বেছে বেছে বন্ধ করা হলো চিনা ইউটিউব চ্যানেল, কেন এত বড় সিদ্ধান্ত
YouTube channel banned in China : রাতারাতি এমন ব্যাপারে রীতিমতো হতবাক কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের দুনিয়া। কিন্তু কেন এমন তোড়জোড়?

এই মুহূর্তে কনটেন্ট ক্রিয়েটর শব্দটি সবার মুখে মুখে ঘুরছে। সৌজন্যে ফেসবুক এবং ইউটিউব। এই দু’টো প্ল্যাটফর্মের দৌলতে বহু মানুষ নিজের সৃষ্টিশীল ভাবনা, সিনেমা, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, সাংবাদিকতা, খেলা, গেমিং সহ বিভিন্ন ব্যাপার নিয়ে এগোচ্ছে। অনেকে জনপ্রিয়তার মুখও দেখছেন। বিশেষ করে ইউটিউবের হাত ধরে একের পর এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের উঠে আসতে দেখেছে সাম্প্রতিক নেট দুনিয়া। ব্যক্তি স্বাধীনতা, কথা বলা এবং নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য অনেকেই ইউটিউবকে পছন্দ করেন।
কিন্তু সাম্প্রতিক একটি খবর তাঁদের মনে একটু হলেও চিন্তা বাড়িয়েছে। ইউটিউবের মাদার কোম্পানি হল গুগল। সম্প্রতি তারা জানিয়েছে, মোট ৭৫৯৯ টি ইউটিউব চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে একটি অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট এবং তিনজন ব্লগারের ব্লগকেও এই কোপে পড়তে হয়েছে। রাতারাতি এমন ব্যাপারে রীতিমতো হতবাক কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের দুনিয়া। উল্লেখ্য, যে চ্যানেলগুলিকে ব্যান করা হয়েছে, সেগুলির সিংহভাগই চিনের!
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Rahul Gandhi : চিন যুদ্ধপ্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে দেখেও কি হাত গুটিয়ে বসে আছে ভারত?
কেন এই চ্যানেলগুলোকে বন্ধ করে দেওয়া হল? গুগল জানিয়েছে, ওই বিশেষ চ্যানেলগুলোয় ইউটিউবের কমিউনিটি গাইডলাইন মানা হচ্ছিল না। বেশিরভাগই বিনোদন, লাইফস্টাইল সংক্রান্ত চ্যানেল। কিন্তু অনেক জায়গায় চলে এসেছিল রাজনীতি। ইউটিউব চ্যানেলকে হাতিয়ার করে বিশেষ রাজনৈতিক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। গুগল জানিয়েছে, যে চ্যানেলগুলোকে ব্যান করা হয়েছে, তাদের কিছু কিছু ভিডিওয়ে উঠে এসেছে চিন আর আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের কথা। ইংরেজি ও চাইনিজ এই ভিডিওগুলোয় উঠে এসেছে রাজনীতির প্রসঙ্গ।
সেইসঙ্গে তিনটে এমন ইউটিউব চ্যানেল ছিল যার বিষয় ছিল যুদ্ধ। সম্প্রতি জারি থাকা ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও তারা আপলোড করেছিল। সেইসঙ্গে মেইনল্যান্ড চিন ও তাইওয়ানের সম্পর্ক নিয়েও চলছিল চর্চা। এই বিষয়টি নিয়ে বহু বছর ধরেই চলছে বিতর্ক। ২০২২-এর আগস্টে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান সফরে গিয়েছিলেন। সেটা নিয়েও শুরু হয় বিভিন্ন তরজা। চিন একপ্রকার হুঁশিয়ারি দেয় আমেরিকাকে। বহু বছর ধরে তাইওয়ানকে নিজের কবজায় নিতে চায় চিন। তা নিয়ে রয়েছে অনেক ইতিহাস, অনেক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। অন্যদিকে, তাইওয়ান মনে করে তারা স্বাধীন একটি রাষ্ট্র। রয়েছে নিজস্ব সংবিধান। চিনের অধীনে তারা থাকবে না। এদিকে দীর্ঘ ২৫ বছর পর আমেরিকার কোনও শীর্ষ নেতৃত্ব তাইওয়ানে যাওয়ার পর চিনও তেড়েফুঁড়ে ওঠে। তাই চিন-তাইওয়ান বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। সেই কনটেন্টই ইউটিউব থেকে মুছে দিল কর্তৃপক্ষ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
India china war : ৭১-এর যুদ্ধে এক সাহসী সৈনিক ছিল খচ্চর পেডঙ্গি
সেই সঙ্গে আজেরবাইজান থেকে নিয়ন্ত্রিত ৫১৫ টি ইউটিউব চ্যানেলকেও ব্যান করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে ব্রাজিল থেকে চলা ৫৭ টি চ্যানেলও। রিপোর্ট বলছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর – এই তিন মাসে ৫০ লাখেরও বেশি (৫.৬ মিলিয়ন) ভিডিও সরিয়েছে ইউটিউব। এবং গত দুই মাসে আড়াই লাখের বেশি রিমুভাল অ্যাপ্লিকেশন জমা পড়েছে ইউটিউবের খাতায়।
কিন্তু কেন এমন তোড়জোড়? ইউটিউবের মতো একটি প্ল্যাটফর্ম স্বাধীন মতপ্রকাশে বিশ্বাসী। বহু মানুষ এই কারণেই এই প্ল্যাটফর্ম পছন্দ করেন। বিকল্প মাধ্যম হিসেবে ইউটিউব একটা বড়ো জায়গা দেয়। সেখানে খেলা, গেমিং, বিনোদনের পাশাপাশি সিনেমা, সাংবাদিকতাও ঢুকে পড়ে। কিন্তু কমিউনিটি গাইডলাইনের আওতায় পড়ে অনেকেই নিজের মতপ্রকাশ করতে পারেন না।
তবে গুগল এবং ইউটিউব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখনও বজায় আছে। কিন্তু কোথাও গিয়ে একটা রেখা থাকা উচিত। সেটাই কমিউনিটি গাইডলাইন। ভুয়ো খবর, অসত্য বা রঙ চড়ানো ঘটনা কিংবা এমন কোনও কনটেন্ট যেগুলো অশান্তি বাড়াতে পারে – সেগুলোর দিকেই কড়া নজর রাখা হয়। সেজন্যই এতগুলো ভিডিও সরানো এবং চ্যানেল বন্ধের পরিস্থিতি।















