রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা থেকে সাইরাস মিস্ত্রি, যে কোটিপতিদের মৃত্যু ঘিরে জল্পনা বছরভর
Year Ender 2022 : এই বছর যেসব হাই প্রোফাইল বিজনেস টাইকুনদের হারাল ভারত

মাত্র দিন পাঁচেক পরেই পাটভাঙা নতুন বছর। ইতিমধ্যেই ডিসেম্বরের শহরে উৎসবের আমেজ। বর্ষশেষের এই কটাদিন উচ্ছ্বাসের সীমা নেই। তবে তার সঙ্গেই রয়েছে ফিরে দেখার পালা। বছরভর সঞ্চয় বলতে যে প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির ভাঁড়ার, সেটা ভাঙার পালা। শুরু থেকেই একটা টালমাটাল সময়ের সাক্ষী থেকেছে ২০২২। শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র জগত সবেতেই আমরা হারিয়েছি একাধিক জনকে। সেসব নিয়ে বছরভর আলোচনাও চলেছে বিস্তর। কিন্তু এ বছরে ভারতের ব্যবসায়ী মহলেও একটা বিশাল পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। সেখানেও আমরা হারিয়েছে অনেককে। যাঁরা নিজেদের বুদ্ধি এবং দক্ষতার ওপর ভর করে উঠে এসেছেন শীর্ষে তাঁদেরও আসনখানাও টলমলে হয়েছে এ বছর। অবশ্য তার দায় কেবল মৃত্যু নামক ফাঁড়াটিরই।
রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা - ২০২২ সালের ১৪ আগস্ট মারা যান ভারতের ব্যবসায়ী মহলের এই তারকা। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। পেশায় তিনি ছিলেন একজন একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং সফল ব্যবসায়ী। পাশাপাশি তিনি অ্যাপটেক এবং হাঙ্গামা মিডিয়ার চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন একাধিক সময়। কাজ করেছেন ভাইসরয় হোটেলস, কনকর্ড বায়োটেক, প্রোভোগ ইন্ডিয়া এবং জিওজিৎ ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস-এর বোর্ডে।
রাহুল বাজাজ - বহুল পরিচিত বাজাজ গ্রুপের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং ভারতীয় অটো সেক্টরের একজন আইনজীবী হলেন রাহুল বাজাজ। ভারতের ধনী ব্যবসায়ী মহল তিনিও রয়েছেন প্রথমদিকেই। এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৮৩ বছর বয়সে মারা যান রাহুল বাজাজ। বাবা জামনালাল বাজাজের থেকে ১৯৬৮ সালে বাজাজ অটোর দায়িত্ব নিজের দখলে নেন তিনি। এবং তার পর থেকে ৪০ বছর ধরে একক প্রচেষ্টায় আরও অনেকটা প্রশস্ত করেন ব্যবসার পথ। বাজাজ অটো, বাজাজ ফাইন্যান্স, বাজাজ ফিনসার্ভ এবং বাজাজ হোল্ডিংস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সহ একধিক কোম্পানিগুলি রয়েছে সার্বিক বাজার গ্রুপের আয়ত্তে। এই কোম্পানি গুলির সমন্বিত বাজার মূল্য বর্তমানে ৮.৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Bengali Movie : ২০২২ সালে মুক্তি পেয়েছে একগুচ্ছ বাংলা ছবি, কী কী দিয়ে গেল ছবিগুলি
সাইরাস মিস্ত্রি - একাধারে ব্যবসায়ী এবং টাটা গ্রুপের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সাইরাস মিস্ত্রি। এই বছরই সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ৫৪ বছর বয়সে একটি অটোমোবাইল দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি। ২০১২ সালে তিনি প্রথম টাটা সন্সের চেয়ারম্যানের পদে নিযুক্ত হন। এর আগে বেশ কিছুদিন সাইরাস একটি বড় কনস্ট্রাকশন কোম্পানি শাপুরজি পালোঞ্জির এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে টাটা সন্স থেকে সরে যান সাইরাস। অবশ্য এ নিয়ে ছিল বিস্তর বিতর্ক। এরপর ২০১৮ সালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।
জামশেদ জে ইরানি - “ভারতের স্টিল ম্যান” নামে পরিচিত এই ব্যক্তি ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে 86 বছর বয়সে মারা যান। ১৯৬৮ সাকে তিনি প্রথম তিনি টাটা স্টিল (তখন টাটা আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি নামে পরিচিত) যোগ দেন। দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে তিনি আগলে রেখেছিলেন এই কোম্পানিকে। শুধু তাই নয় তাঁর আমলে এই কোম্পানিকে বিশ্বের সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যের ইস্পাত প্রস্তুতকারকদের মধ্যে একটি হয়ে উঠতেও সাহায্য করেছিলেন জামশেদ জে ইরানি। টাটা গ্রুপের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থার বোর্ডে কাজ করেছেন তিনি। ভারতের ধনী ব্যবসায়ী মহলে তাঁর নাম উল্লেখ্য।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
2022 Sports Events World : বছর শেষে সেরকমই কিছু মুহূর্তের দিকে আরেকবার ফিরে দেখা যাক। যে ঘটনাগুলোয় আলোড়িত হয়েছে ক্রীড়া দুনিয়া।
বিক্রম কিরলোস্কর - টয়োটা কির্লোস্কর মোটরের ভাইস চেয়ারম্যান বিক্রম কিরলোস্কর, এই বছর নভেম্বর মাসে ৬৪ বছর বয়সে মারা যান তিনিও। বর্তমান ভারতের শিল্পপতিদের তালিকায় শীর্ষ কয়েকজনের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। ১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কির্লোস্কর গ্রুপের চতুর্থ প্রজন্মের সদস্য ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, জাপান থেকে ভারতে টয়োটা মোটর আমদানিতে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। ভারতের বৃহত্তম মোটরগাড়ি কারখানাগুলির মধ্যে একটি হল বেঙ্গালুরুর কাছাকাছি এই টয়োটা উৎপাদন কেন্দ্র।
আরিজ পিরোজশা খাম্বাটা - ‘রসনা’, গরমের দিনে ঠান্ডা জলে গুলে খেলেই তৃপ্তি। ১৯৭০ সালে প্রথম আরিজ পিরোজশা খাম্বাটার হাত ধরে বাজারে আসে ‘রসনা’ নামের সফট ড্রিংকের প্যাকেট। বাবা ফিরোজা খাম্বাটার ছোট্ট কোম্পানিকে একক দক্ষতায় বিশ্বের বৃহত্তম কনসেনট্রেট প্রস্তুতকারক কোম্পানিতে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনিই। শুধু ভারত নয়, প্রায় ৬০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে দেন তাঁর পানীয়ের ব্যবসা। ব্যবসার বাজারে তিনিও ছিলেন উজ্জ্বল নাম। এই বছর নভেম্বর মাসে ৮৫ বছর বয়সে মারা যান আরিজ পিরোজশা খাম্বাটা।
ডাঃ এম এম রামচন্দ্রন - ডাঃ এম এম রামচন্দ্রন, এটলাস রামচন্দ্রন নামেও পরিচিত তিনি। এই বছরেরই অক্টোবর মাসে ৮০ বছর বয়সে দুবাইতে মারা যান রামচন্দ্রন। একদিকে ব্যবসায়ী অন্যদিকে চলচ্চিত্র প্রযোজক, দু-দিক সমানতালে ব্যালেন্স করেছেন তিনি। ১৯৮১ সালে তিনি প্রথম সবার ব্যবসায়ে পথ চলা শুরু করেন। তারপর থেকেই চলেছে ব্যবসা। ২০১৪ অর্থবর্ষের হিসেবেই তাঁর দখলে অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় $1 বিলিয়ন।
তুলসী তাঁতি - ২০২২ সালে মারা যাওয়া ধনী ব্যবসায়ীর তালিকায় শেষ নাম তুলসী তাঁতি। ৬৪ বছর বয়সে মারা গেলেন সুজলন এনার্জির চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক তুলসী তাঁতি। মূলত ভারতের বায়ু শক্তি বিপ্লবের নেতা হিসাবে বিবেচনা করা হয় তুলসী তাঁতিকে। ১৯৯৫ সালে, তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বিখ্যাত সুজলন এনার্জি। তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গির ফলস্বরূপ জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক এবং ভারতে R&D সুবিধা স্থাপিত হয়।
















