Maldah Protest: মোথাবাড়ি বিক্ষোভ, পরিকল্পিত প্রতিরোধ নাকি প্রশাসনিক ব্যর্থতা?
সংবিধানের ৩২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী ভোটাধিকার যেখানে মৌলিক বিষয়, সেখানে ১২টি বৈধ নথি দেওয়ার পরেও কেন মানুষের নাম ডিলিট করা হচ্ছে?
মালদহের মোথাবাড়িতে গত কয়েকদিন ধরে চলা উত্তেজনা এক চরম অনিশ্চয়তার বাতাবরণ তৈরি করেছে। জাতীয় সড়ক অবরোধ থেকে শুরু করে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের আটকে রাখা— সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া নিয়ে যে সমস্যার সূত্রপাত, তা আজ রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতার এক বড় সংকটে রূপ নিয়েছে।
গত সোমবার মালদহের আমলিতলা, পটলডাঙা এবং মথাবাড়ি চৌরঙ্গী মোড়ে যে জনবিস্ফোরণ দেখা গিয়েছে, তা হঠাৎ করে হয়নি। ২০১৪ সালের পর থেকে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলোকে বারবার 'অনুপ্রবেশকারী' তকমা দিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে। ২০১৯ সালের এনআরসি (NRC) আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমানের SIR (SIR) বা ভোটার তালিকা যাচাই প্রক্রিয়া—সব মিলিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের মনে এক গভীর অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Mamata Banerjee statement: মালদায় অশান্তির পিছনে কি সত্যিই বিজেপির পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে? কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন বাতিল ও রাষ্ট্রপতি শাসনের আশঙ্কা করছেন? কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভূমিকা কী? ভোটার তালিকা বিতর্কে উত্তেজনা কেন বাড়ছে? এই পরিস্থিতিতে শান্তি বজায় রাখা কতটা জরুরি?
মোথাবাড়ি ঘটনার প্রধান কারণ, ভোটার তালিকা থেকে ব্যাপক হারে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়া। নির্বাচন কমিশন আগে জানিয়েছিল যে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকলে নতুন করে কোনো কাগজ দেখাতে হবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, হাজার হাজার মানুষের নাম 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' (Under Adjudication) বা 'ডিলিটেড' (Deleted) ক্যাটাগরিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৮৬ থেকে ৯০ হাজার মানুষের নাম 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' তালিকায় রয়েছে।
কারগিল যুদ্ধে লড়া সৈনিক থেকে শুরু করে মুর্শিদাবাদের নবাব বংশধরদের নামও শুধুমাত্র নাম বা গোত্রের ভিত্তিতে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন। নাগরিকত্ব থাকবে তো? উৎকণ্ঠায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া যোগ্য ভোটাররা। এমন পরিস্থিতিতে ফিরে দেখা যাক, গত কয়েক মাসে এসআইআর-এর নামে যে ত্রাস দেখেছে বাংলা।
মালদহের এক বিশাল অংশের মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক। তাদের কাছে ভোটার কার্ড শুধু ভোট দেওয়ার অধিকার নয়, বরং ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়ার পরিচয়পত্র। নাম 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' থাকায় ভিন রাজ্যে এই শ্রমিকরা 'বাংলাদেশি' তকমা দিয়ে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। তারা কাজ পাচ্ছেন না, ঘর ভাড়া পাচ্ছেন না। এর ফলে তাদের রুজি-রুটির ওপর টান পড়েছে।
এর ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো খবর আসছে যে, এই সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল জেলা স্তরে না হয়ে কলকাতায় হবে। একজন দিনমজুরের পক্ষে কলকাতা গিয়ে আইনি লড়াই করার খরচ কে জোগাবে? নির্বাচন কমিশন কি এই খরচ বহন করবে?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
West Bengal Election 2026: ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কি ফের জিতবে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস, নাকি ঘুরে দাঁড়াবে ভারতীয় জনতা পার্টি? সমীক্ষা কি বলছে—তৃণমূল এগিয়ে, নাকি লড়াই টানটান? ভোটের আগে জনমত কতটা বদলাতে পারে?
প্রশাসন এই আন্দোলনকে দমন করতে মোফাক্কারুল ইসলামের মতো ব্যক্তিদের গ্রেফতার করেছে। কিন্তু মূল সমস্যা কি তাতে মিটবে? প্রশ্ন উঠছে, যে নির্বাচন কমিশন সকালে এক কথা বলে বিকেলে অবস্থান বদল করছে, তাদের কেন জবাবদিহি করতে হবে না? সংবিধানের ৩২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী ভোটাধিকার যেখানে মৌলিক বিষয়, সেখানে ১২টি বৈধ নথি দেওয়ার পরেও কেন মানুষের নাম ডিলিট করা হচ্ছে?
মোথাবাড়ির এই ক্ষোভ আসলে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। সাধারণ মানুষ চায় তাদের নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা এবং ভোটার তালিকায় নামের অন্তর্ভুক্তি। রাষ্ট্র যদি কেবল আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করে এবং ভোটারদের এই হয়রানি বন্ধ না করে, তবে এই ক্ষোভ প্রশমিত হওয়া কঠিন। নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব নিতে হবে যাতে ভোটের আগেই এই 'ডিলিটেড' ভোটারদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
(মতামত লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত।)






