পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সবটা জানেন? যে অভিযোগ তুলছেন পাক ক্রিকেটার দানিশ কানেরিয়া

Pak Cricketer Danish Kaneria: পাক প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন, "কেন আপনার সেনাবাহিনী হঠাৎ হাই অ্যালার্টে আছে?"

inscript
৩ মিনিট
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সবটা জানেন? যে অভিযোগ তুলছেন পাক ক্রিকেটার দানিশ কানেরিয়া

গত মঙ্গলবার পহেলগাঁওয়ের কাছে বৈসরনে সন্ত্রাসবাদীদের হামলায় ২৫ জন ভারতীয় নাগরিক এবং একজন নেপালি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রতিককালে এই অঞ্চলে নিরস্ত্র নাগরিকদের উপর এমন মর্মান্তিক হামলা আর ঘটেনি। স্বাভাবিকভাবেই, এই ঘটনায় ধর্মপরিচয় জেনে খুন করার অভিযোগ ওঠা ইস্তক দুইভাগে ভাগ হয়ে গেছে ভারতবর্ষ। রাজনৈতিক, কূটনৈতিক মহলে জটিলতা যেমন বেড়েছে, খুব একান্ত ব্যক্তিগত পরিসরেও বিদ্বেষ ও বিভাজন সুস্পষ্ট হচ্ছে। ভারত পাকিস্তানকে জবাব দিতে কিছু পদক্ষেপ করেছে, পাকিস্তানও পাল্টা পদক্ষেপ করেছে খানিক একইরকমের। তবে, এই আবহে প্রাক্তন পাকিস্তানি ক্রিকেটার দানিশ কানেরিয়া এই হামলার পর পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নীরবতার জন্য প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। X-এ একটি পোস্টে, দানিশ কানেরিয়া এমন কিছু প্রশ্ন তুলেছেন, যা পাকিস্তান ও সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে আবারও কিছু তিক্ত অথচ বাস্তব ঘটনার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে আমাদের।

ক্রিকেটার দানিশ খুব সহজ সাধারণ একটি মূল প্রশ্ন করেছেন। দানিশ বলছেন, "যদি সত্যিই পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলায় পাকিস্তানের কোনও ভূমিকা না থাকে, তাহলে কেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এখনও এর নিন্দা করেননি?” এর পরেই দানিশ আরেকটি মোক্ষম সওয়াল তুলেছেন, পাক প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন, "কেন আপনার সেনাবাহিনী হঠাৎ হাই অ্যালার্টে আছে? কারণ আসলে তো আপনি সত্যটা জানেন - আপনি সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দিচ্ছেন।"

উল্লেখ্য, পহেলগাঁও হামলার দায় স্বীকার করেছে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)। নিষিদ্ধ পাক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার একটি ছায়া সংগঠন এটি। ভারতীয় গোয়েন্দাদের অনুমান, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই টিআরএফকে বিশেষভাবে সমর্থন করে। লস্করের প্রতিষ্ঠাতা এবং ২৬/১১-র মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সাইদের নির্দেশেই চালিত। মঙ্গলবার হামলার পরে টিআরএফ বলেছিল, কাশ্মীরের ওই অঞ্চলে 'জনসংখ্যাগত পরিবর্তন' এই হামলার কারণ।

If Pakistan truly has no role in the Pahalgam terror attack, why hasn’t Prime Minister

condemned it yet? Why are your forces suddenly on high alert? Because deep down, you know the truth — you’re sheltering and nurturing terrorists. Shame on you.

— Danish Kaneria (@DanishKaneria61)

দানিশ কানেরিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও লিখেছেন, “কেন এমন হয় যে ওরা কখনই স্থানীয় কাশ্মীরিদের আক্রমণ না করে ধারাবাহিকভাবে হিন্দুদেরই আক্রমণ করে— সে কাশ্মীরি পণ্ডিতই হোক বা ভারতের কোনও প্রান্তের হিন্দু। কারণ সন্ত্রাস যতই ছদ্মবেশে আসুক না কেন, তা একটাই দর্শন অনুসরণ করে। তার জন্য গোটা বিশ্বকে মূল্য দিতে হচ্ছে।” অনিল দলপতের পরে পাকিস্তানের দ্বিতীয় হিন্দু ক্রিকেটার হচ্ছেন দানিশ। বর্তমানে আমেরিকায় থাকেন দানিশ কানেরিয়া। এর আগেও, দানিশ অভিযোগ করেছেন যে তিনি পাকিস্তানে ব্যাপক বৈষম্যের সম্মুখীন হয়েছেন এবং তাঁর কেরিয়ার শেষ করে দেওয়া হয়েছে। দানিশ অভিযোগ করেছেন, তিনি পাকিস্তানে সমান মূল্যবোধ ও সম্মান পাননি। শাহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে বিপুল্ল অভিযোগ ছিল তাঁর। সেই সময় শুধু ইনজামাম উল হককে পাশে পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।”

দানিশ অভিযোগ করেছিলেন, শাহিদ আফ্রিদি তাঁকে ধর্ম পরিবর্তন করতে বলেছিলেন। ‘‘কেরিয়ারে ভালোই খেলছিলাম। কাউন্টি ক্রিকেটও খেলছিলাম। অধিনায়ক হিসাবে ইনজামাম আমাকে খুব সাহায্য করেছে। সব সময় পাশে দাঁড়িয়েছে। শোয়েব আখতারও আমার পাশে ছিল কিন্তু আফ্রিদি আমাকে বলেছিল ধর্ম পরিবর্তন করতে। বহু বার বলেছিল। ইনজামাম কখনও এসব বলত না।’’

তবে দানিশ স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মানুষের প্রতি তাঁর কোনও ক্ষোভ নেই। কারণ পাকিস্তান বরাবর সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানের এমন নেতা দরকার, যিনি শান্তির দূত হতে পারেন। জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া নীরব কোনও নেতা তিনি চান না। এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনার পর বলেছেন, "ভারত প্রতিটি সন্ত্রাসী এবং তাদের মদদদাতাদের চিহ্নিত করবে, শনাক্ত করবে এবং শাস্তি দেবে। আমরা পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তাদের তাড়া করব। ভারতের সংকল্প পিছিয়ে যাবে না। সন্ত্রাসবাদকে শাস্তি দেওয়া হবেই।"

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।