ভারতের সবচেয়ে রঙিন স্টেশন এটিই? শতবর্ষ ছুঁইছুঁই স্টেশনের সাজ চোখ ধাঁধাবেই

Colorful Station of India: নাগরিক, বিশেষজ্ঞদের একাংশ মোটেই পছন্দ করছেন না মুম্বই সেন্ট্রাল রেল স্টেশনের এই চিত্রকর্ম।

inscript
৩ মিনিট
ভারতের সবচেয়ে রঙিন স্টেশন এটিই? শতবর্ষ ছুঁইছুঁই স্টেশনের সাজ চোখ ধাঁধাবেই

সারাদিন লাখো মানুষের ভিড় এখানে। কেউ বাড়ি ফেরেন, কেউ যান কাজে। কেউ আসেন অপেক্ষা করতে, কেউ আবার প্রিয়জনকে বিদায় জানিয়ে ফিরে যান একা। স্টেশন আসলে রেল আর মানুষের চিরকালীন সম্পর্কের এক প্রতিষ্ঠান। ভারতের রেলস্টেশনগুলির দৈন্যদশা নিয়ে বছর খানেক আগেও অভাব অভিযোগের অন্ত ছিল না। অভিযোগ আছে ঢালাও, এখনও, তবে তা কমের দিকেই। স্টেশন ঢেলে সাজানোর নানা প্রকল্পে কিছু কিছু স্টেশন এমন ঝাঁ চকচকে হয়েছে যে চেনাই দায়। স্টেশনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ঢেকে গিয়েছে দুর্দান্ত ছবিতে, বাগানে, নানা স্টলে, আধুনিক নানা ব্যবস্থাপনায়। সম্প্রতি এমন এক স্টেশনের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে যা দেখে, ভারতের স্টেশন বলে বিশ্বাস করতেও খানিক সময় লাগে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সেই স্টেশনের নাম দিয়েছেন 'সতরঙ্গি স্টেশন'। অপূর্ব রঙিন, হাতে আঁকা ছবির মতো সেই স্টেশনটি রয়েছে পশ্চিম ভারতের এক ব্যস্ত শহরে।

নানা রঙ দিয়ে সাজানো এই চোখ ধাঁধানো সুন্দর স্টেশনটি হলো মুম্বই সেন্ট্রাল স্টেশন। কিছুদিন আগেই, ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে নিজেদের ফেসবুক পেজে একটি ছবি শেয়ার করে। রঙ সবসময়ই জীবন্ত। চরম মনখারাপে, ক্লান্তিতেও রঙিন কোনও বিষয় আমাদের ছুটির বারান্দা হয়ে ওঠে। ম্রিয়মাণ যাপনে হুল্লোড়ের জীবন এনে দেয়। মুম্বই সেন্ট্রাল স্টেশনের বাইরে এলেই মন ভালো হতে বাধ্য। সারাদিনের ব্যস্ত যাত্রীরাও চোখ তুলে প্রাণ ভরে দেখেন এই স্টেশনকে। রঙিন, প্রাণবন্ত এই স্টেশন মুম্বই শহরেরই রঙিন পরিচয়কে তুলে ধরে যেন।

তবে নাগরিক, বিশেষজ্ঞদের একাংশ মোটেই পছন্দ করছেন না মুম্বই সেন্ট্রাল রেল স্টেশনের এই চিত্রকর্ম। তাঁদের মতে শহরের আদি স্থাপত্য নিজের ঐতিহ্যের গরিমা হারাচ্ছে। রেল বলছে, রঙিন হওয়াতে দেখতে অসম্ভব সুন্দর লাগছে স্টেশনটিকে, আগের থেকে অনেক প্রাণবন্ত দেখাচ্ছে তাকে। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবেই রঙিন হতে হতে শহর তার নিজের ইতিহাসের রঙ হারাচ্ছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ট্রেন তো নয়, নরক! ভারতীয় রেলের সবচেয়ে নোংরা ট্রেন কোনগুলি?

Dirtiest trains in India: এক মাসে, ভারতীয় রেল এই দশটি ট্রেন সম্পর্কে ১০৭৯টি অভিযোগ পেয়েছিল।

सतरंगी रे!

Guess this station⁉️

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঘুমের ঘোরে পেরিয়ে গিয়েছে স্টেশন! যাত্রীর ঘুম ভাঙাতে যে অভিনব উদ্যোগ রেলের

Railway Destination Alert Service: 'ডেস্টিনেশন অ্যালার্ট ওয়েকআপ অ্যালার্ম' শুরু করতে, আপনাকে IRCTC হেল্পলাইন ১৩৯-এ ফোন করতে হবে।

— Ashwini Vaishnaw (@AshwiniVaishnaw)

নীল, হলুদ এবং অন্য সব উজ্জ্বল রঙে ঢাকা পড়ে গিয়েছে মুম্বইয়ের এই প্রায় শতবর্ষ ছুঁতে চলা স্টেশন। এর আগে মুম্বই সেন্ট্রাল স্টেশনের সম্মুখভাগের রঙ ছিল সাদা এবং লাল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রঙ দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বদল না ঘটিয়ে বরং নানা ধরনের আলো ব্যবহার করেও স্টেশনটিকে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত করা যেত। পশ্চিম রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সুমিত ঠাকুর জানিয়েছিলেন, স্টেশনের এই নয়া চেহারা আসলে স্টেশনটিকে সুন্দর করে তোলা এবং মুম্বইয়ের চেতনাকে প্রতিফলিত করার একটি প্রচেষ্টা। মুম্বইয়ের বিখ্যাত কিছু নিদর্শন থেকে বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে এই স্টেশন সাজানোতে।

আর্ট ডেকো মুম্বইয়ের ট্রাস্টি এবং মুম্বইয়ের জেজে স্কুল অব আর্টের আর্কিটেকচারের অধ্যাপক প্রফেসর মুস্তানসির ডালভি জানান, শহরকে অতিমাত্রায় সাজিয়ে তার ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে নষ্ট করার একটা প্রবণতা থাকে মানুষের, সরকারের। যত্রতত্র নানা গ্রাফিতি এঁকে দেওয়া এই মধ্যমেধার প্রবণতার সর্বশেষ প্রকাশ। মুম্বই সেন্ট্রাল স্টেশনের সামনে যে চিত্রকর্ম আঁকা হয়েছে তা এক নানা ধরনের শিল্পের মিশ্রণ। মুম্বইয়ের শিল্প ঘরানার প্রতিনিধি নয় এই শিল্পকর্ম। উল্টে, এই রঙের ব্যবহার মূল ভবনের সামনের বিশাল খিলানযুক্ত জানলাকে গৌণ করে দিচ্ছে। চার্চগেট স্টেশন এবং ওয়াঙ্কনের প্যালেসের আগেকার নকশার মতোই ভারতীয় স্থাপত্যের প্রতি নিজের আগ্রহ প্রকাশ করতেই এই স্টেশনের স্থপতি বিশেষ নকশাটি করেছিলেন। সেসব ঢেকে দিয়ে এই রঙের প্রলেপ ঐতিহ্যকে নষ্ট করারই প্রচেষ্টা বলে মনে করেন তিনি। রেলের সংরক্ষণাগার অনুযায়ী, মুম্বই সেন্ট্রাল স্টেশনটির নকশা তৈরি করেছিলেন ব্রিটিশ স্থপতি ক্লোড ব্যাটলি। ১৯৩০ সালে নির্মিত হয়েছিল এই স্টেশন।

শুধু তো স্টেশন নয়, পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী থেকে শুরু করে জেলার নানা অংশও সেজে উঠছে নানা রঙে। শাসকের পছন্দের রঙে ঢেকে গিয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন নানা ঐতিহ্য। শহরকে সাজানো, নাকি নিজেকে প্রতিষ্ঠা- সৌন্দর্যায়নের নেপথ্যে থাকে কোন লক্ষ্য তার উত্তর চিন্তকদের অজানা নয়।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।