চাহিদা প্রচুর, নেই জোগান, এবারের শীতে গুড়ের স্বাদে তবে বঞ্চিত বাঙালি?

Nolen Gur: যে গাছ থেকে প্রায় ২০০ লিটারের কাছাকাছি খেজুরের রস পাওয়া যায় তা থেকে মাত্র ১৫ লিটার খেজুরের রস পাওয়া গেছে

Shibani
৩ মিনিট
চাহিদা প্রচুর, নেই জোগান, এবারের শীতে গুড়ের স্বাদে তবে বঞ্চিত বাঙালি?

বাঙালি বারো মাসের তেরো পার্বণ প্রায় শেষের মুখে দাঁড়িয়ে। অপেক্ষা এবার শুধুই পৌষ পার্বণের। বছরের শেষ উৎসব। আর উৎসব মানেই মন খুলে পেটপুজো। তবে এই সময় বাঙালির চোখ টক-ঝালে নয়, বরং সুস্বাদু, সুগন্ধি মিষ্টিতে। এই সময় পায়েস থেকে শুরু করে পিঠেপুলিতে ভরপুর রান্নাঘর নলেন গুড় ছাড়া যেন একেবারেই নিষ্প্রাণ।

মূলত খেজুরের রস থেকেই বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় এই নলেন গুড়। তবে বাবা-মায়েদের আমলের গুড়ের স্বাদ আজ আর নেই। খেজুরের রস থেকে এই গুড় যারা তৈরি করেন তাঁদের শিউলি বলা হয়। প্রতিবছর দক্ষিণ ২৪ পরগনা বা মেদিনীপুর জেলা থেকে শিউলিরা পরিবার নিয়ে চলে আসেন হাওড়া এবং আশেপাশের এলাকায়। এখানে থেকেই গুড় তৈরি করে বিক্রি করেন সারা মাস ধরে। প্রতিবছরের মতো এই বছরও নির্দিষ্ট সময় তাঁরা জেলাগুলিতে এসে হাজির হলেও, সবারই প্রায় মাথায় হাত। শীতের হাওয়া বইতে না বইতেই গুড়ের চাহিদা শুরু হলেও গুড়ের জোগান হয়নি পর্যাপ্ত মাত্রায়। অসময়ে গাছ কেটেছেন বলে মেলেনি পর্যাপ্ত পরিমাণে খেজুরের রস। যে গাছ থেকে প্রায় ২০০ লিটারের কাছাকাছি খেজুরের রস পাওয়া যায় তা থেকে মাত্র ১৫ লিটার খেজুরের রস পাওয়া গেছে। যদিও শিউলিরা আশা করছেন ঠিকঠাকভাবে শীত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা পর্যাপ্ত গুড়ের জোগান দিতে পারবেন।

কীভাবে তৈরি হয় নলেন গুড়?

খেজুরের রস সংগ্রহ থেকে শুরু করে নলেন গুড় তৈরির প্রক্রিয়া চলে প্রায় আড়াই মাস ধরে। এই সময় খেজুর গাছের মাথা ধরালো অস্ত্রের মাধ্যমে কেটে একটি নল পুঁতে দেওয়া হয় আর তার সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হয় একটি মাটির হাঁড়ি। সারারাত ধরে সেখান থেকে সেই মাটির হাঁড়িতে এসে জমা হয় খেজুরের রস। এরপরে এটিকে পরিষ্কার ছাঁকনির মাধ্যমে ছেঁকে উনুনের ওপর রেখে শুরু হয় জ্বাল দেওয়ার কাজ। আস্তে আস্তে এটি ঘন হয়ে এলে সেখান থেকে তৈরি হয় নলেন গুড়। শীতের মরশুমে এই নলেন গুড়ের চাহিদা প্রচুর পরিমাণে থাকলেও এই বছর উত্তরের হাওয়া কম থাকায় খেজুরের রসের ফলন অনেক কম হয়েছে। এছাড়াও উনুনে খেজুরের রস জ্বাল দেওয়ার সময় প্রয়োজন হয় প্রচুর পরিমাণে খড়ের। এই খড়ের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা নানাভাবে গুড় তৈরি নিয়ে সমস্যায় ভুগছেন।

গুড়ের পুষ্টিগুণ কী কী?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শীতের আমেজ আর খেজুর গুড়ের যুগলবন্দি খাদ্য-বেরসিকের মনেও পুলক ধরায়

Nalen Gur: শীতকাল মানেই যেন সব ভুলে ডুব দেওয়া নলেন গুড়ের স্বর্গীয় স্বাদে।

গুড়ে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ থাকে যা স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারী। এছাড়াও আরও নানারকম উপকারিতা রয়েছে গুড়ের;

এক কাপ তাজা গুড়ে থাকে;

ক্যালোরি – ১০০ গ্রাম

প্রোটিন – ১ গ্রামের কম

ফ্যাট – ১ গ্রামের কম

কার্বোহাইড্রেট – ২৬ গ্রাম

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গুড়ের সন্দেশকে টেক্কা দিল চকলেট সন্দেশ! মিষ্টিমুখেও সাম্রাজ্যবাদ

Nalen Gur: বাহারি ডার্ক চকোলেটের পাশে ম্রিয়মাণ নলেন গুড়, বিষণ্ণ সন্দেশ, আর একখানা রুগ্ন অস্তিত্ব সংকট।

ফাইবার – ১ গ্রামের কম

সুগার - ২৪ গ্রাম

এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস থাকে গুড়ে যা মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপযোগী। শরীরে রক্তের ঘাটতি হলেই অ্যানিমিয়া দেখা দেয়। তবে নিয়মিত কিছুটা পরিমাণ গুড় খেলে এই রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। কারণ গুড়ে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে যা শরীরে রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। এছাড়াও গুড় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করে। গুড়ের মোলাসেসে ফেনোলিক নামের এক ধরনের অ্যাসিড থাকে, যা শরীরকে ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে মুক্তি দেয়। তবে ডায়াবেটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে ডাক্তারি পরামর্শ নিতে হবে।

আজকাল বাজারে ভেজালের শেষ নেই। যা কিনতে যাবেন তাতেই কোনও না কোনওভাবে ভেজাল মিলবেই। তবে কোনওরকম ভেজাল ছাড়া খাঁটি জিনিস কিনতে শুধু একটি জিনিসই প্রয়োজন; পরখ করে দেখার ক্ষমতা। যেমন, নলেন গুড় কিনতে গিয়ে সবাই শুধুমাত্র গন্ধ শুঁকেই তা কিনে ফেলেন। অনেকেরই অজানা, আজকাল এই গুড়ের মধ্যে নানা রকম রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে তাকে সুগন্ধি করা হয়। দোকানে গিয়ে গুড় কেনার সময় কিছু জিনিস ভালো করে যাচাই করে দেখবেন;

১. নলেন গুড়ের পাটালি খুব নরম হয়। যদি কখনও দোকান থেকে শক্ত পাটালি দেয় তবে বুঝবেন তা নলেন গুড় নয়।

২. কেনার সময় একটু ছোট টুকরো মুখে দিয়ে দেখবেন যে তাতে নোনতা স্বাদ আছে কিনা। কারণ যদি নোনতা স্বাদ থাকে তার মানে গুড়ে ফিটকিরি মেশানো রয়েছে।

৩. নলেন গুড়ের রং সাধারণত গাঢ় বাদামী রঙের হয়। গুড়ের সঙ্গে চিনি মেশানো থাকলে এই বাদামী রং অনেকটাই ফ্যাকাশে হয়ে যায়।

গুড় দিয়ে তৈরি একটি সুস্বাদু মিষ্টি মনোহরা। শ্রীরামপুরের পাশেই রিষড়ার ফেলু মোদকের এই মনোহরা মিষ্টিপ্রেমীদের মন ফুরফুরে করে দিত এককালে। তবে দোকান নয়, বাড়িতেও বানিয়ে নেওয়া যায় এই মনোহরা।

কীভাবে বাড়িতেই বানাবেন মনোহরা?

প্রথমে ভালো করে ফ্রাইং প্যানে ছানা এবং চিনিকে একসঙ্গে পাক দিয়ে নিতে হবে। এরপর যখন আস্তে আস্তে ছানার জল ছাড়তে শুরু করবে তখন মিশিয়ে দিতে হবে নলেন গুড়। এবার এই নলেন গুড় আর ছানাকে একসঙ্গে ভালো করে পাক দিতে হবে। মিনিট পাঁচেক পর একটি পরিষ্কার পাত্রে নামিয়ে রেখে ঠান্ডা করতে হবে এই সন্দেশ। ঠান্ডা হয়ে গেলেই এটিকে গোল করে মনোহরার আকার দিয়ে পাটালি গুড়ের সঙ্গে পরিবেশন করতে হবে।

লিখেছেন
Shibani
Shibani
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।