ফলের রস বিক্রেতা থেকে ৫০০০ কোটির কেলেঙ্কারির মাস্টারমাইন্ড! কে এই সৌরভ চন্দ্রকর?

Mahadeb Betting Scam Saurab Chandrakar : লকডাউন চলাকালীনই একটি বেটিং অ্যাপ তৈরির সিদ্ধান্ত নেন চন্দ্রকর। সঙ্গ দেন রবি উপ্পল।

Madhurima Dutta
৪ মিনিট
ফলের রস বিক্রেতা থেকে ৫০০০ কোটির কেলেঙ্কারির মাস্টারমাইন্ড! কে এই সৌরভ চন্দ্রকর?

প্রথমে বলিউড অভিনেতা রণবীর কাপুর, তারপর অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুর। মহাদেব বেটিং অ্যাপ আর্থিক তছরুপের মামলায় একের পর এক বলিউড তারকা এখন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) নিশানায়। কৌতুক অভিনেতা কপিল শর্মা এবং অভিনেত্রী হিনা খান সহ অন্যান্য সেলিব্রিটিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে ইডি। একটি বেটিং অ্যাপ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন বলিউডের এই বিখ্যাত নামেরা। তবে মহাদেব বেটিং স্ক্যামের নেপথ্যে যিনি রয়েছেন, তাঁর জীবন এই তারকাদের জীবনকে গুনে গুনে ১০০ গোল দিতে পারে। এক সময়ের ফলের রস বিক্রেতার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ৫০০০ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ! এই মহাদেব বেটিং অ্যাপের নেপথ্যে রয়েছেন সৌরভ চন্দ্রকর, তাঁরই বিয়ে হয় দুবাইয়ে। সেই বিয়েতে ২০০ কোটি টাকা খরচা হয় যার পুরোটাই নগদে! তখনই বিষয়টি ইডির নজরে আসে। এই বিয়েতেই নাচগান করার জন্য এসেছিলেন বলিউডের তাবড় তারকা সব। রণবীর, শ্রদ্ধা, সানি লিওন... অজস্র নাম। কীভাবে একজন ফলের রস বিক্রেতা থেকে এই পর্যায়ের কেলেঙ্কারির মাস্টারমাইন্ড হলেন চন্দ্রকর? শুরু থেকে শুরু করা যাক।

তবে আগে সামান্য বলে নেওয়া উচিত মহাদেব বেটিং অ্যাপের মাধ্যমে জুয়া খেলিয়ে কীভাবে এত আয় সম্ভব? এই জুয়া খেলা খানিক প্রতিযোগিতার মতোই। তবে তাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নেওয়া হয়ে থাকে যে কে হারাবে, আর কে জিতবে। কিন্তু মজাটা হচ্ছে, যে হারবে সে জানেই না যে সে হারবে। এই ছিল মহাদেব অ্যাপের আসল কাজ। কীভাবে মহাদেব অনলাইন গেমিং অ্যাপে এত মানুষ প্রতারিত হলেন? এই গেমটি মাত্র ৫০০ টাকা দিয়েই খেলতে পারবেন। স্বাভাবিকভাবেই অল্প টাকায় বেশি রোজগারের আসায় বেশি মানুষ এতে আসক্ত হয়ে পড়েন। মহাদেব অ্যাপ বিভিন্ন লাইভ গেম যেমন পোকার, কার্ড গেমস, চান্স গেমস, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, টেনিস এবং ফুটবলে বাজি ধরার জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম খুলে দেয়।

মহাদেব অনলাইন বুক বেটিং অ্যাপ গত ৪ বছর ধরে চালু রয়েছে। বেটিং অ্যাপটি ৭০:৩০ লাভের অনুপাতে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দিয়ে চালানো হয়। মহাদেব অ্যাপে সমস্ত লটারি এবং বাজির অপশনগুলি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল যাতে খেলোয়াড়রা সবসময়ই হারে আর কোম্পানি সবসময়ই লাভে থাকে। কিন্তু শুরুর দিকে হেরে যাওয়া খেলোয়াড়কেও জয়ী করা হয়েছে। টানা জয় দিয়ে জুয়াড়িদের আস্থা জয় করে এই কোম্পানি। জুয়াড়িরা বাজিতে আসক্ত হয়ে পড়লে পরে বড় অঙ্কের বাজি ধরিয়ে তাঁদের হারিয়ে দেওয়া হতো। ১০ হাজারের বেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মহাদেব অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত। সবই সেভিংস অ্যাকাউন্ট। মহাদেব অ্যাপের অপারেটররা সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে এই জালিয়াতির টাকা কর্পোরেট অ্যাকাউন্টে পাঠাতেন।

চন্দ্রকর-উপ্পল জুটি হচ্ছে অনলাইন বেটিং জগতের দুই বিখ্যাত (কুখ্যাতও বলা যায়) মাথা। মহাদেব অনলাইন বুক বা MOB-র সদর দফতর সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। সেখান থেকে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং পাকিস্তানেও জাল বিছিয়ে ফেলেছে এই মহাদেব অনলাইন বেটিং অ্যাপ। কয়েক বছর আগে অবধি নিতান্ত ছাপোষা মানুষ ছিলেন চন্দ্রকর এবং উপ্পল। সেখান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নিজেদের সাম্রাজ্য গড়ে তুললেন কীভাবে?

ED has conducted searches against the money laundering networks linked with Mahadev APP in cities like Kolkata, Bhopal, Mumbai etc and retrieved large amount of incriminating evidences and has frozen/seized proceeds of crime worth Rs 417 Crore.

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এবার ইডির নজরে রণবীর কাপুর! ৫০০০ কোটি টাকার মহাদেব বেটিং কেলেঙ্কারি আসলে কী?

Ranbir Kapoor ED : এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অনুষ্ঠিত একটি বিয়ে ঘিরে নড়েচড়ে বসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

— ED (@dir_ed)

সৌরভ চন্দ্রকর ছত্তিশগড়ের ভিলাইয়ের নেহেরু নগরে ফলের রসের দোকান চালাতেন। রায়পুরেও ‘জুস ফ্যাক্টরি’ নামে এই ফলের রসের দোকান চালাতেন সৌরভ। রাস্তার পাশে সামান্য ফলের রস বেচে কতই বা আর আয়! কিন্তু সৌরভ চন্দ্রকর জানতেন, তাঁকে বড় কিছু করতে হবে, আরও বেশি অর্থ উপার্জন করতে হবে। প্রথমে তিনি নিজের ফলের রসের দোকানই নানা জায়গায় বাড়াতে থাকেন। ছত্তিশগড়ের অনেক শহরে 'জুস ফ্যাক্টরি' নামে দোকান খোলা হয়। উপ্পলের ছিল টায়ারের দোকান। দু'জনের মধ্যে মিল ছিল একটিই মূল জায়গায়, জুয়ায় প্রতি মারাত্মক আসক্তি!আগে 'অফলাইন' জুয়াই খেলতেন চন্দ্রকর। কিন্তু করোনার কারণে একজোট হয়ে জুয়া খেলার দিন বদলে যায়। অনলাইনে বাজি ধরতে শুরু করেন চন্দ্রকর। লকডাউন চলাকালীনই একটি বেটিং অ্যাপ তৈরির সিদ্ধান্ত নেন চন্দ্রকর। সঙ্গ দেন রবি উপ্পল। 'ভাগ্য পরীক্ষা' করতে দু'জনেই ঠিক করেন দুবাইয়ে যাবেন। টাকাপয়সা জমিয়ে চলেও গেলেন সেখানে। একজন শেখ এবং পাকিস্তানের একজন নাগরিকের সঙ্গে দেখা সেখানে। সেখানেই মহাদেব অনলাইন বেটিং অ্যাপের জন্ম। বাকিটা ইতিহাস।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বল পড়ে, টাকা ওড়ে || বেটিং অ্যাপ যেভাবে বদলে দিল ক্রিকেট-দর্শন

IPL Betting: একবার ভেবে দেখা যাক, ক্রিকেটীয় সৌন্দর্য্যে ক্রিকেট আপনাকে বিনোদন দিতে পারছে কি? না এমন কিছু উপাদান খেলার সঙ্গে জড়িয়ে গিয়ে ক্রিকেটের নন্দনতত্ত্বকেই গ্রাস করে ফেলছে?

Who is Saurabh chandrakar

??

He is spending 200 cr just on wedding. Bollywood stars are attending his wedding.

This is mohabbat ki dukan of

which is only limited for their friends!!

— Trupti Garg (@garg_trupti)

ইডি জানাচ্ছে, বেটিং চক্র চালাতে ভারতে প্রায় ৪,০০০ প্যানেল অপারেটর রয়েছেন। প্রতিটি প্যানেলে ২০০ জন করে গ্রাহক রয়েছেন যারা বাজি ধরেন। এই দিয়ে চন্দ্রকর এবং উপ্পল দিনে ২০০ কোটি টাকাও উপার্জন করেছেন! এই চন্দ্রকরের বিয়ের আয়োজন বসে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাস আল-খাইমাহতে। মহাদেব অনলাইন বুক বেটিং অ্যাপের মাথা সৌরভ চন্দ্রকর তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাগপুর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যক্তিগত জেট ভাড়া করেছিলেন এবং বলিউড সেলিব্রিটিদের নাচগানের জন্য টাকা দিয়েছিলেন। সব থেকে বেশি টাকা পেয়েছিলেন রণবীর কাপুর। মহাদেব অ্যাপের কেলেঙ্কারির অঙ্ক প্রায় ৫০০০ কোটি টাকা।

মহাদেব অ্যাপ সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে কিছু দিনের মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ এর সদস্য হয়ে যায়। দেশে তখন অনলাইন গেমিংয়ের উন্মাদনা চরমে। শিশু, যুবক থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও এর কবলে পড়ে। ‘মহাদেব অ্যাপ’-এর নির্মাতা, ২৮ বছর বয়সী সৌরভ চন্দ্রকর নিজে ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা এবং ছত্তিশগড়ের মানুষকেই সবচেয়ে বেশি ঠকিয়েছেন তিনি। গত বছর ইডি যখন তদন্ত শুরু করেছিল, তখনই কেলেঙ্কারির আকার দেখে অবাক হয়ে যায়। গত এক বছরে গেমিং অ্যাপের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৫০০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই মামলায় সবচেয়ে বেশি গ্রেফতারও হয়েছে ছত্তিশগড় থেকে।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।