‘এরকম ঘটেই থাকে’, ২৮ জনের মৃত্যুর পর এ কথা বলে হাসছেন গেমিং জোনের মালিক!
Rajkot gaming zone fire case: প্রাথমিক ভাবে কাঁদতে দেখা গিয়েছিল ওই গেমিং জোনের মালিকদের অন্যতম যুবরাজ সিংহ সোলাঙ্কিকে। কিন্তু তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আদালতে দাঁড়িয়ে হাসতে শুরু করেন তিনি।

গেম জোনে আগুন। আর তাতে ভস্মীভূত হয়ে চলে গেল ২৮টি প্রাণ। যার মধ্যে ৯টি শিশুও রয়েছে। গুজরাটের রাজকোটের ওই ঘটনাকে আদালত বলেছে 'ম্যানমেড বিপর্যয়'। স্বতঃপ্রণদিত হয়ে মামলা পর্যন্ত দায়ের করছে গুজরাট হাইকোর্ট। গেম জোনে যথাযথ অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা নেই। অথচ গেমিং জোনের ভিতরে থাকা যে বহুতলে আগুন লাগে, তা ছিল দাহ্য পদার্থে ঠাসা। যা দিয়ে গেমিং জোনটি সাজানো হয়েছিল, তা-ও ছিল দাহ্য। ফলে আগুন ভয়ঙ্কর রূপ নিতে দেরি করেনি। সেই জতুগৃহে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে গেমিং জ়োনটির অন্যতম মালিক যুবরাজ সিংহ সোলাঙ্কি, রাহুল রাঠৌড় এবং ম্যানেজার নীতীশ জৈন। বাকি অংশীদারদের নামেও দায়ের হয়েছে এফআইআর। রাজকোট জেলা আদালতে মামলাটি উঠলে গেম জোনের মালিক অবশ্য কার্যত হেসে হেসে বুঝিয়ে দিলেন, 'বড়ে বড়ে দেশো মে অ্যাইসি ছোটি ছোটি বাতে হোতি ব়্যাহেতি হ্যায়।' কেন এসব নিয়ে মাথাব্যথা করছে আদালত।
গত শনিবার বিকেলে ওই গেমিং জোনের ভিতরে আগুন লাগে। পুলিশ জানতে পেরেছে, গেমিং জ়োনের ভিতরে থাকা যে বহুতলে আগুন লেগেছিল, সেই বহুতলটি গোটাটাই ছিল দাহ্য পদার্থে ঠাসা। এমনকী বহুতলের অন্দরসজ্জার জন্য রাবার, রেক্সিন, থার্মোকল এবং ফোমের মতো জিনিস ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে আগুন আরও দ্রুত ছড়াতে সাহায্য করেছিল। ব্যবহার করা হয়েছিল ফাইবার এবং কাপড়ও। যা-ও ছিল দাহ্য। এ ছাড়াও গেমিং জোনের ভিতরে মেরামতির কাজ চলছিল বেশ কিছু দিন ধরেই। সে কারণে যেখানে সেখানে কাঠ, টিনের শেডও পড়েছিল। কাজ চলছিল ওয়েল্ডিংয়ের । প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, সেখান থেকেই আগুন লাগে গেমিং জ়োনে। তদন্তে উঠে এসেছে, ওই গেমিং জ়োনের কোনও ‘ফায়ার লাইসেন্স’ ছিল না। এমনকী, দমকলের ছাড়পত্রও ছিল না তাদের কাছে। তা সত্ত্বেও কোনও কিছুর পরোয়া না করেই রমরমিয়ে চলছিল ওই গেমিং জোন, কোনও প্রকার অনুমতির বালাই না করেই। স্বাভাবিক ভাবেই ব্যাপারটি নিয়ে গুজরাট হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়ে রাজ্য সরকার ও রাজকোট পুরসভা। এ নিয়ে হাইকোর্টের ভর্ৎসনাও শুনতে হয়েছে তাদের।
এলাকার অন্যতম জনপ্রিয় এই গেমিং জোন। নিত্যনতুন আকর্ষণীয় অফার দিয়ে লোক টানতে জুড়ি মেলা ভার ছিল না তাদের। সপ্তাহান্তে লোক টানতে সামনে আনা হত অসম্ভব সব অফার। শেষ সপ্তাহেই যেমন ৫০০ টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে ৯৯ টাকায়। কম টাকায় গেমিং জোন উপভোগ করতে উপচে পড়ত ভিড়। বুড়ো থেকে শিশু, আসতেন সকলেই। কোনও রকম অনুমতি নেই, প্রয়োজনীয় সাবধানতা নেই। অথচ অফারের অভাব ছিল না এই গেম জোনে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Japan Plane Caught Fire : বিমানটিতে সেই মুহূর্তে উপস্থিত ৩৬৭ জন যাত্রী এবং ১২ জন ক্রু। সবাইকেই নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

গেমিং জোন অগ্নিকাণ্ডে ইতিমধ্যেই গড়া হয়েছে বিশেষ তদন্ত দল (SIT)। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা নিয়ে এতটাই হইচই পড়ে যায়, যে বদলি করা হয় পুলিশ কমিশনার রাজু ভার্গবকে। সেই জায়গায় আনা হয় আমদাবাদের বিশেষ পুলিশ কমিশনার পদে থাকা ব্রজেশকুমার ঝা-কে। এখনও পর্যন্ত নতুন পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি ভার্গবকে। তাঁর পাশাপাশি রাজকোট পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্র্যাফিক, ক্রাইম) বিধি চৌধুরীকেও বদলি করা হয়েছে। তাঁকেও এখনও নতুন পদ দেওয়া হয়নি। তাঁর জায়গায় নিযুক্ত হয়েছেন মহেন্দ্র বাঘিরা। তিনি কচ্ছ-ভুজ (পশ্চিম) জোনের ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল ছিলেন। রাজকোট (জোন-২)-এর ডেপুটি কমিশনার পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে সুধীরকুমার দেশাইকে। তাঁকেও নতুন পদ দেওয়া হয়নি। তাঁর পদে নিয়োগ করা হয়েছে জগদীশ ভাঙ্গওয়ারাকে। তিনি বরোদার সেন্ট্রাল জেলের সুপার ছিলেন। ওই গেমিং জোন অগ্নিকাণ্ডে প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছে সে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা বিজেপি সরকারও।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Israel Hamas war: গাজার রাফাহ শহরকে ধ্বংস করতে কোনও কসুর বাকি রাখেনি ইজরায়েল। আর সেই সিদ্ধান্তকেই এবার 'ট্র্যাজিক মিসটেক' বলে বর্ণনা করছেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
এরই মধ্যে আদালতে তোলা হল গেম জোন কাণ্ডে ধৃত তিন জনকে। সেখানে ওই তিন জনের আরও ১৪ জনের পুলিশ রিম্যান্ডের দাবি করা হয়। অতিরিক্ত বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট বিপি ঠাকারের আদালতে মামলাটি ওঠে। বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর তুষার গোকানি তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তে সহায়তা না করার অভিযোগ তুলেছেন। পুলিশের কোনও প্রশ্নেরই উত্তর তাঁরা ঠিকমতো দেননি বলেও অভিযোগ। যা নথিপত্র চাওয়া হয়েছে, সেই প্রসঙ্গও এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন তারা। বলেছেন, সব কিছুই অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গিয়েছে।

পাবলিক প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, আদালতে ঢোকার পর প্রাথমিক ভাবে কাঁদতে দেখা গিয়েছিল ওই গেমিং জোনের মালিকদের অন্যতম যুবরাজ সিংহ সোলাঙ্কিকে। কিন্তু তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আদালতে দাঁড়িয়ে হাসতে শুরু করেন তিনি। আর তার পরেই তিনি বলেন, "এমন ঘটনা তো আখছার ঘটে। মহামান্য আদালত কেন এই ঘটনাকে এত গুরুত্ব দিচ্ছে?" স্বাভাবিক ভাবেই সোলাঙ্কির এই কথায় চমকে গিয়েছে গোটা আদালত। গেমিং জোন অগ্নিকাণ্ডে মোট ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। যাদের মধ্যে অন্তত ৯ জনই শিশু। যাদের বয়স বারো বছরেরও নিচে। এখনও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন অনেকে। রাজকোট জেলা আদালত অভিযুক্তদের আরও ১৪ দিন পুলিশি হেফাজতের দাবি মঞ্জুর করেছে।
যতদূর জানা গিয়েছে, এই যুবরাজ সিং সোলাঙ্কি ও রাহুল রাঠৌর রেসওয়ে এন্টারপ্রাইজে ব্যবসায়িক পার্টনার ছিলেন। যে সংস্থা ওই টিআরপি গেম জোনটি চালাত। ওই ভবনের রিক্রিয়েশন সেন্টারের ম্যানেজার ছিলেন নীতিন জৈন। যাঁরা আপাতত পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। টিআরপি গেম জোনের মালিক সোলাঙ্কি, ম্যানেজার নীতিন জৈন ছাড়াও আরও ৬ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে রাজকোট তালুক থানায়। ইতিমধ্যেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িতে ঘুরে এসেছেন বিজেপি নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ রামভাই মোকারিয়া। তিনি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ২৮। মৃতের সংখ্যা এই কদিনে আর বাড়েনি। মাঝখানে ৩২ জন মারা গিয়েছে বলে শোনা গেলেও তা রটনা বলেই জানিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই ঘটনায় ব্যবস্থা হিসেবে দুই পুলিশ ইনস্পেক্টর ও রাজকোট মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের সিভিক স্টাফকে সাসপেন্ড করেছে গুজরাট সরকার। তাঁদের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ভডোদরার সবকটি গেমিং জোন পরখ করে দেখা হচ্ছে, সেখানে কোনও রকম গাফিলতি রয়েছে কিনা।
















