হোটেলে খালি কাশির সিরাপের বোতল! নিজের ৪ বছরের সন্তানের সঙ্গে ঠিক কী করেছিলেন মা?
Goa Murder Case : স্বামীকে প্রতি রবিবার ছেলের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়ার আদালতের আদেশে অসন্তুষ্ট ছিলেন সূচনা।

পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে, ৪ বছরের শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তাও হাত দিয়ে নয়, বালিশ বা কাপড় জাতীয় কিছু দিয়ে মুখ টিপে। অথচ বেঙ্গালুরুর সিইও সুচনা শেঠ, অর্থাৎ শিশুটির মা বলছেন হত্যা তিনি করেননি। তাহলে শিশুর লাশ ব্যাগে ভরে তিনি যাচ্ছিলেন কোথায়? এমন অজস্র প্রশ্নের মুখে পুলিশকে এনে দাঁড় করিয়েছে উত্তর গোয়ার ক্যান্ডোলিমের একটি অ্যাপার্টমেন্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড! গোয়ার হোটেলে নিজের চার বছরের ছেলেকে হত্যা করে একটি ট্যাক্সি ভাড়া করে প্রতিবেশী রাজ্য কর্ণাটকে পালিয়ে যাচ্ছিলেন সূচনা। কেন নিজের সন্তানকে হত্যা এই প্রশ্নের এখনও তেমন পোক্ত কারণ মেলেনি। তবে ওই অযাপার্টমেন্ট, যেখানে গত শনিবার সূচতা তাঁর সন্তানকে নিয়ে ওঠেন আর যেখান থেকে সোমবার তিনি একাই চেক আউউট করেন সেই অ্যাপার্টমেন্টেই মিলেছে সন্দেহজনক নানা জিনিস। সোমবার রাতে সূচনাকে চিত্রদুর্গ থেকে গ্রেফতার করা হয়, পরের দিন গোয়ায় ফিরিয়ে আনা হয় তাঁকে।
বেঙ্গালুরুর মাইন্ডফুল এআই ল্যাবের প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা সূচনা এখন ছয় দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। কিন্তু হত্যার পিছনে থাকা আসল উদ্দেশ্য বের করতে হিমশিম খাচ্ছেন তদন্তকারীরা! কেন একজন মা তাঁর সন্তানকে এভাবে খুন করবেন? এদিকে সূচনা বলছেন, সন্তানকে তিনি মারেননি। সুচনা ঘুম থেকে উঠে দেখেন তাঁর সন্তান মারা গিয়েছে। গোয়া পুলিশ বলছে, চার বছরের সন্তানকে হত্যা করার বিষয়টি পূর্ব পরিকল্পিত বলেই মনে হচ্ছে কারণ যে ঘরে হত্যার বিষয়টি ঘটেছে সেখান থেকে দু'টি খালি কাশির সিরাপের বোতল উদ্ধার করেছে পুলিশ। বেশি পরিমাণে কাশির সিরাপ খাইয়েই শিশুটিকে অচেতন করা হয়েছিল সম্ভবত। সূচনা শেঠের মানসিক অবস্থার পরীক্ষা করবেন বিশেষজ্ঞরা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
CEO Kills Son : সূচনা শেঠ যাতে বুঝতে না পারেন তাই চালকের সঙ্গে কোঙ্কনি ভাষায় কথা বলে গোয়া পুলিশ।
সন্তানকে হত্যায় অভিযুক্ত মা সূচনাও নাকি নিজের বাঁ হাতের কব্জির শিরা কেটে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ জানাচ্ছে, স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ ছিল দীর্ঘদিনই। স্বামীর সঙ্গে থাকতেনও না তিনি। সম্ভবত এই তিক্ততার কারণেই এমন হত্যা। সূচনা শেঠ তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার মামলাও দায়ের করেছিলেন। আদালতের বেশ কিছু নথি বলছে, তিনি প্রতি মাসে ২.৫ লক্ষ টাকা খোরপোষ চেয়েছিলেন, কারণ তাঁর স্বামীর প্রতি মাস আয় নাকি ৯ লক্ষ টাকা।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সূচনা শেঠ স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়াতেই ছিলেন। স্বামীর বার্ষিক আয় ১ কোটি টাকার বেশি বলে তিনি মাসে বড় অঙ্কের খোরপোষ চেয়েছিলেন। সূচনা শেঠ আরও অভিযোগ করেছেন যে তিনি ২০২১ সালের মার্চ থেকে গার্হস্থ্য নির্যাতনের কারণেই আলাদাভাবে থাকছেন। এই অত্যাচারের অভিযোগের সপক্ষে তিনি আদালতকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ, ছবি এবং মেডিকেল রেকর্ডও জমা দিয়েছেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
CEO Kills Son in Goa : বাচ্চাটিকে হাত দিয়ে গলা টিপে খুন করা হয়নি। কোনও কাপড় বা বালিশ ব্যবহার করা হয়েছিল। শ্বাসরোধেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির রাইগর মর্টিস ছিল না।
সূচনা ও তাঁর স্বামী ভেঙ্কট রমন ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর কলকাতায় বিয়ে করেছিলেন। এই শিশুটির জন্ম হয় ২০১৯ সালের ১৪ অগাস্ট। সূচনা শেঠ ভেঙ্কট রমনের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার মামলা করেন ২০২২ সালের অগাস্টে। এই মামলায় সূচনা শেঠ স্বামীর বিরুদ্ধে তাঁদের সন্তানকেও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। হত্যাকাণ্ডের সময় বিদেশে ছিলেন ভেঙ্কট রমন। তিনি অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বিবাহবিচ্ছেদের অংশ হিসাবেই বাবা ভেঙ্কট রমনকে ছেলের সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ২০২২ সালের ১৮ অগাস্ট জারি করা একটি নিষেধাজ্ঞায় স্বামী ভেঙ্কটকে সূচনা শেঠের বাড়িতে প্রবেশ করা বা ফোন করা বা অন্য কোনও মাধ্যমে ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে নিষেধ করা হয়েছিল। সাপ্তাহিক একদিন ছেলেকে দেখার অনুমতি ছিল। এই একটি দিনের দেখা পাওয়া নিয়েও সূচনা শেঠ অখুশি ছিলেন।
স্বামীকে প্রতি রবিবার ছেলের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়ার আদালতের আদেশে অসন্তুষ্ট ছিলেন সূচনা। ফলস্বরূপ, সূচনা ছেলেকেই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিলেন বলে অভিযোগ। সূচনা শেঠ গোয়া থেকে বেরনোর একদিন আগে ৭ জানুয়ারি ইন্দোনেশিয়া থেকে একটি ভিডিও কলে ভেঙ্কট তাঁর ছেলের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ জানাচ্ছে, সূচনা শেঠ ৬ জানুয়ারি রাতে ভেঙ্কট রমনকে টেক্সট করেছিলেন যে তিনি ছেলের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। আর এই ফোনের পরেই সম্ভবত খুন করা হয় ছেলেকে।















