কুলদেবতার থানে আস্ত ডায়নোসরের ডিম! আশ্চর্য করবে কাকদ ভৈরবের কিসসা
Dinosaur Eggs: আস্ত ডায়নোসরের ডিম কীভাবে জায়গা পেয়ে যেতে পারে সাক্ষাৎ কূলদেবতার আসনে? এ এক রহস্য বটে।

রাস্তার ধারে হোঁচট খাওয়া পাথর কীভাবে পেল্লাই মন্দিরের দেবতা হয়ে যায়, তা আমাদের শিবরাম চক্রবর্তী দেখিয়েছেন। কীভাবে সেই দেবতার জন্য অন্ধ হয়ে যায় গ্রামকে গ্রাম, সমস্ত বিচারবুদ্ধি হারিয়ে ফেলে শহরকে শহর। তা-ও বোধহয় খুব একটা অজানা নয়। তবে তাই বলে আস্ত ডায়নোসরের ডিম কীভাবে জায়গা পেয়ে যেতে পারে সাক্ষাৎ কূলদেবতার আসনে? এ এক রহস্য বটে। মধ্যপ্রদেশের কাকদ ভৈরব বা ভিলাট বাবার পুজোর কিসসা অবাক করার মতোই।
মধ্যপ্রদেশের ওই প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দাদের বিশ্বাস, চাষবাসের জমি, গবাদি পশুর জীবন থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক সৌভাগ্য, সমস্ত কিছুর রক্ষাকর্তা ওই কাকদ দেব। কেউ কেউ তাকে বলেন ভিলাট বাবা। ধার এলাকার পাদল্যা গ্রামের বাসিন্দারা মনে করেন, চাষের সময় ক্ষেতে যে সব পাথর তাঁরা খুঁজে পেয়েছিলেন, সেই সব পাথরই তাঁদের রক্ষাকর্তা, সাক্ষাৎ দেবতা বাবা কাকদ দেব।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
World's most dangerous bird: সব পাখিকে পিছনে ফেলে সম্প্রতি সামনে এসেছে পৃথিবীর বিপজ্জনকতম পাখিটির নাম। বনে-জঙ্গলে বা স্থলে তো বটেই, একই সঙ্গে জলেও নাকি সমান দক্ষ এই আশ্চর্য পাখিটি।
সেই ভিলাট বাবার পায়ের কাছে নারকেল ভেঙে পুজো দেন তাঁরাষ বর্ষায় ছাগবলি হয় দেবথানে। পাদল্যা গ্রামের বাসিন্দা ভেস্তা জানান, ভারী জাগ্রত তাঁদের ঈশ্বর। বেশ কয়েক প্রজন্ম ধরে সেই পাথরের পুজো করে আসছেন গ্রামের মানুষ। তাকে জায়গা দিয়েছে কুলদেবতার থানে।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
তবে সম্প্রতি ওই এলাকায় পৌঁছন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। পরীক্ষানিরিক্ষার পর তাঁরা জানান, এ পাথর সে পাথর নয়। এ আসলে লক্ষ লক্ষ বছর আগের ডায়নসরের ডিম। না, সেই ডিম এই লক্ষ কোটি বছরে পরিণত হয়েছে জীবাশ্মে। আর জীবাশ্মের কাছেই ভক্তিভরে প্রার্থনা জানিয়ে আসছেন গ্রামবাসী। যাতে তাপে-জলে-ঝড়ে কোনও কোন না এসে পড়ে তাঁদের জমিজিরেত, গোরু-বাছুরের উপরে। ডায়নসরের উত্তরাধিকারী পাথরেরা সেই সব প্রার্থনা শোনেন কিনা জানা নেই, তবে কে না জানে বিশ্বাসে মেলায় বস্তু।

মধ্যপ্রদেশের ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার (DFO) এ এস শোলাঙ্কি জানান, ২০১১ সালে ওই এলাকায় একটি ডায়নোসর পার্ক তৈরি করা হয়েছে। যেখানে সংরক্ষিত রয়েছে এমন বহু জীবাশ্ম। ওই এলাকা থেকে বহু সময়েই এমন বহু জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছেন গ্রামবাসীরা। সেগুলি নিয়ে গিয়ে রীতিমতো ঈশ্বরের আসনে তাদের বসিয়ে তাদের আরাধনাও করেছে গ্রামবাসীরা। যেমনটা হয়েছে ধার জেলার বাগ এলাকায়। ওই গ্রাম থেকে কম করে হলেও অন্তত ২৫০ ডায়নোসরের ডিমের জীবাশ্ম উদ্ধার হয়েছে। সেসব রাখা রয়েছে ডায়নোসর ফসিল ন্যাশনাল পার্কে। সেখানে এত প্রাচীন কয়েকটি জীবাশ্ম রয়েছে, যা তাক লাগার মতোই।
আপাতত সেই ডায়নোসরের মস্ত বড় ডিম থুড়ি জীবাশ্মটি দেখতে ভিড় জমান বহু পর্যটক। পড়শি গ্রাম থেকে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। তবে তারা সত্যিই কি জীবাশ্ম দেখতে আসেন, নাকি খুঁজতে আসেন বাপদাদার শিখিয়ে যাওয়া সেই ঈশ্বরকেই, যে তাঁদের জমিজিরেত রক্ষা করেন, প্রাণে বাঁচিয়ে রাখেন গরু-ছাগলকে। ধনে-সম্পত্তিতে বাঁচিয়ে রাখেন গ্রামের মানুষগুলোকে। ঠিক কোন টান তাঁদের নিয়ে আসে বারবার সেই ডায়নোসরের ডিমের কাছে, তা বলা বোধহয় কঠিন।
















