৫০ হাজার গর্ভবতী মহিলা যুদ্ধের শিকার! প্রিম্যাচিওর শিশুদের মৃত্যু দেখবে গাজা?

Gaza Premature Babies : ইউএনএফপিএ-র অনুমান গাজায় ৫০,০০০ গর্ভবতী মহিলা এই যুদ্ধের শিকার। প্রতিদিন ১৬০ টিরও বেশি প্রসব হচ্ছে গাজায়।

Madhurima Dutta
৩ মিনিট
৫০ হাজার গর্ভবতী মহিলা যুদ্ধের শিকার! প্রিম্যাচিওর শিশুদের মৃত্যু দেখবে গাজা?

৬ অক্টোবর। হামাস আক্রমণ করেছে ইজরায়েল। একের পর এক রকেটে দক্ষিণ ইজরায়েলের নানা জায়গায় হামলা। ঠিক সেই দিনই গাজায় জন্ম নিয়েছে তালিয়া। জন্মের কিছু পরেই তাঁর শরীরের নীল আভা ক্রমেই কমতে থাকে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের নাসের মেডিকেল হাসপাতালের চিকিত্সকরা সামান্য চিন্তায় পড়ে যান। একরত্তি বাচ্চা, ফুসফুস এখনও নিজের মতো করে কাজ করার মতো শক্তিশালী নয়। তালিয়ার জন্য বিশেষ যত্ন দরকার। বিপ বিপ আওয়াজের যান্ত্রিক ভেন্টিলেটরের দরকার। তালিয়া প্রিম্যাচিওর শিশু। এমন শিশুর ফুসফুসে অক্সিজেন পৌঁছতে বিশেষ ব্যবস্থা লাগে। অক্সিজেন ট্যাঙ্ক থেকে পাতলা একটি টিউব নরম শরীরে প্রাণবায়ু পৌঁছে দেয়। একটি মনিটর ওই কচি হৃদয়ের দুর্বল ওঠানামাকে নজরে রাখে। কিন্তু গাজায় ৭ অক্টোবর থেকে যা অবস্থা তাতে, ফিলিস্তিনি প্রিম্যাচিওর শিশুরা বাঁচবে কীভাবে?

গাজা উপত্যকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা হাসপাতালগুলি জানিয়েছে, ইজরায়েল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়াতে জ্বালানি পাচ্ছে না গাজা। ফলে হাসপাতালে জেনারেটর বন্ধ হয়ে গেলে, বেঁচে থাকার জন্য বৈদ্যুতিক ইনকিউবেটরের উপর নির্ভরশীল নবজাতক শিশু কয়েক মিনিটের মধ্যেই মারা যেতে পারে। ইতিমধ্যেই জ্বালানির ঘাটতির কারণে গাজার একমাত্র ক্যান্সার হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

নাসেরের শিশু ও নবজাতক বিশেষজ্ঞ আসাদ আল-নাওয়াজা আল জাজিরাকে জানান, নবজাতকদের মৃত্যুর আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। হাসপাতালের জেনারেটর চালানোর জন্য এবং গাজায় শিশু, অসুস্থ এবং আহতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের আবেদন করছেন তারা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বোমা-রকেটে ছারখার গাজা! কেন পিরিয়ড বন্ধের ওষুধ খুঁজছেন যুদ্ধবিধ্বস্ত মহিলারা!

Gaza Women Period Control : যে কয়েকটি দোকান ও ফার্মেসি খোলা আছে সেখানে পর্যাপ্ত স্যানিটারি প্যাড নেই। জলের অভাব চরম।

হাসপাতালের নবজাতকদের জরুরি বিভাগে ১০টি শিশু রয়েছে। অনেকেই জন্মের নির্দিষ্ট দিনের চার সপ্তাহ আগেই জন্মগ্রহণ করেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অনুমান, গাজা জুড়ে প্রায় ১৩০ জন নবজাতক শিশু ইনকিউবেটরের উপর নির্ভরশীল।

তালিয়ার মা সমর আওয়াদ জানান, শিশুকন্যার জন্মের সময়টা বিশেষ ভালো ছিল না। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন শিশুর ফুসফুসে জল রয়েছে এবং তাই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা দরকার। সেই থেকে মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারেননি তিনি।

গাজা উপত্যকায় ৭ অক্টোবর থেকে নিরলস বোমাবর্ষণ চলছে। হামাস দক্ষিণ ইজরায়েলে ৬ অক্টোবর হামলা চালায়, তাতে কমপক্ষে ১,৪০০ মানুষের প্রাণ যায়। এই হামলার প্রতিশোধে ইজরায়েল গাজায় যুদ্ধ শুরু করে। গাজায় এখনও অবধি ৯,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৩,০০০ এরও বেশি শিশু রয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৩০ দিনে ৪,১০৪ শিশুর মৃত্যু! কেন এত শিশু মারা যাচ্ছে গাজার যুদ্ধে?

Gaza Children Death : পৃথিবীতে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বোমা এসে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে শিশুর দেহ।

ইজরায়েল সরকার গাজার উত্তর অংশ খালি করার আদেশ জারি করে। তারপর থেকেই দক্ষিণের খান ইউনিস এবং রাফাহ জেলাগুলিতে হাজারে হাজারে শরণার্থীরা আশ্রয় নিয়েছেন। ইজরায়েল নাগরিকদের প্রাণ বাঁচাতে দক্ষিণে চলে যেতে আদেশ দিলেও, দক্ষিণ অংশেও নিয়মিত বিমান হামলা চলছে। খান ইউনিসে আত্মীয়দের বাড়িতেই এসেছেন তালিয়ার মা। যে কোনও মুহূর্তে বোমা তাঁর স্বামী এবং তিন বছরের ছেলেকে শেষ করে দিতে পারে তিনি জানেন। জানেন যে কোনও মুহূর্তে তাঁর নবজাতক শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখার যন্ত্রটিও থেমে যেতে পারে।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউএনএফপিএ-র অনুমান গাজায় ৫০,০০০ গর্ভবতী মহিলা এই যুদ্ধের শিকার। প্রতিদিন ১৬০ টিরও বেশি প্রসব হচ্ছে গাজায়। এদের মধ্যে ১৫ শতাংশ শিশুরই জন্ম সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিচ্ছে। ফিলিস্তিন রাজ্যের ইউএনএফপিএ প্রতিনিধি ডমিনিক অ্যালেন বলছেন, এই মহিলাদের অবিলম্বে প্রসূতিকালীন জরুরি যত্নের প্রয়োজন। সমস্যা আরও মারাত্মক কারণ যুদ্ধের ট্রমাও মহিলাদের অভাবনীয় সঙ্কটে ফেলেছে।

গাজার অন্তত এক-তৃতীয়াংশ হাসপাতাল- ৩৫টির মধ্যে ১২টি, এবং প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র- ৭২টির মধ্যে ৪৬টিই ক্ষতিগ্রস্ত বা জ্বালানির অভাবের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে যে ক'টি এখনও খোলা আছে তার উপর চাপ বাড়ছে। ইজরায়েল সম্প্রতি মিশর থেকে রাফাহ সীমান্ত দিয়ে কয়েকটি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু এতে জ্বালানির প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইজরায়েল বলছে ডিজেল প্রবেশের অনুমতি দিলে তা হামাস সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে।

গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতাল ফিলিস্তিনের বৃহত্তম চিকিৎসা কেন্দ্র কম্পাউন্ড। সেখানকার অকাল ও নবজাতক শিশু বিভাগের প্রধান নাসের ফুয়াদ বুলবুল বলছেন, জলের তীব্র ঘাটতি সেখানে। জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টগুলিও বন্ধ হয়ে গেছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘ জানাচ্ছে, গাজায় খাওয়া, ধোওয়া, রান্না এবং টয়লেট ফ্লাশ সহ মৌলিক স্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে বর্তমানে দিনে মাত্র তিন লিটার জল পাওয়া যায়। অথচ এই জলের ন্যূনতম দৈনিক পরিমাণ ৫০ লিটার। ডিহাইড্রেশনে শিশুমৃত্যুও বাড়তে পারে অচিরেই।

খান ইউনিসের বাসিন্দা লিনা রাবি অনেক কাল ধরে সন্তান ধারণের চেষ্টা করেছেন। অবশেষে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগে পুত্রের জন্ম দেন। আটমাসের মধ্যেই জন্ম হয়ে যায় ওই শিশুর। নাসের হাসপাতালে একটি ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছে নবজাতককে। অথচ লিনা জানেন না সন্তান ফিরবে কিনা। হয়তো ইউকিউবেটর বন্ধ হয়ে যাবে অচিরেই। হয়তো মৃত ৩,৫০০ শিশুর তালিকাতেই জুড়ে যাবে তাঁর শিশুটিও। যুদ্ধে তো এসব হয়েই থাকে।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।