রেগে থাকি তাই হাত কাঁপে না : ফাঁসুড়ে মহাদেব মল্লিক

Mahadev Mallick: সঞ্জয়কে ফাঁসি দিতে মহাদেবের হাত কাঁপবে না বলেই ফোনের ওপার থেকে ইনস্ক্রিপ্টকে জানান মহাদেব মল্লিক।

Sangita Ghorai
৩ মিনিট
রেগে থাকি তাই হাত কাঁপে না : ফাঁসুড়ে মহাদেব মল্লিক

১৮ জানুয়ারি, ঘটনার ১৬২ দিনের মাথায় আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করেছিল শিয়ালদহ আদালত। সোমবার সঞ্জয় রায়ের শাস্তি ঘোষণা করতে চলেছেন বিচারক অনির্বাণ দাস। সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হয়েছিল ১০ অগাস্ট। তরুণীর দেহ উদ্ধারের ঠিক পরের দিনই। সিবিআই তদন্ত করে একক দোষী হিসেবে সঞ্জয়ের নামেই চার্জশিট দেয়। আদালতও সঞ্জয়কেই দোষী সাব্যস্ত করেছে। এই অপরাধে সঞ্জয়ের হয় কারাদণ্ড হতে পারে যাবজ্জীবনের, অথবা হতে পারে ফাঁসি। আর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির সাজা হলে তা কার্যকর করতে ডাক পড়বে মহাদেব মল্লিকের। কে এই মহাদেব মল্লিক? হেতাল পারেখ ধর্ষণের ঘটনায় ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়কে যে ফাঁসুড়ে নাটাদেব মল্লিক ফাঁসি দিয়েছিলেন, তাঁর ছেলে মহাদেব। কলকাতা পুরসভার কর্মচারী তিনি। এখনও অবধি তিনটি ফাঁসি দিয়েছেন মহাদেব।

একজন মানুষকে ফাঁসি দেওয়া তাঁর পেশা! কীভাবে এই পেশায় এলেন মহাদেব? বাবা নাটাদেব মল্লিকের সহকারী হিসাবে এই কাজের শুরু তাঁর। ২০০৪ সালে ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়কে ফাঁসি দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্সি জেলে বাবার সহকারী ছিলেন মহাদেব। তবে সঞ্জয়কে ফাঁসি দিতে হবে তাঁকেই যদি সরকার নির্দেশ দেয়। কারণ এখন আর এই কাজে দক্ষ পুরনো লোক নেই বলেই জানিয়েছেন মহাদেব। একজন পুরনো লোক আছেন, তিনি ফোন করে মহাদেবকে বলেছেন, চিন্তা না করতে। তিনি আছেন। তাঁর নাম অজিত, বয়স ৭০ বছর। মহাদেব মল্লিকের বয়সও ৬০ হতে চলল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ধনঞ্জয়কে ফাঁসি দিয়ে ভেঙে পড়েছিলেন নাটা মল্লিক! কেমন হয় জল্লাদের জীবন?

Hangman Nata Mullick: ধনঞ্জয়ের কাছ থেকে কোন প্রতিরোধ পাননি তিনি, উল্টে তাঁকে সবরকম সহযোগিতা করেছিলেন ধনঞ্জয়। বিষয়টা অস্বাভাবিক তো বটেই, অপ্রত্যাশিত ছিল।

সঞ্জয় রায়কে ফাঁসি দিলে নাটা মল্লিকের উত্তরসূরি হিসেবে এই কাজ সামলাতে হবে মহাদেবকে। ফাঁসির শাস্তি কার্যকর করতে কতখানি সময় লাগে? মহাদেব জানিয়েছেন, "আসামিকে হাতা পরানোর পর খুব বেশি সময় লাগে না।" এক ঘণ্টারও কম সময় লাগে, আধঘণ্টায় পুরো কাজটা হয়ে যায় বলে জানান ফাঁসুড়ে মহাদেব মল্লিক। ফাঁসুড়েদের কি কখনও আক্ষেপ হয় এই ধরনের কাজের পরে? জানা যায়, ধনঞ্জয়কে ফাঁসি দেওয়ার পরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন নাটা মল্লিক। সেটিই ছিল তাঁর কর্মজীবনের শেষ ফাঁসি।

তবে সঞ্জয়কে ফাঁসি দিতে মহাদেবের হাত কাঁপবে না বলেই ফোনের ওপার থেকে ইনস্ক্রিপ্টকে জানান মহাদেব মল্লিক। “ভগবানতুল্য চিকিৎসকের খুন ও ধর্ষণ যে করেছে তার প্রতি মায়া কীসের? ওঁ বেঁচে থাকলে কত মানুষকে বাঁচাতে পারত,” বলছেন মহদেব। তাছাড়া ফাঁসি দেওয়ার সময় যাতে দোষীর প্রতি কোনও মায়া না আসে, তার জন্য অপরাধীর অপরাধের ঘটনা মনে করে নিজের মধ্যে রাগ জাগ্রত করেন বলে জানান মহাদেব।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ধনঞ্জয়-সঞ্জয় একই মুদ্রার দুই পিঠ? ৩৪ বছর আগের ঘটনা কেন এত প্রাসঙ্গিক?

Dhananjoy Chatterjee Sanjoy Roy: অনেকেই এখনও মনে করেন, ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় গরিব পরিবারের মানুষ বলেই তাঁকে ফাঁসানো সহজ হয়েছিল। মামলা লড়ার মতো ভালো আইনজীবীও দিতে পারেনি তাঁর পরিবার।

পৃথিবীর বহু দেশেই ফাঁসি তুলে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে আমাদের দেশেও ফাঁসির শাস্তি তুলে দেওয়ার দাবি উঠেছে। কোনও ভয়ানক নৃশংস অপরাধের ঘটনা ঘটলে জনসাধারণ সাধারণত চূড়ান্ত শান্তি হিসেবে ফাঁসিই চান, ফাঁসির দাবিই তোলেন। বিশেষ করে ধর্ষণের ক্ষেত্রে তাই 'হ্যাং দ্য রেপিস্ট' কথাটি বহু প্ল্যাকার্ডে জ্বলজ্বল করে। 'ক্যাপিটাল পানিশমেন্টের' দাবি উঠলেও একজন মানুষকে প্রাণে না শেষ করে যাবজ্জীবনের সাজা দিয়ে জীবন শোধরানোর সুযোগের কথা বলেন অন্য আরেকদল। তবে মহাদেব মল্লিক মনে করেন, ধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধে ফাঁসিই সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। "আমার বাড়িতেও বাচ্চা বাচ্চা মেয়ে আছে। এগুলো কি ভালো? কাল আমার ঘরের মেয়ের সঙ্গেও তো হতে পারে!" ফাঁসির পক্ষে এই যুক্তিই দিয়েছেন মহাদেব।

উল্লেখ্য, ধনঞ্জয়ের ফাঁসির আগে ১৯৯১ সালে নিজের কাকার গোটা পরিবারকে খুনে অভিযুক্ত কার্তিক শীল আর সুকুমার বর্মনের জোড়া ফাঁসির সাজা কার্যকর করেছিলেন মহাদেব, তবে তা নাটা মল্লিকের সহকারি হিসেবেই। ১৯৮৭ সালে ফাঁসি দেওয়ার কাজে তাঁর হাতেখড়ির সুযোগ আসে। তবে ওই ফাঁসি শেষ পর্যন্ত হয়নি। গড়িয়াহাটের বণিক পরিবারের গৃহবধূ খুনের মামলার আসামি চন্দ্রনাথের ফাঁসির আদেশ হয়ে গিয়েও পরে রদ হয়। চন্দ্রনাথ বণিকের ফাঁসি রদ হয়ে যাবার পর মহাদেব পরের কাজ পান ছ’বছর পর, ১৯৯৩-তে। জোড়া ফাঁসির কাজ। মহাদেব মল্লিকরা তিন পুরুষ ধরে ফাঁসুড়ে। তবে আগামী প্রজন্ম আর এই পেশায় আসবে না, আগ্রহও নেই।

লিখেছেন
Sangita Ghorai
Sangita Ghorai
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।