হোটেলে খালি কাশির সিরাপের বোতল! নিজের ৪ বছরের সন্তানের সঙ্গে ঠিক কী করেছিলেন মা?

Goa Murder Case : স্বামীকে প্রতি রবিবার ছেলের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়ার আদালতের আদেশে অসন্তুষ্ট ছিলেন সূচনা।

inscript
৩ মিনিট
হোটেলে খালি কাশির সিরাপের বোতল! নিজের ৪ বছরের সন্তানের সঙ্গে ঠিক কী করেছিলেন মা?

পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে, ৪ বছরের শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তাও হাত দিয়ে নয়, বালিশ বা কাপড় জাতীয় কিছু দিয়ে মুখ টিপে। অথচ বেঙ্গালুরুর সিইও সুচনা শেঠ, অর্থাৎ শিশুটির মা বলছেন হত্যা তিনি করেননি। তাহলে শিশুর লাশ ব্যাগে ভরে তিনি যাচ্ছিলেন কোথায়? এমন অজস্র প্রশ্নের মুখে পুলিশকে এনে দাঁড় করিয়েছে উত্তর গোয়ার ক্যান্ডোলিমের একটি অ্যাপার্টমেন্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড! গোয়ার হোটেলে নিজের চার বছরের ছেলেকে হত্যা করে একটি ট্যাক্সি ভাড়া করে প্রতিবেশী রাজ্য কর্ণাটকে পালিয়ে যাচ্ছিলেন সূচনা। কেন নিজের সন্তানকে হত্যা এই প্রশ্নের এখনও তেমন পোক্ত কারণ মেলেনি। তবে ওই অযাপার্টমেন্ট, যেখানে গত শনিবার সূচতা তাঁর সন্তানকে নিয়ে ওঠেন আর যেখান থেকে সোমবার তিনি একাই চেক আউউট করেন সেই অ্যাপার্টমেন্টেই মিলেছে সন্দেহজনক নানা জিনিস। সোমবার রাতে সূচনাকে চিত্রদুর্গ থেকে গ্রেফতার করা হয়, পরের দিন গোয়ায় ফিরিয়ে আনা হয় তাঁকে।

বেঙ্গালুরুর মাইন্ডফুল এআই ল্যাবের প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা সূচনা এখন ছয় দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। কিন্তু হত্যার পিছনে থাকা আসল উদ্দেশ্য বের করতে হিমশিম খাচ্ছেন তদন্তকারীরা! কেন একজন মা তাঁর সন্তানকে এভাবে খুন করবেন? এদিকে সূচনা বলছেন, সন্তানকে তিনি মারেননি। সুচনা ঘুম থেকে উঠে দেখেন তাঁর সন্তান মারা গিয়েছে। গোয়া পুলিশ বলছে, চার বছরের সন্তানকে হত্যা করার বিষয়টি পূর্ব পরিকল্পিত বলেই মনে হচ্ছে কারণ যে ঘরে হত্যার বিষয়টি ঘটেছে সেখান থেকে দু'টি খালি কাশির সিরাপের বোতল উদ্ধার করেছে পুলিশ। বেশি পরিমাণে কাশির সিরাপ খাইয়েই শিশুটিকে অচেতন করা হয়েছিল সম্ভবত। সূচনা শেঠের মানসিক অবস্থার পরীক্ষা করবেন বিশেষজ্ঞরা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৪ বছরের সন্তানকে খুন মায়ের! ব্যাগে লাশ ভরে পালাতে গিয়ে যেভাবে ধরা পড়লেন কলকাতার মেধাবী

CEO Kills Son : সূচনা শেঠ যাতে বুঝতে না পারেন তাই চালকের সঙ্গে কোঙ্কনি ভাষায় কথা বলে গোয়া পুলিশ।

সন্তানকে হত্যায় অভিযুক্ত মা সূচনাও নাকি নিজের বাঁ হাতের কব্জির শিরা কেটে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ জানাচ্ছে, স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ ছিল দীর্ঘদিনই। স্বামীর সঙ্গে থাকতেনও না তিনি। সম্ভবত এই তিক্ততার কারণেই এমন হত্যা। সূচনা শেঠ তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার মামলাও দায়ের করেছিলেন। আদালতের বেশ কিছু নথি বলছে, তিনি প্রতি মাসে ২.৫ লক্ষ টাকা খোরপোষ চেয়েছিলেন, কারণ তাঁর স্বামীর প্রতি মাস আয় নাকি ৯ লক্ষ টাকা।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সূচনা শেঠ স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়াতেই ছিলেন। স্বামীর বার্ষিক আয় ১ কোটি টাকার বেশি বলে তিনি মাসে বড় অঙ্কের খোরপোষ চেয়েছিলেন। সূচনা শেঠ আরও অভিযোগ করেছেন যে তিনি ২০২১ সালের মার্চ থেকে গার্হস্থ্য নির্যাতনের কারণেই আলাদাভাবে থাকছেন। এই অত্যাচারের অভিযোগের সপক্ষে তিনি আদালতকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ, ছবি এবং মেডিকেল রেকর্ডও জমা দিয়েছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কলকাতার মেধাবী, হার্ভার্ডের কৃতী! কীভাবে নিজের ৪ বছরের সন্তানকে খুন করলেন সূচনা শেঠ?

CEO Kills Son in Goa : বাচ্চাটিকে হাত দিয়ে গলা টিপে খুন করা হয়নি। কোনও কাপড় বা বালিশ ব্যবহার করা হয়েছিল। শ্বাসরোধেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির রাইগর মর্টিস ছিল না।

সূচনা ও তাঁর স্বামী ভেঙ্কট রমন ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর কলকাতায় বিয়ে করেছিলেন। এই শিশুটির জন্ম হয় ২০১৯ সালের ১৪ অগাস্ট। সূচনা শেঠ ভেঙ্কট রমনের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার মামলা করেন ২০২২ সালের অগাস্টে। এই মামলায় সূচনা শেঠ স্বামীর বিরুদ্ধে তাঁদের সন্তানকেও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। হত্যাকাণ্ডের সময় বিদেশে ছিলেন ভেঙ্কট রমন। তিনি অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বিবাহবিচ্ছেদের অংশ হিসাবেই বাবা ভেঙ্কট রমনকে ছেলের সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ২০২২ সালের ১৮ অগাস্ট জারি করা একটি নিষেধাজ্ঞায় স্বামী ভেঙ্কটকে সূচনা শেঠের বাড়িতে প্রবেশ করা বা ফোন করা বা অন্য কোনও মাধ্যমে ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে নিষেধ করা হয়েছিল। সাপ্তাহিক একদিন ছেলেকে দেখার অনুমতি ছিল। এই একটি দিনের দেখা পাওয়া নিয়েও সূচনা শেঠ অখুশি ছিলেন।

স্বামীকে প্রতি রবিবার ছেলের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়ার আদালতের আদেশে অসন্তুষ্ট ছিলেন সূচনা। ফলস্বরূপ, সূচনা ছেলেকেই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিলেন বলে অভিযোগ। সূচনা শেঠ গোয়া থেকে বেরনোর একদিন আগে ৭ জানুয়ারি ইন্দোনেশিয়া থেকে একটি ভিডিও কলে ভেঙ্কট তাঁর ছেলের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ জানাচ্ছে, সূচনা শেঠ ৬ জানুয়ারি রাতে ভেঙ্কট রমনকে টেক্সট করেছিলেন যে তিনি ছেলের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। আর এই ফোনের পরেই সম্ভবত খুন করা হয় ছেলেকে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।