ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার ফোনের স্বপ্ন, জানেন iPhone-এর 'i' অক্ষরের মানে কী?
Meaning of 'i' in iPhone : আইফোন ব্যবহার করছেন, অথচ নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই শব্দটির মানে জানেন না? জেনে নিন চট করে...

দূর থেকে দেখলে সামান্য একটি স্মার্টফোন ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু ফোনের পিছনের লোগোটাই এক ঝটকায় তার দাম বাড়িয়ে দিল। অ্যাপেল কোম্পানি আর তাদের আইফোনের প্রতি মানুষের আগ্রহ আজকের নয়। স্রেফ একটি ফোন আজ সমাজের অন্যতম ‘স্ট্যাটাস সিম্বল’। সেইসঙ্গে ইতিউতি ভেসে বেড়ায় বিভিন্ন মিম, ঠাট্টা। ভারতে আইফোনের অনেক দামের জন্য কেউ কেউ মজা করে ‘কিডনি বিক্রি’র কথাও বলেন। কিন্তু আইফোন ছাড়া স্মার্টফোনের জগত ভাবাও যায় না।
২০০৭ সালে প্রথমবার জনসমক্ষে আসে আইফোন। স্টিভ জোবসের হাত ধরে বিপ্লব তৈরি হয় বিশ্বের বাজারে। তাঁর ম্যাক সফটওয়্যার, অ্যাপেল সংস্থার জাদুথলি থেকে বেরিয়ে আসে একের পর এক জিনিস। কখনও আইপড, আইপ্যাড, কখনও আইম্যাক – অ্যাপেলের প্রযুক্তি ও যন্ত্র মানেই নতুন একটা ছোঁয়া। ভারতে এই ফোনের দাম সাধারণের সাধ্যের বাইরে হলেও, অনেকের হাতেই এখন দেখা যায় এটি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ট্যাটুই বলে দেবে রক্তচাপ! গ্রাফিন ট্যাটু নিয়ে প্রবল আলোচনা বিজ্ঞানমহলে।
ব্যবহার তো করছেন, কিন্তু একটা ব্যাপার করেছেন কি? অ্যাপেলের বিখ্যাত প্রোডাক্টগুলির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘আই’ (‘i’) অক্ষরটি। আইফোন থেকে আইম্যাক, আইপ্যাড – সবেতেই রয়েছে এই অক্ষরটি। কিন্তু কখনও মনে হয়নি যে, এই ‘i’ মানে কী? আইফোনের ‘i’ ঠিক কোন বিষয়কে ইঙ্গিত করে? এই প্রশ্ন করলে অনেকেই হয়তো জবাব দেবেন, ‘i’ মানে হয় ইন্টারনেট, কিংবা ইন্টেলিজেন্স। কারণ, ২০০৭ সালে প্রথমবার বাজারে আসা আইফোনই ছিল অ্যাপেলের প্রথম কোনও প্রোডাক্ট যেটায় ইন্টারনেট ব্যবস্থা ছিল। সেইসঙ্গে স্মার্টফোনের যাবতীয় ব্যাপার তো ছিলই। এক কথায়, ফোনের দুনিয়ায় বিপ্লব তৈরি করে আইফোন। সেজন্যই হয়তো ‘i’ মানে ইন্টারনেট, অথবা ইন্টেলিজেন্স!
যদি এটাই আপনার উত্তর হয়, তাহলে একেবারে ভুল ভাবছেন আপনি। আইফোন ব্যবহার করছেন, অথচ নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই শব্দটির মানে জানেন না? তাহলে চট করে জেনে নিন সেই বিশেষ তথ্যটি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জের পছন্দ আর পেশাকে সহাবস্থানে নিয়ে এসেছেন আন্নাদুরাই। এমনকী, নয়া টেকনোলজি সম্পর্কে জ্ঞান আহরণের উদ্দেশ্যে অংশগ্রহণ করেছেন এই বছরের দুবাই এক্সপোতে।
আইফোনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ‘i’-এর কেবল একটা মানে নয়; একে দুটো দিক থেকে বিশ্লেষণ করেছিলেন খোদ স্টিভ জোবস। ইংরেজি অভিধান অনুযায়ী ‘i’ সর্বনামের মানে ‘আমি’। অ্যাপেলের এই প্রোডাক্টগুলি একজন ব্যক্তি একেবারে নিজের মনে করে রাখবে। তাঁর ব্যক্তিগত সুরক্ষা, তথ্য, কথা ও কাজের ভাণ্ডার হবে এই যন্ত্রগুলি। সেইসঙ্গে মানুষের হাতে হাতে শিক্ষাকে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করবে অ্যাপেল। সেজন্যই ‘আই’ফোন, ‘আই’প্যাড নামকরণ। সহজ, সুন্দর, সাধারণ অথচ তথ্যসমৃদ্ধ।
এ তো গেল একটি দিক। অ্যাপেলের প্রোডাক্টগুলির এমন নামকরণের পিছনে আরও একটা কারণ দেখিয়েছিলেন স্টিভ জোবস। ১৯৯৮ সালে আইম্যাক লঞ্চ করার সময় এই তথ্যটি সামনে আনেন অ্যাপেলের প্রতিষ্ঠাতা। ‘i’-এর মানে একটি নয়; একসঙ্গে পাঁচটি বিষয়কে নির্দেশ করে এই অক্ষরটি। ‘Internet, Individual, Instruct, Inform, Inspire’. এই শব্দগুলির দর্শনের ওপর নির্ভর করেই তৈরি হয়েছে অ্যাপেলের সমস্ত প্রোডাক্ট। আইফোন থেকে শুরু করে আইপ্যাড, আইম্যাক – সবেরই ভিত্তিভূমি এই পাঁচটি শব্দ। আর প্রতিটা শব্দই শুরু হচ্ছে ‘i’ দিয়ে। তাই আইফোনের এমন নামকরণ।















