নরম হিন্দুত্ব! কেজরিওয়ালের পথেই হাঁটছেন মমতা?

West Bengal Politics Mamata Banerjee: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সফট হিন্দুত্বের দিকে হাঁটছেন তার উজ্জ্বল উদাহরণ হচ্ছে দিঘার জগন্নাথ মন্দির।

Durjoy Barai
৬ মিনিট
নরম হিন্দুত্ব! কেজরিওয়ালের পথেই হাঁটছেন মমতা?

দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের অন্যতম কয়েকটি কারণ ছিলো- ওভার কনফিডেন্স (অতি-আত্মবিশ্বাস), সফট হিন্দুত্ব, মুসলিম ইস্যুতে চুপ থাকা। সেই একই কম্পাস নিয়েই কি লড়াইয়ের ময়দানের দিকে এগোচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস? উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, দিল্লিতে আপের পরামর্শদাতা সংস্থা ছিল আই-প্যাক, বাংলাতেও তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা সেই আই-প্যাক’ই! বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বুদ্ধিবৃত্তিক নির্ভরতা আই-প্যাকের উপর যে যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে তা তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের দিকে নজর দিলেই অনুমান করা যায়। এখানেই প্রশ্ন ওঠে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হেরে যাওয়া ঘোড়া নিয়ে রেসের ময়দানে কেন নামবেন?

২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি ৭০টি আসনের মধ্যে ৬২ আসনে জিতে ক্ষমতায় আসে। ওই বছর ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার দু'সপ্তাহের মাথায় দিল্লি দাঙ্গা হয়৷ দিল্লির আইনশৃঙ্খলা কেন্দ্র সরকারের হাতে থাকায় অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দিকে সরাসরি কোনো প্রশ্নবাণ এসে লাগেনি। তবে দিল্লির সাধারণ জনগণ বিশেষ করে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় দিল্লি দাঙ্গার সময় কেজরিওয়ালের ভুমিকায় ক্ষুদ্ধ হয়েছিলেন। সদ্য জিতে আসা আম আদমি পার্টির প্রতি তাদের আশা ছিল— দাঙ্গা দমনে, শান্তি প্রতিষ্ঠায় কেজরিওয়াল সরকার আরও বেশি সক্রিয়তা দেখাবে, আপের নেতা-কর্মীরা আরও বেশি মাঠে থাকবে। দাঙ্গার কয়েক সপ্তাহ পরেই আরও একটি ঘটনা ঘটে দিল্লিতে। শাহিনবাগের NRC-CAA বিরোধী আন্দোলন উঠিয়ে দেওয়া হয় ২০২০ সালের মার্চের শেষের দিকে। শহিনবাগে মূলত মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরাই বেশি সংখ্যায় ছিলেন। NRC বিরোধী আন্দোলনে আম আদমি পার্টি সক্রিয় ভাবে (প্রতক্ষ বা পরোক্ষ) সমর্থন জানায়নি, পাশে দাঁড়ায়নি। পরিসংখ্যান বলে, ২০২০ সালের দিল্লি নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোট মূলত আপের ঝুলিতে গিয়েছিল। ফলে সংখ্যালঘুদের মধ্যে আশা ছিল, তারা যাঁকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছে— সেই দল তাদের পাশে থাকবে। কিন্তু মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সংখ্যালঘুদের সেই ভাবনায় জল ঢেলে দেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল নিজেই!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিও যদি আমরা দেখি, দিল্লির সঙ্গে মিল খুঁজে পেতে খুব একটা সমস্যা হবে না। মুর্শিদাবাদ দাঙ্গা (সামসেরগঞ্জ-বেলডাঙ্গা-সুতি) নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, পুলিশ-প্রশাসন খবর পাওয়া সত্ত্বেও অনেক পরে ঘটনাস্থলে গিয়েছে। দাঙ্গা বন্ধ করতে দ্রুততার সঙ্গে যে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, রাজ্য সরকার তা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তার সঙ্গে মুসলিমদের কাছে আবেগ ও অধিকারের বিষয় হলো 'ওয়াকফ'। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি গিয়ে 'ওয়াকফ আন্দোলন' করার কথা বলেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসও 'ওয়াকফ' নিয়ে খুব জোড়ালো আন্দোলন করেছে, তেমন ছবিও মুসলিমদের কাছে তুলে ধরা যায়নি। ওবিসি নিয়েও বাংলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। প্রতিশ্রুতি মতো পর্যাপ্ত সংখ্যায় মাদ্রাসা চালু না হওয়া, মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন না পাওয়ার মতো ঘটনাও তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়াচ্ছে। সংখ্যালঘুদের মধ্যে 'উদ্ধারকর্তা' হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে ভাবমূর্তি দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হয়েছিল, সেটিও বর্তমানে নেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এসআইআর: ভোটের আগে 'ব্র‍্যান্ড মমতা'র হাতে চাঁদ?

Mamata Banerjee and the SIR Issue: একদম তৃণমূল স্তরে বার্তা দেওয়ার, সংগঠিত করার সুযোগ পাচ্ছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। একসময় মমতা বন্দোপাধ্যায়ই ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মুখ— 'দিদি মানে প্রতিবাদের প্রতীক।'

দিল্লির রাজনীতিতে 'রাম' যদি বিজেপির হয়, তাহলে 'হনুমান' হচ্ছেন আম আদমি পার্টির। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সফট হিন্দুত্বের দিকে ঝুঁকে পড়া রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। কেজরিওয়ালের পরিচিতি গড়ে উঠেছিল 'হনুমান ভক্ত' হিসেবে। বিভিন্ন মন্দিরে যাওয়া, পুজো দেওয়া, হনুমান চালিশা পাঠ করা, কপালে তিলক কাটা প্রভৃতি কেজরিওয়ালের সেকুলার ভাবমূর্তিতে জোর ধাক্কা দেয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সফট হিন্দুত্বের দিকে হাঁটছেন তার উজ্জ্বল উদাহরণ হচ্ছে দিঘার জগন্নাথ মন্দির। আইনের ফাঁকফোকড় ব্যবহার করে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় মন্দির বানানো— মমতার সেকুলার ভাবমূর্তিতে সবথেকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। তার সঙ্গে মহাকাল মন্দির, দুর্গাঙ্গন করার ঘটনাও সেকুলার ইমেজে ধস নামিয়েছে। আর এই সফট হিন্দুত্বের ভিত্তি তৈরি হয়েছে দুর্গাপূজায় ক্লব গুলিকে লাখ লাখ টাকা দেওয়ায়। বাংলায় বিজেপি যে 'তীব্র' হিন্দুত্বের পথে হাঁটছে তার পাল্টা হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সফট হিন্দুত্বের আমদানি করেছেন, তৃণমূলের সঙ্গে থাকা হিন্দু ভোট যাতে বিজেপির দিকে না যায়, মূলত সেই উদ্দেশ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েছে, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বিপদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে যে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা বিজেপির দিকেই যাবে। সেকুলার ভোট তৃণমূল থেকে সরবে, সংখ্যালঘু ভোটে ভাঙন ধরাবে।

২০২৫ দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবগারি দুর্নীতি মামলায় জেলে যেতে হয়েছিল তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। ধারণা করা হচ্ছিল, জেলে গিয়ে 'শহিদ সম্মান' পেয়ে দিল্লিবাসীর দিল পেয়ে যাবেন। অভ্যন্তরীন সমীক্ষা, বেসরকারি সংস্থার ইনপুট সবকিছু মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ছিলেন ঝাড়ুর মালিক কেজরিওয়াল। সেই বিশ্বাসে ভর করে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন (জেলে থাকা অবস্থায় পদে থেকে সরকার চালিয়ে গিয়েছেন)। জয়ের বিষয়ে আপ এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিল যে কয়েকমাস আগে (২০২৪ লোকসভা) ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক হলেও বিধানসভা নির্বাচনে একা লড়াই করে। অতি আত্মবিশ্বাসী না হলে, হারের সম্ভাবনা নজরে থাকলে বিজেপিকে আটকাতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের পথে অবশ্যই হাঁটতেন, সেটা বেশি আসন ছাড়তে হলেও।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাঙালি অস্মিতাকে চুম্বক করেই ছাব্বিশের লড়াই, একুশের সভায় বুঝিয়ে দিলেন মমতা

Mamata Banerjee: বাঙালি অস্মিতা, বাঙালির অপমানের কথা বলে, বাঙালির অধিকারের প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করিয়ে দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাতের কথা। বাঙালি জাতীয়তাবাদকে চুম্বক করে টান দিতে চাইছেন নারিতে।

২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস একাই ২৫০ আসন পাবে। বহু তৃণমূল নেতা একথা বারংবার বলছেন। শুধু নেতা-কর্মীরা নন, মমতা-অভিষেকও ২৬-এর জয় নিয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত— তা বারংবার তাদের কথায় স্পষ্ট হয়েছে। ২০২১-এর থেকে বেশি আসন জিতবে তৃণমূল একথা স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৬-এর বিধানসভার নির্বাচনের থেকে ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁর বক্তব্যে! তৃণমূল কংগ্রেসের অতি আত্মবিশ্বাস বারংবার প্রকাশ্যে আসছে।

বাংলার প্রধান বিরোধী দল বিজেপির অন্যতম বড় অস্ত্র হতে পারে তৃণমূল কংগ্রেসের ওভার কনফিডেন্স (অতি আত্মবিশ্বাস)। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ী হওয়ার অন্যতম একটি কারণ ছিল তাদের দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ভয়, যে বিজেপ ক্ষমতায় চলে আসতে পারে। বিজেপি সেই সময়ে যে রাজনৈতিক হাওয়া (পরিবেশ) তৈরি করেছিল তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ফুল ফর্মে এসে 'খেলেছেন', নিজস্ব ক্যারিশমায় তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের মাঠে নামাতে পেরেছিলেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেস যদি ২৬-এ অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে যায়, তাহলে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অতি সক্রিয় ভাবে মাঠে না থাকার সম্ভাবনা তৈরি হবে। যা বিজেপিকে বাড়তি অক্সিজেন দেবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদির ক্ষমতার উৎস‍! আজ কালো টাকা তত্ত্বকেই নাকচ করছে বিজেপি?

Modi Once Promised to End Black Money: গত দশ বছরে কত টাকা বিদেশে গিয়েছে, তার কোনো সরকারি হিসাব নেই। ফলে কালো টাকার যে তত্ত্বকে কেন্দ্র করে এত রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছিল, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য আজও অধরা।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি তার টার্গেট পূরণ করতে পারেনি। কিন্তু তার পর থেকে একের পর এক রাজ্য জয় করে চলেছে। গেরুয়া শিবিরের বিভিন্ন পদক্ষেপ দেখলে এটা স্পষ্ট হওয়া যায়, ২৪-এর লোকসভা নির্বাচননের পর আরএসএস-এর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়েছে বিজেপি। বিশেষ করে মহারাষ্ট্র-দিল্লিতে এর ব্যাপক প্রভাব দেখা গিয়েছে। অন্তরালে থেকেই দিল্লি-মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনে কাজ করেছে সঙ্ঘ পরিবার। লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী সময় বাংলাতেও আরএসএস-এর সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে নজরকাড়ার মতো! বঙ্গ বিজেপিও ২১ সালের মতো 'হাওয়া গরম' করার পথে এগোচ্ছে না। আদি ও নব্য বিজেপির সমন্বয় বৃদ্ধিও চলছে। এর পাল্টা হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তেমন কোনো বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন— এমন ছবি দেখা যাচ্ছে না। তৃণমূলের কোনো অন্তরালের সংগঠন নেই, যে আরএসএস-কে টেক্কা দেবে। তবে ২০২১ সালে 'নো ভোট টু বিজেপি', বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিরোধী নেত্রী ছিলেন সেই সময়ে বিভিন্ন নকশাল-আধা নকশালপন্থী সংগঠন তাঁর হয়ে কাজ করেছিল, ২৬ এগিয়ে আসলেও এমন কোনো বিষয় এখনও দেখা যাচ্ছে না।

২০২০-তে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে আপ ভরসা রেখেছিলে পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের উপর। প্রশান্ত কিশোরের তৈরি এই সংস্থা কেজরিওয়ালের জন্য ইস্যু বাছাই, প্রচার কৌশল, সার্ভে ইত্যাদির কাজ করে। তবে তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি অরবিন্দের। বাংলাতেও তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য কাজ করে আই-প্যাক সংস্থাটি। তৃণমূল কংগ্রেসকে বুদ্ধি দেওয়া, ইস্যু বাছাই করা, প্রার্থী বাছাইয়ে সাহায্য করা, প্রচার কৌশল ইত্যাদির কাজ তারা করে। আই-প্যাকের প্রতিষ্ঠাতা (বর্তমানে নেই) প্রশান্ত কিশোর বিহারে নিজের দল তৈরি করেছেন এবং হেরেছেন। রাজনীতির হিসেব বলছে বিহারে প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ আসলে কংগ্রেস-আরজেডিদের মহাগঠবন্ধনকে ক্ষতি করেছে এবং বিজেপি-জেডিইউদের এনডি-এ জোটকে সুবিধা করে দিয়েছে।

এবার একটু ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের দিকে তাকানো যাক। যদি প্রশ্ন করা হয়, লোকসভা নির্বাচন কোন ইস্যুর উপর হয়েছিল? শুরুতেই মাথায় আসবে বিজেপির '৪০০ পার' স্লোগানের কথা। একটি রাজনৈতিক দলের টার্গেট কেন নির্বাচনের ইস্যু হতে পারে? তারপরেও এই স্লোগানই ২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে মূল প্রভাব ফেলেছিল, ভোট হয়েছিল 'বিজেপিই জিতবে, বিরোধীরা শক্তিশালী না' ধারণার উপর। কিন্তু ৪০০ আসন জেতা যে কোনো ব্যাপারই না, সেই কথাটি কে প্রথম বলেছিলেন? অমিত শাহ? নরেন্দ্র মোদি? বিজেপি নেতারা তো বলবেনই, সেটা 'হাওয়া' তৈরি করতে যথেষ্ট নয়। নাকি এমন কোনো ব্যক্তি— যার রাজনৈতিক জ্ঞান-প্রজ্ঞা আছে, ক্রেডিবিলিটি আছে? প্রশান্ত কিশোর ২৪-এর ভোট মরশুমের শুরতেই বলেছিলেন বিজেপি একাই (এনডিএ জোট নয়) ৩০০-র বেশি আসন পাবে। কিশোরের এই প্রেডিকশন বিজেপিই জিতছে 'হাওয়া'কে পোক্ত করেছিল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এত অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তিনি কি এই বিষয়গুলো জানেন না? তিনি কি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের যাত্রাপথ সম্পর্কে অবগত নন? তার পরেও সেই একই পথে হাঁটা কেন? নাকি এখনও বড় কোনো চমক বাকি? উত্তর সময় বলবে।

লিখেছেন
Durjoy Barai
Durjoy Barai
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।