বাংলাদেশ বইমেলায় তসলিমার বই রাখা নিয়ে অশান্তি? আসলে যা ঘটেছে

Bangladesh Amar Ekushe Book Fair: অভিযোগ, সব্যসাচী স্টলটি আসলে আওয়ামী ঘনিষ্ঠ। আর সেখানে জমায়েত করেছিল মাদ্রাসা ছাত্ররা।

inscript
৩ মিনিট
বাংলাদেশ বইমেলায় তসলিমার বই রাখা নিয়ে অশান্তি? আসলে যা ঘটেছে

বাংলাদেশে চলছে একুশে বইমেলা। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরে এটিই বাংলাদেশে প্রথম অমর একুশে বইমেলা। বাংলাদেশে এখন রাষ্ট্র সংশোধনের কাজ চলছে বলে দাবি সেই দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। সেই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, নতুন বাংলাদেশকে অন্যভাবে গড়তে চান তাঁরা। তবে নতুন বাংলাদেশের চিত্রটা ঠিক কেমন? হাসিনা পরবর্তী সেই বাংলাদেশে কি বিরুদ্ধ মতের স্থান আছে? জানা গিয়েছে, তসলিমা নাসরিনের বই রাখা নিয়ে অমর একুশে বইমেলার একটি বইয়ের স্টলে ব্যাপক উত্তেজনা ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যায় বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকা ‘সব্যসাচী’ নামের স্টলে এই ঘটনাটি ঘটে। ওই স্টল বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ পুলিশ। কিন্তু কেন তসলিমার বই বিক্রি ঘিরে এই উত্তেজনা? শুধুই কি বই বিক্রি? কী ঘটেছে আসলে?

বাংলাদেশের নানা সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে, সব্যসাচী স্টলটির বিরুদ্ধে নাস্তিকতা প্রচারের অভিযোগ তোলে একাংশের নাগরিক, অভিযোগ তাঁরা জামাতপন্থী। এই স্টল গুঁড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করা হয়। তারপর সন্ধেয় বইমেলার ওই স্টলের সামনে জমায়েত হয় কয়েকজনের। অভিযোগ, এই ব্যক্তিরা স্টল থেকে তসলিমা নাসরিনের বইগুলি সরিয়ে দিতে বলেন। স্টলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি প্রতিবাদ করেন। শুরু হয় বচসা। সামান্য হাতাহাতিও হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে স্টলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে সরিয়ে দেয়, স্টলটি ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেয়। ঠিক কী ঘটেছে? কারাই বা জমায়েত করে উত্তেজনা সৃষ্টি করল?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নির্বাচন নেই, হিংসা আছে! অন্তর্বর্তী সরকার আদৌ শান্তি চায়? যে প্রশ্ন তুলছে বিএনপি

Bangladesh BNP: দেশে নৈরাজ্যের প্রসার ঘটাতে তাহলে বিচ্ছিন্ন মদত থেকে যাচ্ছে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের?

প্রথম আলোর সাহিত্য সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন সোশ্যাল মিডিয়াতে। দেখা যাচ্ছে সব্যসাচী স্টলের সামনে বেশ ভিড় এবং স্টলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিও উত্তেজিত। সাজ্জাদ সহ অনেকের অভিযোগ, সব্যসাচী স্টলটি আসলে আওয়ামী ঘনিষ্ঠ। আর সেখানে জমায়েত করেছিল মাদ্রাসা ছাত্ররা। ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, স্টলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়াতে স্টল গুঁড়িয়ে দেওয়ার ডাক দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারপর জয় বাংলা স্লোগান না দিতে দেওয়া নিয়ে তর্ক শুরু হয়। আওয়ামী বিরোধী স্লোগান ওঠে জনতার তরফে। তখন পুলিশ স্টলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে সরিয়ে নিতে গেলে তিনি এক মাদ্রাসা ছাত্রকে থাপ্পড় মারেন। তবে কয়েক সেকেন্ডের জন্য উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও কোনও প্রতিশোধমূলক হামলা হয়নি। এমনকী ওই স্টলে ভাংচুরও হয়নি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
একাত্তর আঁকড়েই এগোবে চব্বিশ: নাহিদ ইসলাম

Bangladesh: শেখ হাসিনার সরকারের পতনের ঠিক ছ'মাসের মাথায় আবার নতুন করে উত্তপ্ত বাংলাদেশ। নতুন করে এই অশান্তি কেন? ঢাকায় বসেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের সঙ্গে কথা বললেন অর্ক দেব।

ওই স্টলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির নাম শতাব্দী ভব। ভব সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি ভিডিওতে বলেছিলেন, সব্যসাচী যেভাবে হুমকি পেয়েছে, সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসনের সমস্ত মহল থেকেই তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং প্রশাসন ও বাংলা আকাদেমির কর্তাব্যক্তিরা তাঁকে অনুরোধ করেছেন তসলিমার বইগুলি স্টল থেকে সরিয়ে নিতে। সেই অনুরোধ না মানতে তিনি যে অপারগ, তাও স্বীকার করেছেন ভব। তাই মেলা থেকে তিনি বই সরিয়ে নিচ্ছেন। শতাব্দী ভবর অভিযোগ, নতুন বাংলাদেশে প্রশাসনের উচিত ছিল, সব্যসাচীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তা না করে 'নিষিদ্ধ-নিষিদ্ধ' খেলাই চলছে।

অমর একুশে বইমেলায় হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, এই হামলার মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের অধিকার এবং বাংলাদেশের আইনকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। লিখেছেন, “বইমেলায় এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বাংলাদেশের উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চাকে ক্ষুণ্ণ করে, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের শহিদদের মর্যাদার প্রতি অবমাননা প্রদর্শন করে।” মুহাম্মদ ইউনূস সোশ্যাল মিডিয়াতে লিখেছেন, “একুশে বইমেলা এ দেশের লেখক ও পাঠকদের প্রাণের মেলা। এ দেশের সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, চিন্তক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেণি-পেশা-বয়সের মানুষের মিলনস্থল।” ঘটনাটির তদন্ত করে দোষীদের যথাযথ বিচারের নির্দেশও দিয়েছেন ইউনূস।

অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি কমেন্টে লেখেন, "আগের দিন ঘোষণা দিয়ে একজন প্রকাশকের স্টলে গিয়ে জড়ো হওয়ার ও পুলিশিং করার কোনও অধিকার কারও নেই। প্রকাশক যদি প্রতিক্রিয়া দেখান, সেজন্য যারা প্রথমে পুলিশিং করতে গেছেন তাঁরাও দায়ী। প্রকাশক শারীরিক হামলা করলে আক্রান্তরা আইনের আশ্রয় নিতে পারেন কিন্তু কোনওমতেই ফার্স্ট প্লেসে বই নিয়ে পুলিশিং করার অধিকার তাঁদের নাই"।

মাহফুজের বক্তব্য, গত ৬ মাস তাঁরা যোগাযোগ ও সহযোগিতার পথ নিয়েছিলেন। অগাস্টের গণ অভ্যুত্থানে যথার্থ ভূমিকার ফলে সারা বাংলাদেশে তৌহিদী জনতার গ্রহণযোগ্যতার সম্ভাবনা ও ন্যয্যতা তৈরি হয়েছিল। মাহফুজ বলছেন, "সেটা তাঁরা নিজেরাই তাঁদের প্রাজ্ঞতা ও দূরদর্শীতার অভাবে নষ্ট করছেন। সবাই বিরুদ্ধে গেলেও, দীর্ঘমেয়াদে এ জনপদের মানুষের জন্য যেটা ফলপ্রসূ হবে, বাঙালি মুসলমান ও সাধারণ নাগরিকদের নিপীড়নের ক্ষেত্র ও যৌক্তিকতা যেভাবে তৈরি হবে না- সে পথই আমি অনুসরণ করব। আমাদের বিরোধিতা স্পষ্ট। উগ্রপন্থা ও ইসলামফোবিয়া- এ দুইটাই আমরা আর দেখতে চাই না। আলেম ও ইসলামপ্রিয় জনতা হোমো স্যাকার হয়ে উঠবেন কিনা, সেটা তাদের প্রাজ্ঞতা ও দূরদর্শীতার উপরই নির্ভর করে।"

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।

রামলীলার সভার জন্য ক্ষতি হয়েছে ছোট দোকানদারদের, কতটা প্রচার, কতটা সত্যি?

loss claim for Ramlila rally: রামলীলা ময়দানের সমাবেশ ঘিরে ছোট দোকানদারদের ‘২.৫ লক্ষ দোকান বন্ধ’ ও ‘১০-১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি’র দাবি আসলে, দিল্লির ব্যবসায়ী সংগঠন সিটিআই-এর অনুমান আসলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের হিসাবের ভিত্তিতে করা হয়েছে। বিজেপি-কংগ্রেস পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এই সংখ্যাগুলি এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার।

এসআইআর: মূল টার্গেট ছিল বাংলা?

SIR West Bengal controversy: এসআইআরের নামে বাংলার নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা কতটা সুপরিকল্পিত? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, বিচারকদের পর্যবেক্ষণ, ডিজিটাল কারচুপি ও সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?

শ্রমিক বিক্ষোভের নেপথ্যে আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ সরকারের অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি কতটা?

Garment Workers' Protest in Bangladesh: বাংলাদেশে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, আন্দোলনের পিছনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ বাংলাদেশ সরকারের। কিন্তু শ্রমিকদের অসন্তোষের নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, নাকি মূল্যবৃদ্ধি ও প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ার ক্ষোভ? সরকারের দাবির পক্ষে কতটা প্রমাণ রয়েছে?

সকালে জমা বিকেলে খরচ: আইনের শাসনের অবমাননা

Gaighata incident: গাইঘাটার ঘটনার পরমুহূর্তে শাসক দলের মন্ত্রী, নেতাদের প্রতিক্রিয়া পরিষ্কার করে দেয়, বন্দি অভিযুক্তকে হত্যার ঘটনা সরকারি নীতির ('সকালে জমা, বিকালে খরচ')—নগ্ন প্রয়োগ।

৫০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত, মোদীর দাবির আড়ালে কোন পরিসংখ্যানগত বিতর্ক?

World Bank's claim about India's poverty decline: বিশ্বব্যাঙ্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১-১২ থেকে ২০২২-২৩-এ ভারতের চরম দারিদ্র্য ২৭.১% থেকে ২.৬%-এ নেমেছে বলে দাবি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই পরিসংখ্যানকে রাজনৈতিক প্রচারের কাজেও লাগাচ্ছেন। কিন্তু, পরিসংখ্যানের আড়ালে আসল সত্য কি? কি বলছেন অর্থনীতিবিদরা?

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, ১৫০-র বেশি কারখানা বন্ধ, কী বলছে বাংলাদেশ সরকার?

Bangladesh garment workers protest: মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, ১৫০-র বেশি কারখানা বন্ধ, শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি নিয়ে কী বলছে বাংলাদেশ সরকার?

কেন পঞ্জাবে ক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে আপের?

Major Setback for AAP in Punjab: ২০২২ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পঞ্জাবে ক্ষমতায় এসেছিল আম আদমি পার্টি। কিন্তু পাঁচ বছরের মধ্যেই দলের অন্দরে বিদ্রোহ, বিধায়কদের দলত্যাগ, মাদক সমস্যা, দুর্নীতি ও ঋণের বোঝা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ২০২৭-এর নির্বাচনে ক্ষমতা ধরে রাখা কি কঠিন হয়ে উঠছে আপের?