দ্বিতীয় থেকে সটান প্রথমে! জনসংখ্যার নিরিখে কীভাবে রাতারাতি চিনকে টেক্কা দিল ভারতীয়রা?
India's Population Overtaken China : সম্প্রতি উঠে এল বেশকিছু পরিসংখ্যানে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ভারতের জনসংখ্যা অন্যান্য সব দেশকে ছাপিয়ে গিয়েছে।

“মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে” - বাংলা সংস্কৃতি জগতের অন্যতম জনপ্রিয় একটি লাইন। কিন্তু এখন কি কেবল বিজ্ঞাপন? রাস্তাঘাটে উপচে পড়া ভিড়ের মাঝেই তো হারিয়ে যায় চেনা মুখ। মানুষের প্রবল স্রোতের মাঝে ফেঁসে আছে কলকাতা। ফেঁসে আছে ভারত, এই পৃথিবী। সেই ছবিটাই সম্প্রতি উঠে এল বেশকিছু পরিসংখ্যানে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ভারতের জনসংখ্যা অন্যান্য সব দেশকে ছাপিয়ে গিয়েছে। এমনকী, পিছনে ফেলেছে চিনকেও!
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশের নাম চিন - ছোটবেলা থেকে সবাই এমনটাই জেনে এসেছে। এতদিন এটাই ছিল সামগ্রিক ছবি। জনসংখ্যার নিরিখে চিন প্রথম, ভারত দ্বিতীয়। কিন্তু এবার ঠিক উল্টোটা ঘটেছে। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ নামে একটি সংস্থা এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালের শেষে ভারতের মোট জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৪১ কোটি ৭০ লক্ষ। সেখানে একই সময়সীমার মধ্যে চিনের জনসংখ্যা প্রায় ১৪১ কোটি ২০ লক্ষ। অর্থাৎ, WPR-এর হিসেব বলছে, চিনের থেকে অন্তত ৫০ লক্ষ বেশি ভারতের জনসংখ্যা। এখানেই উঠে এসেছে প্রশ্ন। তাহলের কি চিনকে ছাপিয়ে গিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হল ভারত?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
China's Population Shrinks: ২০২২ সালের শেষে চিনের জনসংখ্যা প্রায় ১,৪১১,৭৫০,০০০-এ দাঁড়িয়েছে
তবে এখানেই থেমে নেই। ওই রিপোর্টে এও বলা হয়েছে যে, ইতিমধ্যে ভারতের জনসংখ্যা আগের থেকে আরও বেড়ে গিয়েছে। জানুয়ারি অবধি হিসেব বলছে ভারতের জনসংখ্যা ১৪২ কোটি ৮০ লক্ষ! উল্টোদিকে দেখা যাচ্ছে, চিনের জনসংখ্যা বৃদ্ধির গ্রাফ ইতিমধ্যেই কমেছে। একটু একটু করে সেখানে জনসংখ্যা কমতির দিকে। ষাটের দশকের পর এই প্রথম চিনের জনসংখ্যার গ্রাফ নিচের দিকে। অন্যদিকে, ২০২১ সালে ভারতে জনগণনা বা সেনসাস হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারীর জন্য সেই কাজ হয়নি। তাই সরকারিভাবে কোনও পরিসংখ্যান সামনে আসেনি। বেসরকারি, আন্তর্জাতিক সমীক্ষার রিপোর্টই ভরসা।

ভারত ও চিনের জনসংখ্যার তুল্যমূল্য বিচার, সূত্র : The Indian Express
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Census 2021 India: দেশে কত পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন, সেই তথ্যও নেই। তাহলে সেই সমস্ত মানুষকে কীভাবে সরকারি পরিষেবা দেওয়া হবে, শুধুই আন্দাজ করে?
সেইসঙ্গে মাথাচাড়া দিয়েছে আরও কয়েকটি প্রশ্ন। এই মুহূর্তে ভারতের জনসংখ্যার অর্ধেকের বয়সই ৩০-র মধ্যে। কাজেই দেশের একটা বিরাট অংশ একেবারে তরুণ। এই তথ্যটাই এখন গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়। ভবিষ্যতে বিশ্বের সবচেয়ে তরুণ ও ফাস্টেস্ট গ্রোয়িং অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হওয়ার মুখে এই দেশ। আর সেই কাজটা করতে গেলে এই যুবসমাজের কর্মসংস্থান হওয়া জরুরি। ১৪১ কোটির এই দেশে কি যথেষ্ট চাকরির সুযোগ রয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চাকরির সুযোগ সুবিধা? প্রতি বছর কাজের জগতে কয়েক লক্ষ তরুণ তরুণী ঢুকছেন। তাঁদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা, চাকরির ব্যবস্থার সুযোগ কি করতে পারছে কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসন?
এই মুহূর্তে খাদ্য উৎপাদনের দিক থেকে ভারত এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। চাল, গম, চিনির যোগানেও প্রথম সারিতে। কিন্তু এই ভারতেরই ৮০ কোটি মানুষ আজও প্রশাসনের বিনামূল্যে দেওয়া রেশনের ওপর নির্ভরশীল। বহু মানুষ আধপেটা খেয়ে শুতে যাচ্ছেন। অনাহারে ভুগছে অসংখ্য শিশু। ২০২২ সালের হাঙ্গার ইনডেক্স অনুযায়ী, ১২১ টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১০৭ তম। এই বিপুল জনসংখ্যার নিরিখে স্বাস্থ্য আর শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামোও কি আদৌ সঠিক রয়েছে? WPR বলছে ২০৫০ সাল অবধি ভারতের জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার বজায় থাকবে। আর তাঁদের জীবন ধরে রাখার পরিকাঠামো? উত্তর খুঁজছে নবীন ভারত।















