মাঝ আকাশে অভাবনীয় ঘোষণা, স্বাধীনতা দিবসে যেভাবে যাত্রীদের মন জিতলেন এই পাইলট...
Independence Day Announcement: এ বছর দেশের ৭৬তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্পাইসজেট বিমানযাত্রীরা পেলেন দুর্দান্ত এক 'সারপ্রাইজ'। একেবারে নিজস্ব কায়দায় নিজস্ব ঢঙে যাত্রীদের জন্য সেই উপহার সাজিয়েছিলেন স্পাইসজেট বিমানসংস্থার পাইলট মোহিত তেওটিয়া।

স্বাধীনতা দিবস তো আদতে ভারতবাসীর কাছে একটা আবেগের নাম। আর পাঁচটা দিনের থেকে তাই আলাদা ১৫ অগস্ট। ওই একটা দিনকে ঘিরে হাজার রকম আয়োজন, অনুষ্ঠান, কুচকাওয়াজের পাশাপাশি আশপাশ সেজে ওঠা তেরঙার সাজে। রেল থেকে শুরু করে বিমান, সমস্ত রকম যানবাহনেই একটু অন্যরকম কিছুর প্রত্যাশা নিয়ে ওঠেন যাত্রীরা। আর কিছু কিছু সময় সেই প্রত্যাশা পূরণও হয়। যেমন এ বছর দেশের ৭৬তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্পাইসজেট বিমানযাত্রীরা পেলেন দুর্দান্ত এক 'সারপ্রাইজ'। একেবারে নিজস্ব কায়দায় নিজস্ব ঢঙে যাত্রীদের জন্য সেই উপহার সাজিয়েছিলেন স্পাইসজেট বিমানসংস্থার এক পাইলট।
মোহিত তেওটিয়া নামে ওই বিমানচালকের দৌলতে এবছরের স্বাধীনতা দিবস ছিল স্পাইসজেটের বিমানযাত্রীদের জন্য এক্কেবারে আলাদা। যা তাঁদের স্বাধীনতা দিবসকে করে তুলেছিল অন্যরকম ভাবে স্মরণীয়। ভাবছেন তো কী এমন করেছিলেন মোহিত?

স্বাধীনতা দিবসের জন্য প্রস্তুত তিনি করেছিলেন একটি বিশেষ ঘোষণা। যে ঘোষণা অন্যদিনের চেয়ে ছিল বেশ খানিকটা আলাদা। ছোট্ট একটি কবিতার মাধ্যমে আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মোহিত তেওটিয়া নামে ওই পাইলট। পিছনে ভারতের জাতীয় পতাকা, তার সামনে সামনে দাঁড়িয়েই যাত্রীদের উদ্দেশে তিনি শোনালেন অন্য কিছু। কবিতায় কবিতায় স্বাগত জানান তাঁর বিমানের যাত্রীদের। পাঠিয়ে দেন স্বাধীনতা দিবসের অভিনন্দন।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
তাঁর কবিতায় একের পর এক উঠে আসতে থাকে স্বাধীনতা আন্দোলনের একেকটি অধ্যায়। ইংরেজদের সোনার দেশ দখল থেকে শুরু করে জালিওয়ালাবাগ কাণ্ড থেকে ভগৎ সিংদের ফাঁসি, বাদ গেল না কিছুই। সেখান থেকে মোহিত ছুঁয়ে ফেললেন আজকের ভারতের আত্মাকে। ছুঁয়ে গেলেন তার নির্যাস। মোহিত জানালেন, এই ২০২৩ সালে এই সোশ্যাল মিডিয়ার জোয়ারে দাঁড়িয়ে আমরা গর্বের সঙ্গে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। কিন্তু এই মুহূর্তটি কিন্তু সহজে আসেনি। আজ থেকে ৭৬-৭৭ বছর আগে বহু শত্রুকে পিছনে ফেলে আমাদের অর্জন করতে হয়েছিল এই মুহূর্তটিকে। যতক্ষণ এই জয়, শান্তির আভা অমলিন, ততক্ষণ জাতপাতের বিভেদ, ধর্মের বিভেদ পিছনে টানতে পারবে না কোনও ভারতীয়কে।
View this post on Instagram
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Ranji Trophy: মজার ব্যাপার, যে মহারাজা রঞ্জিতসিংজির ভারতীয় ক্রিকেটে এত রমরমা, তিনি ভারতের হয়ে ক্রিকেট খেলেননি কস্মিনকালেও।
ওই একই মেজাজে বিমানের অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন মোহিত। পরিচয় দেন নিজেদেরও। আর তাঁর এই ভিডিওই ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাঁর এই অভূতপূর্ব ঘোষণা কার্যত মুগ্ধ করেছে বিমানযাত্রীদের। সেই মুগ্ধতা এসে ছুঁয়ে ফেলছে নেটিজেনদেরও। ইতিমধ্যেই এক লক্ষের বেশি মানুষ দেখে ফেলেছেন ভিডিওটি। পছন্দ করেছেন ষোলো হাজারেরও বেশি লোক। কার্যত সোশ্যাল মিডিয়া ভেসেছে মোহিতের প্রশংসায়। মিলেছে সচ্চা দেশপ্রেমীর খেতাবও।
আদতে ব্যক্তিগত জীবনে ব়্যাপ গানের দারুণ ভক্ত মোহিত। সেই শখেরই ছোট্ট একটি পরীক্ষা তিনি করেছিলেন বিমানে। যা দারুণ ভাবে আদৃত হয়েছে। অনেকে তো আনন্দে শিস দিতে শুরু করেন। যাঁরা আক্ষেপের সুরে বলেন, আজকালকার ছেলেপুলেরা আর ইতিহাসমুখী নন। যাঁরা মনে করেন দেশেপ্রেমের ছিটেফোঁটাও অবশিষ্ট নেই আজকের প্রজন্মের মধ্যে। তাদের জন্য সপাট জবাব যেন তরুণ এই বিমানচালক। পাশাপাশি আজও শব্দের জোরে যে মানুষের মন জয় করে নেওয়া যায়, তাই ফের একবার প্রমাণ করে দিলেন মোহিত তেওটিয়া।
















