আখলাক লিঞ্চিং মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ! রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি বৃন্দা কারাটের

Akhlaq Lynching Case: বৃন্দা কারাটের অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশ সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আখলাক লিঞ্চিং মামলাটি প্রত্যাহারের চেষ্টা করছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় রাজ্যপাল আনন্দীবেন পটেল লিখিত অনুমতি দিয়েছেন।

inscript
২ মিনিট
আখলাক লিঞ্চিং মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ! রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি বৃন্দা কারাটের

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে উত্তরপ্রদেশের দাদরি এলাকার বিসাহাদা গ্রামে মোব লিঞ্চিংয়ের ঘটনাটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং ভারতের গণতন্ত্র, সংবিধান ও আইনের শাসনের উপর এক গভীর প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছিল। গরুর মাংস রাখার সন্দেহে নিজের বাড়িতে মোহাম্মদ আখলাককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। গুরুতরভাবে আহত হন তাঁর ছেলে দানিশও। দেশজুড়ে তখন ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঢেউ ওঠে, সরকার আশ্বাস দেয় দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। সেই ঘটনার এক দশক পর আবারও এই মামলাটি জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রে।

এই প্রেক্ষাপটেই সিপিআই(এম) নেত্রী ও প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ বৃন্দা কারাট রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে চিঠি লিখে সরাসরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। বৃন্দা কারাটের অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশ সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আখলাক লিঞ্চিং মামলাটি প্রত্যাহারের চেষ্টা করছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় রাজ্যপাল আনন্দীবেন পটেল লিখিত অনুমতি দিয়েছেন। বৃন্দা কারাটের মতে, এটি শুধু অন্যায় নয়, সম্পূর্ণভাবে বিচার ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন আখলাক হত্যার মামলা প্রত্যাহার চায় যোগী সরকার?

Akhlaq lynching case: যোগী প্রশাসন বলছে, গ্রামে সামাজিক শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য মামলাটি প্রত্যাহার জরুরি। সমালোচকদের মতে, এই যুক্তি বিপজ্জনক কারণ এটি ভবিষ্যতের হামলাকারীদের কাছে ভুল বার্তা ছড়াবে।

চিঠিতে বৃন্দা কারাটের উল্লেখ করেছেন, আখলাক হত্যাকাণ্ডের মামলায় ইতোমধ্যেই চার্জশিট দাখিল হয়েছে এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০২২ সালে নিহতের কন্যা, যিনি প্রত্যক্ষদর্শী, আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে সমস্ত অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেছেন। অর্থাৎ মামলায় প্রমাণ আদালতে নথিভুক্ত হয়েছে এবং আরও দু'জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য নেওয়া বাকি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মামলাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া বিচার ব্যবস্থার প্রতি চরম অবমাননা বলেই মনে করছেন তিনি।

বৃন্দা কারাটের অভিযোগ, সরকার যে যুক্তিগুলি তুলে ধরছে— যেমন বন্দুক নয়, লাঠি ব্যবহার করা হয়েছে; নিহতের সঙ্গে অভিযুক্তদের ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না; মামলা চললে সাম্প্রদায়িক অশান্তি তৈরি হতে পারে, এই সবই আইনের চোখে অগ্রহণযোগ্য। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে প্রসিকিউশন ইচ্ছাকৃত ভাবে মামলাটি ঝুলিয়ে রেখেছে, সাক্ষীদের হাজিরার নোটিস দেয়নি এবং এখন সেই বিলম্বকেই মামলা প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এটি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩২১ ধারার সুস্পষ্ট অপব্যবহার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদি জামানায় তুঙ্গে ধর্মের বিদ্বেষ! যেভাবে বেড়েছে হাড়হিম করা অপরাধ

Crimes in Modi Govt: বিজেপি শাসিত রাজ্যে দাঙ্গা তো হয়ই, খোদ প্রশাসনই ধর্মীয় সংঘাতগুলিকে উস্কেও দেয়। চোখের সামনে রয়েছে, মণিপুর এবং হরিয়ানার নুহ'র ঘটনা।

চিঠির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে কারাত প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যপালের সাংবিধানিক ভূমিকা নিয়ে। তাঁর মতে, যদি সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও মব লিঞ্চিংয়ের মতো গুরুতর অপরাধের মামলা প্রত্যাহারের পথে হাঁটে, তবে কি গভর্নরের দায়িত্ব নয় সরকারকে সেই সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখতে পরামর্শ দেওয়া? সংবিধান ও আইনের শাসন রক্ষা করা কি রাজ্যপালের মৌলিক কর্তব্য নয়? কারাত সতর্ক করেছেন, যদি এই মামলা প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে একই যুক্তি দেখিয়ে সব মব লিঞ্চিং মামলাই বন্ধ করার বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।

এই কারণেই তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে তিনি হস্তক্ষেপ করে রাজ্যপালকে তাঁর দেওয়া অনুমতি প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেন। বৃন্দা কারাট স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতির দ্বারা নিযুক্ত এবং সাংবিধানিকভাবে তাঁর কাছেই জবাবদিহি করেন। ন্যায়বিচারের স্বার্থে রাষ্ট্রপতির এই হস্তক্ষেপ জরুরি বলেই তিনি মনে করেন।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গভর্নরের অনুমোদনে সরকারের দাখিল করা অ্যাফিডেভিট নিয়ে ১২ ডিসেম্বর আদালতে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রসিকিউশনের অনুরোধে সেই শুনানি স্থগিত হয়েছে। ফলে আখলাক লিঞ্চিং মামলা আবারও এক অনিশ্চিত আইনি ও রাজনৈতিক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে।

এই ঘটনাপ্রবাহ শুধু একটি পরিবারের ন্যায়বিচারের লড়াই নয়, বরং ভারতের বিচারব্যবস্থা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা এবং মব হিংসার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের অবস্থান নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, যার উত্তর এখন রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?