গায়ত্রী স্পিভাক বনাম অনশুল কুমার: এর নাম দলিত রাজনীতি?

Dalit Politics: জে এন ইউ একাডেমিকের ডাকে বিংশ শতাব্দীর সমাজতাত্ত্বিক এডওয়ার্ড বার্গার্ড ডু বয়েসের গণতন্ত্র সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গির পর্যালোচনা করলেন নিম্নবর্গবিদ্যা-তাত্ত্বিক গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক।

Amrita Sarkar
৬ মিনিট
গায়ত্রী স্পিভাক বনাম অনশুল কুমার: এর নাম দলিত রাজনীতি?

গত ২১ মে নয়া দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংগঠন জে এন ইউ একাডেমিকের ডাকে যোগ দিলেন নিম্নবর্গবিদ্যা-তাত্ত্বিক গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক। বিংশ শতাব্দীর সমাজতাত্ত্বিক এডওয়ার্ড বার্গার্ড ডু বয়েসের গণতন্ত্র সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গির পর্যালোচনা করেন তিনি। বক্তৃতার শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স পাঠরত সোশিওলজির এক ছাত্র অনশুল কুমার প্রশ্ন করার সময় ডু বয়েসকে ‘ ডু বোয়া’ উচ্চারণ করলে, গায়ত্রী তাঁকে উচ্চারণ শুধরে নিতে বলেন। অনশুল সঙ্গেই সঙ্গেই আবার ‘ডু বোয়া’ উচ্চারণ করলে গায়ত্রী বিরক্ত হয়ে বলেন যে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ সমাজতাত্ত্বিক, যিনি নিজের নামের উচ্চারণ নিয়ে বারবার বলে গিয়েছেন, তাঁর নাম উচ্চারণের সময় এত অসতর্ক হওয়া ঠিক নয়। অনশুল কুমার তখন এই উচ্চারণ পার্থক্যকে খুবই তুচ্ছ ব্যাপার বলে মূল প্রশ্নে ঢুকতে যান। দৃশ্যত বিরক্ত গায়ত্রী তাকে থামিয়ে তার পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন এবং অনশুল কুমারের ‘এক্স হ্যান্ডলে’ দেওয়া পরিচয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এখানে অনশুল কুমার নিজেকে ব্রাহ্মণ স্বরের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক বলে দাবি করেছিলেন। যাই হোক, অনশুল কুমার স্বরে ফুটে ওঠা ঔদ্ধত্যের জবাব গায়ত্রী পালটা ঔদ্ধত্য দেখিয়েই দেন এবং অনুষ্ঠানটির মডারেটর শেষ অবধি অনশুল কুমারকে প্রশ্নই করতে দেন না।

অনুষ্ঠান শেষে অনশুল কুমার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এবং ফেসবুকে গায়ত্রীকে ‘বাস্টার্ড ও বিচ’ বলে উল্লেখ করে প্রশ্ন রাখেন, ক্যান দ্যা সাবঅল্টার্ন প্রোনাউন্স? প্রশ্নটি যে গায়ত্রীর নিজের লেখা বিখ্যাত প্রবন্ধ ‘ক্যান দ্য সাবঅল্টার্ন স্পিক?-কে উপহাস করে, তা বুঝতে কারওর অসুবিধা হয় না। এই ঘটনার প্রেক্ষিত ভারতের হিউম্যানিটিজ ও সোশ্যাল স্টাডিসের একাডেমিয়ায় বাদানুবাদ ও মতান্তর শুরু হয়েছে তখনই, যখন অনশুল কুমার মনে করেছেন তিনি দলিত বলেই গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক হয়তো তাঁর উচ্চারণকে ছুতো করে বাকিদের সামনে তাঁকে অপদস্থ করতে চেয়েছেন। এই দাবির সঙ্গে অনেকে একমত হয়েছেন, অনেকে একমত হন নি। অনশুল কুমারের সামাজিক মাধ্যমের কাজকর্ম দেখে তাঁকে বহু ক্ষেত্রেই নারীবিদ্বেষী এবং কিছুক্ষেত্রে বাঙালি বিদ্বেষী মনে হয়েছে অনেকেরই। অনেকে আবার এই নারীবিদ্বেষ ও জাতি বিদ্বেষকে রাগের মাধ্যমে দলিত প্রতিরোধের ভাষা বলেও মনে করেছেন। এখানে যে প্রশ্নগুলি ওঠে, তা হল:

১. গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাকের অনশুল কুমারকে বারংবার ডু বয়েস উচ্চারণ করতে বলা কি নিছকই এলিট উন্নাসিকতা দেখানো নাকি জরুরি রাজনৈতিক সচেতনতা?

২. অনশুল কুমারের বারবার নিজেকে সাবঅল্টার্ন দাবি করা কি আদৌ দলিত রাজনৈতিক সচেতনতা?

৩. অনশুল কুমারের তথাকথিত প্রতিরোধের যে ধরণ, তা কি দলিত তত্ত্ব অনুযায়ী প্রতিরোধ?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'আমি বিনয় চণ্ডাল' : এক পংক্তির কবিতার দলিত পাঠ

Binoy Majumdar Dalit Poet: কোকিলের স্বরের সঙ্গে প্রেমিকার গলার তুলনা তাই বিনয় করতে চান না। ওই স্বর কোকিলের ফুসফুস, কণ্ঠনালী, আলজিভ সবকিছুর ফলাফল।

৪. অনশুল কুমারকে সমালোচনার করার সময় সময় সমগ্র দলিত পরিসরকে ঘিরে প্রশ্ন তোলা কি লুকিয়ে রাখা ব্রাহ্মণ্যবাদী মানসিকতার প্রতিফলন?

যে মানুষটির নামের উচ্চারণ নিয়ে ঝামেলার সূত্রপাত, তিনি হলেন প্রখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ সমাজতাত্ত্বিক ডব্লু ই বি ডু বয়েস। ডু বয়েস সারাজীবন নিপীড়িত প্রান্তিক মানুষের অধিকার ও গণতান্ত্রিক কাঠামোতে প্রান্তিক মানুষের অধিকার পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলে এসেছেন। তাঁর নামের বানান ব্যুৎপত্তিগত ভাবে ফরাসি ভাষার হওয়ায়, ‘সঠিক’ ফরাসি এলিট উচ্চারণটি হল ‘ডু বোয়া’। অতএব যাঁরা বলছেন, অনশুল কুমার চোস্ত উচ্চারণ করতে না পারায়, গায়ত্রী তাঁকে হেনস্থা করেছেন, তাঁরা হয় না জেনে ভুল বলছেন কিংবা জেনেও মিথ্যাচার করছেন। ডু বয়েসের পূর্বজদের বসবাস ছিল হাইতিতে। হাইতি ছিল ফরাসি উপনিবেশ। সেখানকার ভূমিজ কৃষাঙ্গদের উপর যতই ফরাসি কেতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হোক না কেন, দিনের শেষে তাঁরা তাঁদের রীতি অনুযায়ীই সমস্ত উচ্চারণ পালটে নিতেন। রোমান হরফে লেখা ‘ Do Bois’-কে ফরাসি রীতি মেনে তাঁরা কিছুতেই 'ডু বোয়া' উচ্চারণ করতেন না, করতেন একদম গ্রাফোসেন্ট্রিক ভাবে 'ডু বয়েস'। নিজের পূর্বজের কলোনিয়াল নিপীড়ণের ইতিহাস যাতে বিস্মৃত না হয়, তাই 'ডু বয়েস' চাইতেন তার নামের উচ্চারণ যেন 'ডু বয়েস'ই করা হয় সবসময়। ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে চিকাগো সানডে ইভনিং ক্লাবের অনুরোধে বক্তৃতা দিতে যাওয়ার আগে, তিনি তাঁর চিঠিতে স্পষ্ট করেছেন তাঁর ইচ্ছের কথা জানান,

"My name is pronounced in the clear English fashion: Du, with u as in Sue ; Bois, as in oi in voice. The accent is on the second syllable."

অর্থাৎ এই নামের উচ্চারণটি নিছক উচ্চারণের জন্য নয়, বরং একটি রাজনৈতিক ইতিহাসের বয়ান তৈরি করতে। তাই এই উচ্চারণকে গ্যোয়েথে/গ্যেট্যে, নীৎসে/ নীচে, বার্থ/বার্থেস এই উচ্চারণগুলির নিরিখে দেখা শুধু অনুচিতই নয়, অরাজনৈতিকও।

অনশুল কুমারের উচ্চারণ অরাজনৈতিক হলেও একাডেমিয়া নামক গণতান্ত্রিক পরিসরের স্বার্থেই সেইদিন গায়ত্রী এবং অনুষ্ঠানটির মডেরেটরের উচিত ছিল, তাঁকে প্রশ্নটি করতে দেওয়া। যাই হোক, গায়ত্রী অনশুল কুমারকে বারংবার যে উচ্চারণ শুধরাতে বলছিলেন, সেটি নিম্নবর্গীয় রাজনৈতিক সচেতনতা যা জন্মসূত্রে দলিত হয়েও অনশুল কুমারের এই উচ্চারণটির ক্ষেত্রে ছিল না। নিউইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ডট কমে ৩০ মে, সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় অনশুল কুমারকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, এখন তিনি ডু বয়েস উচ্চারণ কেমন করে করবেন । তিনি উত্তর দিয়েছেন যে ডু বয়েস হিসেবেই করবেন এবং তাঁর মনে হয়েছে, তাঁর কলেজের দিনগুলিতে তাঁর অধ্যাপকরা একটু ফরাসি ঘেঁষা ছিল বলে তাঁকে 'ডু বোয়া' উচ্চারণ শেখানো হয়েছিল। গায়ত্রী যখন তাঁকে প্রশ্ন করার সময় উচ্চারণটি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন, তখন তাঁর এই শেখার মন কোথায় ছিল কে জানে! স্ক্রোল ডট ইনে ২৬ মে এই ঘটনাটি নিয়ে অধ্যাপিকা বৃন্দা বোসের মতামত আরও বিস্ময়কর। বৃন্দা বোস গোটা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং জানিয়েছেন যে ডু বয়সেকে নিয়ে যাবতীয় আলোচনা গায়ত্রী করেছিলেন 'ডু বয়েস' উচ্চারণ করে এবং কেন 'ডু বয়েস' উচ্চারণ তা-ও বলেছিলেন। এই সমস্ত কিছু শোনার পর অনশুল কুমার যখন 'ডু বোয়া' উচ্চারণ করেন এবং সেই উচ্চারণ শুধরে দিতে গেলে সেটাকে ‘তুচ্ছ ব্যাপার’ বলে অভিহিত করেন, তখন একটা ব্যাপার খুব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনশুল কুমার ব্যক্তি হিসেবে অহেতুক মনোযোগ চান এবং ব্যক্তি হিসেবেই গায়ত্রীকে বিরোধিতা করতে চান। এই ব্যক্তিস্বার্থের জন্যই তাঁর মধ্যে কোথাও সামান্যতম নিম্নবর্গীয় রাজনৈতিক সচেতনতা নেই। দলিত রাজনৈতিক সচেতনতাও কি রয়েছে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
"দলিত এখন একটা ফ্যাশন"! আম্বেদকরের আর প্রয়োজন কোথায়?

B R Ambedkar and Dalits: পাড়ার দোকানে ডিম কিনতে গেলে পাড়ার ছেলে ছোকরাদের জটলা থেকে ভেসে আসে, “এসব মণ্ডল ফণ্ডল ডি এম দিয়ে কি কোনও কাজের কাজ হয়?”

গোটা ব্যাপারটিতে অনশুল নিজেকে বারবার সাবঅল্টার্ন দাবি করেছেন। তাঁর পরিবারের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক কোনও পরিসর সম্পর্কেই বিশেষ কিছু জানা নেই। শুধু এইটুকুই তার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে জানা যায়, তিনি স্নাতক স্তরে পড়াশুনা করেছেন মুম্বইয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে, স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশুনা করছেন নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই দু'টি তথ্যই যথেষ্ট তাকে সাবঅল্টার্ন হিসেবে খারিজ করার জন্য। যিনি ভারতবর্ষের এত নামজাদা এলিট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পড়াশুনা করেছেন, তিনি আর সাবঅল্টার্ন থাকেন না। প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত কোনও মানুষই আর অন্ত্যজ শ্রেণির থাকেন না কারণ প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা নিজেই একটি ক্ষমতাশালী হাতিয়ার। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষার পরেও একজন মানুষ দলিত রয়ে যান, কারণ ব্রাহ্মণ্যবাদ এমন একটা পরিসর যা উচ্চশিক্ষিত দলিতকে ‘কোটার মাল’ বলে বাতিল করার প্রবণতা সবসময় দেখায়। আর পাঁচজন কুশিক্ষিত ব্রাহ্মণ্যবাদী যেমন সাবঅল্টার্ন ও দলিতকে এক ও অভিন্ন পরিসর বলে চিহ্নিত করে দলিত পরিসরের ব্যপ্তি ও গুরুত্ব কমিয়ে দিতে চায়, অনশুল কুমার নিজে দলিত হয়ে সেই কাজটিই করেছেন। একজন সচেতন দলিত রাজনীতির মানুষ কখনওই এমন কথা বলবেন না যেখানে দলিত ও সাবঅল্টার্নকে এক ও অভিন্ন দেখাবার চেষ্টা করা হয়।

দলিত রাজনৈতিক সচেতনার অভাব রয়েছে বলেই অনশুল কুমারের প্রতিরোধের ভাষাও অ-দলিতচিত, তা অনেক বেশি ব্রাহ্মণ্যবাদ ঘেঁষা। শরণকুমার লিম্বালে তাঁর “টুওয়ার্ডস অ্যান অ্যাস্থেটিক অফ দলিত লিটারেচার' বইটিতে দলিত সাহিত্যের ভাষা কেমন হতে পারে আলোচনা করতে গিয়ে এক জায়গায় তিনি লিখছেন, দলিত লেখক তাঁর দলিতত্ব এমন ভাবে বুনবেন যেন সেখানে কান্না, রাগ মিশে এমন এক মানবিক আবেদন পাঠককে আরো নিবিড় করে তুলবে দলিত পরিসরের সঙ্গে। আমরা আশা করতেই পারি, দলিত তত্ত্ব অনুযায়ী দলিত প্রতিরোধের ভাষার প্রবণতা হবে এমনটাই। লিম্বালে, যদুনাথ থাট্টে, আচার্য জাদেকরের মতো কিংবদন্তি দলিত তাত্ত্বিকরা কান্না ও রাগকে কখনওই ঘৃণার ধারক হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেননি। বরং ব্রাহ্মণ্যবাদী যে ঘৃণার পরিসর তার বিপ্রতীপে রেখেছেন রাগ ও কান্নাকে। অনশুল কুমারের প্রতিরোধের যে ভাষা তা রাগ ও কান্না থেকে জাত নয়, হিংস্রতা থেকে জাত। বাঙালি ‘ভদ্রলোক’ শ্রেণি’কে আক্রমণ করতে গিয়ে যিনি ‘বেঙ্গলি ফ্যাগট’ শব্দটি লিখতে পারে, তিনি নিঃসন্দেহেই জাতিবিদ্বেষী।

জাতিবিদ্বেষ কি দলিত প্রতিরোধ? সাবর্ণ নারীবাদীদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে যিনি কেবলই রেপ রেটোরিক ব্যবহার করে, তিনি তার পিতৃতান্ত্রিক মুখটি দেখিয়ে ফেলে। আর পিতৃতান্ত্রিক এই মুখ ভারতীয় উপমহাদেশের প্রেক্ষিত থেকে সবসময়ই ব্রাহ্মণ্যবাদী। সাবর্ণ নারীবাদীদের আক্রমণ করতে গিয়ে অনশুল বিস্মৃত হন রজনী তিলক নামের সেই দলিত নারীবাদী কবিকে যিনি লিখতে পারেন:

‘…নারীতে নারীতে

ভেদ নেই কি তবে?

একজন ভাঙর তো আরেকজন বামনি

একজন ডোম তো আরেকজন ঠাকরানি

দিন রাত খাটে দু'জনাই

অবশ্য একজন ক্ষেতে

আরেকজন চার দেওয়ালের ভেতর

সাঁঝে একজন শোয় বিছানায়

আরেকজন কাঁটার উপর।

অপমানিত হয় দু'জনাই

একজন গাড়িতে,সিনেমাহলে, রাস্তায়

আরেকজন ক্ষেতে, পাড়ায়, খনিতে

এই সংস্কৃতিতে সকলেই সর্বহারা?

একজন শোষিত হয় নারী হওয়ার জন্য

আরেকজন নারী ও দলিত হওয়ার কারণে

একজন ছটফটায় সম্মান চেয়ে

আরেকজন মরে খিদে আর অপমানে ।

প্রসববেদনা তবু একই থেকে যায়

একজন জন্মায় নালার ধারে

আরেকজন হাসপাতালে… ’

রজনী তিলক, ‘নারীতে নারীতে ভেদ আছে’, মূল ভাষা: হিন্দি, অনুবাদ: অমৃতা সরকার

এ কথা বললে খুব ভুল হবে না, অনশুল কুমার একজন উদ্ধত, নারীবিদ্বেষী, জাতিবিদ্বেষী, রাজনৈতিক ভাবে অসচেতন ব্যক্তি। এই ব্যক্তিকে সমালোচনা করতে গিয়ে যখন বারবার ‘দলিত ভিক্টিম কার্ড খেলে’, ‘আইডেন্টিটি পলিটিক্স আসলে ধান্দাবাজি’, ‘এগুলো সবই একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্ন’, এমনকি ‘এগুলো এদের জিনে রয়েছে’ জাতীয় শব্দবন্ধ ব্যবহার শুরু করে তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত সাবর্ণ একাডেমিয়ার মানুষজন, তখন সন্দেহ হয়। সন্দেহ হয় একটি অনশুল কুমারকে দেখিয়ে দলিত রাজনীতির যাবতীয় অর্জনকে নস্যাৎ করে দেওয়ার যেন একটা ছুতো খুঁজে চলেছেন এরা। অসংখ্য ব্যক্তি সাবর্ণের হিংস্র ঔদ্ধত্যের হিসাব করতে বসলে, এতদিনে বোধহয় পুরো সাবর্ণ সংস্কৃতিকেই বাতিল করে দিতে হত।

লিখেছেন
Amrita Sarkar
Amrita Sarkar
2 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।