মুহূর্তে ভেঙে পড়ে একের পর এক বিমান, কেন মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হল বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল?

Barmuda Triangle Mystry : ঠিক যেন ফেলুদার গল্প, বারমুডা রহস্যতেও রয়েছে এক মেঘরাজের ভিলেনগিরি!

Kankana Mukherjee
৪ মিনিট
মুহূর্তে ভেঙে পড়ে একের পর এক বিমান, কেন মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হল বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল?

টানটান উত্তেজনা, রহস্যময় প্লট তার সঙ্গে মেঘরাজের ভিলেনগিরি! তবে এটা কোনও ফেলুদার গল্প মোটেই নয়, এমনকী এই মেঘরাজের সঙ্গে মগনলালের বিশেষ কোনও সম্পর্কও নেই কিন্তু তবুও রহস্য আছে। না পাওয়া উত্তরের ভিড় আছে, আর তার সঙ্গে আছে দীর্ঘ একটা ইতিহাসও। কথা হচ্ছে, ওড়িশার রহস্যে ঘেরা বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল নিয়ে। জায়গার নামেই রয়েছে ত্রিভুজের অস্তিত্ব, আকৃতির কথা মাথায় রেখেই এমন নাম বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের। বিশ্বের এই আশ্চর্য্য প্রাকৃতিক ত্রিভুজটিই যেন আস্ত একটা রহস্যের খনি। যার কিনারা করতে বছরের পর বছর সময় লেগে যায় বিজ্ঞানীদের। এখনও যে সবটুকু উত্তর মিলেছে, সে কথাও জোর দিয়ে বলা যায় না।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল মানেই একটা অ্যাডভেঞ্চারের গন্ধ। কন্সপিরেসি থিয়োরি অর্থাৎ যাঁরা উদ্ভট সব তত্ত্বে বিশ্বাসী, তাঁদের কাছে এই ট্রায়াঙ্গলের স্থানমহিমা বলে বোঝানোর নয়। আটলান্টিক মহাসাগরে তিনটি বিন্দু দ্বারা সীমাবদ্ধ ত্রিভুজাকৃতি একটি বিশেষ অঞ্চলকে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল বলে। এই অঞ্চলে এখনও পর্যন্ত যে ঠিক কত রহস্যময় দুর্ঘটনা ঘটেছে তার ইয়াত্তা নেই। সঙ্গত কারণেই তাই পৃথিবীর রহস্যময় অঞ্চলের তকমা জুটেছে এই অঞ্চলটির। স্থানীয় অধিবাসীরা এই অঞ্চলটিকে ড্রেভিলস ট্রায়াঙ্গেল বা শয়তানের ত্রিভুজ বলে থাকেন। আদতে ক্যারিবিয়ন সাগরে অবস্থিত এই ত্রিভুজ এলাকাই হল বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হাজার বছর ধরে জলের গভীরে লুকিয়ে আছে দানব? যে রহস্যের কিনারা হয়নি আজও...

Loch Ness Monster, Scotland: হ্রদে বসবাসকারী এই জলজ অতিকায় প্রাণীর বিবরণ ১,৫০০ বছর আগে মিললেও প্রাণীটির অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ মেলেনি।

কিন্তু কেন এমন নাম? আর এই শয়তান আসলে কে? এর উত্তর খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে বেশ কিছু বছর আগে। সময়টা ১৯৪৪ সাল। পৃথিবী জুড়ে তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গনগনে আঁচ। সেই আঁচের হাত থেকে রেহাই মেলেনি ভারতেরও। গোটা দুনিয়া ফুটছে যুদ্ধ নামক আগুনে। ঠিক এরকম সময় শুরু রহস্যের। ৪ মে, আমারদা রোড বিমানঘাঁটির কাছে মার্কিন লিবারেটর যুদ্ধবিমানের সঙ্গে হার্ভার্ড দ্য হাভিল্যান্ড বিমানের মুখোমুখি এক মারাত্মক সংঘর্ষ হল। শুধু তাই নয়, এই দুর্ঘটনায় দুই বিমানের ৪ জন সদস্যেরই মৃত্যু হয়। যদিও ঠিক কী কারণে সংঘর্ষ, এর উত্তর মেলে না। কিন্তু সেই উত্তর খুঁজে পাওয়ার আগেই পরপর নেমে আসে আরও বেশ কিছু দুর্যোগ।ঠিক তিন দিনের মাথায় ৭ মে ফের দুর্ঘটনা। খবর পাওয়া গেল, আরেকটি লিবারেটর যুদ্ধবিমান টেক অফ করার মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই কোনও এক রহস্যময় কারণে চুরমার হয়ে ভেঙে পড়ে। মারা যান বিমানে থাকা ১০ জন! আবারও সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই ১৩ মে আমারদা রোড থেকে টেক অফ করার পরই ফের ভেঙে পড়ে আরেকটি হাভিল্যান্ড বিমান।

রহস্য ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে ঠিকই তবে উত্তর মিলছে না কিছুতেই। অথচ ঘটে যাচ্ছে একটার পির একটা ভয়াবহ দুর্ঘটনা। যার সবথেকে মারাত্মক ফলশ্রুতি হল ১৯৪৫ সালের ২৬ জুলাই। এটিই এই অঞ্চলে ঘটা সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা। সেদিন দু’টি চার ইঞ্জিনের বোমারু বিমান এবং ব্রিটিশ রয়্যাল যুদ্ধবিমান বি-২৪ লিবারেটরের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। নেহাতই প্রশিক্ষণে ব্যস্ত থাকার সময়ই ওই দুর্ঘটনা ঘটে যায়। মারা যান ১৪ জন। বিমানের ধ্বংসাবশেষ এসে পড়ে এই বাংলায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আবিষ্কার করেছিলেন বাঙালি প্রত্নতাত্ত্বিক, শতবর্ষ পেরিয়েও যে রহস্য বয়ে বেড়াচ্ছে ‘মৃতের শহর’

Mohenjo-daro : শতবর্ষ আগে এক বাঙালি প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার করেছিলেন এই শহর, কেমন আছে প্রাচীন মহেঞ্জোদারো?

সেই থেকেই একের পর এক দুর্ঘটনার সাক্ষ্য দিচ্ছে রহস্যময় এই মৃত্যু উপত্যকা। সময়ের সঙ্গে কেবল ঘনীভূত হয়েছে আতঙ্ক। গবেষণাও চলেছে নিরন্তর। ওড়িশার আমারদা রোড বিমানঘাঁটি, ঝাড়খণ্ডের চাকুলিয়া ও বাঁকুড়ার কাছে পিয়ারডোবা, এই তিনটি বিন্দুকে যোগ করলে যে ত্রিভুজাকৃতি এলাকা তৈরি হয় সেখানে বারবার ভেঙে পড়েছে বিমানের ধ্বংসাবশেষ। একটা দুটো নয়, মত ১৬ টি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে এ যাবৎ। সেস্টি ঘটেছে ২০১৮ সালে। যার জের আজও বইছে গোটা বিশ্ব। কিন্তু কেন বারবার এই পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে বিমানগুলোকে?

১৯৪০ সালে ৩ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হওয়া বিমানবন্দরটি আজ প্রায় পরিত্যক্ত। কীভাবে মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হল এই জায়গাটি তা নিয়ে অবশ্য বিভিন্ন সময়ে নানান থিয়োরি সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীরা। এই বিমানঘাঁটির কাছেই রয়েছে ঝাড়খণ্ডের জাদুগোরা ইউরেনিয়াম খনি। ফলে নির্গত তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়ামের প্রভাবেও যন্ত্র বিকল হয়ে যেতে পারে, বলে দাবি করেছেন অনেক বিজ্ঞানীরাই। যে কারণে বিমানের র‌্যাডার বিকল হয়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটা বিচিত্র কিছুই নয়। যদিও এটি কেবল একটা থিয়োরি হিসেবেই থেকে গিয়েছে দীর্ঘ প্রায় আশি বছর ধরে। আজও সঠিক কোনও প্রমাণ মেলে না। এ যেন ‘টপ সিক্রেট’! খোঁজ মেলেনি ধ্বংস হয়ে যাওয়া বিমান গুলির। মনে করা হয়, অদৃশ্য হয়ে যায়নি মোটেই, আজও লীন হয়ে রয়েছে বঙ্গোপসাগরের গভীর কোনও তলদেশে।

আবার অনেকের গবেষকদের মতে, এখানে নাকি চুম্বকীয় তত্ত্ব কাজ করে। যার ফল স্বরূপ এই অঞ্চলে আকাশ ও সমুদ্রের মধ্যে তড়িতাহত ক্রিয়া বিক্রিয়া ঘটে। যেটিকে দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে সূচিত করে হয়েছে বেশ কিছু গবেষণায়। পাশাপাশি, উড়িয়ে দেওয়া যায়নি ট্রায়াঙ্গাল অঞ্চলে সমুদ্র ভূপিষ্টে থাকা এক অনন্ত ফাটলের রহস্যকেও। এটিও কারণ হতে পারে বলে অনেকেরই বিশ্বাস। তবে সম্প্রতি এই সব তত্বকে উড়িয়ে বিজ্ঞানীরা এক নতুন তত্ত্ব দিয়েছেন। এবং জোর দিয়েই দাবি করছেন অবশেষে বারমুডা ট্রায়াঙ্গালের রহস্যে সমাধান হয়েছে। এই নয়া গবেষণায় উঠে এসেছে মেঘরাজের কথা। প্রথমেই উল্লেখ করা হয়েছে যেটি। বারমুডা রহস্যের ভিলেন সাব্যস্ত করা গিয়েছে ষড়ভূজাকৃতি মেঘকে। আটলান্টিক মহাসাগরের বারমুডা দ্বীপের কাছে প্রায় পঞ্চাশ মাইল এলাকা জুড়ে রয়েছে এই মেঘ। যার গতি ঘণ্টায় একশ সত্তর মাইল। মনে করা হয়েছে, এই মেঘের ঝড়েই নাকি যাবতীয় দুর্ঘটনার আসল কারণ। যদিও এতো বছর ধরে জমাট বাঁধা রহস্যের সহজ সমাধান নিয়ে কতটা বিশ্বাস মানুষের মধ্যে পাকাপোক্ত হয়েছে, তা সময়ই বলতে পারবে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।