয়ে এসেছে। কাশ্মীরি নীলকান্তমণি থেকে শুরু করে গোলকুন্ডার হিরে, ভারতীয় রাজপরিবারের সদস্যদের অধীনে রয়েছে বিশেষ বিশেষ কিছু গহনার সংগ্রহ যা বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল। আসুন এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক দেশের এমনি কিছু বিখ্যাত অলংকারের বিবরণ।

পাটিয়ালা রুবি চোকার

চোকার বলতে মূলত গলা বন্ধ একধরনের হারকে বোঝায়। আজকের দিনে বিবাহ অথবা অন্যান্য অনুষ্ঠানে ভোখার পরার চল আবারও ফিরে এসেছে। তবে ভারতের এই রাজকীয় বিশেষ চোকারটি তৈরি হয়েছিল ১৯৩১ সালে, কার্টিয়ার প্যারিস দ্বারা। এই অসাধারণ চোকারটি ছিল সম্পূর্ণ প্ল্যাটিনাম ধাতু দিয়ে নির্মিত। প্ল্যাটিনামের এই নেকলেসের ওপর রুবি, মুক্তা এবং হিরে সহ দামী দামী পাথর ব্যবহার করা হয়েছিল যাতে এর রূপ আরও বেড়ে যায়। নেকলেসটির ঠিক উপরের অংশে হিরে এবং পাশে মুক্তো সহ রুবির ছয়টি স্তর রয়েছে। নেকলেসের মাঝখানের অংশে মুক্তা সহ রুবি রয়েছে। এবং নেকলেসের নীচের অংশে ছিল মুক্তা এবং হিরের কাজ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সোনা-রুপোর সঙ্গে জোর টক্কর! কীভাবে ভারতীয় বাজারে এত জনপ্রিয় হয়ে উঠল অক্সিডাইস?

Trendy aluminium jewellery : একে সাশ্রয়ী, তায় আবার পরিবেশ-বান্ধব, কীভাবে ভারতীয় বাজারে জনপ্রিয় হয়ে উঠল অ্যালুমিনিয়াম গহনা

লাহোরের মহারাজা দুলীপ সিং-এর ডায়মন্ড সার্পেচ

শিখ সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট লাহোরের মহারাজা দুলিপ সিংকে সবসময় হিরে খচিত সারপেচ পরা অবস্থায় দেখা যেত। ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে আজও মেলে সেই ছবি। এই মূলত ছিল এক বিশেষ ধরনের পাগড়ি। যার তিনটি ভাঁজ সম্পূর্ণরূপে হিরে দিয়ে সজ্জিত এবং কেন্দ্রে একটি চকচকে পান্না রয়েছে। শুধু মহারাজার এই প্রতিকৃতিটি দেখেই যে কেউ সহজেই বলে দেবে যে কানের দুল থেকে শুরু করে একাধিক স্তরযুক্ত নেকলেস এবং বাজুবন্ধ, সমস্ত গহনাতেই ছিল অসাধারণত্ব-এর ছোঁয়া।

বরোদার সীতা দেবীর হিরের নেকলেস

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শাবল আর চেন দিয়ে মহিলাদের খুন! বর্ধমানের ত্রাস চেনম্যানের কাহিনি হার মানাবে সিনেমাকেও

Serial Killer Chainman: ব্যাগে ছিল একটি লোহার শাবল এবং একটি লোহার চেন। সেই চেনের দু'প্রান্তে বাঁধা ছিল রবার টিউব।

বরোদার মহারানী সীতা দেবীর গলায় থাকতো অসাধারণ একটি নেকলেস। ভারতীয় রাজকীয় গয়নাগুলির মধ্যে এটিও ছিল বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এটি ছিল চিত্তাকর্ষক ১২৮ ক্যারেট স্টার সমন্বিত ত্রিস্তরীয় দক্ষিণী হিরের একটি নেকলেস। শুধু তাই নয় এটিতে। ৭৮.৫ ক্যারেটের একটি ইংরেজি ড্রেসডেন হিরেও খচিত ছিল। পরবর্তীকালে বরোদার গায়কওয়ার মুলহার রাও, ৮০,০০০ পাউন্ড অর্থাৎ প্রায় ২০ মিলিয়ন INR-তে কিনে নেন এই দক্ষিণী স্টার হিরের কালেকশটি। তারও বেশ কিছুদিন পরে, এই গহনাটি মুম্বাইয়ের রুস্তমজী জামসেটজি কিনেছিলেন। অতঃপর ২০০২ সালে তিনি এটি কার্টিয়ের কাছে বিক্রি করেন।

পাটিয়ালা নেকলেস

পাটিয়ালার মহারাজা ভূপিন্দর সিংয়ের মালিকানাধীন পাটিয়ালা নেকলেসটিতে ছিল বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম হিরে। এই হিরেটি ১৮৮৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় খনন করা হয়েছিল। এভাবেই শুরু হয়েছিল হারানো পাটিয়ালা নেকলেসের বিখ্যাত গল্প। মহারাজার যখন ৩৪ বছর বয়স, তখন এই বৃহত্তম ডি বিয়ার্স হিরেটিকে একটি উত্তরাধিকারী অংশে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেন। যার ফলস্বরূপ তিনি কার্টিয়ারকে একটি আনুষ্ঠানিক নেকলেস তৈরি করার দায়িত্ব দেন যাতে ডি বিয়ার্স হিরেটিকে রাখতে বলেন এক্কেবারে মধ্যিখানে। ১৯২৮ সালে তৈরি করা শেষ হয়েছিল এই বিশেষ নেকলেসটি। পরবর্তীতে এটিই পাটিয়ালা নেকলেস নামে পরিচিত হয়। এটিতে মোট ২৯৩০টি হিরে এবং কিছু বার্মিজ রুবি দ্বারা অলঙ্কৃত প্ল্যাটিনাম চেইনের পাঁচটি সারি রয়েছে। এটি ছিল ভারতীয় ইতিহাসে তৈরি করা সবচেয়ে ব্যয়বহুল গহনা। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ত্রিশ মিলিয়ন ডলারের সমান।

কাপুরথালার মহারাজার হিরের মুকুট

একটি অসাধারণ হিরের মুকুট, একটি বারো স্ট্রিং বসরা মুক্তার নেকলেস এবং একটি বেজওয়ালা হিরের বেল্ট, এই ছিল কাপুরথালার মহারাজার সাজের মূল অনুষঙ্গ। প্রায় সবসময়ই তিনি এই বিশেষ গয়নাগুলো পরে থাকতেন। যদি তাঁর এই রত্নের প্রতি অনুরাগ কেবল সাজ বাহারেই সীমাবদ্ধ ছিল ভাবলে ভুল হয়, তাঁর কোষাগারের দিকে নজর করলেও মেলে রত্ন ভান্ডারের হদিশ। এছাড়াও মহারাজাকে প্রায়শঃই ঝালর যুক্ত সোনার ব্রোকেড এমব্রয়ডারি সহ একটি ঐতিহ্যবাহী শেরওয়ানি এবং স্টার অফ ইন্ডিয়া ব্রোচ পরতে দেখা যেত। এটি বিশেষ পোশাকটি ছিল ব্রিটিশ ক্রাউন দ্বারা নির্বাচিত ভারতীয় শাসকদের জন্য একটি সম্মান। ইতিহাসের পাতায় আজও সেই ছবি রয়েছে। যে প্রতিকৃতিটি দেখলেই সহজেই অনুধাবন করা যায় কীভাবে মহারাজা এই রাজকীয় গহনাগুলির প্রতি তাঁর পছন্দ, শৈলী এবং নকশার পাশাপাশি উপস্থাপনার দিক থেকেও গভীর নজর রেখেছিলেন।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।