ঘরে বসেই সহজে রোজগারের ডাক! সাড়া দিলেই যে বিপদে পড়তে পারেন আপনি?
Part-Time Job Frauds: ইতিমধ্যেই শতাধিক ওয়েবসাইট ব্লক করা হয়েছে। এই ধরনের দুর্নীতি চক্র সক্রিয় হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। যারা বিভিন্ন ধরনের পূর্ণ সময়ের বা আংশিক সময়ের কাজের অফার নিয়ে হাজির হয়।

ঘরে বসেই হাজার হাজার টাকা আয় করতে চান? কখনও বা পার্ট টাইম কাজের সুবর্ণ সুযোগ। এমন হাজারটা মেসেজ প্রায়শই আসতে থাকে আমাদের মোবাইলে। কখনও কখনও ফোনেও আসে এমন নানান কাজের সুযোগ। বিনা পরিশ্রমে হাজার হাজার টাকা উপায়ের এমন ব্যবস্থা দেখে অনেকেই যোগাযোগও করে ফেলেন সেই সব নম্বরে। ক্লিক করে ফেলেন লিঙ্কেও। তারপর? না, ঘরে বসে হাজার হাজার টাকা আয় করা হয়না তাঁদের। বরং পড়ে যান প্রতারকদের ফাঁদে। খোয়া যায় টাকাপয়সা। আর মৌখিক হেনস্থা তো রয়েইছে।
সম্প্রতি এ নিয়ে সতর্ক করেছে কেন্দ্র সরকারও। ইতিমধ্যেই শতাধিক ওয়েবসাইট ব্লক করা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, বেশ কিছু দিন ধরেই এই ধরনের দুর্নীতি চক্র সক্রিয় হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। যারা বিভিন্ন ধরনের পূর্ণ সময়ের বা আংশিক সময়ের কাজের অফার নিয়ে হাজির হয়। এরপরে মানুষকে বোকা বানিয়ে তাঁদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় মোটা অঙ্কের টাকা। আর এই চক্রে কাজ করে চলেছে অজস্র সাইবার থ্রেট অ্যাক্টরস। যারা ডিজিট্যাল অ্যাডভার্টাইজমেন্ট, চ্যাট ম্যাসেঞ্জারের মতো মাধ্য়মগুলির সাহায্য় নিয়ে পৌঁছে যায় মানুষের কাছে। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
এতদিন ব্যাঙ্কের আধিকারিক সেজে ব্যাপক প্রতারণা চলত। প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, সাইবার অপরাধের তত নতুন নতুন দিক খুলে যাচ্ছে। প্রতিদিন প্রতারণার নতুন নতুন পরিসর খুঁজে বের করছে সাইবার অপরাধীরা। যা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সাইবার অপরাধ দমন শাখাগুলো। ব্যাঙ্কের ডেবিট কার্ডের তথ্য় জেনে ওটিপি আদায় করে লুঠপাট থেকে আধার-জালিয়াতি। প্রায় নিত্যনতুন নতুন উপায়ের কথা সামনে আসছে। আর সেই তালিকাতেই নয়া সংযোজন এই চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আর এই ধরনের প্রতারণার পিছনে যে একটি বা দু'টি চক্র কাজ করছে তা নয়। বরং এটাকে এক ধরনের সংঘটিত সাইবার অপরাধ বললেও খুব ভুল বলা হয় না।এই ধরনের বড় মাপের প্রতারণা সংস্থাগুলি একাধিক আন্তর্জাতিক ফিনটেক সংস্থা, কার্ড নেটওয়ার্ক, ক্রিপ্টোকারেন্সি, এটিএম উইথড্রল প্রভৃতি জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতারণার জাল বিছায়।

সম্প্রতি দেশ থেকে সাইবার অপরাধের বাড়বাড়ন্ত কমিয়ে আনতে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতর। কিছুদিন আগেই ডিপ ফেক নিয়ে কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়েছিল কেন্দ্র। সেই নিয়ে বেশ কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া জায়েন্টের সঙ্গে বৈঠকও করা হয়েছে। খুব শিগগিরই ডিপ ফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত সাইবার অপরাধ কমাতে কড়া ব্যবস্থার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র। ডিপ ফেকের পর এবার এই ধরনের সাইবার অপরাধ নির্মূল করতেও উঠেপড়ে লাগত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Centre on Deep Fake: এবার এই ডিপ ফেক প্রযুক্তি রুখতেই কড়া অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন্দ্র সরকারের। বৃহস্পতিবারই এ নিয়ে গুগল, মেটা-সহ অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে বসে কেন্দ্র তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রক।
অমিত শাহের দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের প্রতারকেরা আজকাল গুগল বিজ্ঞাপবন ও মেটা কি-ওয়ার্ডসেরও সাহায্য নিচ্ছে এই ধরনের প্রতারণার ক্ষেত্রে। বিভিন্ন ভাষায় আসছে এই ধরনের বিজ্ঞাপন। যা দেখে ফাঁদে পা দিচ্ছে মানুষ। বিশেষত অবসরপ্রাপ্ত কর্মী, মহিলা ও বেকার তরুণ প্রজন্মকেই নিশানা করছে এই ধরনের প্রতারকেরা।
আসলে এ দেশে চাকরির অভাব আগেও ছিল, এখনও আছে। বহু ছেলেমেয়েই পড়াশোনা করেও ঠিক মতো চাকরি পান না। জায়গায় জায়গায় মোড়ে মোড়ে আমরা দেখতে পাই বিএ পাশ, এমএ পাশদের চায়ের দোকান। রাজ্য ও কেন্দ্র, দুই সরকারই কর্মস্থানের ব্যাপারে ব্যর্থ। রোজকার ও বাজারমূল্যের যে অসাম্য, তা দূর করতে অনেককেই বেছে নিতে হয় উপরি কাজের বিকল্প। ফলে মানুষ পার্টটাইম কাজ খোঁজেন। আর সেই সুযোগটাই নেয় এই প্রতারণাচক্রগুলি। হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামের মতো মেসেঞ্জার অ্যাপগুলির মাধ্যমেও শিকার খোঁজে তারা। ভিডিও লাইক, সাবস্ক্রাইব, ম্যাপ রেটিংয়ের মতো সামান্য কাজ করানোর মাধ্যমে শুরু হয় প্রথম ধাপ। বলা হয়, এই কাজগুলি করতে পারলে তাঁরা কিছুটা কমিশন পাবেন। দেওয়াও হয় কিছু মাত্রায় টাকাপয়সা এর পর ধাপে ধাপে তাঁদের বিনিয়োগ করতে বলেন প্রতারকরা।
ততদিনে কিছুটা আত্মবিশ্বাস পেয়ে গিয়েছে শিকার। ফলে টাকার লোভে সে একটু একটু করে ধরা দেয় প্রতারকদের পাতা ফাঁদে। টাকার অঙ্ক ক্রমশ বাড়তে থাকে। আর বড় অঙ্কের টাকা একবার প্রতারকদের হাকে এসে গেলেও চম্পট দেয় তারা। আর তাদের খোঁজ পান না প্রতারিতরা। এ ভাবে দিনেদুপুরে চলে ডাকাতি।

এই ধরনের বিপদ এড়াতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এই ধরনের কমিশননির্ভর অনলাইন প্রকল্পে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে গোটা ব্যাপারটা খতিয়ে নেওয়া দরকার ভালো ভাবে। অচেনা কোনও ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপে বা টেলিগ্রামে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে, তা এড়িয়ে যান। কোনও রকম যাচাই ছাড়া আর্থিক লেনদেন করা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের আগে গ্রাহকের নাম এবং পরিচয় ভালো করে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। হতেই পারে, বুকে বিশ্বাস নিয়ে যে প্রকল্প আপনি আপনার পরিশ্রমের টাকা ঢালতে চলেছেন, তা কোনও আর্থিক দুর্নীতি চক্রের ফাঁদ নয়। প্রাথমিক ভাবে কমিশনের যে অর্থ পেয়ে আপনি আনন্দিত হলেন, তার সূত্র জানার চেষ্টা করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।
যে দেশে চাকরির বাজার মন্দা, সেখানে এই ধরনের আকর্ষণীয় অর্থউপায়ের সুযোগ দেখে মানুষ যে ঝাঁপিয়ে পড়বেন তা তো জানা কথাই। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, এ বাজারে বিনামূল্যে কিছুই হয় না। আর বিনাপরিশ্রমে অর্থ উপার্জনের সুযোগও আদতে এক ধরনের ইউটোপিয়া। ফলে এই ধরনে দুরন্ত আকর্ষণীয় ডাকে সাড়া দেওয়ার আগে সম্ভাব্য সব দিকগুলি খতিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে বইকি। তবেই এড়ানো যাবে এই ধরনের ভয়ঙ্কর সাইবার অপরাধ।
















