কামসূত্রেও যা নেই! পাড়াগাঁয়ের লুকোচুরি যেভাবে শেখায় শিরশিরে যৌনতার সহজপাঠ

Sexuality: বয়ঃসন্ধির শরীরে শিরশিরে ব্যথা নিয়ে এ ওকে স্পর্শ করে দেখছে, বুঝতে চাইছে আদিম রহস্যগুলি।

Jagannathdeb Mondal
৪ মিনিট
কামসূত্রেও যা নেই! পাড়াগাঁয়ের লুকোচুরি যেভাবে শেখায় শিরশিরে যৌনতার সহজপাঠ

পাড়াগ্রামের যৌনতার কথা বললেও, যৌনতার প্র্যাকটিস বিষয়ে বিশদে আলোচনা করা হয়নি। যৌনক্ষেত্রগুলি রচনা হতো সব লুকোচুরি, ছোঁয়াছুঁয়ি, গাছগাছালি খেলা খেলতে খেলতে।

আমাদের সবারই জানা, লুকোচুরিই ছিল নির্জনতম এক খেলা। একজন চোর হবে, অন্যরা লুকোবে পুরনো বাড়ির আনাচকানাচে, ঝোপের আড়ালে, গাছের পিছনে। দু'জন ছেলে-মেয়ে কাছাকাছি আসছে অথবা দু'জনের অধিক। বয়ঃসন্ধির শরীরে শিরশিরে ব্যথা নিয়ে এ ওকে স্পর্শ করে দেখছে, বুঝতে চাইছে আদিম রহস্যগুলি।

গাছগাছালি হলো গাছকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকার খেলা। ছোঁয়াছুঁয়ি স্পষ্টত স্পর্শের খেলা, একটু বড় হওয়ার পর ছেলেমেয়েরা একসঙ্গে আর এই খেলা খেলতে পারত না।কিন্তু তার আগে অবধি খেলাধুলোতে ছেলেমেয়ের কোনও বিভেদ চোখে পড়ত না।ছোঁয়াছুঁয়ির আরেক নাম ছিল ধরাধরি, একই খেলা এইভাবে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল।

আজকাল এইসব খেলা চোখে পড়ে না। অথচ এই খেলাগুলির নির্মল আনন্দের পাশে পাশেই ছিল এমন শরীর চেনার তবক।

এইসব যৌনতা হারিয়ে গিয়ে ভালো হয়েছে না খারাপ, সে অনেক পরের কথা, আমি তুলে তুলে দেখাতে চাইছি, কীভাবে নির্জনতার ভেতরে একটি শরীর অপর শরীরের কাছাকাছি আসত, চিনে নিতে চাইত পরস্পরকে। শস্যখেত, দালানকোঠা কীভাবে আখড়া হতো আদরের, মেয়েলি ছেলেদের কীভাবে ব্যবহার করা হতো কাম চরিতার্থর জন্য।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পেট ঢালাই হোক সিমেন্টবালিতে, ভাতের চিন্তা থাকে না! গ্রামবাংলার খিদের না-বলা গল্প

Rural Bengal: অল্পে খুশি হওয়া, আকাশের দিকে তাকিয়ে রেগে ওঠা, পরস্তাব বলা মানুষের দল কোথায় গেল?

বড়ো হয়ে পড়েছি, বাৎস‍্যায়নের কামসূত্রে চাররকম আলিঙ্গনের মধ্যে লতাবেষ্টিতক নামের একধরনের আলিঙ্গনের সন্ধান পাওয়া যায়। লতা যেমন করে সমর্থ গাছকে জড়িয়ে থাকে সমস্ত প্রাণ দিয়ে, একজন মানুষ অপরজনকে তেমন করে জড়িয়ে থাকবে আষ্টেপৃষ্টে। একজন নীরব ঠোঁট উঁচু করে নামিয়ে আনবে অন্যের ঠোঁটে। কিন্তু চান করার নামে অথবা কাঁকড়া ধরতে ধরতেই সবার সামনেই জলে ডুবে শরীরের গোপন অংশ স্পর্শ করে আসার গোপন পন্থার কথা, এইভাবে সবার সামনে থেকেও ছুঁয়ে আসার কথা কামসূত্রে নেই।

লিঙ্গ দেখে নির্ণয় করা যায় এই মানুষ খরগোশ, ষাঁড়, না কি অশ্ব পর্যায়ের। চৌষট্টি কলার নকশা ও কারুকাজে পূর্ণ হয়ে আছে বইয়ের পাতার পর পাতা।আলিঙ্গনের, চুম্বনের, মৈথুনের কত না কৌশল! কত কত নাম। সঙ্গম শেষ হলে আবার পাশাপাশি দু'জন বসে রাতের আকাশ দেখতে দেখতে সন্দেশ, রসগোল্লা-জাতীয় মিষ্টি খাইয়ে দেওয়ার রীতি আমার খুব পছন্দ। একপাশে কামসূত্র রেখে অন্যপাশে কিশোর বয়সের শিক্ষা মিলিয়ে মিলিয়ে দেখি।

কামদেবকে খুঁটিয়ে দেখলাম। বেশ সুদর্শন যুবক, টিকালো নাক, সরু কোমর, বিরাট বুক, চুল নীলচে ও কোঁকড়ানো। চোখ, মুখ, পায়ের নখ রক্তাভ। গায়ে বকুলের গন্ধ। হাতে আখ দিয়ে তৈরি ধনুক, ধনুকের গুণ মৌমাছি দিয়ে তৈরি। সুগন্ধি ফুল দিয়ে পাঁচরকম বাণ। অশোক, সাদা ও নীল পদ্ম, মল্লিকা ও আমের মঞ্জরী। ওই বাণের ঠেলাতেই মানুষ তো ছার, মহাদেব অবধি কুপোকাত হয়েছিল। কিশোরদা ছিল পাড়ার কামদেব। যৌনতার প্রাথমিক পাঠ সবাইকে হাতে ধরে শেখাত। এমনকী, হাতে ধরে মাস্টারবেট করা অবধি।ভুঁড়িওয়ালা চেহারা, হাতে-পায়ে রোম, মাথার চুল ঘন, ঢুলুঢুলু চোখ, কণ্ঠার হাড় উঁচু। সিনেমার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে এর সঙ্গে ওর গোপন সম্পর্ক তৈরি করে গল্প ফাঁদত।

হাতের কাছে থাকা দু'জন বন্ধুর কথা মনে পড়ছে।একজন বলেছিল– বর্ষার সময় মামাবাড়ি গেছে। খুব বৃষ্টি। ছাতা হাতে বেরিয়েছে একলা দুপুরে মাছের আশায়। ঘাট পেরিয়ে পৌঁছেছে আমবন ছাড়িয়ে সিংহদের পোড়ো ভিটায়। দেখে, বড় কালো এক তমালগাছ ভিজছে মেঘলা আকাশের নিচে। সারা গায়ে জল বেয়ে বেয়ে নামছে। পিছল চামড়া গাছের। বন্ধুর সারা শরীরে কাঁটা দেয়। প্যান্ট ফুলে ওঠে। ও এদিক-ওদিক তাকিয়ে ওই নির্জনতার ভেতরে গিয়ে গাছের গায়ে জিভ বের করে ঠেকায়। তারপর গাছতলায় ওই ছমছমে বৃষ্টির ভিতর বসে বসে অনেকক্ষণ সময় নিয়ে হস্তমৈথুন করে। ওইরকম নিজেকে ভোগ ও নাকি কখনও করেনি। নিজের চোখে দেখছে নিজের তাজা ও গরম বীর্য বৃষ্টির জলে ধুয়ে ধুয়ে যাচ্ছে।

আরেক বন্ধু বলেছিল– মনসাপুজোর আগের দিনের বিকেলের কথা। ওরা দু'জনে মিলে কচুফুল আনতে গেছে পাটখেতের ভেতর দিয়ে পুকুরে। বড় বড় পাটগাছ। গাছের মাথায় মাথায় হাওয়া। কিছুক্ষণ আগে বৃষ্টি হয়ে গেছে। জংলা ঘাস ও পাতালে অল্প অল্প জল লেগে আছে। কচুফুল তোলা পরে হবে। দু'জনে পাটখেতের ভেতরে গিয়ে জামা-প্যান্ট খুলে একেবারে ন্যাংটো। এদিকে কেউ আসবে না। বন্ধু বলছে– পাশাপাশি বসে আছি দু'জনে। ও এগিয়ে এসে আমার ডান দুধের বৃন্তে মুখ রাখল। বাঁ-স্তনের থেকে ডান স্তন একটু উঁচু। চারদিকে এবার সন্ধে হব হব। যেই না জিভ রেখেছে ও, পলকে আমার মনে হলো, আমি ওর মা। ওর চুলের গন্ধ নিচ্ছি। মনে হচ্ছিল, মায়ায় ফেটে যাব আমি মেঘের নিচে। বললাম– নে নে ওঠ, চারদিকে কিন্তু সাপের ভয়, চল আজ থাক, ফুল আনি গা।

জলা জঙ্গলের, পাটখেতে-সরষেখেতে, পুরনো বাড়ি, গ্যারেজঘর, খোলা মাঠ, ছাদ, রাত্রিবেলার ইস্কুল- বারান্দার কত ছোট ছোট সব আদরকথা, কু শব্দে পাখিডাকের পাহারা পড়ে আছে নক্ষত্রের নিচে। কোন বন্ধু যে বলেছিল, ঠোঁট থেকে পায়ে চুমু খেতে খেতে নেমে এলে ভালবাসা টেকে না, পায়ের পাতা থেকে উঁচুতে উঠতে হয়। রাধাকৃষ্ণ নাকি এমন করেই চুম্বন করতেন। বন্ধুর নাম কিছুতেই মনে করতে পারছি না।

এইরকম নির্জন ছমছমে যৌনতাগুলি লুপ্ত হয়ে গেছে অথবা লুপ্তির পথে। পর্ন ভিডিও দেখলে কল্পনার বিস্তার আর হয় না। সৌন্দর্যচেতনা নগ্নতাতেই এসে থেমে যায়।

ঝুলি খুলে এইসব কথাবিশ্ব উপুড় করলে কত কত আঁধারে আলো কেঁপে ওঠে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।