বাংলা মাধ্যমে পড়েই ইউপিএসসি পরীক্ষায় বাজিমাত! কোন মন্ত্রে লুকিয়ে বাপ্পা সাহার সাফল্যের রহস্য

UPSC : দারিদ্র্যকে জয় করে দ্বিতীয় স্থানাধিকারীর শিরোপা জিতে নিলেন বাংলার ছেলে বাপ্পা সাহা

User_14090
৩ মিনিট
বাংলা মাধ্যমে পড়েই ইউপিএসসি পরীক্ষায় বাজিমাত! কোন মন্ত্রে লুকিয়ে বাপ্পা সাহার সাফল্যের রহস্য

প্রতিকূলতা টলাতে পারেনি তাকে, লক্ষ্যে অবিচল থেকেই সর্বভারতীয় পরীক্ষায় লড়াই করে দ্বিতীয় স্থানাধিকারির শিরোপা ছিনিয়ে নিলেন আলিপুরদুয়ারের বাপ্পা সাহা। যেন প্রকৃতই রূপকথার চরিত্র বাপ্পা। বাবা পেশায় একজন সাধারণ রাজমিস্ত্রী। ছোটবেলা থেকেই অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। কিন্তু তার জেরে ইচ্ছে শক্তিতে কোনও দিন ভাটা পড়েনি বাপ্পার। মেধায় শান দিয়েছে নিয়ত। আর তারই ফল মিলেছে হাতে-নাতে। ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরিচালিত ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসস্টিক্যাল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্ব ভারতীয় স্তরে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন তিনি।

আলিপুরদুয়ার শহর সংলগ্ন দক্ষিণ মাঝেরডাবরি এলাকার বাসিন্দা বছর তেইশের বাপ্পা সাহা। ছোট থেকেই সে পড়াশোনায় তুখোড়। বাবা গোপাল সাহাকে কষ্ট করতে দেখেছে বলেই হয়তো পড়াশোনার মূল্য ভালোই বুঝত সে। এই চিলতে মাটির কাঁচা বাড়িতে তার বেড়ে ওঠা। বাড়িতে সামান্য বিদ্যুৎ পর্যন্ত ছিল না। অবশ্য হ্যারিকেনের আলোয় পড়াশোনায় ছেদ পড়েনি কখনওই। কাচের গায়ে কালো ভুসি পড়লে তাকে ঝেড়ে নিয়েই এগিয়ে গিয়েছে বাপ্পা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চাইলে পারবেন আপনিও! দেখিয়ে দিলেন ইউপিএসসি-তে সফল হওয়া তিন কন্যা

সত্যিই তো আমাদের মেয়েরা কোনও অংশেই ছেলেদের থেকে কম তো ননই, বরং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলছেন তাঁদের সঙ্গে।

গ্রামের প্রাথমিক স্কুলেই লেখাপড়ার শুরু। তারপর সেখান থেকে ভর্তি হয়েছিলেন আলিপুরদুয়ারের গোবিন্দ হাইস্কুলে। মাধ্যমিকের নম্বর ভালো ছিল বলে বিজ্ঞান নিয়েই পড়া শুরু করে উচ্চমাধ্যমিকের। তারপর সেখানেও দারুণ সাফল্য। ২০১৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন বাপ্পা। একের পর এক অসাধারণ রেজাল্টের নজির রয়েছে তার। আজকাল যুগের কাছে সত্যিকারের দৃষ্টান্ত বাপ্পা। যখন ইংরেজি মাধ্যমকেই একমাত্র বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন অভিভাবকরা তখন বাপ্পার এই অভূতপূর্ব সাফল্য যেন সব কিছুর যোগ্য জবাব। কে বলে বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করলে ভবিষ্যত অন্ধকার? বাপ্পা সাহার মতো এমন অনেকেই হয়তো স্বপ্ন বুনছেন বেঙ্গলি মিডিয়ামের কাঠের বেঞ্চে বসেই।

২০১৯ সালে উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চোখ ধাঁধানো রেজাল্ট নিয়ে BSC পাশ করার পর সেই বছরই এগ্রিকালচার স্ট্যাটিসস্টিক্যাল নিয়ে দিল্লির ইন্ডিয়ান এগ্রিকালচার ইন্সটিটিউটে MSC-তে ভর্তি হয় বাপ্পা। স্বপ্নপূরণের তখন সবে শুরু, আরও অনেকটা পথ চলা যে বাকি, তা নিশ্চয়ই জানত উত্তরবঙ্গের নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলেটি। পাশ করে বেরিয়েই চাকরি পেতে হবে, হাতে নষ্ট করবার মতো সময় ছিল না তাঁর। তাই পড়তে পড়তেই বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিল সে। চলতি বছরের জুন মাসে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা UPSC পরিচালিত ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসস্টিক্যাল সার্ভিস পরীক্ষা বসে বাপ্পা। তারপর থেকেই অপেক্ষায় ছিল ভালো ফলাফলের। প্রাথমিক তালিকায় নাম আসার পর থেকে শুরু হয় ইন্টারভিউ এর প্রস্তুতি। গত ১৯ ডিসেম্বর দিল্লির ইউপিএসসি ভবনে অনুষ্ঠিত হয় ইন্টারভিউ। অবশেষে গত সপ্তাহে প্রকাশ্যে আসে চূড়ান্ত ফলাফল। আর সেখানেই জ্বলজ্বল করছে বাপ্পার নাম। তাও একেবারে দ্বিতীয় স্থানে। বাংলা তথা বাঙালির কাছে এ যে গর্বের তা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

পরিবারের সকলের পাশে থাকাই কি তার সাফল্যের চাবিকাঠি? নাকি দরিদ্র থেকে ঘুরে দাঁড়ানো যে অকৃত্রিম তাগিদ আজীবন পুষে রেখেছিল ছেলেটি এই ফলাফল তারই বহিঃপ্রকাশ? উত্তর যাই হোক না কেন আসল হল বাস্তবের এই রূপকথাটুকুই। যাকে ঘিরে আজ স্বপ্ন দেখবে আরও অনেক নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়েরা।

মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা এবং জীবনের লক্ষ্য স্থির রাখা, এটুকুতেই জোর দিয়েছে বাপ্পা। বাঁধাধরা গতে বন্ধ পড়াশোনায় কোনদিনই বিশ্বাস ছিল না তার। কিন্তু যখন যতটুকু পড়েছেন তাকে আত্মস্থ করেছে, আর এতেই মিলেছে সাফল্য। আজ সময় বদলেছে, বাপ্পাকে নিয়ে এখন আশার আলো দেখছে গোটা পরিবার। বাপ্পাও ভোলেনি পুরনো দিনের কথা। প্রতিষ্ঠিত হয়ে তাই সে চায় এলাকার গরীব বাচ্চাদের পড়াশোনার ভার নিতে। আধুনিকতার ঘেরাটোপে যে বাংলা মাধ্যম আজ কোণঠাসা, তাকে মশাল হাতে নতুন পথ দেখাতে পারে এমন হাজার হাজার বাপ্পারাই।

লিখেছেন
User_14090
User_14090
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।