'মনের মতো চরিত্র পেলে তবেই সিরিয়ালে ফিরব': সুদীপ্তা চক্রবর্তী

Sudipta Chakrabarty Interview: ইনস্ক্রিপ্ট-এর সঙ্গে একান্ত কথোপকথনে সুদীপ্তা চক্রবর্তী।

inscript
৪ মিনিট
'মনের মতো চরিত্র পেলে তবেই সিরিয়ালে ফিরব': সুদীপ্তা চক্রবর্তী

'কালার্স বা‌ংলা'-য় 'রান্নাঘরের গপ্পো' নিয়ে টেলিভিশনে ফিরলেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী। ফেসবুকের ট্রোলিং থেকে সিরিয়ালে অভিনয়, বা‌ংলা সিনেমা থেকে মঞ্চে ফেরা, সবকিছু নিয়ে ইনস্ক্রিপ্ট-এর সঙ্গে অকপট অভিনেত্রী।

শুরুটা করি টাটকা বিতর্ক দিয়ে, রান্নার শো-এর সঞ্চালনা প্রসঙ্গে ফেসবুকে একজনের আলটপকা মন্তব্যর যোগ্য জবাব দিলেন আপনি‌। রান্নার শো-র জনপ্রিয়তা তুঙ্গে, তাও একাংশের মধ্যে এইরকম মানসিকতা কাজ করে কেন বলে মনে হয়?

সুদীপ্তা চক্রবর্তী: এই মানসিকতা রান্নাবান্নার শো নিয়ে নয়, রান্নাবান্না নিয়ে। ওটা একটা আব্বুলিশ কাজ, তথাকথিত কাজের লোকরা করে, খুব নিম্নমানের কাজ যেন। মিল্ক রাইস খেলতাম ছোটবেলায়, অনেকের ধারণা, রান্নাবান্নাও তেমনই একটা দুধেভাতে খেলা। আসলে মূর্খরা তো থাকেই, তারা মতামতও প্রকাশ করে মাঝেমধ্যে।

সদ‍্য 'ইন্টারন‍্যাশনাল শেফ'স ডে' গেল। আপনার মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই মনে হয়, পুরুষ শেফদের সংখ‍্যাও আস্তে আস্তে বাড়ছে। ক্লাউড কিচেনের সংখ্যা বাড়ছে। রান্না অনেককে ভাষা দিচ্ছে বলে মনে হয়?

সুদীপ্তা চক্রবর্তী: রান্নাবান্না এত উদ্যোগ নিয়ে আগেও করেছে মানুষ, বিষয়টা নতুন হচ্ছে না। যেটা নতুন, তা হলো, রান্নাবান্না যে আব্বুলিশ নয়, ফেলনা নয়, এটা ক্রমে বুঝছে লোকে। এটাই পার্থক্য। আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতেই রান্না হয়, আমরা খেয়ে উদ্ধার ক‍রেছি চিরকালই। কখনও ভেবেই দেখিনি, সেই মানুষটার কথা, যে দিনের পর দিন, সন্ধের পর সন্ধে রান্নাঘরেই কাটিয়ে দিল! দু'ঘণ্টা ধরে যে শ্রমটা দিল, দু'মিনিটে তা সাবাড় করে রক্ষে করলাম। এই কৃতজ্ঞতাটুকুও আমাদের কাজ করে না, যে রান্নাটা কেমন হলো বলি। যেন এটা তো মায়ের বা কাকিমার করারই কথা! ওই 'করারই কথা' বলে যা ধরে নিয়েছিলাম আমরা, তা এখন মানুষ সগর্বে জাহির করছে। কম্পিউটারের কিবোর্ড পেষাও যেমন কাজ, রান্নাও কাজ, কাজেই সেটাকে শ্রদ্ধা করতে হবে। এই দাবিটা করার হক জন্মাচ্ছে। মহিলারা প‍্যাশনেট রান্নাবান্না করছেন, শেফদের অনেক মানুষ চিনছে, পরিস্থিতি কাজেই পাল্টাচ্ছে।

ইউটিউব বা সোশ‍্যাল মিডিয়ায় এখন গুচ্ছ গুচ্ছ রান্নার শো, ভ্লগ। টেলিভিশনের রান্নাবান্নার শো কোনও চ‍্যালেঞ্জ ফেস করছে বলে মনে হয়?

সুদীপ্তা চক্রবর্তী: আমি তো বহু যুগ পর টেলিভিশনে ফিরলাম, কাজেই আমি সঠিকভাবে বলতে পারব না এটা। দীর্ঘদিন এই মাধ্যমে ছিলাম না, কাজেই টিভিতে কোন শো চলে, কোনটা চলে না, কোন চ‍্যানেলে কোন রান্নার শো হয়- এসব আমি কিছুই জানি না। প্রযোজক বলেছিলেন যখন, এককথায় রাজি হয়ে গেছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, আরও ভাবনাচিন্তা করে হ‍্যাঁ বলা উচিত ছিল তো! আমি একটা রান্নার শো করছি, এতে এত মানুষের এত আগ্রহ, এত প্রশ্ন, এত বিতর্ক, এত ইন্টারভিউ- এতকিছু যে হতে পারে, আমার ধারণার বাইরে ছিল সেটা। এখন বেশ ভয় পেয়ে যাচ্ছি এত কাণ্ড দেখে!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'মৃণাল সেনের চোখে দেখেছি আমার শহর': কথাবার্তায় অঞ্জন দত্ত

Anjan Dutta Mrinal Sen: মৃণাল সেন মানে তো একা মৃণাল সেন নন, তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন যাঁরা, ওঁর বন্ধুবান্ধব, তাঁদের সকলকে নিয়েই ওঁর অস্তিত্ব, একা মৃণাল সেন এক্সিস্ট করেননি কখনও।

'খাসখবর', 'শ্রীমতী' থেকে 'ধন‍্যি মেয়ে', আপনি নন-ফিকশনে বারবার জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, নন ফিকশন আপনার কি বেশি পছন্দ? টেলিভিশনে ফেরার জন‍্য তাই এটাই বেছে নিলেন?

সুদীপ্তা চক্রবর্তী: এত বড় স্টার আমি নই, যে প্রচুর অফারের মধ্য থেকে বেছে নিতে হবে! (হাসতে হাসতে) তবে হ‍্যাঁ, ফিকশনের প্রস্তাবও প্রায়শই পাই আমি। কিন্তু হয় চরিত্র পছন্দ হয় না, নয় সময় হয়ে ওঠে না, বা সাম্মানিকের অঙ্কটা পছন্দ হয় না- কিছু না কিছু কারণে হয়ে ওঠে না কাজ করা। তার মধ্যে এই অফারটা এল, হ‍্যাঁ বলে দিলাম। এতটাই সহজ ব‍্যাপারটা, যতটা নাটকীয় মনে হচ্ছে, আদৌ তা নয়। মানুষ কেন এত বাড়াবাড়ি করছে এটা নিয়ে।

'নানা রঙের দিনগুলি' থেকে 'খেলা', আপনার সিরিয়ালের চরিত্রও বেশ জনপ্রিয়। এখন কি আবার সিরিয়ালে সেরকম চরিত্র পেলে অভিনয় করতে চান?

সুদীপ্তা চক্রবর্তী: 'খেলা' ২০০৬ সালের সিরিয়াল! তারপর ষোলোটা বছর পেরিয়ে গেছে। এখন নিশ্চয়ই আমাকে তখনকার মতো দেখতেও নেই। কাজেই ওরকম চরিত্র পাওয়ার আশা করে আর লাভ নেই।

'খেলা' ধারাবাহিকে

তাও যদি পছন্দসই চরিত্র পান, করবেন?

সুদীপ্তা চক্রবর্তী: কেন করব না? একটি শো চ‍্যানেল থেকে লক করে দিয়েছিল গত বছর, সব কথা পাকা! তারপর সেটা হলো না কেন জানি না। কিন্তু লিডিং চ‍্যানেলগুলোর থেকে প্রায় প্রতি মাসে একটা না একটা চরিত্রের প্রস্তাব আসে। সকলেই চায় আমি টেলিভিশনে ফিরি, আমিও চাই। কিন্তু এতদিন বাদে ফিরে ওই থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড় চরিত্র করার মধ্যে কোনও বাহাদুরি নেই। আমি যথেষ্ট কিক পাব না, কিক পাওয়ার মতো চরিত্র হলেই করব, নচেৎ নয়। যথাযথ, মনের মতো চরিত্র পেলেই সিরিয়ালে ফিরব।

'বাড়িওয়ালি'-র স্বীকৃতি আজও উজ্জ্বল। বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত থেকে ঋতুপর্ণ ঘোষ-এতজনের সঙ্গে কাজ করেছেন, বাংলা সিনেমা আপনাকে তেমনভাবে ব‍্যবহার করতে পারল না বলে মনে হয়?

সুদীপ্তা চক্রবর্তী: কী জানি! এমনটা বললে একটু বেশি বেশি শোনাবে। নিজেকে অতটাও ওভাররেট আমি করি না। কিন্তু যেটা দুঃখ দেয়, তা হলো, যে চরিত্রগুলো পাই, তার লেংথ। আমি সব ধরনের চরিত্র করতে আগ্রহী। কিন্তু আমাদের এখানে এখনও গায়ের রং, কোমরের মাপ, চোখ কেমন- ইত্যাদি দেখে প্রধান চরিত্রের জন্য অভিনেতা নির্বাচন হয়। আমার নিশ্চয়ই কোনও গণ্ডগোল আছে, তাই আমার কথা বড় চরিত্রে ভাবা হয় না। আমি হোপলেস অভিনেতা নই, আমাকে কেউ নিল না, আমি যা ডিজার্ভ করি, তা পেলাম না, আমাকে কেউ ব‍্যবহার করল না- এই 'না, না' বিষয়টা আমার মোটেই পছন্দ নয়। এসব ভাবি না কখনও। কাজেই আমি খুব তরতাজা থাকি, আমি বুড়িয়ে যাইনি কখনও। আমি এখনও সামনের দিকে চেয়ে। নিশ্চয়ই তেমন চরিত্র পাব কখনও।

'সওদাগরের নৌকা' নাটকে, দেবশঙ্কর হালদারের সঙ্গে

'বিকেলে ভোরের সর্ষেফুল' বা 'সওদাগরের নৌকা'-র পর আবার মঞ্চে দেখা যাবে আপনাকে?

সুদীপ্তা চক্রবর্তী: কথা চলছে নতুন নাটক নিয়ে, ফেব্রুয়ারি-মার্চ নাগাদ মঞ্চস্থ হওয়ার কথা। প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে কাজ।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।