বাংলায় এসআইআর ২০২৫: বিজেপির অনুপ্রবেশ দাবি আর তথ্য যা বলছে

SIR 2025 in West Bengal: বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে বলে এসেছে, সংখ্যালঘু-প্রধান সীমান্ত জেলাগুলিতে বেশি অনথিভুক্ত মানুষ রয়েছেন। কিন্তু এসআইআর-এর তথ্য বলছে ঠিক উল্টো, এই জেলাগুলিতেই বৈধ নথি থাকা মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

Aparna Bhattacharya
৫ মিনিট
বাংলায় এসআইআর ২০২৫: বিজেপির অনুপ্রবেশ দাবি আর তথ্য যা বলছে

ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর অধীনে যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে, তা রাজ্যের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি বহুল প্রচলিত রাজনৈতিক বয়ানকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে।

২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান ভোটারদের তথ্য যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এই প্রক্রিয়ার ফলাফল কার্যত ভেঙে দিচ্ছে বিজেপির দীর্ঘদিনের প্রচার— যেখানে সংখ্যালঘু-প্রধান সীমান্ত এলাকাগুলিকে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ বা ‘রোহিঙ্গা’ ভোটারের ঘাঁটি হিসেবে দেখানো হয়।

রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। গ্রামীণ সংখ্যালঘু জনসংখ্যাই রাজ্যের সবচেয়ে বেশি নথিভুক্ত ও প্রামাণ্য নাগরিক গোষ্ঠী। বরং তথাকথিত ‘নাগরিকত্ব সংকট’ এখন কেন্দ্রীভূত হয়েছে হিন্দু শরণার্থী এবং শহুরে শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর উপর।

২০২৫ সালের এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটারদের নামকে পুরনো নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে বলা হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকেই মূল ভিত্তি ধরা হয়েছে।

যাঁরা পুরনো তালিকার সঙ্গে নিজেদের নাম মিলিয়ে দেখাতে পারছেন না, তাঁদের ‘নো ম্যাপিং’ বিভাগে রাখা হচ্ছে। এতে তাঁদের ভোটার হওয়ার যোগ্যতা প্রমাণ করতে বাড়তি কাগজপত্র জমা দিতে হচ্ছে এবং শুনানিতে হাজির হতে হচ্ছে। একই সঙ্গে যাঁরা অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত বা একাধিকবার তালিকাভুক্ত— তাঁদের নাম ‘ASD’ বিভাগে আলাদা করে বাদ দেওয়া হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর২০২৫-এর প্রাথমিক বিশ্লেষণ থেকে উঠে আসা পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে তুলে ধরা হলো।

সংখ্যালঘুরাই সবচেয়ে বেশি নথিভুক্ত

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ‘অবৈধ অভিবাসী’ নিয়ে প্রচলিত ধারণাটি পরিসংখ্যানের সঙ্গে মিলছে না। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে বলে এসেছে, সংখ্যালঘু-প্রধান সীমান্ত জেলাগুলিতে বেশি অনথিভুক্ত মানুষ রয়েছেন। কিন্তু এসআইআর-এর তথ্য বলছে ঠিক উল্টো, এই জেলাগুলিতেই বৈধ নথি থাকা মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
“আমাদের নাম কি বাদ পড়বে?”: এসআইআর আতঙ্কে উত্তরবঙ্গের রাজবংশীরা

Rajbanshi Anxiety Over SIR: কোচবিহারে রাসমেলা উত্তরবঙ্গ এবং আসামের মানুষের সবথেকে বড় মিলনস্থল, সেই মেলা জুড়ে এবার যেমন নজরকাড়া ছিল এসআইআরের প্রচার, তেমন ছিল এ অঞ্চলের আবেগের শিল্পী জুবিন গার্গের ছবি আর তাঁর গান।

মুর্শিদাবাদ জেলার তথ্যেই বিষয়টি সবচেয়ে পরিষ্কার। বাংলাদেশ সীমান্তে থাকায় এই জেলা রাজনৈতিক আলোচনায় বারবার উঠে আসে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সীমান্তে থাকা বা সংখ্যালঘু জনসংখ্যা বেশি হওয়া—এর কোনোটাই নথির ঘাটতির কারণ নয়। মুসলিম-প্রধান অনেক বিধানসভা কেন্দ্রে ‘নো ম্যাপিং’ হার খুবই কম। যেমন, ডোমকল (৭৭.৬৭% মুসলিম) কেন্দ্রে নো ম্যাপিং মাত্র ০.৪২%, রানিনগরে (৭৫.৪০% মুসলিম) ০.৯১% এবং হরিহরপাড়ায় (৭৪.৯৬% মুসলিম) ০.৬০%।

এই তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, কৃষিভিত্তিক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বহু পুরনো বসবাসের ইতিহাস ও প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে। তাই ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে তাঁদের নাম মিলিয়ে নেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, যেখানে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা বেশি, সেখানে নথির অভাবে বাদ পড়ার হার আরও কম। ফলে ‘অবৈধ অভিবাসী’ বলে যে ধারণা ছড়ানো হয়, তার কোনও সংখ্যাগত ভিত্তি নেই।

মতুয়া: শরণার্থীদের ভোটাধিকার সংকট

সবচেয়ে বেশি ‘নো ম্যাপিং’ দেখা যাচ্ছে মতুয়া-প্রধান বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে। সীমান্ত এলাকার এই দলিত শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করেই বিজেপির রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়েছে।

নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার ১৭টি মতুয়া-প্রধান আসনের তথ্য বলছে, এখানে গড় নো ম্যাপিং হার ৯.৪৭%, যা রাজ্যের গড় হার ৪.০৫%-এর তুলনায় অনেক বেশি। এই কেন্দ্রগুলিতে তফসিলি জাতির জনসংখ্যা বেশি (গড়ে ৩৬.৩৯%), কিন্তু সংখ্যালঘু জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম (মাত্র ১৩.৬৬%)।

তথ্য থেকে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা, যা মতুয়া সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, সেখানে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা মাত্র ৭.৬১% হলেও নো ম্যাপিং হার ১৪.৫১%, অর্থাৎ ৩৮,৪৯০ জন ভোটারের নাম মিলছে না। পাশের বাগদা তফসিলি জাতি আসনেও একই চিত্র, সংখ্যালঘু জনসংখ্যা ১১.৯৭%, কিন্তু নো ম্যাপিং ১২.৬৯% (৩৬,৫৬৭ ভোটার)।

এর কারণ হলো, ২০০২ সালের কাট-অফের পরে আসা বা পরে নির্যাতনের কারণে দেশ ছেড়ে আসা বহু হিন্দু শরণার্থীর কাছে প্রয়োজনীয় পুরনো নথি নেই। ফলে এসআইআর প্রক্রিয়া শরণার্থী জীবনকেই এক ধরনের পরীক্ষার মধ্যে ফেলছে। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন সেই মানুষরাই, যাঁদের সুরক্ষার কথা বলে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) আনা হয়েছিল।

এই তথ্য থেকে একটি বড় রাজনৈতিক অসংগতি সামনে আসে। বিজেপি যাঁদের ‘বহিরাগত মুসলিম অনুপ্রবেশকারী’ বলে থাকে, বাস্তবে তারা নয়, বরং ১৯৭১-এর পর আসা হিন্দু শরণার্থীরাই এসআইআরের পুরনো নথির শর্তে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। মতুয়া শরণার্থীদের ক্ষেত্রে ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে নাম মেলানোর নিয়ম কার্যত নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি করছে, যা বিজেপির CAA দিয়ে সুরক্ষা দেওয়ার দাবির সঙ্গে মেলে না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'সভ্যতা' থেকে বিচ্ছিন্ন আজও | টোটোপাড়ায় এসআইআর যে প্রশ্ন তুলছে

Totopara fears sparked by SIR: ধনঞ্জয় টোটো বলেন, আমরা ভোট দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি, আমরা হিন্দু নই, তবু আমাদের হিন্দু সাজানো হচ্ছে! এটা এক নতুন বিপদ টোটোদের কাছে।

ভুয়ো ভোটার বাতিলের অভিযান

সীমান্ত এলাকার বাইরে, পশ্চিমবঙ্গের শহর ও শিল্পাঞ্চলে বড় শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। এর মূল কারণ অর্থনৈতিক কারণে মানুষের আসা-যাওয়া, নাগরিকত্ব নয়। তথ্য বলছে, কলকাতায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার হার গ্রামীণ জেলার তুলনায় অনেক বেশি।

কলকাতার বাণিজ্যিক এলাকা জোড়াসাঁকোতে ৩৬.৮৫% ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। চৌরঙ্গীতেও একই চিত্র, সেখানে ৩৫.৪৬% ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে, অর্থাৎ দুই এলাকাতেই এক-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটার আর তালিকায় নেই।

জেলাস্তরেও একই চিত্র, কলকাতা উত্তরে ২৫.৯৩% এবং কলকাতা দক্ষিণে ২৩.৮৩% ভোটার বাদ পড়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, এখানে ধর্মের কোনো ভূমিকা নেই। সংখ্যালঘু কম থাকা এলাকা যেমন শ্যামপুকুর বা রাসবিহারী হোক, কিংবা সংখ্যালঘু বেশি থাকা কলকাতা পোর্ট ও বালিগঞ্জ, সব জায়গাতেই অনেক ভোটারের নাম বাদ পড়ছে। এতে বোঝা যায়, সমস্যার মূল কারণ ধর্ম নয়, শহরের মানুষের ঘন ঘন স্থানবদল।

এর প্রভাব আসন্ন নির্বাচনেও পড়তে পারে। যদি অনেক অনুপস্থিত বা ডুপ্লিকেট নাম একসঙ্গে বাদ যায়, তাহলে শহরের আসনগুলিতে প্রকৃত ভোটার সংখ্যা অনেক কমে যাবে। এর ফলে ভোটের হার এবং জয়ের ব্যবধানও বড়ভাবে বদলে যেতে পারে।

শিল্পাঞ্চলে উল্টো অভিবাসনের ছাপ

শিল্পাঞ্চলগুলিতে, বিশেষ করে যেখানে হিন্দিভাষী পরিযায়ী শ্রমিক বেশি, সেখানে উল্টো অভিবাসনের স্পষ্ট ছবি দেখা যাচ্ছে। এসব এলাকায় একদিকে নো ম্যাপিং হার মাঝারি থেকে বেশি, আবার অন্যদিকে অনেক ভোটারের নাম তালিকা থেকেও বাদ পড়ছে। এতে বোঝা যায়, এটি সীমান্ত বা নাগরিকত্বের সমস্যা নয়, বরং কাজের খোঁজে মানুষের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে যাওয়ার ফল।

ব্যারাকপুর-হাওড়া শিল্প অঞ্চলে এই চিত্র সবচেয়ে স্পষ্ট। এখানে পাটকল, ছোট কারখানা, নির্মাণ শ্রম আর ভাড়াবাড়ির সংখ্যা বেশি। বালিতে প্রায় ১৯.৫১% ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং ১৭.৮১% নো ম্যাপিংয়ে পড়েছে। হাওড়া উত্তরে এই হার ২৬.৯৫% ও ১২.৪২%। ভাটপাড়ায় ২০.৩৮% ও ৯.৩%, আর আসানসোল উত্তরে ১৪.৭১% ও ৮.৭৪%, সব এলাকাতেই পরিসংখ্যানের একই রকম ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।

কলকারখানা বন্ধ হওয়া, নির্মাণ প্রকল্প শেষ হওয়া ও বাড়তি ভাড়ার চাপে শ্রমিক পরিবারগুলি এলাকা ছাড়ছে। ফলে বহু ভোটার ‘স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত’ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ঠিকানায় বসবাসের কারণে বহু পুরনো ভোটার ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে পারছেন না। এর ফলেই শিল্প ও যাতায়াত-নির্ভর এলাকাগুলি এসআইআর প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক ধাক্কার মুখে পড়েছে।

ধর্ম নয়, লক্ষ্য ‘অবৈধ নাগরিক’ চিহ্নিতকরণ

সব মিলিয়ে এসআইআর— ২০২৫ ধর্মের পরীক্ষা নয়, স্থায়িত্বের পরীক্ষা। তথ্য স্পষ্ট জানাচ্ছে, নো ম্যাপিং বেশি হচ্ছে শহরের মানুষ ও শরণার্থীদের ক্ষেত্রে, সংখ্যালঘু জনসংখ্যার কারণে নয়। বরং সংখ্যালঘু-প্রধান এলাকাতেই নথির সমস্যা সবচেয়ে কম। যাঁরা বাস্তুচ্যুত হয়ে নথি হারিয়েছেন বা ঘন ঘন স্থানান্তরিত হন, তাঁরাই সবচেয়ে বেশি চিহ্নিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, স্থিতিশীল গ্রামের মানুষদের নাগরিকত্ব আরও দৃঢ়ভাবে বৈধতা পাচ্ছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাই লড়াইয়ের চেহারা বদলে গিয়েছে। প্রশ্ন আর শুধু কে ভোট দেবে, তা নয়, কে নিজেকে ভোটার হিসেবে প্রমাণ করতে পারবে, সেটাই মূল বিষয়। আর তথ্য বলছে, যাঁদের ‘বহিরাগত’ বলা হয়, তাঁরা এরাজ্যেরই দীর্ঘদিনের স্থায়ী বাসিন্দা।

(মূল প্রতিবেদনটি প্রাথমিক ভাবে দ্য ওয়্যার-এ প্রকাশিত হয়েছিল।)

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।