ডিপ ফেক রুখতে কড়া কেন্দ্র, আদতে কী এই 'ফোর পিলার স্ট্র্যাটেজি'?

Centre on Deep Fake: এবার এই ডিপ ফেক প্রযুক্তি রুখতেই কড়া অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন্দ্র সরকারের। বৃহস্পতিবারই এ নিয়ে গুগল, মেটা-সহ অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে বসে কেন্দ্র তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রক।

Sohini Das
৩ মিনিট
ডিপ ফেক রুখতে কড়া কেন্দ্র, আদতে কী এই  'ফোর পিলার স্ট্র্যাটেজি'?

রশ্মিকা থেকে ক্যাটরিনা হয়ে কাজল। ডিপফেক ভিডিও এবং ছবির শিকার একের পর এক বলিউড অভিনেত্রী। তারকারাই যদি এইভাবে সাইবার অপরাধের কবলে পড়েন, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থাটা আঁচ করা কঠিন নয়। এবার এই ডিপ ফেক প্রযুক্তি রুখতেই কড়া অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন্দ্র সরকারের। বৃহস্পতিবারই এ নিয়ে গুগল, মেটা-সহ অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে বসে কেন্দ্র তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রক। বৈঠকে হাজির ছিলেন কেন্দ্রীয় তথ্য় ও প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব স্বয়ং। সেই বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান, ভয়ঙ্কর এই প্রযুক্তির মোকাবিলায় উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় নিচ্ছে কেন্দ্র। তার পরেই ডিপফেক প্রযুক্তি নিয়ে তৈরি করা হবে খসড়া আইনে। প্রস্তাবিত আইনে কড়া শাস্তির বিধান থাকবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে তথ্য় ও সম্প্রচার মন্ত্রক।

কিছুদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল রশ্মিকা মন্দানার একটি ভিডিও। সেই ভিডিওর শালিনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয় নেটিজেনদের একাংশ। পরে জানা যায়, ভিডিওয় দেখা যাওয়া মেয়েটি আদতে রশ্মিকাই নন। হ্যাঁ, মুখটি অবশ্য তাঁরই, তবে তাঁর মুখটি ডিপ ফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল অন্য একজনের ভিডিওতে। একই ক্যাটরিনা কাইফের টাইগার ৩ ছবির একটি দৃশ্য নিয়ে একই ভাবে তৈরি হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বাদ যাননি জনপ্রিয় তারকা কাজলও। সম্প্রতি তাঁর পোশাক পরিবর্তনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। পরে জানা যায়, সেটিও অন্য এক ইউজারের টিকটক ভিডিও, যেখানে দক্ষতার সঙ্গে বসানো হয় কাজলের মুখটি। কিছুদিন আগে ডিপফেক-শিকার হন সচিন-কন্যা সারাও। রশ্মিকার ঘটনায় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলিউডের তাবড় তারকারা। অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে অনেকেই সরব হয়েছিলেন। ডিপ ফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ধরনের হেনস্থা রুখতে কড়া পদক্ষেপ করুক কেন্দ্র, এমন দাবি জানিয়েছিলেন অনেকেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভাইরাল ভিডিওর নারী রশ্মিকা মান্দানা নন, কী ভাবে চিনবেন ডিপফেক?

Rashmika Mandanna Deepfake Controversy: ওই ভিডিওটি জরা প্যাটেল নামে অন্য এক জনের। যার সঙ্গে রশ্মিকার দূর দূরতক কোনও মিল নেই। গোটা শরীরটি তাঁর, মুখটির জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছে শুধু রশ্মিকার মুখ।

তারপরেই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে কেন্দ্র সরকার। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিণী বৈষ্ণব জানান, এই ধরনের ডিপ-ফেক ভিডিও প্রবণতা রুখতে 'ফোর-পিলার স্ট্র্যাটেজি' নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আইনি হোক বা প্রযুক্তিগত, কোনও দিকেই কোনও ফাঁক রাখতে চায় না তারা। সে কারণেই সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে এই বৈঠক। যেখানে প্রায় প্রতিটি সংস্থাই স্বীকার করে নিয়েছে যে বিষয়টি বেশ ভয়ের। আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়ার একটি মারাত্মক দিক হয়ে উঠেছে ডিপ-ফেক। এর মাধ্যমে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। বাড়ছে ব্ল্যাকমেলের প্রবণতা। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা হয় মেটা ও গুগলের সঙ্গে। বৈঠকে হাজির ছিলেন দেশের শীর্ষ এআই সংস্থা ও এআই প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও অধ্যাপকেরা।

বৈঠকের মূল লক্ষ্যই ছিল সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের ভুয়ো কনটেন্টের বাড়বাড়ন্ত রুখতে প্রয়োজনীয় রূপরেখা তৈরি। বিষয়টি গুরত্বের সঙ্গে দেখার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিণী বৈষ্ণব জানান, এই ধরনের ডিপ ফেক ভিডিও আসবে আমাদের গণতন্ত্রের উপরেও বড়সড় এক ঝুঁকি। যেভাবে কোনও রকম যাচাইয়ের বালাই না করেই হু হু করে ভাইরাল হচ্ছে এই ধরনের ভিডিও, ছবি, তা যথেষ্ট দুশ্চিন্তার। খুব শিগগিরই এ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা না নিতে পারলে বিষয়টি হাতের বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রকাশ্যে পোশাক পাল্টে সোশ্যাল মিডিয়ায় 'ট্রোলড', ভাইরাল ভিডিওয় সত্যিই কি কাজল?

Kajol's deepfake video goes viral on social media: আদতে যার টিকটক ভিডিওটির উপরে বলিউড তারকার মুখটি বসানো হয়েছে, তার নাম রোজি ব্রিন। গত জুন মাসের ৫ তারিখ ওই ভিডিওটি টিকটকে পোস্ট করেন রোজি।

আপাতত এই ধরনের ডিপ ফেকের রমরমা রুখতে চারটি স্তম্ভের পরিকল্পনা নেওয়ার কথা ভাবছে কেন্দ্র সরকার। তার প্রথম ধাপে রয়েছে, ডিপ ফেক কনটেন্ট ও ভুয়ো তথ্যকে চিহ্নিত করে তাকে ছড়ানোর হাত থেকে রোখা। এই ধরনের অপরাধ রোখার আরও একটি দিক কিন্তু মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই নিয়ে নির্দেশিকা ও আইন তৈরি করে ফেলবে বলে জানানো হয়েছে মন্ত্রকের তরফে। তৈরি করা হবে একটি যথাযথ রূপরেখা।

যুগটাই সোশ্যাল মিডিয়ার। আমরা প্রতিটা মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ার নজরদারির মধ্যে থাকি ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায়। কোনও একটা কনটেন্টের ভাইরাল হতে কয়েক মিনিটও লাগে না। ফলে এ নিয়ে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেই মনে করছে মন্ত্রক। এ নিয়ে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আরও একটি বৈঠকে বসার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই বৈঠকেই এই সংক্রান্ত নির্দেশ এবং বিধির রূপরেখা চূড়ান্ত করে ফেলা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।