এবার মহাকাশে বিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন! যে অসাধ্য সাধনের চেষ্টা করছে চিন

China Space Power Station: কীভাবে মহাকাশে শক্তি সংগ্রহ করা যাবে আর তা কীভাবেই বা পৃথিবীতে আসবে? মহাকাশ থেকে তো কোনও পাইপের বা তারের মাধ্যমে তা পৃথিবীতে পাঠানো যাবে না।

inscript
২ মিনিট
এবার মহাকাশে বিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন! যে অসাধ্য সাধনের চেষ্টা করছে চিন

প্রযুক্তি ও কৌশলগত বিষয়ে সারা বিশ্বকে হামেশাই তাক লাগিয়ে থাকে চিন। সাধারণ চোখে যা অদ্ভুতুড়ে, বিস্ময়কর এমন সমস্ত কিছুই বাস্তব করে দেখিয়েছে এই দেশ। অভাবনীয় প্রকল্পের তালিকায় সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে একটি বিশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা। তবে এই ধরাধামে নয়। চিন মহাকাশে তৈরি করতে চলেছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র! এই প্রকল্পটিকে পৃথিবীর উপর নির্মিত থ্রি গর্জেস বাঁধ নির্মাণের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। থ্রি গর্জেস ড্যাম হচ্ছে একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র যা মধ্য চিনের হুবেই প্রদেশের ইচাং-এর সানডুপিংয়ের কাছে ইয়াংজি নদীর উপর তৈরি। ক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম বিদ্যুৎ কেন্দ্র (২২,৫০০ মেগাওয়াট) থ্রি গর্জেস বাঁধটি নদীর অববাহিকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণের উপর নির্ভর করে প্রতি বছর গড়ে ৯৫±২০ টন বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

জীবাশ্ম জ্বালানি ক্রমহ্রাসমান। আর সেই জ্বালানি ব্যাপক জলবায়ু সংকটও ঘটাচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন থেকেই পরিবেশবিদরা, চিন্তাবিদরা সৌরশক্তির মতো পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির আরও বেশি ব্যবহার করার উপায় নিয়ে কাজ করছেন। গত কয়েক দশকে সৌরশক্তি নিয়ে ব্যাপক উন্নতিও হয়েছে। তবে আরেকটি বিষয়ে কাজ চলছে। চেষ্টা হচ্ছে সৌর প্যানেলগুলিকে সূর্যের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার। মহাকাশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির ধারণাটিও বেশ কিছুকাল ধরেই চর্চায় রয়েছে। এই ধরনের কেন্দ্রের সুবিধা হচ্ছে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে যে সৌররশ্মি প্রতিফলিত ও শোষিত হয়ে যায়, তার পরিমাণ কমে যাবে। সৌরপ্যানেলগুলি আরও বেশি শক্তি সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সূর্যের গায়েও রয়েছে বড় ‘ডার্কস্পট’, হদিশ পেল নাসা, কারণ জানলে চমকে যাবেন আপনিও

Solar Observatory : পালানি পাহাড়ের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত কোডাইকানাল সোলার অবজারভেটরি থেকে নতুন করে ধরা হয়েছে সবচেয়ে বড় সানস্পটকে

যদি সত্যিই সৌরপ্যানেলগুলি পৃথিবীর চারপাশে ঘুরতে পারে, স্থায়ীভাবে সূর্যালোক সংগ্রহ করতে পারে, তাহলে পৃথিবীতে সৌরশক্তি আরও বেশি ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু কীভাবে মহাকাশে শক্তি সংগ্রহ করা যাবে আর তা কীভাবেই বা পৃথিবীতে আসবে? মহাকাশ থেকে তো কোনও পাইপের বা তারের মাধ্যমে তা পৃথিবীতে পাঠানো যাবে না। চিন অবশ্য 'ওয়ারলেস' পদ্ধতিতেই তা পৃথিবীতে পাঠানোর কথা ভাবছে। উচ্চ-শক্তির রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে মাটিতে স্থাপিত রিসিভারগুলিতে সৌরশক্তি ফেরত ফেরত পাঠানো হবে।

একটি নতুন লং মার্চ-৯ (CZ-9) পুনঃব্যবহারযোগ্য সুপার-হেভি রকেটের মাধ্যমে চিন কক্ষপথে নানা যন্ত্র নিয়ে যাবে। এই রকেটের সাহায্যেই, চিন মহাকাশচারীদের চাঁদে নিয়ে যাওয়ারও উদ্দেশ্যও কাজ শুরু করবে শিগগিরই বলে আশা করছে। রকেট বিজ্ঞানী এবং চাইনিজ আকাডেমি অফ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সদস্য লং লেহাও জানিয়েছেন, পৃথিবী থেকে ৩৬,০০০ কিমি উপরে একটি জিওস্টেশনারি কক্ষপথে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হবে। এই কাজটি সম্পূর্ণ হলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পৃথিবীর মানুষদের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। জানা যাচ্ছে, এক বছরে সংগৃহীত সৌরশক্তি পৃথিবী থেকে উত্তোলিত তেলের মোট পরিমাণের সমতুল্য হবে।

প্রকল্পটি কবে শুরু হবে বা কতদিনে শেষ হবে তা নিয়ে বিশদ তথ্য দেয়নি চিন। আইসল্যান্ড, যুক্তরাজ্যের কোম্পানি স্পেস সোলারের সঙ্গে মিলে ২০৩০ সালের মধ্যে এমনই একটি প্রকল্পের পরিকল্পনা করেছে। ২০৩৬ সালে একটি আপগ্রেড পাওয়ার স্টেশনও তৈরি হবে যা ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ শক্তি সংগ্রহ করতে পারবে সূর্য থেকে। তাত্ত্বিকভাবে বিষয়টি দুর্দান্ত মনে হলেও বিজ্ঞানীরা কতখানি দক্ষভাবে পৃথিবীতে সৌরশক্তি স্থানান্তর করতে পারেন সেটাই এখন প্রশ্ন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।