পরকীয়া ঢাকতেই প্রেমিকাকে খুন! দেহ টুকরো করার আগেই খুনিকে ধরিয়ে দিল মেয়ে
Delhi Murder Case : দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন দু'জনে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতেই এমন নৃশংস কাণ্ড ঘটাল প্রেমিক...

কেবল সিনেমার পর্দা কিংবা ওয়েব সিরিজের মনোরঞ্জন নয়, পৃথিবীর ইতিহাসের পাতা একটু ওলটালেই দেখা যাবে একের পর এক সিরিয়াল কিলারের ঘটনা। এর পাশাপাশি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও বারবার শিহরিত করে মানুষকে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দিল্লির শ্রদ্ধা ওয়ালকর হত্যাকাণ্ডের ছায়া এখনও ভুলতে পারেনি মানুষ। ডিএনএ রিপোর্টে কী বলল, অস্ত্র উদ্ধার হল কিনা, শ্রদ্ধার খণ্ডিত মৃতদেহের আরও টুকরো পাওয়া গেল কিনা সবদিকেই উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে জনতা। আফতাব পুনাওয়ালার শাস্তির দাবিও উঠছে চতুর্দিকে।
এই আবহের মধ্যে ফের একবার শিরোনামে চলে এল দিল্লি। উপলক্ষ্য এবারও খুন। গত ১ ডিসেম্বর, পশ্চিম দিল্লির গণেশনগরে এক মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিস। ৩৫ বছর বয়সী ওই মহিলা রেখা রানির মেয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে গ্রেফতারও করা হয়। মেয়ের দাবি, মনপ্রীত সিং নামের ওই ব্যক্তিই তাঁর মাকে খুন করেছে। অবশ্য পুলিসি জেরার মুখে সমস্ত সত্যিটাই স্বীকার করে নেয় বছর পঁয়তাল্লিশের মনপ্রীত। এখন প্রশ্ন, এই খুনটা পুলিসকে এবং আম জনতাকে এত ভাবাচ্ছে কেন?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Delhi Murder Case: আফতাব কি অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে? এই সন্দেহ বারবার তাড়া করত শ্রদ্ধাকে...
পুলিস জানিয়েছে, মৃতদেহের চোয়ালের নিচে কোপানোর চিহ্ন রয়েছে। সেইসঙ্গে একটি আঙুলেও গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বারবার ধারালো ছুরি জাতীয় কোনও অস্ত্রের সাহায্যে তাঁকে কোপানো হয়েছে বলে অনুমান করেছিল পুলিস। সেই অনুমানের ভিত্তিতেই জেরায় মনপ্রীতকে জিজ্ঞাসা করেন অফিসাররা। সেখানেই তাঁদের সন্দেহ সত্যি হয়। মনপ্রীত জানায়, খুনের পর সে দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে লোপাট করে ফেলতেই চেয়েছিল। কিন্তু তার সেই অভিপ্রায় ব্যর্থ হয়। এরপরই আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আফতাব-শ্রদ্ধার ঘটনাই নাকি এই উপায়ের সন্ধান দিয়েছিল মনপ্রীতকে। আফতাবের মতোই সে রেখা রানিকে একেবারে হাপিস করে ফেলতেই চেয়েছিল। এই ব্যাপারটিই পুলিস-জনতার মাথা ঘুরিয়ে দিচ্ছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Alina Islam Ayat: এই ছোট্ট ফুটবলপ্রেমীর হত্যা মেনে নিতে পারছেন না কেউ। ফোনে ফোনে ঘুরছে নীল-সাদা জার্সি পরা সেই আলিনার ছবি…
একটু বিশদে আসা যাক। বিগত ১৫ বছর ধরে পশ্চিম দিল্লির গণেশ নগরের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকছিলেন রেখা রানি। সঙ্গে ছিল তাঁর বছর ১৬-র মেয়ে। দিব্যি চলছিল মা-মেয়ের সংসার। তার মধ্যেই ভোলবদল হল ২০১৫ সালে। রেখা রানির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হল মনপ্রীত সিংয়ের। কোথায় দু’জনের আলাপ, সেই সম্পর্কে বিশদে কিছু জানা যায়নি এখনও। তবে সেই আলাপ প্রেমে গড়াতে সময় লাগেনি। এদিকে মনপ্রীতে নিজে বিবাহিত, তার দু’টি সন্তানও আছে। সেই সংসারকে সামলে গণেশ নগরেও সে আলাদা একটা ‘সংসার’ তৈরি করল। তখন থেকেই গণেশ নগররের ওই ভাড়া বাড়িতে নিজের ‘প্রেমিকার’ সঙ্গে থাকতে শুরু করে মনপ্রীত।
২০১৫ থেকে ২০২২ সাল – দীর্ঘ সাত-আট বছর ধরে একই ছাদের নিচে বসবাস করছিল মনপ্রীত আর রেখা। এখানেই শুরু হয় সমস্যা। সম্পর্কের একটা পর্যায় পর দোটানায় ভুগতে শুরু করে মনপ্রীত। সে ভাবে, বড্ড বেশি গভীরে ঢুকে যাচ্ছে সে। রেখার সঙ্গে আরও বেশি করে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। এখানেই সে দুশ্চিন্তা শুরু করে। প্রবলভাবে সম্পর্ক ভেঙে বেরিয়েও আসতে চায়। কিন্তু কী করে? শেষমেশ যে কোনও রহস্য গল্পের মতো এখানেও ঢুকে পড়ে হিংসা। মনপ্রীত ভাবে, রেখাকে পৃথিবী থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়াই বোধহয় তার পরিত্রাণের একমাত্র উপায়। যেমন ভাবনা তেমনই কাজ। নিজের মধ্যেই পরিকল্পনার জাল ছড়াতে শুরু করে মনপ্রীত সিং।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Delhi Murder Case Update: শ্রদ্ধার কাটা মুণ্ডু ফ্রিজ থেকে বের করে তাতে মেক আপ করাতেন আফতাব! আবার কোনও কারণে রাগ হলে সেই কাটা মুণ্ডুকে চড়ও মারতেন, এমনটাই দাবি দিল্লি পুলিশের
ইতিমধ্যেই খবরের শিরোনামে উঠে আসে দিল্লির তরুণী শ্রদ্ধা ওয়ালকরের নৃশংস খুনের ঘটনা। তাঁর লিভ-ইন পার্টনার আফতাব পুনাওয়ালাই যে খুনি, সেটাও উঠে আসে তদন্তে। দেহ টুকরো টুকরো করে লোপাটের বর্ণনা, কাটা মুণ্ড রেখে দেওয়ার হাড়হিম সত্য গোগ্রাসে গিলতে থাকে জনতা। খবরের পাতাতেও বারবার উঠে আসতে থাকে একের পর এক ডিটেইলস। মনপ্রীত সিংয়ের চোখেও সেই ঘটনার খবর ভেসে আসে। পুলিসের অনুমান, এখান থেকেই তার যাবতীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে যায়। রেখাকে খুন করে তাঁর দেহ এভাবেই লোপাট করতে হবে, জেরায় এমন ছকের কথাই জানিয়েছে মনপ্রীত।
পুলিসের কাছে সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়েছে রেখা রানির ১৬ বছরের মেয়ে। ১ ডিসেম্বর, ২০২২। মনপ্রীত, রেখা রানি ও তাঁর মেয়ে সবাই গণেশ নগরের ভাড়া বাড়িতেই ছিল। মাইগ্রেনের যন্ত্রণা শুরু হওয়ায় রেখাদেবীর মেয়ে তাড়াতাড়ি ঘুমোতে চলে যায়। সেই সময় তার খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয় মনপ্রীত। তারপরই সে নিজের আসল কাজ শুরু করে। আগেভাগেই নতুন একটি ধারালো ছুরি কিনে এনেছিল মনপ্রীত। তারপরই ১ ডিসেম্বর গভীর রাতে রেখাদেবীর ওপর হামলা চালায়। একের পর এক ছুরির আঘাতে, তাঁকে কুপিয়ে খুন করে। পুলিস বলছে, রেখাদেবীর মুখে আর গলায় বেশিরভাগ কোপ পড়েছে। সম্ভবত নিজেকে বাঁচাতে হাত উঠিয়েছিলেন রেখাদেবী। সেই সময় ছুরির কোপ তাঁর আঙুলে গিয়েও পড়ে। রক্তে ভাসমান মেঝেয় বসেই রেখা রানির নিথর দেহ কেটে টুকরো করার চেষ্টা করে মনপ্রীত। কিন্তু ধরার পড়ার ভয়ে সেই কাজ করেনি বলেই জেরায় জানিয়েছে সে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Shraddha Murder Case : একজন নয়, শ্রদ্ধা ছাড়াও আফতাবের একাধিক সম্পর্কের কথা এসেছে সামনে
এদিকে রেখা রানির মেয়ে ঘুম থেকে উঠে মা-কে দেখতে না পেয়ে মনপ্রীতের কাছে জিজ্ঞাসা করে। বাজারে যাওয়ার কথা বলে সেই মুহূর্তে প্রশ্ন এড়িয়ে যায় মনপ্রীত। সন্দেহ হলেও, এরপর মেয়েটি তার এক তুতো ভাইয়ের বাড়ি চলে যায়। ফিরে এসে দেখে, গণেশ নগরের ভাড়া বাড়ির গেটে তালা দেওয়া। মনপ্রীত, রেখা গেল কোথায়? এক মুহূর্ত দেরি না করে মেয়েটি পুলিসকে ফোন করে। এরপর দরজা ভেঙে রেখা রানির রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু মনপ্রীতের দিকে সন্দেহ যাওয়ার আরও কোনও কারণ আছে? পুলিসের কাছে রেখাদেবীর মেয়ে জানিয়েছে, এর আগে টাকার জন্য তাঁর মা-কে বেধড়ক মারধোর করত মনপ্রীত। সে মায়ের ক্ষতি করতে পারে, এই ভাবনা থেকেই পুলিসের কাছে যাওয়া। এদিকে পুলিস জানিয়েছে, এর আগেও একাধিক খুন ও কিডন্যাপিং কাণ্ডের সঙ্গে মনপ্রীতের নাম জড়িয়েছিল। পুলিসের ‘ওয়ান্টেড’ লিস্টেও তার নাম ছিল। তাহলে কি এরকম ঘটনা এর আগেও ঘটিয়েছে সে?
উত্তর প্রদেশের সীতাপুরে স্ত্রীকে খুন করে টুকরো টুকরো করেছিল স্বামী পঙ্কজ মৌর্য। এবার পশ্চিম দিল্লির ঘটনায়ও দেহ টুকরো করে লোপাটের চেষ্টার ব্যাপার সামনে আসে। এখানে ‘ডেক্সটার’ নয়, খোদ শ্রদ্ধা-আফতাবের ঘটনাই অনুপ্রেরণার উৎস! খোদ রাজধানীর বুকে এমন ক্রমবর্ধমান হিংসা গোটা দেশকেই ভাবিয়ে তুলছে। শ্রদ্ধা, জ্যোতি, রেখা… এরপর কে?
















