আদালতে আরজি কর কাণ্ডের ধৃত! কে লড়বেন অভিযুক্ত সঞ্জয়ের হয়ে আইনি লড়াই?
RG Kar accused Sanjoy's Lawyer: এমন নারকীয় ঘটনায় অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের হয়ে মামলা কে লড়বেন আদালতে, তা নিয়ে সংশয় দেখা গিয়েছিল তো বটেই। তবে শেষমেশ আইনজীবী পেয়েছেন সেই সঞ্জয় রায়ও।

আরজি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চার তলার সেমিনার রুম থেকে উদ্ধার হয়েছিল এক তরুণী চিকিৎসকের ক্ষতবিক্ষত দেহ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মেলে অকথ্য শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের প্রমাণ। সেই মামলায় সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলিন্টিয়ারকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। যার বিরুদ্ধে একের পর এক ভয়ঙ্কর তথ্যপ্রমাণ হাতে উঠে এসেছে তদন্তকারীদের। সেই ব্যক্তির মনস্তাত্ত্বিক প্রোফাইল দেখে তাজ্জব হয়ে যান তদন্তকারীরাও। ভয়ঙ্কর পর্নগ্রাফিতে আসক্তি থেকে শুরু করে জঘন্য অপরাধের জন্য বিন্দুমাত্র অনুতাপ বা অনুশোচনা না করা, সবই সঞ্জয় রায়ের চরিত্রে উঠে এসেছে। সিআইএসএফের সেই রিপোর্টে পশুর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে সঞ্জয় রায়কে। এমন নারকীয় ঘটনায় অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের হয়ে মামলা কে লড়বেন আদালতে, তা নিয়ে সংশয় দেখা গিয়েছিল তো বটেই। তবে শেষমেশ আইনজীবী পেয়েছেন সেই সঞ্জয় রায়ও। তার হয়ে আদালতে সওয়াল জবাবের দায়িত্ব বর্তেছে প্রবীণ আইনজীবী কবিতা সরকারের কাঁধে।
ইতিমধ্যেই আরজি কর মামলার জল গড়িয়েছে অনেক দূর। ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে গোটা রাজ্য। রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে গিয়েছে দেশ, বিদেশেও। ইতিমধ্যেই সেই মামলায় দায়ের জনস্বার্থ মামলাগুলির শুনানি চলছে কলকাতা হাইকোর্টে। তার উপর আবার আরজি কর মামলায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছে সুপ্রিম কোর্ট। মামলার তদন্তভার গিয়েছে রাজ্যের হাত থেকে সিবিআইয়ের হাতে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই ভয়ঙ্কর এই মামলায় সঞ্জয়ের হয়ে লড়ার জন্য কোনও আইনজীবীকেই পাওয়া যায়নি প্রাথমিক ভাবে। অবশেষে বছর ৫২-র আইনজীবী কবিতাদেবীর ঘাড়েই বর্তায় সেই দায়িত্ব। শুক্রবার শিয়ালদহ আদালতে তোলার কথা ধৃত সঞ্জয়কে।
ঘটনার তদন্তে নেমে ধৃত সিভিক ভলিন্টিয়ার সঞ্জয় রায়ের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক প্রমাণ উঠে এসেছে তদন্তকারীদের হাতে। ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালের বক্ষ বিভাগের সেমিনার রুম থেকে উদ্ধার হয়েছিল ওই চিকিৎসকের দেহ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হয় সঞ্জয়কে। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছিল বক্ষ বিভাগের বাইরে সঞ্জয় রায়ের ঘোরাফেরা। সেই তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ গত ১০ অগস্ট তারিখে। তবে এখনও পর্যন্ত পুলিশের তরফে সঞ্জয় রায় সংক্রান্ত বিশদ কোনও তথ্য বাইরে প্রকাশ করা হয়নি। সম্প্রতি ধৃত সঞ্জয় রায়ের নতুন করে মনস্তাত্ত্বিক প্রোফাইল তৈরি করার নির্দেশ দেয় সিবিআই। সেই রিপোর্টে উঠে এসেছে সঞ্জয় রায়ের সম্পর্কে বিস্ফারিত সব তথ্য। পর্ণোগ্রাফিতে আসক্তি থেকে শুরু ভয়ঙ্কর অপরাধপ্রবণতার ছাপ উঠে এসেছে সেই রিপোর্টে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
RG Kar Rape Accused Psychoanalytic Test: প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সঞ্জয় রায় ৮ অগাস্ট মধ্যরাতের পরে উত্তর কলকাতায় সোনাগাছির যৌনপল্লীতেও গেছিলেন।

শুক্রবার সেই জঘন্য অপরাধে অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের হয়েই আদালতে যুক্তি সাজাবেন আইনজীবী কবিতা সরকার। পেশাগত সমঝোতা যাকে বলে। দায়িত্ব গ্রহণের পরে কবিতা দেবী বলেনন, 'সবার মতো আমিও নির্যাতিতার বিচার চাই। তবে দেশে সবারই আইনি অধিকার রয়েছে। অভিযুক্তরও...' অগত্যা আদালতে অভিযুক্তের হয়েই লড়তে চলেছেন তিনি। এক মহিলা চিকিৎসককে ভয়াবহ ভাবে ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত সঞ্জয়ের হয়ে আদালতে লড়াই করবেন আর এক মহিলা আইনজীবী।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
RG Kar Rape and Murder: প্রাক্তন আমলারা এই চিঠিতে আরজি করে দুর্নীতির চক্র সহ বেশ কয়েকটি অভিযোগের বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রাথমিক ভাবে সঞ্জয়ের হয়ে কোনও আইনজীবীই দাঁড়াতে না চাওয়ায় বিপাকে পড়ে সিবিআই। তবে শেষমেশ কবিতাদেবী রাজি হওয়ায় কাটে সেই আইনি জটিলতা। প্রায় পঁচিশ বছর ধরে এই পেশায় রয়েছেন কবিতাদেবী। লিগাল সার্ভিস অথরিটির আইনজীবী কবিতা সরকার কিন্তু একবাক্যে মেনেছেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন মামলা এটিই। হুগলি মহসিন কলেজ থেকে আইনে স্নাতক পাশ করেন কবিতা দেবী। আলিপুর আলাদতে শুরু হয় কর্মজীবন। ২০২৩ সাল নাগাদ ফৌজদারী মামলা বিভাগে স্থানান্তরিত হয়ে শিয়ালদহ আদালতে চলে আসেন কবিতাদেবী। শুক্রবার শিয়ালদহ আদালতে তাঁর সঙ্গে এই মামলায় থাকবেন তাঁর সিনিয়র আইনজীবী সৌরভ ব্যানার্জি।
সঞ্জয়ের হয়ে আইনি লড়াই করলেও কবিতা সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য, 'আমিও বাকিদের মতো নির্যাতিতার বিচার চাই।' এরপর তিনি বলেন, 'তবে আমার জন্যে বিচার হয়, যখন আদালতে আইনি লড়াই সম্পন্ন হয়। তার আগে না। এই দেশে সবারই আইনি অধিকার আছে। সবারই নিজের রক্ষা করার অধিকার আছে। অভিযুক্তরও সেটা আছে। আর এখানে আমাকে আমার কাজ করতে হবে।' একই সঙ্গে কবিতা জানিয়েছেন, এই মামলায় তিনি সঞ্জয়ের হয়ে লড়াই করলেও, তিনি চান না এখনই তাঁর ছবি প্রকাশ করা হোক সংবাদমাধ্যমে। এই প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, 'বর্তমানে মানুষ খুবই রেগে আছে। আমাকে কেউ আঘাত করবে, সেই ভয় আমি পাচ্ছি না। কিন্তু সেই রকম কিছু হলে এই মামলা থেকে নজর ঘুরে যেতে পারে। তাই আমি চাই এখনই যেন আমার ছবি প্রকাশ্যে না আসে।'
একদিকে আরজি করের নির্যাতিতার সুবিচারের দাবিতে সরব গোটা দেশ। নারী হিসেবে, দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আইনজীবী কবিতাদেবীও চান দোষী শাস্তি পাক, এই জঘন্যতম অপরাধের জন্য দৃষ্টান্তমূলক সাজা মিলুক অপরাধীর। অন্যদিকে, পেশার খাতিরে সেই মামলার অভিযুক্তের হয়ে আদালতে লড়াইয়ের গুরুদায়িত্ব তাঁর কাঁধে। এ যেন পেশার সঙ্গে বিবেকের লড়াই। মস্ত বড় অগ্নিপরীক্ষাও বটে তাঁর।















