কেন ঢাকায় ফের তলব ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় বর্মাকে?

Bangladesh has summoned Indian High Commissioner Pranay Verma: ভিসা পরিষেবা বন্ধ, পাল্টা তলব, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ— সব মিলিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্কে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

inscript
৩ মিনিট
কেন ঢাকায় ফের তলব ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় বর্মাকে?

ঢাকায় আবারও তলব করা হয়েছে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় বর্মাকে। মঙ্গলবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হয় তাঁকে। কারণ একটাই,ভারতের বিভিন্ন শহরে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলির নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে একের পর এক বিক্ষোভ, উত্তেজনা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর বাংলাদেশ মনে করছে, তাদের মিশন ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা আর নিশ্চিত নেই।

নয়াদিল্লি, কলকাতা, আগরতলা ও শিলিগুড়ির মতো জায়গায় বাংলাদেশের হাইকমিশন বা সহকারী কনস্যুলেটের সামনে প্রতিবাদ, স্লোগান এবং কোথাও কোথাও বিশৃঙ্খলার ছবি সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার বিষয়টিকে হালকা ভাবে নিতে নারাজ। তাই সরাসরি কূটনৈতিক পথে উদ্বেগ জানানো হয়েছে ভারত সরকারকে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট দেশের দায়িত্ব। ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো দেশই অন্য দেশের দূতাবাস বা কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদাসীন থাকতে পারে না। বাংলাদেশের অভিযোগ, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি সেই দায়িত্ব পালনে ঘাটতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এক রাতের সহিংসতায় যে ভয়াবহতা দেখল বাংলাদেশ

Bangladesh Witnesses Night of Unprecedented Violence: ডেইলি স্টারের ক্রীড়া সাংবাদিক একুশ তরফদার ইনস্ক্রিপ্ট-কে বলেন, "আমরা এখন নিরাপদ থাকলেও আমরা সবাই ট্রমাটাইজড। আমাদের মানসিক অবস্থা ভালো নেই।"

এই ঘটনার প্রভাব শুধু কূটনৈতিক স্তরেই সীমাবদ্ধ নেই। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের জেরে ইতোমধ্যেই ভারতের কয়েকটি শহরে বাংলাদেশ মিশনের কনসুলার পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে ভিসা, পাসপোর্ট বা নাগরিক পরিষেবা নিতে এসে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগেও তার প্রভাব পড়ছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই নিয়ে চলতি মাসেই দ্বিতীয়বার প্রণয় বর্মাকে তলব করল ঢাকা। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে তৈরি হওয়া এক ধরনের টানাপড়েনের লক্ষণ। কূটনৈতিক মহলের একাংশ এও মনে করছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার রেশ সরাসরি প্রভাব ফেলছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উপর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে বাংলাদেশ মিশনগুলিকে ঘিরে যে বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে কেবল কূটনৈতিক কারণ নয়, রাজনৈতিক আবেগ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা তথ্য-ভিত্তিক বা ভ্রান্ত প্রচারেরও ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু কারণ যাই হোক না কেন, তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে কূটনৈতিক সম্পর্ককে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলাদেশ গণঅভ্যুত্থান থেকে রাজনীতিতে আসা ওসমান হাদি কে?

Osman Hadi: ব্যক্তিগত জীবনে শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন একজন শিক্ষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।

বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট করেছে, তারা সংঘাত নয়, সমাধান চায়। তলবের উদ্দেশ্য কোনো হুমকি দেওয়া নয়, বরং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সেই নিশ্চয়তা চাওয়া। ঢাকার বক্তব্য, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক এই ধরনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।

ভারতের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, বিষয়টি তারা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কূটনৈতিক স্থাপনাগুলির নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত সরকারও চায়, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার পথ খোলা থাকুক।

তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, এই মুহূর্তে সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। ভিসা পরিষেবা বন্ধ, পাল্টা তলব, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ— সব মিলিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্কে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের জন্য যা মোটেই স্বস্তির নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন রাজনৈতিক সংযম, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং দুই দেশের সরকারের মধ্যে নিয়মিত ও খোলামেলা আলোচনা। কারণ ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল কাগজে-কলমের কূটনীতি নয়, এই সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সীমান্ত, বাণিজ্য, নদী, অভিবাসন এবং কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন।

ঢাকায় প্রণয় বর্মাকে তলব করার ঘটনা সেই বাস্তবতাকেই আবার মনে করিয়ে দিল। এটি স্পষ্ট করে দিল যে, কূটনৈতিক নিরাপত্তা কোনো ছোট বিষয় নয় এবং এর সঙ্গে আপস করার জায়গা নেই। একই সঙ্গে এই ঘটনাই দেখিয়ে দিল, দুই দেশের সম্পর্ক এখন এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সামান্য অসাবধানতাও বড় কূটনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

এখন দেখার বিষয়, এই তলবের পর ভারত ও বাংলাদেশ কী ভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়। উত্তেজনা কমিয়ে সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, নাকি অনাস্থার দেওয়াল আরও উঁচু হয়।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।