কোবিন্দের উত্তরসূরি খুঁজতে ভোট ১৮ জুলাই, কী ভাবে হয় দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন?

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভোটের দিন ঘোষণা করে দিল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন যে দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে তাতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে ভোটগ্রহণ হবে ১৮ জুলাই। আর ভোটের গণনা হবে ২১ জুলাই। ৫ বছরের মেয়াদকাল থাকে একজন রাষ্ট্রপতির। সেদিক থেকে দেখলে বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের মেয়াদকাল শেষ হতে চলেছে। আর এই মেয়াদকাল শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ২৪ জুলাই। সুতরাং তার আগেই নয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জরুরি। সেই কারণে ১৮ জুলাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এই ভোটে দেশের মানুষ প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেবেন না। তাঁদের হয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন এবং এই ভোটের দ্বারা বেছে নেওয়া হবে দেশের ১৬ তম প্রেসিডেন্টকে। ভারতীয় সংবিধানের ৬২তম অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিদায়ী রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে তৈরি হওয়া শূন্যপদ বিদায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষের আগেই নির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ৬০ দিনের মধ্যে জারি করতে হবে নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভোটের দিন ঘোষণা করে দিল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন যে দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে তাতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে ভোটগ্রহণ হবে ১৮ জুলাই। আর ভোটের গণনা হবে ২১ জুলাই। ৫ বছরের মেয়াদকাল থাকে একজন রাষ্ট্রপতির। সেদিক থেকে দেখলে বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের মেয়াদকাল শেষ হতে চলেছে। আর এই মেয়াদকাল শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ২৪ জুলাই। সুতরাং তার আগেই নয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জরুরি। সেই কারণে ১৮ জুলাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এই ভোটে দেশের মানুষ প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেবেন না। তাঁদের হয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন এবং এই ভোটের দ্বারা বেছে নেওয়া হবে দেশের ১৬ তম প্রেসিডেন্টকে। ভারতীয় সংবিধানের ৬২তম অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিদায়ী রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে তৈরি হওয়া শূন্যপদ বিদায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষের আগেই নির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ৬০ দিনের মধ্যে জারি করতে হবে নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি

ভারতের রাষ্ট্রপতি পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতির সাহায্যে বিশেষ নির্বাচকমণ্ডলীর দ্বারা নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুসারে ভারতের প্রথম নাগরিক রাষ্ট্রপতি। সংবিধানের ৫৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী তিনি একটি পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী দ্বারা গঠিত নির্বাচক সংস্থা কর্তৃক হস্তান্তরযোগ্য সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের নীতিতে নির্বাচিত হন।

কারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন?

মূলত ইলেক্টোরাল কলেজের সদস্যদের দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদের উভয় কক্ষের নির্বাচিত সদস্য এবং দিল্লি ও পুদুচেরির পাশাপাশি সমস্ত রাজ্যের আইনসভার নির্বাচিত সদস্যদের ভোটদানের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। রাজ্যসভা, লোকসভা ও বিধানসভার মনোনীত সদস্যরা এবং বিধান পরিষদের সদস্যরা ভোট দিতে পারবেন না। সুতরাং, ইলেক্টোরাল কলেজে ৫৪৩ জন লোকসভার সাংসদ, ২৩৩ জন রাজ্যসভার সাংসদ এবং ৪,১২০ জন বিধায়ক রয়েছেন। ইলেক্টোরাল কলেজে ১০,৯৮,৯০৩ ভোট রয়েছে।

ইলেক্টোরাল কলেজ ফর্মুলা

ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ইলেক্টোরাল কলেজ ফর্মুলা নামে একটি পদ্ধতি মেনে চলা হয়। এর অর্থ হল, একজন সাংসদ বা বিধায়কের প্রতিটি ভোটের মূল্য ১-এর বেশি। প্রতিটি ভোটের মূল্য সংশ্লিষ্ট জনসংখ্যার উপর নির্ভর করে এই মূল্য নির্ধারিত হয়। একজন সাংসদের প্রতিটি ভোটের মূল্য হল ৭০৮। কোনও নির্দিষ্ট রাজ্যের প্রতিটি ভোটের মূল্য বের করতে, রাজ্যের জনসংখ্যাকে তার বিধানসভার বিধায়কের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করতে হয়। পরে সেই ভাগফলকে ১ হাজার দিয়ে ভাগ করতে হয়। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় উত্তরপ্রদেশ বিধায়ক সবচেয়ে বেশি এবং সবচেয়ে বেশি জনবহুল। সেখানে ভোটের মূল্য ২০৮। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সমস্ত সাংসদ ও বিধায়করা ভোটার। প্রত্যেক রাজ্যের ১৯৭১ সালের জনসংখ্যার ভিত্তিতে সেই রাজ্যের সাংসদ, বিধায়কদের ভোটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সেই ফর্মুলায় উত্তরপ্রদেশের ভোটের মূল্য সবচেয়ে বেশি। সবচেয়ে কম সিকিমের।

কীভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়?

সংবিধানে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে। অনুচ্ছেদ ৫৫ (৩) ধারা অনুসারে, একক ভোটদানের মাধ্যমে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব মেনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই ব্যবস্থায়, ভোটারকে প্রার্থীদের নামের পাশে চিহ্নিত করে মতামত জানাতে হয়।

ভোটদাতারা একাধিক প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। তবে, একাধিক প্রার্থীকে ভোট দিলে প্রথম পছন্দ কে, সেটাও ভোটদানের সময় জানাতে হয়। তবেই ব্যালট পেপার বৈধ হয়। এক্ষেত্রে বাকি পছন্দগুলোকে ঐচ্ছিক হিসেবে ধরা হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি পাঁচ জন প্রার্থী থাকে, তাহলে ভোটার পাঁচ জনকেই ভোট দিতে পারেন। কিন্তু, প্রথম পছন্দ কে তা উল্লেখ করতে হবে। তবেই ভোট বৈধ হবে। আর, ভোটার যদি একজনকেই ভোট দেন, তবে তো কথাই নেই।

আরও পড়ুন-মুসলিম বিশ্বের চাপে বেকায়দায় ভারত, সামাল দিতে কী অস্ত্র মোদি-শাহর?

কে জিতলেন?

প্রতিটি ভোটের আলাদা গুরুত্ব থাকে। প্রতিটি বিধায়কের ভোটের মান নির্ধারিত হয়, রাজ্যের মোট জনসংখ্যাকে বিধায়কের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে, তাকে আরও ১,০০০ দিয়ে ভাগ করার পর যে ফল বের হয়, সেই ফল অনুযায়ী। সেই কারণে, রাজ্য অনুযায়ী বিধায়কদের ভোটের গুরুত্ব পরিবর্তিত হয়। যেমন উত্তরপ্রদেশের একজন বিধায়কের ভোটের মূল্য ২০৮, সেখানে সিকিমের একজন বিধায়কের ভোটের মূল্য ৭।

বিধানসভাগুলোয় এই ভোটের মূল্য যোগ করে দেখা হয় যে তার পরিমাণ ৫.৪৩ লক্ষ।

সংসদের ২টি কক্ষের জন্যও সেই রকমই ভোটের বরাদ্দ থাকে। সংসদের উভয় কক্ষে মোট ৭৭৬ জন সাংসদ রয়েছেন। তাই প্রতিটি সাংসদের ভোটের মূল্য দাঁড়ায় ৫.৪৩ লক্ষ ভাগ ৭৭৬। যার ফলাফল হয় ৭০০। বিধানসভা এবং সংসদের ২টি কক্ষ মিলিয়ে মোট ভোটের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০.৮৬ লক্ষ। যিনি সবচেয়ে বেশি ভোট পান, তিনিই বিজয়ী ঘোষিত হন।

প্রার্থী হওয়ার জন্য কাদের নাম ভাসছে?

বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আদিবাসী মহিলা মুখ সামনে আনতে চাইছে তারা। সেক্ষেত্রে ওড়িশার আদিবাসী নেত্রী ও ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন রাজ্যপাল দ্রৌপদী মুর্মুর নাম রয়েছে সবার আগে। এছাড়াও আরেক আদিবাসী মহিলার নাম ঘুরছে রাজনীতির অলিন্দে। তিনি হলেন ছত্তিসগঢ়ের বর্তমান রাজ্যপাল অনসূয়া উইকে। আরেক মহিলা মুখ হিসেবে উঠে আসছেন উত্তরপ্রদেশের বর্তমান রাজ্যপাল তথা গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আনন্দী বেন প্যাটেল। অন্য নামগুলির মধ্যে সবার আগে উঠে আসছে কেরলের রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খানের নাম। অন্যদিকে বিরোধীদের তরফেও কয়েকটি নাম ঘোরাফেরা করছে। তাতে সবার আগে রয়েছে মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ার। এছাড়াও জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন রাজ্যপাল করণ সিংয়ের নামও উঠে আসছে।

More Articles

;