২১ জন আইনজীবীর পারিশ্রমিক দিচ্ছে তৃণমূল সরকার? আসল সত্য জানেন?
RG Kar Supreme Court: বিতর্ক বাধে যে, কপিল সিবাল সহ ২১ জন আইনজীবীদের সাম্মানিক হিসেবে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার।

২১ জন আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে লড়ছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হয়ে। আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিখ্যাত আইনজীবী তথা প্রাক্তন কংগ্রেসের নেতা কপিল সিবালের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের হয়ে লড়ছেন আইনজীবীদের এই দল। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয় যে, রাজ্য একটি ধর্ষণের অভিযোগ থেকে গা বাঁচাতে, গাফিলতি ঢাকতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে এত এত আইনজীবী নিয়োগ করেছে। তবে, এই বিতর্কের যে সারবত্তা নেই তা প্রমাণ করে দিয়েছেন আরজি কর মামলার সরকার পক্ষের একজন আইনজীবী। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের পক্ষে হাজির হওয়া ২১ জন আইনজীবীর জন্য বাংলার সরকার টাকা দিচ্ছে না।
এই আইনজীবীর নাম আস্থা শর্মা। তিনি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দ্বিতীয় অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড। সোশ্যাল মিডিয়াতে যা হাতের কাছে আসছে তাই শেয়ার করা, সত্যমিথ্যা যাচাই না করা মানুষদের উদ্দেশ্যে তিনি লিঙ্কডিনে একটি দীর্ঘ পোস্ট লিখেছেন। এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়াতে অজস্র পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে যার মূল বক্তব্য হচ্ছে, সারা দেশের মানুষ যেখানে ধর্ষণের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে বিচার চেয়ে সেখানে সরকার এমন মামলায় নিজের পিঠ বাঁচাতে ঢালাও আইনজীবীদের নিয়োগ করেছে। কপিল সিবাল সহ এই সকল আইনজীবীদের সাম্মানিক হিসেবে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
RG Kar Rape Accused Psychoanalytic Test: প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সঞ্জয় রায় ৮ অগাস্ট মধ্যরাতের পরে উত্তর কলকাতায় সোনাগাছির যৌনপল্লীতেও গেছিলেন।
"আমি অনেক ঘৃণার মুখোমুখি হই যখন আমি আমার আগের অফিসে কাজ করতাম। সেই অফিসে কাঠুয়া ধর্ষণ মামলার নাবালিকার পরিবারের হয়ে লড়ছিলাম। একজন 'হিন্দু' হওয়ার কারণে প্রচুর ঘৃণার সম্মুখীন হই। গত সপ্তাহে আমি আবার সেই একই ঘৃণার রূপ দেখেছি, একইভাবে ট্রোলড হয়েছি কারণ আমি কলকাতা পুলিশের হয়ে মামলা লড়ছি, যে পুলিশরা বর্তমান মামলায় অভিযুক্তও নন,” লিঙ্কডিন পোস্টে লিখেছেন আইনজীবী আস্থা শর্মা।
“এবার আমি একজন মহিলা হওয়ার আমার দিকে অভিযোগ উঠছে যে আমি নির্যাতিতার বিরুদ্ধে আদালতে লড়ছি এবং মৃতা যাতে ন্যায়বিচার না পায় সেই ব্যবস্থা করছি! মজার বিষয় হলো। এই ট্রোলাররা চায় আমি এবং আমার দলের মহিলা সদস্যদের পরিণতি ওই নির্যাতিতার মতোই হোক, যে নির্যাতিতার জন্য তারা পথে নেমে বিচার চাইছে। আমরা এমন অদ্ভুত একটা পৃথিবীতেই বাস করি। এসবের কারণ কী? কারণ আমি পেশাগতভাবে ক্লায়েন্টের প্রতিনিধিত্ব করছি,” লিখেছেন আস্থা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
RG Kar accused Sanjoy's Lawyer: এমন নারকীয় ঘটনায় অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের হয়ে মামলা কে লড়বেন আদালতে, তা নিয়ে সংশয় দেখা গিয়েছিল তো বটেই। তবে শেষমেশ আইনজীবী পেয়েছেন সেই সঞ্জয় রায়ও।
আস্থা শর্মা স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এই ২১ জন আইনজীবীর জন্য টাকা দিচ্ছে না। “যারা যে কোনও পোস্ট বিশ্বাস করে নেন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আদেশ শেয়ার করে লিখছেন যে, নিজেদের পিঠ বাঁচাতে ২১ জন আইনজীবীর পারিশ্রমিক দেওয়ার মতো তহবিল সরকারের রয়েছে- দয়া করে মনে রাখবেন যে ক্লায়েন্টরা একজন আইনজীবীকেই নিযুক্ত করে এবং একজনকেই টাকা দেয়। আমাদের দল যারা বিষয়টি কার্যকর করতে আমাদের সাহায্য করে তাদের আমরাই টাকা দিই এবং তারা যদি কোনও বিষয়ে কাজ করে থাকে তবে তাদের নামটি ক্রমানুসারে রাখা এবং তাদের প্রচেষ্টাকে স্বীকার করাই ন্যায্য, তারা যত বড় বা ছোটই হোক না কেন,” লিখেছেন আস্থা।
সোশ্যাল মিডিয়ার এই মানুষদের উদ্দেশ্যে আরও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আস্থা। লিখেছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ফেসবুক, হোয়াটস্যাপে সমস্ত মানুষ নির্যাতিতার জন্য ন্যায়বিচার চেয়েছেন। কাজের জায়গাগুলি কীভাবে মহিলাদের জন্য নিরাপদ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন, অথচ এই এক সপ্তাহে ৯ জন আইনজীবী মহিলার কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ বিষিয়ে দেওয়া হয়েছে। হুমকি, হয়রানি এবং ঘৃণা উগরে দেওয়া হয়েছে এই আইনজীবী মহিলাদের বিরুদ্ধেও। আস্থা লিখছেন, “শেষ পর্যন্ত, আমি এবং আমার পুরো দলই চাই যে নির্যাতিতা ন্যায়বিচার পাক। ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার বিরুদ্ধে আইনগুলিকে যেন আরও শক্তিশালী করা হয়। যে কোনও মহিলা, যেখানেই থাকুন না কেন, যার সঙ্গেই থাকুন না কেন, যাই পরে থাকুন না কেন, যাই খান না কেন, তাঁকে যেন জীবন ভয়ে ভয়ে কাটাতে না হয়"।















