সোনম ওয়াংচুক গ্রেফতার জাতীয় নিরাপত্তা আইনে! কী এই আইন?

Sonam Wangchuk Arrested Under National Security Act: বিচ্ছিন্নতাবাদী, দুবৃত্তদের বিরুদ্ধে অতীতে বারবার ব্যবহৃত এই আইন সরকারকে শান্তিভঙ্গকারী বলে চিহ্নিতদের বিরুদ্ধে আগেভাগে ব্যবস্থা নেওয়ার এক্তিয়ার দেয়।

inscript
৩ মিনিট
সোনম ওয়াংচুক গ্রেফতার জাতীয় নিরাপত্তা আইনে! কী এই আইন?

লাদাখের রাজ্যের মর্যাদা এবং ষষ্ঠ তফসিলের অধীনে সুরক্ষা দাবির আন্দোলনের পুরোভাগে থাকা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) লেহ পুলিশ কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (এনএসএ) গ্রেফতার করেছে। তাঁর স্ত্রীর দাবি, তাঁকে যোধপুরের একটি জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বুধবারের সহিংস প্রতিবাদে পুলিশ গুলি চালালে লাদাখে চারজন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়। এই অবস্থায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সোনমের সংস্থার লাইসেন্স বাতিল করে। তাঁকে গ্রেফতার করে। এনএসএ ভারতের সবচেয়ে কঠোর আইনগুলির একটি।

অতীতে বিচ্ছিন্নতাবাদী, দুর্বৃত্ত, উগ্র মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত এই আইন সরকার রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করেছে। শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই এই আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন লাদাখে ছয় বছরের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হঠাৎ হিংসার রূপ নিল?

Ladakh Unrest 2025: এ কথা পরিষ্কার, লে-লাদাখের বাসিন্দারা কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বীতশ্রদ্ধ হয়েই আইন ভাঙছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক মিডিয়ায় সোনাম ওয়াংচুককে সন্ত্রাসবাদী বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ভারতে এই আইনপ্রয়োগের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ঔপনিবেশিক সময় থেকে শুরু হয়েছে প্রতিরক্ষামূলক গ্রেফতারি আইনের ব্যবহার। স্বাধীনতার পর সংসদে ১৯৫০ সালে এই আইন পাস করা হয়, তারপর ১৯৭১ সালে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষণাবেক্ষণ আইন আনা হয় (মিসা), যা জরুরি অবস্থায় অপব্যবহারের জন্য কুখ্যাত। মিসা ১৯৭৮ সালে বাতিল হয়, এবং দু'বছর পর জাতীয় নিরাপত্তা আইন চালু হয়।

১৯৮০ সালের এনএসএ কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলিকে এই আইনে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করার ক্ষমতা দেয়, যাতে তারা ভারতের প্রতিরক্ষা, বিদেশী সম্পর্ক, নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটাতে না পারে, অত্যাবশ্যক সরবরাহের ক্ষতি করতে না পারে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ কমিশনাররাও এই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন।

ফৌজদারি আইনের তুলনায় এনএসএ কিছুটা আলাদা। এই আইন আগাম প্রতিরক্ষামূলক, শাস্তিমূলক নয়— এটি ক্ষতিকর কাজ প্রতিহত করার জন্য কবচ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লাদাখ আর কিছু দিন, দায় কার?

Ladakh: অতিমারির আগে লাদাখে এত পর্যটকের আনাগোনা ছিল না। অতিমারি শেষ হওয়ার পর থেকে ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এনএসএ-র উদ্দেশ্য নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং অত্যাবশ্যক সরবরাহ বন্ধ হওয়া আটকাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। এনএসএ-র অধীনে সন্দেভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওয়ার‍্যান্ট জারি করা যায়। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা, অন্য রাজ্যে স্থানান্তরিত করা এবং সরকারী শর্তাবলী মেনে চলতে বাধ্য করা যায়।

আইন অনুসারে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে ৫ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সরকারের তরফে গ্রেফতার হওয়ার কারণ জানাতে হবে। উচ্চ আদালতের বিচারকদের উপদেষ্টা বোর্ড তিন সপ্তাহের মধ্যে মামলা পর্যালোচনা করে, 'পর্যাপ্ত কারণ' না পেলে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে হবে। এই গ্রেফতারির মেয়াদ সাধারণত ১২ মাসের বেশি হতে পারে না। এই আইনে সরকার 'জনস্বার্থে' তথ্য গোপন করতে পারে।

এখন সোনম চাইলে এই ওয়ারেন্ট চ্যালেঞ্জ করতে পারেন, অথবা তিন সপ্তাহের মধ্যে উপদেষ্টা বোর্ডের পর্যালোচনার অপেক্ষা করতে পারেন। আর বোর্ড যদি 'পর্যাপ্ত কারণ' না পায়, তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

বিকল্প রাস্তাও আছে, সোনম সংবিধানের ২২৬/৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে গ্রেফতারির বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। সরকার নিজেও তাকে মুক্তি দিতে পারে। তবে এই আইন আদালতে প্রমাণ দাখিল ব্যতীতই একজন ব্যক্তিকে আটক করার ক্ষমতা দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

২০২৩ সালে উগ্র শিখ প্রচারক অমৃতপাল সিং, 'ওয়ারিস পাঞ্জাব দে'র নেতা, এনএসএ-র অধীনে আটক হয়ে অসমের ডিব্রুগড় জেলে স্থানান্তরিত হন। ২০১৭ সালে ভীম আর্মি প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ 'রাভান' উত্তরপ্রদেশে এনএসএ-তে অভিযুক্ত হন। সুপ্রিম কোর্টে মামলা পৌঁছানোর পর আদেশ বাতিল হয়, এবং ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। ২০২০ সালের সিএএ-বিরোধী প্রতিবাদে উত্তরপ্রদেশে বেশ কয়েকজন প্রতিবাদকারী এনএসএ-তে অভিযুক্ত হন।

বহু সামাজিক সংগঠন এনএসএ-র অপব্যবহারের কথা বারবার উল্লেখ করেছে। ২০২০ সালে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কাফিল খান উত্তরপ্রদেশ সরকারের দ্বারা উস্কানিমূলক ভাষণের অভিযোগে এনএসএ-তে গ্রেফতার হন। এলাহাবাদ হাইকোর্ট তাঁর মুক্তির নির্দেশ দেয়। মধ্যপ্রদেশে 'লাভ জিহাদ' মামলায় এবং উত্তরপ্রদেশে সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনায় বারবার এনএসএ ব্যবহার হয়েছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।

রামলীলার সভার জন্য ক্ষতি হয়েছে ছোট দোকানদারদের, কতটা প্রচার, কতটা সত্যি?

loss claim for Ramlila rally: রামলীলা ময়দানের সমাবেশ ঘিরে ছোট দোকানদারদের ‘২.৫ লক্ষ দোকান বন্ধ’ ও ‘১০-১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি’র দাবি আসলে, দিল্লির ব্যবসায়ী সংগঠন সিটিআই-এর অনুমান আসলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের হিসাবের ভিত্তিতে করা হয়েছে। বিজেপি-কংগ্রেস পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এই সংখ্যাগুলি এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার।