বিচার করবে কে? পশ্চিমবঙ্গের ২৫জন বিধায়কই যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত: রিপোর্ট

Crime Against Woman: যেখানে মহিলারা রাস্তায় নেমেছেন নিরাপত্তার দাবিতে সেই পশ্চিমবঙ্গেই মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বিধায়কদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে!

inscript
৩ মিনিট
বিচার করবে কে? পশ্চিমবঙ্গের ২৫জন বিধায়কই যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত: রিপোর্ট

মানুষ বিচার চাইছে। বিচারের দাবি করছে। কার কাছে করছে? আরজি কর কাণ্ড নিয়ে টানা একমাসেরও বেশি সময় ধরে পথে রয়েছে আমজনতা। গ্রাম, শহরতলি, রাজধানী সর্বত্র একটাই দাবি, উই ওয়ান্ট জাস্টিস! কিন্তু বিচার দেবে কে? বিচার দেবে ভারতের আদালত, প্রশাসন। কোন প্রশাসন? যে প্রশাসনের নেতাদের বিরুদ্ধেই অজস্র যৌন হেনস্থার অভিযোগ? সারা দেশজুড়েই ক্ষমতায় থাকা নেতাদের বড় অংশই মহিলাদের বিরুদ্ধে করা নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত। সদ্য প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বেসরকারি সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস জানিয়েছে, সারা দেশের অন্তত ১৫১ জন সাংসদ ও বিধায়কদের বিরুদ্ধে মহিলাদের সঙ্গে জড়িত অপরাধ সংক্রান্ত একাধিক মামলা চলছে।

এই প্রতিবেদনটিতে গত পাঁচ বছরে মোট ২৮টি রাজ্য এবং ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে বর্তমান সাংসদদের বিরুদ্ধে ৭৫৫টি হলফনামা এবং ৩,৯৩৮জন বর্তমান বিধায়কের হলফনামা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন প্রমাণ করে আইনের সঙ্গে জড়িত বা আইন নির্মাতাদের বিরুদ্ধেই মহিলাদের হেনস্থা বা নিগ্রহের ভূরি ভূরি অভিযোগ! অথচ সেই ব্যক্তিরা মানুষেরই ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়ে বিধানসভা, লোকসভা আলো করে বসে আছেন। এই মুহূর্তে দেশের মোট ১৫১ জন নেতা, যাদের বিরুদ্ধে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত মামলা চলছে তাঁদের মধ্যে ১৬ জন সাংসদ এবং ১৩৫ জন বিধায়ক৷

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'বদন বিগড়ে গেছে'! আন্দোলনকারীকে নিয়ে যেভাবে শ্লীলতার মাত্রা ছাড়াচ্ছেন কুণাল-দেবাংশু

Kunal-Debangshu: "হ্যাঁ রে দেবাংশু, তোর পাত্রী দেখার কাজটা এগোব? তোর সঙ্গে বেশ মানাবে। রাগের মধ্যেই থাকে অনুরাগের বীজ," লিখেছেন কুণাল।

ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারার অধীনে দুই সাংসদ এবং ১৪ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলাও রয়েছে। বিধায়করা আরও যেসব অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্ত, তার মধ্যে রয়েছে অ্যাসিড হামলা, শ্লীলতাহানি, যৌন হেনস্থা, মহিলাদের বিবস্ত্র করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করা, নজরদারি এবং বৈবাহিক নিষ্ঠুরতার পাশাপাশি যৌনব্যবসার জন্য নাবালিকাকে কেনা বা বিক্রি করার মতো ভয়াবহ সব অপরাধ।

মজার বিষয় হলো, ভারতের কেন্দ্র সরকার চালাচ্ছে যে মূল দল অর্থাৎ ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বর্তমান বিধায়কের বিরুদ্ধেই মহিলাদের হেনস্থা বা নিগ্রহের মামলা চলছে। বিজেপির ৫৪ জন বিধায়ক নিজেরাই যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত। কংগ্রেসের ২৩ জন বিধায়কের বিরুদ্ধেও মহিলাদের যৌন নিগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। তেলেগু দেশম পার্টির ১৭ জন বর্তমান সাংসদ বা বিধায়কের রয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে মহিলাদের নিগ্রহ সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। বিজেপির পাঁচ বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রয়েছে। সংখ্যাটা কংগ্রেসের ক্ষেত্রেও একই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ফুটপাতের মেয়েটির জন্যেও আমরা গলা ফাটাবো কবে?

RG Kar Protest: যে সব মেয়েরা ফুটপাতে থাকে, রাতের অন্ধকারে যাঁদের উপরে নেমে আসে ধর্ষণ, নির্যাতন, কুমারী শরীরে রাতারাতি গর্ভসঞ্চার হয়, তাঁদের হয়ে একটিও প্রশ্ন কি করেছি আমরা কোনওদিন সমাজকে?

আরও মজার বিষয় হলো, যেখান থেকে আরজি কর কাণ্ডে সবচেয়ে বেশি বিচারের দাবি উঠেছে, যেখানে মহিলারা রাস্তায় নেমেছেন নিরাপত্তার দাবিতে সেই পশ্চিমবঙ্গেই মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বিধায়কদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে! তাহলে, বিচার দেবেন কারা? কোন দল? কোন শাসক? লজ্জাজনক এই তথ্য বলছে, বাংলার ২৫ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের মামলা রয়েছে। এই তালিকায় অন্ধ্রপ্রদেশ রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে, ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা আর ওড়িশা তৃতীয় স্থানে। সেখানে ১৭ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের মামলা রয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, “এই পরিসংখ্যানগুলি আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থার গুরুতর অস্বস্তিজনক দিক এবং প্রতারণাকেই ফাঁস করে। এখানে ধনী ও শক্তিশালী সাংসদ/বিধায়করা মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের মামলা নিয়ে সিস্টেমকে নস্যাৎ করতে, পুলিশি তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে নিজেদের প্রভাব ব্যবহার করেন এবং নিজেদের সুবিধামতো বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা করেন।"

অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস বলছে, অপরাধের ইতিহাস রয়েছে এমন প্রার্থীদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বিরত রাখা উচিত। ২০২০ সালের রায়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ দিয়েছিল ফৌজদারি মামলা চলছে এমন প্রার্থীদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য কেন টিকিট দেওয়া হয়েছিল তার কারণগুলি রাজনৈতিক দলগুলিকে ঘোষিত ভাবে সামনে আনতে হবে। কেন, কোন প্রার্থীকে, কোন স্থানে টিকিট দেওয়া হয় এখন এই হিসেব বীজগণিতের চেয়েও সোজাসাপ্টা! কিন্তু প্রশ্ন উঠছে গোড়াতে। যে বিধায়করা বা সাংসদরা প্রশাসন চালান, আইন তৈরি করেন, এমনকী ধর্ষণবিরোধী বিলও তৈরি করতে মতামত দেন তাঁদেরই বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা থাকলে, হেনস্থার অভিযোগ থাকলে 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস' শব্দগুলি দেওয়ালে ধাক্কা খায় মাত্র! কে আর দেবে জাস্টিস? অপরাধীরা কীভাবে অন্য অপরাধীর বিচার করতে পারে? ধর্ষণের মতো অপরাধের অভিযোগ রয়েছে যার বিরুদ্ধে কেন তাঁকে রাজনৈতিক দলের টিকিটে নির্বাচন লড়া থেকে বাদ রাখার আইন তৈরি হবে না? এবার এই প্রশ্নই ওঠার পালা।

লিখেছেন
inscript
inscript
15 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এআইয়ের বাড়বাড়ন্তে বিপদে চিনের কমিউনিস্ট পার্টি?

AI Threat to China’s Communist Party: এআই শুধু প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বদলাবে, নাকি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও রাজনীতিতেও তৈরি করবে নতুন সংকট? কেন চিনের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্তা এআইকে কমিউনিস্ট পার্টির ক্ষমতার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখছেন? বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে এআই গেলে কী ধরনের বিপদ তৈরি হতে পারে? আর কেন শি জিনপিং এআইকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলছেন?

টোকিওর জিম্বোচো: বইয়ের শহরে পাঠকের খোঁজে

Tokyo book market: কফিহাউজ যেমন কলেজস্ট্রিটের প্রাণকেন্দ্র, তেমনই জিম্বোচোতে রয়েছে একাধিক কিস্‌সাতেন—শান্ত নিঝ্‌ঝুম কফির দোকান। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো কিস্‌সাতেনের নাম সাবোরু।

জার্মানিতে ফের যেভাবে বাড়ছে নাৎসি রাজনীতির ছায়া

AfD Rise in Germany: জার্মানিতেই এখন আবার এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে, যার বক্তব্যে অভিবাসীবিরোধিতা, জাতিগত জাতীয়তাবাদ, ইসলামবিদ্বেষ এবং ‘জার্মান পরিচয়’ রক্ষার নামে বহিষ্কারের রাজনীতি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। দলটির নাম অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি।

পেপার চাই, মান পরে: শিকারি জার্নালের বাজার তৈরি করে কে?

Predatory Journals: ইউজিসি-র ২০১৬ সালের বিধিতে থিসিস জমা দেওয়ার আগে অন্তত একটি রেফার্ড জার্নালে পেপার প্রকাশ বাধ্যতামূলক ছিল। ২০২২ সালে নতুন পিএইচডি বিধি এনে আগের নিয়ম খারিজ করা হয় এবং থিসিস জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশ জুড়ে পেপার প্রকাশের সেই বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবু নিয়ম বদলালেই কি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ‘প্রকাশ করো, নইলে মরো’ (publish or perish) সংস্কৃতি রাতারাতি বদলে যায়?

গাজার মানুষ থাকবে গাজাতেই, স্বাধীন প্যালেস্টাইনের পক্ষে দিল্লি ঘোষণাপত্র

BRICS Delhi Declaration: দিল্লিতে শেষ হওয়া ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাধীন, সার্বভৌম ও কার্যকর প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে সমর্থন জানানো হয়েছে। সেই রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ১৯৬৭ সালের সীমারেখা। গাজা ও পশ্চিম তীরকে সেই ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে ধরে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করার কথাও বলা হয়েছে।

ব্রিকস সম্মেলনে ভারত কী পেল, কী পেল না?

BRICS Summit 2026: ২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলন থেকে ভারত ঠিক কী পেল? কূটনীতি, বাণিজ্য, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সন্ত্রাসবাদ ও গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ভারতের কতটা লাভ হলো? চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিলতার মধ্যে কোন কোন ক্ষেত্রে ভারত নিজের অবস্থান শক্ত করতে পারল, আর কোন প্রত্যাশাগুলি পূরণ হলো না?

জেন-জির হাত ধরে যেভাবে বদলে যাচ্ছে রাজনীতির মানচিত্র

Gen Z politics: ‘জেন-জি’ (Gen Z) সমাজমাধ্যমকে শুধু আড্ডা বা ছবি দেওয়ার জায়গা হিসেবে দেখেনি; বরং শাসকের অন্যায়, সামাজিক বৈষম্য আর রাজনৈতিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার বানিয়ে নিয়েছে।

নাগা সন্ন্যাসীরা কি শুধুই ধর্মীয় তপস্বী ছিলেন? ইতিহাস কী বলছে?

History of naga sadhus: প্রয়াগরাজের শাহী স্নানে ছাইমাখা নাগা সন্ন্যাসীরা আজও লক্ষ ভক্তের ভিড়ে প্রথম ডুব দেন। কিন্তু এই জটাজুটের আড়ালে লুকিয়ে আছে রক্তপাত, টাকা, ভূমি-রাজনীতি, দাসত্ব আর সাম্প্রদায়িক হিংসার দীর্ঘ ইতিহাস। অনুপগিরি গোসাঁই থেকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কুম্ভমেলা দখল—উইলিয়াম পিঞ্চ ও ধীরেন্দ্র ঝার গবেষণায় উঠে এসেছে, ইতিহাসের সেই অজানা অধ্যায়।