নেই চিকিৎসার ন্যূনতম সুযোগ! কেন গাজায় মেডিক্যাল ত্রাণ বন্ধ করে দিচ্ছে WHO?

Gaza-Hamas Conflict: গাজায় ত্রাণ দেওয়া থেকে এবার সরে এল বিশ্ব স্বাস্থ্য় সংস্থা (WHO)। সব ধরনের মেডিক্যাল সরবরাহ করার কথা রবিবারই ঘোষণা করে দিয়েছে তারা।

Sohini Das
৩ মিনিট
নেই চিকিৎসার ন্যূনতম সুযোগ! কেন গাজায় মেডিক্যাল ত্রাণ বন্ধ করে দিচ্ছে WHO?

নতুন বছর পড়লেও সময়টা যেন একই জায়গায় থমকে রয়েছে গাজায়। নিজেদের অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র সরতে নারাজ ইজরায়েল। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত আরও ২০১ জনের মৃত্যু হয়েছে গাজায়। তেমনটাই জানানো হয়েছে গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে। জখম অন্তত ৩৬৮ জন। এদিকে গাজায় ত্রাণ দেওয়া থেকে এবার সরে এল বিশ্ব স্বাস্থ্য় সংস্থা (WHO)। সব ধরনের মেডিক্যাল সরবরাহ করার কথা রবিবারই ঘোষণা করে দিয়েছে তারা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, উত্তর গাজায় নিরাপত্তার কোনও রকম গ্যারান্টি পাচ্ছে না হু-র আধিকারিক ও কর্মীরা। আর সে কারণেই উত্তর গাজায় চিকিৎসা সরবরাহ করার যে মিশন নিয়েছিল হু, তা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। গাজায় অশান্তি লাগার পরেই আল আওদা হাসপাতাল ও উত্তর গাজার কেন্দ্রীয় ওষুধের দোকানগুলিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ওষুধপত্র ও উপকরণ সরবরাহ করার একটি মিশন নেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

অন্তত ১২ দিন আগে উত্তর গাজায় সরবরাহ পৌঁছতে পেরেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তার পর থেকে ভারী বোমাবৃষ্টির জেরে ত্রাণ পৌঁছনো অসম্ভব হয়ে পড়েছে হু-র আধিকারিক ও কর্মীদের পক্ষে। ইজরায়েল অধিকৃত ফিলিস্তিনি এলাকার হু-র অফিসের তরফে মাইক্রো ব্লগিং সংস্থা এক্সে জানানো হয়েছে, ইজরায়েলি সেনার লাগাতার হামলায় গোটা এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। ফলে ওই সব এলাকার মেডিক্যাল সাহায্য পৌঁছনো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে হু-আধিকারিকদের পক্ষে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গাজার মৃতদেহ থেকে হৃদপিণ্ড, যকৃত সত্যিই সরিয়ে নিচ্ছে ইজরায়েল? কারণ জানলে শিউরে উঠবেন

Israel-Hamas War: এরই মধ্যে আবার ইজরায়েলের বিরুদ্ধে গুরুতর এক অভিযোগ করেছে ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর গ্রুপ। তাদের দাবি, গাজায় যুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনি শরীরগুলি থেকে বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চুরি যাচ্ছে অহরহ।

Today,

cancelled a planned mission to Al-Awda hospital and the central drug store in northern

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গাজার মুক্তি চেয়ে ইতালির রাস্তায় ছাত্ররা, অবাধে পুলিশি দমন-পীড়ন

Italian student protests: বিক্ষোভকারীরা জনগণকে ইসরায়েলি পণ্য বয়কট করতে বলেছেন। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক পুলিশি দমন-পীড়ন চালিয়েছে রাষ্ট্র। পরিস্থিতি ভয়াবহ। অথচ ইসরায়েলি সরকার এ ব্যাপারে নির্লিপ্ত।

for the fourth time since 26 Dec because we did not receive deconfliction and safety guarantees.

The mission planned to move urgently needed medical supplies to sustain the…

— WHO in occupied Palestinian territory (@WHOoPt)

হু-র এই অফিসটি এমনভাবেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল যে ইজরায়েল অধিকৃত ফিলিস্তিনি এলাকার পাঁচটি হাসপাতালে মেডিক্যাল সাহায্য় পৌঁছে দেওয়া যায়। যুদ্ধবিধ্বস্ত উত্তর গাজায় স্বাস্থ্য পরিষেবার চাহিদা ও ইজরায়েলর ধ্বংসলীলার মাত্রা দেখে আতঙ্কিত হয়েছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল টেডরোস অধানম ঘেব্রেইসাস। তার পরেই সেই সব এলাকায় মেডিক্যাল ত্রাণ পাঠানোর কথা ঘোষণা করা হয়। তবে এবার সেই সাহায্যও বন্ধ হয়ে গেল।

প্রায় তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েলি সেনা। কিছু দিন আগেই লেবাননে হামলা চালিয়ে খতম করা হয় হামাসের এক শীর্ষ নেতাকে। হামাসদের শেষ করতে গিয়ে গোটা গাজাই কার্যত উজার করে দিয়েছে নেতানিয়াহু সরকার। একের পর এক হাসপাতাল নিশানা করে হামলা চালানো হয়েছে লাগাতার। ইতিমধ্যেই গাজার ২.৩ মিলিয়ন জনসংখ্যার বেশিরভাগটাই বাস্তুচ্যুত। শরণার্থী শিবিরগুলিতে চলেছে একের পর এক হামলা। যুদ্ধ বাধলে সবার আগে টান পড়ে খাবারদাবারে ও ওষুধপত্রের সরবরাহে। গাজাতেও তাই হয়েছে। শুধু হু নয়। গাজা থেকে সাহায্যের হাত সরিয়ে নিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি এইড গ্রুপ। যুদ্ধ লাগার পর থেকেই গাজায় বিভিন্ন রকম মেডিক্যাল হেল্প দিয়ে আসছিল এই দাতব্য সংস্থাটি। কিন্তু ইজরায়েলদের হামলার মুখে তারাও গাজা থেকে সমস্ত কাজকর্ম গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইতিমধ্যেই গাজায় মৃত্যুর সংখ্যা ২৫ হাজার ছুঁই ছুঁই। যারা এখনও বেঁচে রয়েছেন গাজায়, যুদ্ধে যদি তাঁরা বেঁচেও যান, চিকিৎসা ও ওষুধপত্রের অভাবেই যে তাঁদের একসময় শেষ হয়ে যেতে হবে, ক্রমশ সেই জায়গাতেই পৌঁছছে গাজার পরিস্থিতি। গত কয়েক দিনে ফের নতুন করে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে। প্রকাণ্ড সব নেই-এর মধ্যে বসে কীভাবে আর কতদিন টিকে থাকবেন গাজাবাসী, আপাতত মানবতার কাছে সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।