ইঁদুর তাড়াতে ধোপদুরস্ত সরকারি পদ তৈরি হল নিউইয়র্কে, বেতন শুনলে চমকে যাবেন!
Rat Czar Of New York: এতদিন ধরে ইঁদুরদের হাতে মারার চেষ্টা কম হয়নি শহরে। আপাতত কীভাবে তাদের ভাতে মারা যায়, সেদিকেই নজর নতুন ব়্যাট জার ক্যাথলিনের।

সেই হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালাকে মনে আছে নিশ্চয়ই। যে বাঁশি বাজিয়ে ইঁদুরমুক্ত করে ফেলেছিল গোটা শহরকে। তার বদলে চেয়েছিল উপযুক্ত পারিশ্রমিক। কিন্তু যে ভাবে কাজ হয়ে যাওয়ার পরে সর্বদাই উপকারীর উপকার ভুলে যায় ক্ষমতাবান, ঠিক সেভাবেই বঞ্চিত করা হয়েছিল হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালাকে। তবে তার ফল যে কী হয়েছিল, তা সকলেরই জানা। যে বাঁশির সুরে একদিন সমস্ত ইঁদুরকে সে শহরের বাইরে ফেলে এসেছিল, ঠিক তেমন ভাবেই শহরের সমস্ত শিশুকে সে কোথায় যেন নিয়ে চলে গিয়েছিল। আর ফেরেনি। নিজের অসম্মানের বদলা নিয়েছিল হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা।
কিন্তু এ তো রূপকথা। কিন্তু শহরকে ইঁদুরমুক্ত রাখার জন্য সত্যিই কি কোনও পেশা থাকতে পারে? তার জন্য আবেদন করতে পারেন হাজার হাজার আবেদনকারী! ভাবলে অবাক লাগে তাই না? কিন্তু এমনটাই ঘটেছে মার্কিন মূলুকে। যা শুনলে মনে হবে ঠিক যেন রূপকথা।
ইঁদুরের উপদ্রবে জেরবার আমেরিকার নিউইয়র্ক শহর। যেখানে তাকানো যায় শুধুই ইঁদুর। রাস্তাঘাট, ময়দান-পার্ক, ফুটপাথ কোথাও বাকি নেই। এমনকী দেওয়ালেও তাদের অবাধ যাতায়াত। আজ থেকে নয়, আঠারোর শতক থেকেই শহরে ইঁদুরের বাড়বাড়ন্ত। বিশ শতকে তা বেড়েছে কয়েকগুণ। শহরের ৯০ শতাংশ জায়গাতেই ছবিটা একই। নয় নয় করে অন্তত ২০ লক্ষ ইঁদুর রয়েছেই শহর জুড়ে। যার হাত থেকে বাড়িঘর বাঁচাতে পাগল হওয়ার জোগার নিউউয়র্কবাসীর।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
The rat catcher of Bangladesh: বছরে প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার ইঁদুর ধরেন আনোয়ার। আর সেই ইঁদুর ধরে মারার পরে তাদের লেজ কেটে কেটে রাখেন তিনি।
প্রায় ২৫০ বছর আগে আমেরিকান বিপ্লবের সময়ে ইউরোপ থেকে নৌকোয় করে আমেরিকায় এসেছিল ইঁদুরবাহিনী। এর পর তারা বংশবিস্তার করে গিয়েছে। মজার ব্যাপার, ইঁদুর বাঁচে মাত্র দুবছরের কাছাকাছি, কিন্তু মাত্র ২ মাস বয়স থেকেই তারা বংশবিস্তার করতে সক্ষম হয়ে যায়। মাত্র ২ সেকেন্ডের যৌনমিলনে তারা উৎপাদন করতে পারে আট থেকে দশটি সন্তান। আর গোটা বছরে এই ব্যাপারটি ঘটতে পারে ৬ থেকে ৭ বার। অর্থাৎ একটি ইঁদুর-মা তার গোটা জীবৎকালে অন্তত ১২০টি ইঁদুরের জন্ম দিতে পারে। তবেই বুঝুন ইঁদুরের এমন বাড়বাড়ন্তে কারণটি ঠিক কী?
তবি নিউইয়র্ক শহরে ইঁদুরের এমন বাড়বাড়ন্তের জন্য় প্রশাসনিক অব্যবস্থাকেও দুষেছেন অনেকে। বিশেষত শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্যই এই ইঁদুরের অত্যাচার বলেই মনে করেন অনেকে। আর এভাবেই দিনে দিনে পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই, শহর বাঁচাতে এতদিনে উঠেপড়ে লেগেছে নিউইয়র্ক প্রশাসন। শুধুমাত্র ইঁদুরের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে তৈরি হয়ে গিয়েছে সরকারি পদও। যার বেতন চমকে ওঠার মতোই।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Scientists Create Mice with Two fathers : ডিম্বাণু ছাড়াই সন্তান উৎপাদনে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা! এক কথায়, ঐতিহাসিক এই গবেষণা!
না, হ্যামলিনের মেয়রের মতো একই ভুল করতে নারাজ নিউইয়র্ক প্রশাসন। তাই রীতিমতো মোটা বেতনের বিনিময়ে ইঁদুরের হাত থেকে রেহাই চায় তারা। 'ব়্যাট জার' নামে ইতিমধ্যেই একটি সরকারি পদ তৈরি করে ফেলেছেন তারা। যার জন্য আবেদন করেছিলেন ৯০০ জন আবেদনকারী। তাদের সকলকে রীতিমতো কড়া পরীক্ষা দিতে হয়েছে। ঝাড়াইবাছাইয়ের পরে অবশেষে বেছে নেওয়া হয়েছে একজনকে। সম্প্রতি ওই পদে নয়া নিযুক্তের নাম ঘোষণা করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র এরিক আড্যামস।

ওই পদের জন্য মনোনীত হয়েছেন ক্যাথলিন করাডি নামে এক মহিলা। যিনি পেশায় এককালে ছিলেন শিক্ষিকা। ইঁদুর তাঁর তীব্র অপছন্দের। ফলে ইঁদুর তাড়ানোর কাজে যে তাঁর বিশেষ আগ্রহ থাকবেই, তাতে আর সন্দেহ কী! ইঁদুর তাড়াতে প্রতিবেশীদের সই সংগ্রগ থেকে শুরু করে কী করেননি তিনি। এর আগেও শিক্ষা দফতরের 'রডেন্ট রিডাকশন ইনিশিয়েটিভ'-এ জড়িত ছিলেন ক্যাথলিন। এবার পেলেন রডেন্ট মাইগ্রেশন ফর নিউ ইয়র্ক সিটি-র ডিরেক্টরের পদ। যার বেতনবাবদ তিনি পেতে চলেছেন এক থেকে দেড় কোটি টাকা বছরে।

নতুন পদে এসেই একগুচ্ছ ইঁদুরবিনাশি পরিকল্পনা সামনে এনেছেন ক্যাথলিন। এতদিন ধরে ইঁদুরদের হাতে মারার চেষ্টা কম হয়নি শহরে। আপাতত কীভাবে তাদের ভাতে মারা যায়, সেদিকেই নজর ক্যাথলিনের। খাবার, জল এবং বাসস্থান কমিয়ে ইঁদুরের বংশ ধ্বংস করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। শহরের আবর্জনা ব্যবস্থা সামলাতে নতুন নিয়ম চালু করার কথাও বাবছেন তিনি। জঞ্জাল রাখার জন্য কীভাবে অ্যান্টি ব়্যাট গারবেজ ব্যাগ বা ড্রাম ব্যবহার করা যায়, নজর রয়েছে সেদিকেও। মোদ্দা কথা, শহরকে ইঁদুরমুক্ত করেই ছাড়বেন ক্যাথলিন। নয়া পদে অভিষিক্ত হয়ে প্রতিশ্রুতি তাঁর। পাশাপাশি শহরকে আরও পরিষ্কার করে তোলার দিকেও মন দিয়েছেন তিনি।
ইতিমধ্যেই ক্যাথলিনের নয়া পদ নিয়ে শুরু হয়েছে শোরগোল। ইঁদুর তাড়াতে এমন একটি সরকারি পদ যে তৈরি করা যায়, যার স্যালারি কিনা কোটিতে, তা বিশ্বাস করা শক্ত বটে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও হইচই পড়ে গিয়েছে তাঁকে ঘিরে। কেউ কেউ ট্রোল করতেও ছাড়েননি। নিউইয়র্কের একটি ট্রেন-সাবওয়ে জুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে লম্বা কালো একটি সাপ, এমনই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, 'নিউইয়র্ক শহরের নয়া ব়্যাট জার'। তবে এসব হাসিঠাট্টায় আমল দিচ্ছেন না ক্যাথলিন। বরং সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এবার থেকে শহরের রাস্তায় ইঁদুর কম, তাঁকে বেশি দেখতে পাবেন নিউইয়র্কবাসী।
















