Maldah Protest: মোথাবাড়ি বিক্ষোভ, পরিকল্পিত প্রতিরোধ নাকি প্রশাসনিক ব্যর্থতা?

সংবিধানের ৩২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী ভোটাধিকার যেখানে মৌলিক বিষয়, সেখানে ১২টি বৈধ নথি দেওয়ার পরেও কেন মানুষের নাম ডিলিট করা হচ্ছে?

Asif Faruk
৩ মিনিট
Maldah Protest: মোথাবাড়ি বিক্ষোভ, পরিকল্পিত প্রতিরোধ নাকি প্রশাসনিক ব্যর্থতা?

মালদহের মোথাবাড়িতে গত কয়েকদিন ধরে চলা উত্তেজনা এক চরম অনিশ্চয়তার বাতাবরণ তৈরি করেছে। জাতীয় সড়ক অবরোধ থেকে শুরু করে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের আটকে রাখা— সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া নিয়ে যে সমস্যার সূত্রপাত, তা আজ রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতার এক বড় সংকটে রূপ নিয়েছে।

গত সোমবার মালদহের আমলিতলা, পটলডাঙা এবং মথাবাড়ি চৌরঙ্গী মোড়ে যে জনবিস্ফোরণ দেখা গিয়েছে, তা হঠাৎ করে হয়নি। ২০১৪ সালের পর থেকে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলোকে বারবার 'অনুপ্রবেশকারী' তকমা দিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে। ২০১৯ সালের এনআরসি (NRC) আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমানের SIR (SIR) বা ভোটার তালিকা যাচাই প্রক্রিয়া—সব মিলিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের মনে এক গভীর অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মালদা অশান্তির ঘটনায় বিজেপির ষড়যন্ত্র, শান্তি বজায় রাখুন: মমতা

Mamata Banerjee statement: মালদায় অশান্তির পিছনে কি সত্যিই বিজেপির পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে? কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন বাতিল ও রাষ্ট্রপতি শাসনের আশঙ্কা করছেন? কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভূমিকা কী? ভোটার তালিকা বিতর্কে উত্তেজনা কেন বাড়ছে? এই পরিস্থিতিতে শান্তি বজায় রাখা কতটা জরুরি?

মোথাবাড়ি ঘটনার প্রধান কারণ, ভোটার তালিকা থেকে ব্যাপক হারে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়া। নির্বাচন কমিশন আগে জানিয়েছিল যে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকলে নতুন করে কোনো কাগজ দেখাতে হবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, হাজার হাজার মানুষের নাম 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' (Under Adjudication) বা 'ডিলিটেড' (Deleted) ক্যাটাগরিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৮৬ থেকে ৯০ হাজার মানুষের নাম 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' তালিকায় রয়েছে।

কারগিল যুদ্ধে লড়া সৈনিক থেকে শুরু করে মুর্শিদাবাদের নবাব বংশধরদের নামও শুধুমাত্র নাম বা গোত্রের ভিত্তিতে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ত্রাসের নাম SIR, গত কয়েক মাসে যা দেখল বাংলা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন। নাগরিকত্ব থাকবে তো? উৎকণ্ঠায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া যোগ্য ভোটাররা। এমন পরিস্থিতিতে ফিরে দেখা যাক, গত কয়েক মাসে এসআইআর-এর নামে যে ত্রাস দেখেছে বাংলা।

মালদহের এক বিশাল অংশের মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক। তাদের কাছে ভোটার কার্ড শুধু ভোট দেওয়ার অধিকার নয়, বরং ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়ার পরিচয়পত্র। নাম 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' থাকায় ভিন রাজ্যে এই শ্রমিকরা 'বাংলাদেশি' তকমা দিয়ে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। তারা কাজ পাচ্ছেন না, ঘর ভাড়া পাচ্ছেন না। এর ফলে তাদের রুজি-রুটির ওপর টান পড়েছে।

এর ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো খবর আসছে যে, এই সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল জেলা স্তরে না হয়ে কলকাতায় হবে। একজন দিনমজুরের পক্ষে কলকাতা গিয়ে আইনি লড়াই করার খরচ কে জোগাবে? নির্বাচন কমিশন কি এই খরচ বহন করবে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন কার দিকে ঝুঁকছে পাল্লা? কী বলছে সমীক্ষা?

West Bengal Election 2026: ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কি ফের জিতবে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস, নাকি ঘুরে দাঁড়াবে ভারতীয় জনতা পার্টি? সমীক্ষা কি বলছে—তৃণমূল এগিয়ে, নাকি লড়াই টানটান? ভোটের আগে জনমত কতটা বদলাতে পারে?

প্রশাসন এই আন্দোলনকে দমন করতে মোফাক্কারুল ইসলামের মতো ব্যক্তিদের গ্রেফতার করেছে। কিন্তু মূল সমস্যা কি তাতে মিটবে? প্রশ্ন উঠছে, যে নির্বাচন কমিশন সকালে এক কথা বলে বিকেলে অবস্থান বদল করছে, তাদের কেন জবাবদিহি করতে হবে না? সংবিধানের ৩২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী ভোটাধিকার যেখানে মৌলিক বিষয়, সেখানে ১২টি বৈধ নথি দেওয়ার পরেও কেন মানুষের নাম ডিলিট করা হচ্ছে?

মোথাবাড়ির এই ক্ষোভ আসলে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। সাধারণ মানুষ চায় তাদের নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা এবং ভোটার তালিকায় নামের অন্তর্ভুক্তি। রাষ্ট্র যদি কেবল আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করে এবং ভোটারদের এই হয়রানি বন্ধ না করে, তবে এই ক্ষোভ প্রশমিত হওয়া কঠিন। নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব নিতে হবে যাতে ভোটের আগেই এই 'ডিলিটেড' ভোটারদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

(মতামত লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত।)

লিখেছেন
Asif Faruk
Asif Faruk
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।