শহরের রাস্তায় জমছে গদি-তোষকের স্তূপ, নতুন মহামারীর মুখে প্যারিস?
Paris, Bedbugs: আপাতত এই বিপর্যয়কে মহামারী বলেই চিহ্নিত করেছে প্যারিস প্রশাসন। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, মেট্রোতে পর্যন্ত বসতে ভয় পাচ্ছেন মানুষ।

বিশ্বের সুন্দরতম শহরগুলির একটি প্যারিস। বছরের পর বছর ধরে পর্যটকদের অন্যতম পীঠস্থান এই শহরটি। শিল্পের শহর প্যারিস, সুন্দরের শহর। কিন্তু সেই প্যারিসের রাস্তা জুড়ে এখন শুধুই পরিত্যক্ত তোষক আর গদির স্তূপ। সুন্দর শহরের এই হাল দেখে তো আঁতকে ওঠার জোগার পর্যটকদের। হঠাৎ করে হলটা কী শহরটার?
শুধু যে এই অবস্থা ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের, তা কিন্তু নয়। প্যারিসের পরেই দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেই। সেখানেও পরিস্থিতি একইরকম। জানা গিয়েছে, এই দুই শহর-সহ ফ্রান্সের একাধিক এলাকায় লেগেছে এক মহামারী। না, করোনা বা নিপা ভাইরাস নয়। আপাতত ছাড়পোকার জ্বালাতেই অতিষ্ঠ শহর।
সেই পোকার উপদ্রবে জীবন বেরিয়ে যাওয়ার জোগার প্যারিসবাসীর। ঘুমানো তো দূরের কথা, বিছানা বা গদি রয়েছে এমন জায়গায় বসার কথা ভাবলেই আঁতকে উঠছেন তাঁরা। সারা গায়ে লাল দাগরা দাগরা ক্ষত আর তার জ্বালাতে এখন প্যারিসবাসীর জীবন ওষ্ঠাগত। আরও বিপদে পড়েছে হোটেলগুলির। হোটেল বলে কি আর তারা ছাড়পোকাদের হাত থেকে বাঁচতে পেরেছেন ভেবেছেন! বরং তাদের হয়েছে দ্বিগুণ বিপদ। যাঁরা গ্যাঁটের কড়ি খরচ করে হোটেলে থাকতে আসবেন, তাঁরে কেনই বা সহ্য করবেন এই ছাড়পোকার তাণ্ডব! যার ফলে বেকায়দায় পড়েছেন অসংখ্য হোটেল কর্তৃপক্ষ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Cat Piano: ধরে নিন একটা সাদা-কালো রিডওয়ালা পিয়ানো, যার সামনের দিকে রয়েছে একটি খাঁচা। আর সেই খাঁচায় থাকত সাত থেকে ন'টি বিড়াল এবং তারা প্রত্যেকেই জলজ্যান্ত।

জানা গিয়েছে, প্যারিসের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা নাকি রু সেন্ট লাজার। সেখানে রাস্তার ধারে পাহাড় জমেছে তোষক-গদির। অধিকাংশ বাসিন্দাই ঘর থেকে বাইরে বের করে দিয়েছেন ছাড়পোকা সংক্রমিত গদিগুলিকে। বহু হোটেলের সামনেও ধরা পড়েছে একই দৃশ্য। প্লাস্টিক দিয়ে অস্থায়ী জায়গা বানিয়ে তার উপর গড়ে তোলা হয়েছে গদির পাহাড়। অনেকে বের করে দিয়েছেন সোফা, চেয়ারের মতো আসবাবপত্রও।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Substitute of Blood: রক্তের বিকল্প হিসেবে শরীরে চালানো হয়েছিল দুধ! সফল হয় কি সেই পরীক্ষা?
আপাতত এই বিপর্যয়কে মহামারী বলেই চিহ্নিত করেছে প্যারিস প্রশাসন। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, মেট্রোতে পর্যন্ত লোকে বসতে ভয় পাচ্ছে। ছাড়পোকাময় আসনের বসার চেয়ে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকাই বেশি কাজের বলে মনে করছেন তাঁরা। নানা ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করেও নাকি কাজের কাজ হচ্ছে না বলে দাবি করেছে ফরাসি পেস্ট কন্ট্রোলগুলি। সেইসব কীটনাশকও নাকি খেয়ে দিব্যি হজম করে ফেলছে ছাড়পোকা সেনা। ফলে দিন দিন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে এই পোকার তাণ্ডব।

এই ছাড়পোকা-সমস্যা ক্রমশ প্যারিসের জন্য আরও বেশি যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সামনের সপ্তাহেই রাগবি ওয়ার্ল্ড কাপ প্যারিসের মারসেলিতে। যার জন্য় আসতে চলেছে বহু ব্রিটিশ ও আইরিশ রাগবি ভক্ত। তবে এই সব ছাড়পোকা সেনা যে ভাবে রাতদিন মানুষের রক্ত চুষতে ব্যস্ত, তাতে প্যারিসে থাকার নামেই আঁতকে উঠছেন সকলে।
বাসিন্দাদের শারীরিক অবস্থাও আপাতত দুশ্চিন্তার বিষয় প্রশাসনের কাছে। কারণ প্যারিস ও সংলগ্ন শহরের বেশিরভাগ বাসিন্দাই ভুগছেন ত্বকের প্রদাহ, বিভিন্ন অ্যালার্জির সমস্যায়। এমনকী অনেকেই মানসিক ভাবেও সমস্যায় পড়েছেন। যে হোম বরাবররই সুইট হোম, সেই হোমই এখন আতঙ্কের অন্য নাম। কারণ সেখানে এখন ছাড়পোকার উপনিবেশ। ঘুম ছুটেছে তাদের তাণ্ডবে। কীভাবে ছাড়পোকা তাড়ানোর কড়াতর কীটনাশক তৈরি করা যায়, সেই ভাবনাতেই এখন দিনরাত কাটছে পেস্ট কন্ট্রোল সংস্থাগুলির। কবে মিলবে এই ছাড়পোকা-দানবদের হাত থেকে রেহাই, সেটাই এখন একমাত্র ভাবনা ফ্রান্সবাসীর।
















