মিনারেল ওয়াটার আসলে জলহস্তীর প্রস্রাব! জলের এই অদ্ভুত তথ্য চমকে দেবে বিশ্বকে

Funny Facts of Water: পৃথিবীতে থাকা জলের সমস্তটা পৃথিবীর মাটিতে এসেছে বরফ রূপে। কিন্তু পৃথিবীর মাটিতে এই বরফ এল কোথা থেকে?

Amit Patihar
৩ মিনিট
মিনারেল ওয়াটার আসলে জলহস্তীর প্রস্রাব! জলের এই অদ্ভুত তথ্য চমকে দেবে বিশ্বকে

জল, অক্সিজেনের পরে একমাত্র অপরিহার্য্য জিনিস যা বেঁচে থাকার জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। জলের ডাকনাম জীবন এইজন্যই এত আক্ষরিক! জলের রাসায়নিক সংকেত প্রায় প্রত্যেকেরই জানা। H2O, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন মিলে তৈরি হয় জল। পৃথিবীর যে কোনও প্রাণের বেঁচে থাকার জন্য জলের উপস্থিতি আবশ্যক। এসবই অতি জানা তথ্য কিন্তু আপনি কি জানেন যাকে আপনি জীবন বলেন, তার কিছু কিছু এমন চারিত্রিক গুণ আছে যা শুনলে রীতিমতো আঁতকে উঠতে হয়?

■ জল আসলে একটি এলিয়েন। হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। পৃথিবীতে থাকা জলের সমস্তটা পৃথিবীর মাটিতে এসেছে বরফ রূপে। কিন্তু পৃথিবীর মাটিতে এই বরফ এল কোথা থেকে? এই বরফ এসেছে ছোট ছোট গ্রহাণু এবং ধূমকেতু থেকে। লক্ষ কোটি বছর ধরে এই বরফ গলতে গলতে পৃথিবীতে সৃষ্টি হয়েছে জল। সুতরাং জল এই গ্রহেরই নয়। মহাকাশ থেকে ছিটকে আসা এক এলিয়েন মাত্র।

■ পৃথিবীর সমস্ত পানীয় জল কখনও না কখনও রিসাইকেল হয়েছে বিভিন্ন জন্তু জানোয়ার-মানুষ-কীটপতঙ্গ-গাছ-মেঘ-সমুদ্র-পাথরের মধ্যে দিয়ে। অর্থাৎ যে জল আমরা পান করি সেই জল কখনও না কখনও কেউ না কেউ পান করেছে বা নিজের জীবনস্বার্থে ব্যবহার করেছে এবং ত্যাগও করেছে। অন্যভাষায় বলতে গেলে, যে এক লিটার মিনারেল ওয়াটার আপনি একটু আগেই কিনলেন ২০ টাকা দিয়ে, তা হয়তো কোনও জলহস্তীর প্রস্রাব।

■ জল রসায়ন বিদ্যার কোনও নিয়মই মেনে চলে না। জল যে দুটো জিনিস দিয়ে তৈরি, মানে অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেন সে দুটোই ওজনে ভীষণ হাল্কা। তাই রসায়ন বিদ্যার নিয়ম অনুযায়ী জলের কোনও তরল রূপ থাকতেই পারে না। এই পৃথিবীতে জল শুধু বাষ্পরূপে থাকা উচিত ছিল। কিন্তু জল, যে কিনা আদপে এলিয়েন, সে পৃথিবীর নিয়ম মানবে কেন? তাই সে থাকে তার নিজের মর্জি অনুযায়ী। কখনও তরল, কখনও বাষ্প, কখনও বরফ আবার কখনও মেঘ।

■ জল এই পৃথিবীর একমাত্র রাসায়নিক পদার্থ যা আকারে এবং আয়তনে বৃদ্ধি পায় যখন তাকে তরল থেকে শক্ত আকারে রূপান্তরিত করা হয়। কারণ বরফের ঘনত্ব জলের তরল রূপের থেকে কম, এই কারণেই বরফ জলের উপর ভেসে থাকে।

■ বাড়িতে ফ্রিজ আছে নিশ্চয়ই? চলুন একটা পরীক্ষা করা যাক। ডিপ ফ্রিজের মধ্যে একটা পাত্রে গরম জল আর অন্য একটা পাত্র ঠান্ডা জল নিয়ে রেখে দেবেন। এবং খেয়াল করার চেষ্টা করবেন কোন পাত্রের জল আগে জমে বরফে রূপান্তরিত হচ্ছে। দেখবেন আগে গরম জলের পাত্রটা জমে বরফ হয়ে গ্যাছে, ঠান্ডা জলের পাত্রটা নয়। জলের এইরূপ অদ্ভুত আচরণের কারণ বিজ্ঞানীদের কাছে আজও অজানা।

■ জলের অণু বা মলিকিউলরা নিজেদের মধ্যে এত গায়ে লেগে লেগে থাকে যে তারা মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকেও অগ্রাহ্য করতে পারে। বায়োলজি বা জীবনবিদ্যায় জলের এরূপ ধর্মকে ক্যাপিলারি অ্যাকশন বলে থাকে। যার উদাহরণ হচ্ছে গাছের শিকড় মাটির নিচ থেকে জল সংগ্রহ করে তা পৌঁছে দেয় প্রতিটা পাতায় পাতায়। যা একেবারেই মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিপরীতে গিয়ে করতে হয়। ঠিক একইভাবে মানুসের মস্তিষ্কেও জল পৌঁছে যায়।

■ বিশ্বের সবথেকে বেশি খুঁজে পাওয়া অণুগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানেই আছে জল। প্রথম স্থানাধিকারী হাইড্রোজেনের পর। জল চাঁদ, মঙ্গল থেকে শুরু করে আমাদের সূর্য মণ্ডলের প্রায় প্রত্যেক গ্রহতেই আছে।

■ জল হচ্ছে সর্বজনীন দ্রাবক। জল যে কোনও রাসায়নিক পদার্থের সঙ্গেই মিশে যেতে সক্ষম। যে কারণে বিশুদ্ধ জল তৈরি করা খুব কঠিন কাজ, কারণ ল্যাবরোটোরির বেশিরভাগ রাসায়নিক যৌগ জলে দ্রবীভূত হয়ে যায়।

জল, আমাদের তেষ্টা মেটানোর একমাত্র উপায়, যা না পেলে ঝিমিয়ে পড়ে গাছ, শস্য ফলে না যার অভাবে, মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় , খরা ডেকে আনে যে, যা এই পৃথিবীর বুকে প্রাণ সৃষ্টির প্রধান কারণ, যা পৃথিবীর বুক থেকে উধাও হয়ে গেলে প্রাণের বিনাশ অবশ্যম্ভাবী- তার অপচয় বন্ধ করতে হবে। জলের পূর্ণ উপযোগিতা করতে হবে। জল নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। পৃথিবীর বুক থেকে ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে পানীয় জলের স্তর। জল আমরা এখনও অবধি বিনামূল্যে পাই বলে, জলের কদর বুঝি না। জলের কদর বুঝতে হবে, জল সংরক্ষণ করতে হবে। আজ থেকেই।

সূত্র:

  • https://www.water-plus.co.uk/fresh-thinking-hub/amazing-facts-about-water

  • https://climatekids.nasa.gov/10-things-water/

লিখেছেন
Amit Patihar
Amit Patihar
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।