হকার উচ্ছেদ করে স্কাইওয়াক? কালীঘাটের নতুন আকর্ষণ আদৌ উন্নয়ন?

Kalighat Skywalk: হকারদের একাংশের অভিযোগ, এই স্কাইওয়াকের কোনও প্রয়োজনই ছিল না। ব্যবসা পুরো বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষজন আর সেভাবে এখন আসেন না।

Sangita Ghorai
৩ মিনিট
হকার উচ্ছেদ করে স্কাইওয়াক? কালীঘাটের নতুন আকর্ষণ আদৌ উন্নয়ন?

চৈত্রের শেষ সন্ধ্যায় কালীঘাটের স্কাইওয়াক উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পয়লা বৈশাখে নবরূপে সজ্জিত কালীঘাট মন্দির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা শাসকদলের দাবি, এই স্কাইওয়াকের ফলে মন্দিরের প্রবেশপথ যানজটমুক্ত হবে এবং দর্শনার্থীদের ভিড় আগের থেকে বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। এর ফলে মন্দিরের আয় যেমন বাড়বে, হকারদেরও শ্রীবৃদ্ধি হবে। কিন্তু সত্যিই কি তাই? স্কাইওয়াক কি সকলের শ্রীবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারছে?

বেশ কয়েকজন হকারের অভিযোগ, স্কাইওয়াক তৈরির জন্য তাঁদের দোকান তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, স্কাইওয়াক তৈরির পর তাঁদের দোকান করার জন্য জায়গা দেওয়া হবে কিন্তু এখন সেই প্রতিশ্রুতি রাখছেন না স্থানীয় কাউন্সিলর। হকারদের একাংশের এই অভিযোগ নিয়ে ইনস্ক্রিপ্ট যোগাযোগ করেছিল ৮৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রবীর মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তিনি বলেন,

“সব মানুষের কিছু না কিছু বক্তব্য থাকতেই পারে। তাঁদের প্রতি আমার সহানুভূতি নিশ্চয় রয়েছে। আগে কালী মন্দিরে লোক কম আসত, এবার বেশি লোক আসবে। সবটা তো সম্ভব না। যতটা পারছি, করছি।”

যদিও হকারদের মধ্যে কেউ কেউ আবার বলছেন, মন্দিরের সামনে থেকে কিছুজনকে তুলে দেওয়া হয়েছে। বাকি সবাই দোকান দিতে পারছেন, শুধু জায়গাটা কম পেয়েছেন। আগে একটা দোকান যে জায়গা জুড়ে ছিল, সেখানে এখন চারটে দোকান।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পুকুর থেকে পাওয়া গিয়েছিল দেবীর চরণ, শক্তিপীঠ কালীঘাট আজও ভক্তদের বিস্ময়

কালীঘাটের বর্তমান মন্দিরটি ২০০ বছরেও বেশি পুরনো। এটি ১৮০৯ সালে সাবর্ণ রায়চৌধুরী জমিদার পরিবারের শিবদাস রায়চৌধুরী, তাঁর পুত্র রামলাল রায়চৌধুরী এবং ভ্রাতুষ্পুত্র লক্ষ্মীকান্ত রায়চৌধুরীর উদ‍্যোগে আদিগঙ্গার তিরে মন্দিরটি তৈরি হয়।

স্কাইওয়াকের কারণে উচ্ছেদ হওয়া হকার সুরেশ রায় (সুরক্ষার প্রশ্নে তাঁর নাম পরিবর্তন করা হলো) বলেন, স্কাইওয়াক তৈরির সময় থেকে তিনি বেকার। বাবার একটা কিডনি নেই। বউ-বাচ্চা আছে বাড়িতে। সবাই তাঁর উপর নির্ভরশীল। দোকান হারিয়ে কুল কিনারা পাচ্ছেন না তিনি। স্কাইওয়াকের প্রথম পিলার বসেছে এই হকারের দোকান উচ্ছেদ করে।

আর এক হকার ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন,

"এই স্কাইওয়াকের কোনও প্রয়োজনই ছিল না। ব্যবসা পুরো বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষজন আর সেভাবে এখন আসেন না। দুই বছর পর দোকান খুললাম স্কাইওয়াক তৈরি হতে। আগেও তো মানুষ আসত। স্কাইওয়াক করে শুধু শুধু হকারদের পেটে লাথি মারা হলো।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রাচীন কলকাতায় এসেছিলেন ক্যাপ্টেন হ্যাডক!

Captain Haddock in Kolkata: 'হবসন-জবসন' নামটা এল কোত্থেকে? এ হলো, গোরা সৈন্যদের কানে 'হায় হাসান হায় হোসেন' ধ্বনির বিকৃত রূপ।

একসময় বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী মামলাও করেছিলেন, তাঁরা মহাজনের থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়েছেন কিন্তু ব্যবসা করতে পারছেন না। কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি কৌশিক চন্দর বেঞ্চে ওঠে এই মামলা।

প্রসঙ্গত, ৪৩৫ মিটার দীর্ঘ এই স্কাইওয়াকটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। ২০২১ সালের অক্টোবরে ১৮ মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করে কাজ শুরু হলেও প্রকল্পটি একাধিক কারণে বিলম্বিত হয়। প্রতি বছর পয়লা বৈশাখ, দুর্গাপুজো, কালীপুজো ও গঙ্গাসাগর মেলার সময় ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়ের চাপে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এছাড়া কেএমসি-র ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, স্কাইওয়াক নির্মাণের পথে বহু কারিগরি বাধা আসে। ইটের বক্স ড্রেন, হাই-ভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন, তিনটি জল সরবরাহের লাইন এবং একটি পুরনো গ্যাস লাইন সরানো হয়।

সদ্য উদ্বোধন হওয়া এই স্কাইওয়াকটি এসপি মুখার্জি রোড ও কালী মন্দির রোড মোড় থেকে শুরু হয়ে কালীঘাট মন্দিরের প্রধান গেটের সামনে এসে শেষ হয়েছে। এছাড়া স্কাইওয়াকের একটি ৩০ মিটার দীর্ঘ শাখা কালীঘাট ফায়ার ব্রিগেড মোড় থেকে শুরু হয়ে প্রধান ট্রাঙ্কের সঙ্গে মিলিত হয়েছে কালীঘাট থানার কাছে।

প্রশ্ন উঠতে পারে এত বছর, এত অপেক্ষা, এসবের পর যে সুযোগ তৈরি হলো তাকে উন্নয়ন বলা চলে, না কি তা 'স্পেকটেকল অফ ইকোনমি'? গাই ডেবোর্ড ‘দ্য সোসাইটি অফ দ্য স্পেকটেকল’ বইয়ে এই শব্দবন্ধ সামনে আনেন। এখানে ব্যক্তিকে কার্যত দৃশ্যের দ্বারা পরিচালিত ভোক্তা হিসেবে দেখানো হয়। দৃশ্যায়ন তাকে অনবর‍ত মুগ্ধ করে চলে, তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কিন্তু এই আকর্ষণ সত্যিই উন্নয়ন কি?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন শাসকদলের হাতের মুঠোয় দুই 'ম'। মহিলা ভোট আর মুসলিম ভোট। এবার হিন্দুত্বের পথে হেঁটে প্রধান বিরোধীদলের ক্রমবিকাশ ঠেকাতেই সরকারি তৎপরতা। তবে কারণ যাই হোক, বিশ্লেষকরা বলছেন এই মহাযজ্ঞ আরও সর্বাত্মক অংশগ্রহণমূলক হলেই আখেরে মঙ্গল হতো।

লিখেছেন
Sangita Ghorai
Sangita Ghorai
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।