বাদ্যযন্ত্রের নামে নির্মম অত্যাচার! ক্যাট-পিয়ানো কি সত্যিই ছিল কোনওদিন?

Cat Piano: ধরে নিন একটা সাদা-কালো রিডওয়ালা পিয়ানো, যার সামনের দিকে রয়েছে একটি খাঁচা। আর সেই খাঁচায় থাকত সাত থেকে ন'টি বিড়াল এবং তারা প্রত্যেকেই জলজ্যান্ত।

Sohini Das
৩ মিনিট
বাদ্যযন্ত্রের নামে নির্মম অত্যাচার! ক্যাট-পিয়ানো কি সত্যিই ছিল কোনওদিন?

সঙ্গীতের সঙ্গে সৌন্দর্য এবং শিল্পের যোগ রয়েছে বলেই মনে করা হয়। সেই সঙ্গীতের অনুসঙ্গেই মানুষ একের পর এক বাদ্যযন্ত্র তৈরি করেছে। নানা শৈল্পিক আঙ্গিক, বিভিন্ন ধরনের শব্দ তৈরি করে গড়ে নিয়েছে সঙ্গীতের নিজস্ব মনোরম পরিবেশ। তা এই বাদ্যযন্ত্র তৈরিতে কতকিছুই তো ব্যবহার করা হয়। ফলের নির্যাস ভিতর থেকে বের করে নিয়ে তার আবরণ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বাদ্যযন্ত্র। কখনও ব্যবহার করা হয়েছে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ, কখনও আবার মাটিক কলসি বা হাঁড়ি। তবে জ্য়ান্ত প্রাণী দিয়ে বাদ্যযন্ত্র! এমন আশ্চর্য কথা শুনেছে কেউ কখনও? তবে এমনটাও নাকি হয়েছে ইতিহাসে।

প্রিয় পোষ্য হিসেবে বিড়ালের জনপ্রিয়তা বিশ্বব্যাপী। আর সেই বিড়ালকে দিয়েই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আশ্চর্য কাজ করে বসেছে মানুষ। একসময় জ্যান্ত বিড়ালকে আস্ত টেলিফোনে রূপান্তরীত করে বসেছিলেন দুই বিজ্ঞানী। এক অদ্ভুত অমানবিক দিক নিয়ে পৃথিবীর সামনে নিজেদের গবেষণা রেখেছিলেন তাঁরা। ঠিক তেমন নির্মমতার ধারা বজায় রেখেই নাকি এককালে তৈরি হয়েছি ক্যাট-পিয়ানোর। যাকে বলা হত ক্যাটজেনক্লাভিয়ার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জ্যান্ত বিড়াল হল টেলিফোন, ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম পরীক্ষার জন্য বিখ্যাত যে দুই বিজ্ঞানী

Cat Telephone: ১৯২৯ সালের কথা সেটা। আর্নেস্ট গ্লেন ওয়েভার ও তাঁর সহকারী চার্লস উইলিয়াম ব্রে একবার একটা উদ্ভট গবেষণায় মাতলেন।

সে এক আশ্চর্য ব্যাপার। ধরে নিন একটা সাদা-কালো রিডওয়ালা পিয়ানো, যার সামনের দিকে রয়েছে একটি খাঁচা। আর সেই খাঁচায় থাকত সাত থেকে ন'টি বিড়াল এবং তারা প্রত্যেকেই জলজ্যান্ত। এবার তাঁদের লেজগুলি থাকত পিয়ানোর রিডের সঙ্গে বাঁধা। যার নীচে রয়েছে একটি করে পেরেক, এবং পেরেকের নিচে বিড়ালের লেজ। অর্থাৎ সেই পিয়ানোয় সুর তুলতে গেলে বিড়ালদের যে কী অবস্থা হত, তা আলাদা করে বলে দিতে হয় না। প্রতিটা রিডে চাপ পড়তেই ত্রাহী চিৎকার করে উঠত বিড়ালগুলি। আর সেই ত্রাহী চিৎকারের ধ্বনি তুলেই বেজে চলত পিয়ানো।

সত্যি কথা বলতে এই বাদ্যযন্ত্র ছিল কার্যত শিউড়ে ওঠার মতোই। ওই ন'টি বিড়ালের আনুমানিক পিচ খেয়াল রেখে খাঁচায় সাজানো হত তাদের। তবে শোনা যায়, এমন বাদ্যযন্ত্র নাকি সত্যি সত্যি কখনওই তৈরি হয়নি। শুধুমাত্র কল্পনাতেই ভাবা হয়েছিল ভয়ঙ্কর এই যন্ত্রের কথা। অবশ্য এ নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। অনেকে মনে করেন ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে মোপি রাজার জন্য বানানো হয়েছিল এই বাদ্যযন্ত্র।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গায়ের রং কালো, যে কারণে অশুভ মনে করা হয় এই ধরনের বিড়ালকে

Superstition of black cat : কেন অশুভ মনে করা হয় কালো বিড়ালকে? কীভাবে জাঁকিয়ে বসল এই অন্ধবিশ্বাস?

তবে জানা যায়, বিড়ালের উপর এমন নির্যাতন নাকি কখনও করা হয়নি। যদিও এমনই নিপীড়নের চেষ্টা হয়েছে গাধার উপরে। তবে গাধার শব্দ দিয়ে বাদ্যযন্ত্র নির্মাণ করা তো আর সহজ কথা নয়। তাই সে পরীক্ষা বেশিদূর এগোয়নি! একটি সূত্রের দাবি, জোহান ক্রিশ্চিয়ান রেইল নামে এক জার্মান মনোবিদ নাকি অদ্ভূতুরে এই ক্যাটপিয়ানোর ভাবনাটি ভাবেন। তিনি মনে করতেন, কোনও মনোরোগীকে যদি জোর করে এমন কোনও যন্ত্র শোনানো হয়, তাহলে তারা মনোঃসংযোগ ফিরে পেতে বাধ্য। যদিও বাস্তবে এমন যন্ত্র কখনও তৈরি হয়নি। ভাগ্যিস হয়নি।

অ্যাথানাসিয়াস কির্চার নামে এক সাহিত্যিক ১৬৫০ সালে 'মুসুর্গিয়া ইউনিভার্সালিস' নামে একটি বই লেখেন। সেখানেই এমন একটি যন্ত্রের বর্ণনা করা হয়েছিল। তবে শুধু কির্চারই প্রথম নয়, ষোড়শ শতকের এক ঐতিহাসিক জুয়ান ক্যালভেট ডি এস্ট্রেলা তাঁর বইতে জানিয়েছেন, তিনি নাকি রাজা দ্বিতীয় ফিলিপের আমলে এমন যন্ত্র ছিল। ফিলিপ যখন ব্রাসেলে যান, সে সময়ে এমনই একটি ক্যাট-পিয়ানো দেখেছিলেন তিনি পদযাত্রায়।

পরবর্তীকালে এই ভাবনা থেকে তৈরি হয়েছিল ছোটদের খেলনাও। তবে সত্যিই এই নৃশংসতম যন্ত্র কোনওদিন ছিল কিনা সে নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে আজও। কিন্তু যে বা যাঁদের মাথা থেকে এই ভয়ঙ্করতম যন্ত্রের ভাবনা বেরিয়েছিল, তাঁদের মানসিকতা বা বিবেকের ব্যাপারেও ভাবতে হয় বইকি। যে সঙ্গীতের স্বর বা ধ্বনি মানুষকে আনন্দ দেয়, এক অন্যরকম স্বর্গীয় আনন্দের কাছাকাছি পৌঁছে দেয়, সেই সঙ্গীত বা বাদ্যযন্ত্র হিসেবে যে অপরিসীম নির্যাতনের ভাবনাকে মদত দেওয়া হয়েছিল, তা শিউড়ে ওঠার মতোই!

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।