দুই বাবা ইঁদুরের 'মিলনেই' জন্ম সন্তানের! বদলাচ্ছে 'সাধারণ নিয়ম'? যে মিরাকল দেখাল জাপান

Scientists Create Mice with Two fathers : ডিম্বাণু ছাড়াই সন্তান উৎপাদনে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা! এক কথায়, ঐতিহাসিক এই গবেষণা!

inscript
২ মিনিট
দুই বাবা ইঁদুরের 'মিলনেই' জন্ম সন্তানের! বদলাচ্ছে 'সাধারণ নিয়ম'? যে মিরাকল দেখাল জাপান

কেবল মানুষ নয়, যে কোনও প্রাণীর জন্মের পেছনের ‘গূঢ় রহস্য’ কী? শুক্রাণু আর ডিম্বাণুর মিলন, এবং সেখান থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি। তারপর জঠরে থাকার সময় সেই ভ্রূণই একটু একটু করে পূর্ণাঙ্গ প্রাণীদেহে পরিণত হয়। জীবনচক্রের এমন নিয়মই স্বাভাবিক। এলজিবিটিকিউয়ের আন্দোলনের যুগে লিঙ্গের ঘেরাটোপ ভেঙে গিয়েছে। তাঁরা নিজেদের অধিকার, নিজেদের বাক স্বাধীনতা আর নিজের মতো করে বেঁচে থাকার নিয়মকেই বেছে নিয়েছেন। সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সন্তান উৎপাদনের ক্ষেত্রে শুক্রাণু আর ডিম্বাণুর মিলনই ছিল একমাত্র উপায়।

আর এখানেই অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছেন জাপানের বিজ্ঞানীরা। প্রযুক্তি আর বিজ্ঞান যত উন্নত হচ্ছে, ততই অবাক হচ্ছি আমরা। নিত্যনতুন জিনিস আবিষ্কৃত হচ্ছে, গবেষণার কাজও চলছে নিজের নিয়মে। তারই মধ্যে জাপানের বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা রীতিমতো চমকে দিয়েছে জীববিজ্ঞানীদের। দুই পুরুষ ইঁদুরকে নিয়ে পরীক্ষা করেছেন তাঁরা। আর সেই দুই পুরুষ ইদুরের ‘মিলনে’ তৈরি হয়েছে সন্তান! আক্ষরিকভাবে বলতে গেলে, কোনও স্ত্রী ইঁদুর ছাড়া, ডিম্বাণু ছাড়াই সন্তান উৎপাদনে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা! এক কথায়, ঐতিহাসিক এই গবেষণা!

আন্তর্জাতিক পত্রিকা ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এ সম্প্রতি এই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জাপানের কিয়ুশু বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্সের গবেষকরা। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী কাতসুহিকো হায়াশি। তাঁদের মূল কাজটাই ছিল, জিনকে কাজে লাগিয়ে কী করে প্রজনন জগতে অদলবদল করা যায়। গবেষণার ‘গিনিপিগ’ ছিল ইঁদুর। জিনের ভেতরেই লুকানো আছে যাবতীয় সমস্যার চাবিকাঠি, এমনই ভাবনা ছিল গবেষকদের। আর তাঁদের নজরে ছিল শরীরের একটি বিশেষ অংশ – স্টেম সেল।

এই স্টেম সেল কী? সেটা বলার আগে একবার ভ্রূণ তৈরির ব্যাপারটা জানা যাক। শুক্রাণু আর ডিম্বাণুর মিলনে তৈরি হয় জাইগোট, যা থেকে একটু একটু করে ভ্রূণ তৈরি হয়। একটা দশায় এই জাইগোট পরিণত হয় ব্লাস্টোসিসে। এর ভেতরেই থাকে স্টেম সেল, যেখান থেকে পরে যে কোনও কোষ তৈরি হতে পারে। প্রাণীদেহের বিভিন্ন জায়গাতেই থাকে এই স্টেম সেল। তবে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী শিনয়া ইয়ামানাকা ইতিমধ্যেই কৃত্রিম স্টেম কোষ তৈরি করেছেন। আর সেটা নিয়েই এই গবেষক দলের মূল গবেষণা ছিল।

এই কৃত্রিম স্টেম সেলকে কাজে লাগিয়েই ইঁদুরের প্রজননের জায়গা বদল করেছেন বিজ্ঞানীরা। আমরা জানি, স্ত্রী দেহে XX ক্রোমোজোম থাকে, যেখানে পুরুষদের থাকে XY ক্রোমোজোম। মিলনের সময় এই দুটি ক্রোমোজোমের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু দুজন পুরুষ হলে দুটি XY ক্রোমোজোম থাকবে। ফলে শুক্রাণুর মিলনে সন্তান উৎপাদন হবে না। এখানেই আসল কাজটি করেছেন গবেষকরা। কৃত্রিম স্টেম সেলের সাহায্যে এই দুটি XY ক্রোমোজোমের একটিকে বদলে দিতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। XY-এর জায়গায় সেই ক্রোমোজোমটি হয়ে গিয়েছে X(X)। ফলে এখান থেকে সন্তান উৎপাদনে আর কোনও বাধা রইল না।

এই নতুন, ঐতিহাসিক আবিষ্কারটি সবেমাত্র হয়েছে। এখনও বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা বাকি। কিন্তু যদি একবার গোটা পৃথিবীতে স্বীকৃত হয়ে যায় এই পদ্ধতি, তাহলে রীতিমতো বিপ্লব তৈরি হবে। মানুষের ওপরও কাজ করে কিনা, সেটাও পরীক্ষা করে দেখা হবে। তাহলে সমলিঙ্গের দম্পতিরাও সন্তান ধারণ করতে পারবেন আরও সহজে।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?