আজ নিমন্ত্রণ, কাল উৎসব, মাসের শেষে কপালে হাত! যেভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন মাসিক বাজেট
Monthly Budget : মাসিক বাজেট সঠিকভাবে পরিচালনা করার কিছু টিপস

রামকৃষ্ণ বলেছেন, ‘টাকা মাটি মাটি টাকা’, অর্থাৎ টাকা যেন মাটি সম। আজকের দিনে অবশ্য অর্থনীতি এমন ভাবেই ছুটছে যে টাকার মূল্য হিসেব করা বেশ মুশকিল। একটা বড় নোট নিয়ে বাজারে ভাঙালে অবশিষ্ট যা থাকে তাতে মাঠে পড়ে ক্রেতাদের। তার ওপর আবার ডিজিটাল অর্থনীতি এসে হয়ে আরও বিপদ, ব্যাগে নগদ না থাকলেও মোবাইল দিয়ে স্ক্যান করে সরাসরি অর্থ দেওয়ার জেরে ব্যয় হচ্ছে মাত্রাছাড়া। মাসের শেষে হিসেবের দিকে তাকালেই চক্ষু চড়কগাছ। তাই কোন খাতে কতটা ব্যয় করলে মাসের শেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন তার জন্য প্রয়োজন সঠিক বাজেট নির্ধারণ করা। রোজ কত খরচ করছেন তার হিসেব রাখার কথা বললে হয়তো মনে হতেই পারে বেশ কঠিন এবং ক্লান্তিকর একটি কাজ তবে এর সুফল রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি। এই মাসিক বাজেটের হিসেব রাখার জন্য মোটেই আপনাকে গণিতে বিশাল কিছু পটু হতে হবে না। শুধু নিয়ম করে হিসেব কষার অভ্যাসটুকুই যথেষ্ট। তাই সংসারের অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজার রাখার জন্য প্রয়োজন সঠিক বাজেট। কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন বাজেট তার জন্য রইল বেশ কিছু টিপস্।
১. আয়, ব্যয় এবং সঞ্চয়ের সমতা -
আয় আর ব্যায়ের হিসেবের সমতা বজায় রাখাই কিন্তু আসল বাজেট। আপনার মাসিক আয় কত, ঠিক সেই মতো হিসেব করে মাসিক ব্যয়ের তালিকা প্রস্তুত করা জরুরী। অনেকসময় দেখা যায়, কিছু অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের সম্ভাবনা হঠাৎ এসে পড়ে। ধরা যাক, কোনও নিমন্ত্রণ বাড়ি অথবা বাড়িতে অথিতি আসা কিংবা অন্য যা কিছু খরচ যার সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা ছিল না আপনারাও তখনই প্রয়োজন পড়ে বাড়তি অর্থের। তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন, মাসের শুরুতেই আয়ের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ অর্থ আলাদা করে সঞ্চয়ের খাতে সরিয়ে রাখা জরুরী। সেই পরিমাণ অর্থ বাদ দিয়েই প্রস্তুত করতে হবে নিয়মিত খরচের তালিকা। যাতে এই ধরনের অনামন্ত্রিত খরচের সম্মুখীন হলেও বিপদে পড়তে না হয়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
২. পারিবারিক আলোচনা সাপেক্ষে খরচ -
পরিবারের মোট আয় এবং মোট ব্যয়কে এক ছাতার তলায় এনে আলোচনা করা বাজেট নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাথায় রাখবেন, একা সব কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে সবার চোখে খারাপ হতে যাবেন না। বরং কীভাবে খরচ কমিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে পরামর্শের জন্য পরিবারের সকলের সঙ্গে আলোচনা করুন। আপনি তাদের মতামত দিয়ে আপনার মাসিক বাজেট নির্ধারণ করুন। কোন খাতে কতটা খরচ কতিতা জরুরী সেই সিদ্ধান্ত নিন। এতে পরিবারের বাকি সদস্যরাও নিজেদের মূল্যবান বোধ করবেন এবং আপনার বাজেট নিয়ন্ত্রণকে সফল করার জন্য তাদের সীমার মধ্যে সবরকম চেষ্টা করবে।
৩. অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ে সতর্ক থাকুন -
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সংসারে কোন খাতে কতটা খরচ কতটা প্রয়োজনীয়, আর কোন খরচ বাড়তি সেই মূল্যায়ণ খুব জরুরী। তাই প্রথমেই সারা মাসের মোট খরচের একটি তালিকা প্রস্তুত করুন। এরপর সেই তালিকাটি নিজেই বারবার দেখুন, কোন খরচ কমালে সমস্যা হবে না ভাবুন। প্রয়োজনে কম খরচে সুলভ বিকল্প ভাবুন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি বাইরে খাওয়ার পরিবর্তে বাড়িতে মৌলিক কিছু রান্না করে খেতে পারেন, এর ফলে রেস্টুরেন্টের বিল বাবদ খরচের পরিমাণ সঞ্চয় করতে পারেন।
৪. নিয়মিত বাজেট পুনর্মূল্যায়ন -
নির্ধারিত একটি বাজেটেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না। অর্থনীতির বদলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাজেটের পরিবর্তন প্রয়োজন। প্রতি মাসেই যে একি পরিমাণ খরচ করতে হবে সব খাতে তা নাও হতে পারে। অতীতের কিছু অসংগতি থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের খরচের প্ল্যান করুন। যদি মনে করেন কোনও মাসে কিছু জিনিস কেনার প্রয়োজন রয়েছে তবে সেই মাসে অন্য কোনও খাতে খরচ কীভাবে খানিক কমানো যায় সেই হিসেব সেরে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এতে আপনার মাসিক খরচের ওপর টান পড়বে না
৫. ডিজিটাল অর্থনীতির কুফল থেকে সতর্ক থাকুন -
এই বিষয়টি বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আজকাল ব্যাগে নগদ না থাকলেও সঙ্গে সঙ্গে গুগল পে, ফোন পে অথবা ডেবিট এবং ক্রেডিট কার্ডের যেতে খরচে রস টানা যায় না। সরাসরি ব্যাংক থেকে কাটতে থাকে টাকা। এর ফলে হিসেব ছাড়াতে পারে মাত্রা। তাই যত্র তত্র ডিজিটাল অর্থনীতিতে পা দিয়ে বিপদ ডেকে আনবেন না। সতর্ক থাকুন। অন্যদিকে,ক্রেডিট কার্ড বিষয়টি আরো ভয়ংকর। তাতে প্রাথমিকভাবে অর্থ দিতে হচ্ছে না দেখে দেদার জিনিস কিনে ফেলেছেন,আর তার পর মাসের শেষে গুণতে হচ্ছে লম্বা কিস্তি। ফলে, আপনার আয় না বাড়লেও ব্যয় বেড়েই চলেছে।
আপনার আর্থিক নিয়ন্ত্রণে থাকার জন্য একটি ভাল মাসিক বাজেট বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার মাসিক খরচের তালিকা করা বেশ ক্লান্তিকর হতে পারে তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি খুবই মূল্যবান। তাই উপরোক্ত সহজ অথচ কার্যকরী টিপসগুলো অনুশীলনে রাখলে আপনি থাকতে পারবেন প্রত্যাশিত মাসিক পরিসংখ্যানের মধ্যেই।
















