কোথায় গেল শেষ চিতা নির্ভা? কেন আফ্রিকা থেকে আনা একের পর এক চিতার মৃত্যু ঘটছে ভারতে?
Cheetahs Death at Kuno National Park: রেডিও কলার পরানোর কারণে সেপ্টিসিমিয়া হওয়াতে তেজস এবং সুরজ নামের চিতাদের মৃত্যুর পরে আফ্রিকান চিতাদের দেখভাল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

নামিবিয়া থেকে চিতাদের উড়িয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল এই দেশে। বহু বহু দশক আগেই দেশ থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল চিতা। আফ্রিকা থেকে তাই দেশে চিতা ফেরানোর উদ্যোগ নেয় সরকার। গত বছর নরেন্দ্র মোদি নিজের জন্মদিনে সেই চিতাগুলিকে কুনো ন্যাশনাল পার্কে ছেড়ে দেন। তারপর থেকেই একের পর এক চিতার মৃত্যু দেখছে দেশ। আফ্রিকা থেকে আসা বন্য অতিথিদের অধিকাংশই মৃত্যুর পথে, এমনকী খোঁজ মিলছে না একটি চিতার! মধ্যপ্রদেশের কুনো ন্যাশনাল পার্কের শেষ আফ্রিকান চিতা নির্ভাকে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। খোলা জঙ্গলে দু'টিই স্ত্রী চিতা ছিল - ধাত্রী এবং নির্ভা। ধাত্রী মৃত, নির্ভা নিখোঁজ!
কুনোতে কিছু চিতা ম্যাগট সংক্রমণের কারণে মারা গেছে। বাকি সমস্ত চিতার স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যাপক ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত ১১ এবং ১৪ জুলাই ম্যাগট সংক্রমণের কারণে দু'টি চিতা মারা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চিতাদের গলায় যে রেডিও কলারগুলি পরানো হয়েছে, তাতেই ঘষা লাগছে এবং বর্ষার আর্দ্রতার কারণে কলারের নীচে যে ভিজেভাব থাকছে তার ফলে সেপ্টিসেমিয়া বা রক্তে সংক্রমণ হচ্ছে। ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি অবশ্য এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলছে, চিতাদের মৃত্যু হয়েছে 'প্রাকৃতিক কারণে'ই। কেন্দ্রের পাশে দাঁড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টও। সরকার কুনোতে চিতার মৃত্যু বন্ধে যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তাতে কেন্দ্রকে অবিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই বলেই মনে করছে দেশের শীর্ষ আদালত। তাহলে আস্ত একটি চিতা গেল কোথায়?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Cheetah: নামিবিয়া থেকে ভারতে যে চিতা পাঠানো হলো তা প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় স্থানান্তর।

গত ২ অগাস্ট কুনোতে ধাত্রী নামের চিতাটিকে মৃত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার অবধি ন্যাশনাল পার্কের মধ্যে নির্ভার চিহ্নমাত্র খুঁজে বের করতে পারেনি বন বিভাগের কর্মীরা। তবে গোটা বিষয়টিকেই যত্ন করে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। বনকর্মীরা বলছেন, নির্ভাকে সরাসরি দেখতে পাওয়া যায়নি ঠিকই তবে কিছু জায়গায় নাকি তারা পায়ের ছাপ এবং মল খুঁজে পেয়েছেন। সেই সব অঞ্চলগুলিতেই বেশি করে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। আসলে নির্ভার রেডিও কলারটি কাজ করছে না। ফলে চিতাটি কোথায় আছে, তা নির্দিষ্ট করে জানা যাচ্ছে না। নির্ভা, ধাত্রীর মতো ‘লাজুক’ও। ফলে চট করে নজরে পড়ে যাওয়ার চিতা সে নয়। নিখোঁজ চিতা নির্ভাকে খুঁজে বের করতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করার পরিকল্পনাও করছে বনদফতর। এখন জঙ্গলজুড়ে ব্যাপকভাবে ড্রোন ব্যবহার করে নির্ভার খোঁজ চলছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
12 cheetahs at kuno National park : ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চিতাদের আজই কুনো ন্যাশনাল পার্কে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে ট্যুইটার বার্তায়।
রেডিও কলার পরানোর কারণে সেপ্টিসিমিয়া হওয়াতে তেজস এবং সুরজ নামের চিতাদের মৃত্যুর পরে আফ্রিকান চিতাদের দেখভাল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গত জুলাইতে দিল্লিতে চিতার সাম্প্রতিক মৃত্যু বিষয়ে স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকের পর বন্যপ্রাণী প্রধান ওয়ার্ডেন জসবীর সিং চৌহানকে বদলিও করা হয়। এসবের পরেও কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের রীতিমতো বিবৃতি জারি করে ঘোষণা করে যে, চিতার মৃত্যু প্রাকৃতিক কারণেই ঘটেছে এবং রেডিও কলার সংক্রমণের কারণে মৃত্যুর কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
গত ২৭ মার্চ, কিডনির জটিলতার কারণে সাসা নামে একটি নামিবিয়ান চিতা মারা যায়। নামিবিয়াতেই সাসা এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হয়। কুনোতে আসার পর থেকেই অসুস্থ ছিল সে। আরেকটি চিতা উদয়, অসুস্থ হয়ে পড়ে ১৩ এপ্রিল মারা যায়। ৯ মে, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা একটি স্ত্রী চিতা সঙ্গমের সময় দু'টি পুরুষ চিতার সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যায়। মে মাসেই, নামিবিয়ার এক স্ত্রী চিতার সদ্যোজাত চারটি শাবকের মধ্যে তিনটি হিটস্ট্রোকে মারা যায়। একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে ১১ জুলাই এবং ১৪ জুলাই তেজস এবং সুরজ নামের দু'টি পুরুষ চিতা মারা যায়। তারপর অগাস্টে মারা যায় স্ত্রী চিতা ধাত্রী।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নামিবিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কুনোতে আনা ২০টি আফ্রিকান চিতার মধ্যে ছয়টি প্রাপ্তবয়স্ক চিতাই মারা গেছে। প্রজেক্ট চিতার অধীনে, নামিবিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কুনো ন্যাশনাল পার্কে দু'টি ভাগে মোট ২০টি চিতা আনা হয়। প্রথম দলটি আসে গত বছরের সেপ্টেম্বরে এবং দ্বিতীয়টি এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে। খুব কম সময়ের মধ্যেই ৯ টি চিতার মৃত্যু ঘটেছে। বর্তমানে, ১৩ টি প্রাপ্তবয়স্ক চিতা এবং একমাত্র জীবিত বাচ্চাটি রয়েছে এই ন্যাশনাল পার্কেই।















