অন্য কোথাও খুন করে দেহ সেমিনার রুমে? আরজি করের 'ক্রাইম স্পট' সাজানো?
RG Kar Rape and Murder: সেমিনার রুমকে 'ক্রাইমস্পট' সাজিয়ে আসল ক্রাইমস্পট থেকে তথ্য লোপাট করতে চাওয়া হয়েছিল!

আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের হত্যা ও ধর্ষণের তদন্তের ভার সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার পর থেকেই একের পর এক নতুন তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। প্রতিটি তথ্যই জন্ম দিচ্ছে নতুন আশঙ্কার। ঘটনার দিন জানা গিয়েছিল, ওই চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়েছে জরুরি বিভাগের চারতলার উপরের সেমিনার রুম থেকে। এবার সেই ঘটনাস্থল নিয়েই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আদৌ কি ওই সেমিনার রুমে খুন করে ধর্ষণ করা হয়েছিল? নাকি অন্যত্র খুন করে, ধর্ষণ করে দেহ পরিকল্পনামাফিক এনে রাখা হয় ওই হলে? এমন প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিকও। কেন?
প্রথমে জানা গিয়েছিল, হাসপাতালের চারতলায়, যেখানে সেমিনার রুমটি আছে সেখানে চিকিৎসকদের বিশ্রামের জন্য বিকল্প কোনও জায়গা নেই। অথচ বাস্তবে দেখা গিয়েছে, ওই বিল্ডিংয়ে এমন ঘর আছে যেখানে চিকিৎসকেরা বিশ্রাম নেন। তাহলে রাতে বিশ্রাম নিতে বা ঘুমোতে ওই তরুণী চিকিৎসক কেন থেকে গেলেন সেমিনার হলে? সিবিআই অফিসাররা মনে করছেন, আরজি করের চেস্ট বিভাগে ৬০টি শয্যা রয়েছে। এছাড়া, সেমিনার হল-সহ আরও দু’টি ঘর আছে। সেই দুই ঘরে রাতে কেউ থাকে না। সেখানেও ধর্ষণ করে খুন করা হয়ে থাকতে পারে সেই চিকিৎসককে। সর্বোপরি, এই ঘটনা ঘটার কিছু ঘণ্টার মধ্যেই ওই বিল্ডিংয়ে একটি ঘর ভাঙার কাজ শুরু হয়! স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, তবে কি সেই ঘরেই কিছু ঘটেছিল? তারপরে সেমিনার রুমে মৃতদেহ এনে রাখা হয়? তাই সেমিনার রুমকে 'ক্রাইমস্পট' সাজিয়ে আসল ক্রাইমস্পট থেকে তথ্য লোপাট করতে চাওয়া হয়েছিল!
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
The security Of Woman: ভারতবর্ষে মেয়েরা স্কুলে কিংবা কলেজে গেলেও, কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের উপস্থিতি কম হওয়ার কী কারণ, তা সামাজিকভাবে বিশ্লেষণের প্রয়োজন এখন।
এদিকে, ১৪ অগাস্ট রাতে, যখন আরজি করে ভাঙচুর চলে, তখন কলকাতা পুলিশ একটি বিবৃতি দিয়ে জানায়, "অপরাধ মূলত সেমিনার রুমে হয়েছিল কিন্তু সেই সেমিনার রুমকে ছোঁয়া পর্যন্ত হয়নি। যাচাই না করে খবর ছড়াবেন না। আমরা গুজব ছড়ানোর জন্য আইনি পদক্ষেপ করছি।"
সিবিআইয়ের তদন্তের প্রাথমিক কিছু জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, তরুণী চিকিৎসককে নাকি অন্য একজন চিকিৎসক সেখানে ডাকতে এসেছিলেন। তিনি ঘুমোচ্ছেন মনে করে ওই ব্যক্তি ফিরে যান। একজন ধর্ষিতা, মৃতাকে দেখে কারও কীভাবে 'ঘুমোচ্ছেন' মনে হলো? সেমিনার রুমের পোডিয়ামের উপর পড়েছিল চিকিৎসকের নিথর দেহ। ওভাবে কাউকে দেখে ঘুমন্ত মনে হওয়াটা অবাস্তব নয় কি? গোয়েন্দা সূত্র মারফৎ সেমিনার রুমের যে বর্ণনা পাওয়া গেছে, সেই অনুযায়ী, সেমিনার রুমের দরজা দিয়ে ঢুকেই সোজাসুজি সাদা বোর্ড টাঙানো আছে। তার নীচেই লাল পোডিয়াম। সামনে পর পর চেয়ার পাতা, যেমনটা হয়। পোডিয়ামের উপর সাদা বোর্ডের নীচে আলোয় এক্স-রে রিপোর্ট ধরে দেখার বাক্স। সেই বাক্সের ধার ঘেঁষে নীল কাপড়ে ঢাকা শয্যা মেঝেতে পাতা। তার পাশেই উঁচু কাঠের বেঞ্চ। এই দুইয়ের মাঝখানেই পড়েছিল চিকিৎসকের মৃতদেহ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
RG Kar Polygraph Test: পলিগ্রাফ টেস্টের জন্য অভিযুক্তকে এই পরীক্ষায় মত দিতে হয়।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী মৃতার দু’পা ছড়ানো ছিল দু’দিকে। একটি পা শয্যার বাইরে। লাল রঙের একটি কম্বল ফেলা ছিল তরুণীর গায়ে। চুল খোলা। উপরের পোশাক ছেঁড়া। নিম্নাঙ্গের পোশাক পড়ে ছিল পোডিয়ামের মেঝেতে। জুতো পড়ে ছিল মৃতদেহের পাশেই। মৃতদেহের একটি হাত নাকি এমনভাবে কপালের উপর রাখা ছিল, যা দূর থেকে এক ঝলক দেখলে মনে হতে পারে, কেউ ঘুমিয়ে আছেন। যে ব্যক্তি জানিয়েছেন যে তাঁকে ডাকতে গিয়ে ঘুমিয়ে আছেন ভেবে ফিরে এসেছেন তাঁর বয়ান ঘিরে এখানেই অসঙ্গতি জাগে। গোয়েন্দারা বলছেন, সেমিনার রুমের দরজা থেকে পোডিয়াম যে দূরত্বে রাখা আছে, অতটা দূর না গিয়ে কাউকে ডাকা সম্ভব নয়। আর যদি কেউ কাছে গিয়ে ডাকেন তাহলে কিছুতেই তাঁর মনে হতেই পারে না যে চিকিৎসক 'ঘুমোচ্ছেন'! পুলিশ বলছে, ঘুমোচ্ছেন ভেবে ফিরে যাওয়া চিকিৎসক নাকি দাবি করেছিলেন, তিনি বেঞ্চের আড়াল থেকে শুধু মৃতদেহের কপালের উপরে রাখা হাতটাই দেখেছিলেন। তাহলে কি মৃতদেহকে ওভাবেই সাজিয়ে রাখা হলো যাতে দূর থেকে ভ্রম হয়?
চিকিৎসকের মৃতদেহে এত বিপুল আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে যে স্বাভাবিক অবস্থায় ওই দেহ পড়ে থাকার কোনও কথাই না। সর্বোপরি, ভালো বিছানা ছেড়ে কেউ কেন মেঝেতে শুতে যাবেন, এই প্রশ্ন কেন ওই চিকিৎসকের মনে জাগেনি? যেখানে মৃতার দেহ পাওয়া গেছে, তার নীচ দিয়েই বিদ্যুতের তারও গেছে। কেউ অহেতুক মেঝেতে, খারাপ অবস্থানে কেন শুতে যাবেন! খুনের পরে কি তাহলে তরুণীর হাত ওই ভাবে রেখে দেওয়া হয়েছিল? অন্য কোথাও খুন-ধর্ষণ করে মৃতদেহ সেমিনার রুমে রেখে সাজানো 'ক্রাইমস্পট' তৈরি করা হয়নি তো? উত্তর খুঁজছে সিবিআই।















