পাটিয়ালা নেকলেস থেকে শুরু করে হিরের মুকুট, ভারতের সবচেয়ে দামী রাজকীয় গয়না কোনগুলি?
Indian most Expensive Jewels : ইতিহাসের পাতায় আজও মেলে হদিশ, এক ঝলকে দেখে নিন ভারতের রাজকীয় গয়নাগুলি...

বৈচিত্রের কোনও নির্দিষ্ট যে ধরন হয় না, তার পরিচয় মেলে আমাদের এই ভারতবর্ষেই। উত্তরে কাশ্মীর থেকে শুরু করে দক্ষিণে কন্যাকুমারী, গোটা দেশ জুড়েই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ঐতিহ্যের খোঁজ। একদিকে প্রাচীন সৌধ, দুর্গ, প্রাসাদ, অন্যদিকে লড়াইয়ের গল্প সব মিলিয়ে আজও কাঁটা দেয় ভারতের ইতিহাস। বিভেদের মাঝে মহা মিলনের বার্তাও দেয়। প্রাচীন কাল থেকে ভারতেই এমন বেশ কিছু রাজকীয় পরিবারের গল্প শোনা যায় যারা তাদের শ্বাসরুদ্ধকর দূর্গ, প্রাসাদ এবং সর্বোপরি তাদের রত্ন ভান্ডারের মাধ্যমে রাজকীয়ভাবে তাদের বিশাল সম্পদের ঝলক দেখিয়ে এসেছে। কাশ্মীরি নীলকান্তমণি থেকে শুরু করে গোলকুন্ডার হিরে, ভারতীয় রাজপরিবারের সদস্যদের অধীনে রয়েছে বিশেষ বিশেষ কিছু গহনার সংগ্রহ যা বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল। আসুন এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক দেশের এমনি কিছু বিখ্যাত অলংকারের বিবরণ।
পাটিয়ালা রুবি চোকার
চোকার বলতে মূলত গলা বন্ধ একধরনের হারকে বোঝায়। আজকের দিনে বিবাহ অথবা অন্যান্য অনুষ্ঠানে ভোখার পরার চল আবারও ফিরে এসেছে। তবে ভারতের এই রাজকীয় বিশেষ চোকারটি তৈরি হয়েছিল ১৯৩১ সালে, কার্টিয়ার প্যারিস দ্বারা। এই অসাধারণ চোকারটি ছিল সম্পূর্ণ প্ল্যাটিনাম ধাতু দিয়ে নির্মিত। প্ল্যাটিনামের এই নেকলেসের ওপর রুবি, মুক্তা এবং হিরে সহ দামী দামী পাথর ব্যবহার করা হয়েছিল যাতে এর রূপ আরও বেড়ে যায়। নেকলেসটির ঠিক উপরের অংশে হিরে এবং পাশে মুক্তো সহ রুবির ছয়টি স্তর রয়েছে। নেকলেসের মাঝখানের অংশে মুক্তা সহ রুবি রয়েছে। এবং নেকলেসের নীচের অংশে ছিল মুক্তা এবং হিরের কাজ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Trendy aluminium jewellery : একে সাশ্রয়ী, তায় আবার পরিবেশ-বান্ধব, কীভাবে ভারতীয় বাজারে জনপ্রিয় হয়ে উঠল অ্যালুমিনিয়াম গহনা
লাহোরের মহারাজা দুলীপ সিং-এর ডায়মন্ড সার্পেচ
শিখ সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট লাহোরের মহারাজা দুলিপ সিংকে সবসময় হিরে খচিত সারপেচ পরা অবস্থায় দেখা যেত। ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে আজও মেলে সেই ছবি। এই মূলত ছিল এক বিশেষ ধরনের পাগড়ি। যার তিনটি ভাঁজ সম্পূর্ণরূপে হিরে দিয়ে সজ্জিত এবং কেন্দ্রে একটি চকচকে পান্না রয়েছে। শুধু মহারাজার এই প্রতিকৃতিটি দেখেই যে কেউ সহজেই বলে দেবে যে কানের দুল থেকে শুরু করে একাধিক স্তরযুক্ত নেকলেস এবং বাজুবন্ধ, সমস্ত গহনাতেই ছিল অসাধারণত্ব-এর ছোঁয়া।
বরোদার সীতা দেবীর হিরের নেকলেস
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Serial Killer Chainman: ব্যাগে ছিল একটি লোহার শাবল এবং একটি লোহার চেন। সেই চেনের দু'প্রান্তে বাঁধা ছিল রবার টিউব।
বরোদার মহারানী সীতা দেবীর গলায় থাকতো অসাধারণ একটি নেকলেস। ভারতীয় রাজকীয় গয়নাগুলির মধ্যে এটিও ছিল বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এটি ছিল চিত্তাকর্ষক ১২৮ ক্যারেট স্টার সমন্বিত ত্রিস্তরীয় দক্ষিণী হিরের একটি নেকলেস। শুধু তাই নয় এটিতে। ৭৮.৫ ক্যারেটের একটি ইংরেজি ড্রেসডেন হিরেও খচিত ছিল। পরবর্তীকালে বরোদার গায়কওয়ার মুলহার রাও, ৮০,০০০ পাউন্ড অর্থাৎ প্রায় ২০ মিলিয়ন INR-তে কিনে নেন এই দক্ষিণী স্টার হিরের কালেকশটি। তারও বেশ কিছুদিন পরে, এই গহনাটি মুম্বাইয়ের রুস্তমজী জামসেটজি কিনেছিলেন। অতঃপর ২০০২ সালে তিনি এটি কার্টিয়ের কাছে বিক্রি করেন।
পাটিয়ালা নেকলেস
পাটিয়ালার মহারাজা ভূপিন্দর সিংয়ের মালিকানাধীন পাটিয়ালা নেকলেসটিতে ছিল বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম হিরে। এই হিরেটি ১৮৮৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় খনন করা হয়েছিল। এভাবেই শুরু হয়েছিল হারানো পাটিয়ালা নেকলেসের বিখ্যাত গল্প। মহারাজার যখন ৩৪ বছর বয়স, তখন এই বৃহত্তম ডি বিয়ার্স হিরেটিকে একটি উত্তরাধিকারী অংশে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেন। যার ফলস্বরূপ তিনি কার্টিয়ারকে একটি আনুষ্ঠানিক নেকলেস তৈরি করার দায়িত্ব দেন যাতে ডি বিয়ার্স হিরেটিকে রাখতে বলেন এক্কেবারে মধ্যিখানে। ১৯২৮ সালে তৈরি করা শেষ হয়েছিল এই বিশেষ নেকলেসটি। পরবর্তীতে এটিই পাটিয়ালা নেকলেস নামে পরিচিত হয়। এটিতে মোট ২৯৩০টি হিরে এবং কিছু বার্মিজ রুবি দ্বারা অলঙ্কৃত প্ল্যাটিনাম চেইনের পাঁচটি সারি রয়েছে। এটি ছিল ভারতীয় ইতিহাসে তৈরি করা সবচেয়ে ব্যয়বহুল গহনা। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ত্রিশ মিলিয়ন ডলারের সমান।
কাপুরথালার মহারাজার হিরের মুকুট
একটি অসাধারণ হিরের মুকুট, একটি বারো স্ট্রিং বসরা মুক্তার নেকলেস এবং একটি বেজওয়ালা হিরের বেল্ট, এই ছিল কাপুরথালার মহারাজার সাজের মূল অনুষঙ্গ। প্রায় সবসময়ই তিনি এই বিশেষ গয়নাগুলো পরে থাকতেন। যদি তাঁর এই রত্নের প্রতি অনুরাগ কেবল সাজ বাহারেই সীমাবদ্ধ ছিল ভাবলে ভুল হয়, তাঁর কোষাগারের দিকে নজর করলেও মেলে রত্ন ভান্ডারের হদিশ। এছাড়াও মহারাজাকে প্রায়শঃই ঝালর যুক্ত সোনার ব্রোকেড এমব্রয়ডারি সহ একটি ঐতিহ্যবাহী শেরওয়ানি এবং স্টার অফ ইন্ডিয়া ব্রোচ পরতে দেখা যেত। এটি বিশেষ পোশাকটি ছিল ব্রিটিশ ক্রাউন দ্বারা নির্বাচিত ভারতীয় শাসকদের জন্য একটি সম্মান। ইতিহাসের পাতায় আজও সেই ছবি রয়েছে। যে প্রতিকৃতিটি দেখলেই সহজেই অনুধাবন করা যায় কীভাবে মহারাজা এই রাজকীয় গহনাগুলির প্রতি তাঁর পছন্দ, শৈলী এবং নকশার পাশাপাশি উপস্থাপনার দিক থেকেও গভীর নজর রেখেছিলেন।
















