বেছে বেছে বন্ধ করা হলো চিনা ইউটিউব চ্যানেল, কেন এত বড় সিদ্ধান্ত

YouTube channel banned in China : রাতারাতি এমন ব্যাপারে রীতিমতো হতবাক কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের দুনিয়া। কিন্তু কেন এমন তোড়জোড়?

inscript
৩ মিনিট
বেছে বেছে বন্ধ করা হলো চিনা ইউটিউব চ্যানেল, কেন এত বড় সিদ্ধান্ত

এই মুহূর্তে কনটেন্ট ক্রিয়েটর শব্দটি সবার মুখে মুখে ঘুরছে। সৌজন্যে ফেসবুক এবং ইউটিউব। এই দু’টো প্ল্যাটফর্মের দৌলতে বহু মানুষ নিজের সৃষ্টিশীল ভাবনা, সিনেমা, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, সাংবাদিকতা, খেলা, গেমিং সহ বিভিন্ন ব্যাপার নিয়ে এগোচ্ছে। অনেকে জনপ্রিয়তার মুখও দেখছেন। বিশেষ করে ইউটিউবের হাত ধরে একের পর এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের উঠে আসতে দেখেছে সাম্প্রতিক নেট দুনিয়া। ব্যক্তি স্বাধীনতা, কথা বলা এবং নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য অনেকেই ইউটিউবকে পছন্দ করেন।

কিন্তু সাম্প্রতিক একটি খবর তাঁদের মনে একটু হলেও চিন্তা বাড়িয়েছে। ইউটিউবের মাদার কোম্পানি হল গুগল। সম্প্রতি তারা জানিয়েছে, মোট ৭৫৯৯ টি ইউটিউব চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে একটি অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট এবং তিনজন ব্লগারের ব্লগকেও এই কোপে পড়তে হয়েছে। রাতারাতি এমন ব্যাপারে রীতিমতো হতবাক কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের দুনিয়া। উল্লেখ্য, যে চ্যানেলগুলিকে ব্যান করা হয়েছে, সেগুলির সিংহভাগই চিনের!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
‘ভারত সরকার কি ঘুমোচ্ছে?’ চিন-ভারত যুদ্ধ নিয়ে কেন একথা বললেন রাহুল গান্ধী

Rahul Gandhi : চিন যুদ্ধপ্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে দেখেও কি হাত গুটিয়ে বসে আছে ভারত?

কেন এই চ্যানেলগুলোকে বন্ধ করে দেওয়া হল? গুগল জানিয়েছে, ওই বিশেষ চ্যানেলগুলোয় ইউটিউবের কমিউনিটি গাইডলাইন মানা হচ্ছিল না। বেশিরভাগই বিনোদন, লাইফস্টাইল সংক্রান্ত চ্যানেল। কিন্তু অনেক জায়গায় চলে এসেছিল রাজনীতি। ইউটিউব চ্যানেলকে হাতিয়ার করে বিশেষ রাজনৈতিক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। গুগল জানিয়েছে, যে চ্যানেলগুলোকে ব্যান করা হয়েছে, তাদের কিছু কিছু ভিডিওয়ে উঠে এসেছে চিন আর আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের কথা। ইংরেজি ও চাইনিজ এই ভিডিওগুলোয় উঠে এসেছে রাজনীতির প্রসঙ্গ।

সেইসঙ্গে তিনটে এমন ইউটিউব চ্যানেল ছিল যার বিষয় ছিল যুদ্ধ। সম্প্রতি জারি থাকা ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও তারা আপলোড করেছিল। সেইসঙ্গে মেইনল্যান্ড চিন ও তাইওয়ানের সম্পর্ক নিয়েও চলছিল চর্চা। এই বিষয়টি নিয়ে বহু বছর ধরেই চলছে বিতর্ক। ২০২২-এর আগস্টে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান সফরে গিয়েছিলেন। সেটা নিয়েও শুরু হয় বিভিন্ন তরজা। চিন একপ্রকার হুঁশিয়ারি দেয় আমেরিকাকে। বহু বছর ধরে তাইওয়ানকে নিজের কবজায় নিতে চায় চিন। তা নিয়ে রয়েছে অনেক ইতিহাস, অনেক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। অন্যদিকে, তাইওয়ান মনে করে তারা স্বাধীন একটি রাষ্ট্র। রয়েছে নিজস্ব সংবিধান। চিনের অধীনে তারা থাকবে না। এদিকে দীর্ঘ ২৫ বছর পর আমেরিকার কোনও শীর্ষ নেতৃত্ব তাইওয়ানে যাওয়ার পর চিনও তেড়েফুঁড়ে ওঠে। তাই চিন-তাইওয়ান বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। সেই কনটেন্টই ইউটিউব থেকে মুছে দিল কর্তৃপক্ষ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মানুষ নয়, কেন ১৯৭১-এর চিন ভারত যুদ্ধে বীরত্বের পুরস্কার পেয়েছিল এক খচ্চর?

India china war : ৭১-এর যুদ্ধে এক সাহসী সৈনিক ছিল খচ্চর পেডঙ্গি

সেই সঙ্গে আজেরবাইজান থেকে নিয়ন্ত্রিত ৫১৫ টি ইউটিউব চ্যানেলকেও ব্যান করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে ব্রাজিল থেকে চলা ৫৭ টি চ্যানেলও। রিপোর্ট বলছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর – এই তিন মাসে ৫০ লাখেরও বেশি (৫.৬ মিলিয়ন) ভিডিও সরিয়েছে ইউটিউব। এবং গত দুই মাসে আড়াই লাখের বেশি রিমুভাল অ্যাপ্লিকেশন জমা পড়েছে ইউটিউবের খাতায়।

কিন্তু কেন এমন তোড়জোড়? ইউটিউবের মতো একটি প্ল্যাটফর্ম স্বাধীন মতপ্রকাশে বিশ্বাসী। বহু মানুষ এই কারণেই এই প্ল্যাটফর্ম পছন্দ করেন। বিকল্প মাধ্যম হিসেবে ইউটিউব একটা বড়ো জায়গা দেয়। সেখানে খেলা, গেমিং, বিনোদনের পাশাপাশি সিনেমা, সাংবাদিকতাও ঢুকে পড়ে। কিন্তু কমিউনিটি গাইডলাইনের আওতায় পড়ে অনেকেই নিজের মতপ্রকাশ করতে পারেন না।

তবে গুগল এবং ইউটিউব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখনও বজায় আছে। কিন্তু কোথাও গিয়ে একটা রেখা থাকা উচিত। সেটাই কমিউনিটি গাইডলাইন। ভুয়ো খবর, অসত্য বা রঙ চড়ানো ঘটনা কিংবা এমন কোনও কনটেন্ট যেগুলো অশান্তি বাড়াতে পারে – সেগুলোর দিকেই কড়া নজর রাখা হয়। সেজন্যই এতগুলো ভিডিও সরানো এবং চ্যানেল বন্ধের পরিস্থিতি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।