যে সঙ্গমে ডুব দিচ্ছেন ভক্তরা, সেই গঙ্গার জল কতটা দূষিত? চমকে দেবে এই তথ্য

Mahakumbh Ganga Pollution 2025: ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুসারে, যে ভক্তরা জলে ডুব দিতে চলেছে তাদের জলের গুণমান সম্পর্কে জানানো উচিত ছিল। তবে সেই নির্দেশ স্বাভবিকভাবেই মানা হয়নি।

inscript
৩ মিনিট
যে সঙ্গমে ডুব দিচ্ছেন ভক্তরা, সেই গঙ্গার জল কতটা দূষিত? চমকে দেবে এই তথ্য

মহাকুম্ভ মেলা চলছে। হিসেব বলছে, উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে আয়োজিত এই মেলাতে এবার মানুষ আসবেন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন! এত মানুষ গঙ্গাস্নানও করবেন। 'পাপ' ধুয়ে ফেলবেন গঙ্গা নদীর জলে। গঙ্গা সেই পাপসমেত জল নিয়ে এগিয়ে চলবে সাগরের দিকে। তবে সেই পাপের চেয়েও ঢের বেশি কলুষ ইতিমধ্যেই গঙ্গার জলে বর্তমান। যে গঙ্গজল নিয়ে পবিত্রতার এত কাহিনি, সেই গঙ্গার জলকে কতখানি পরিচ্ছন্ন রেখেছে মানুষ? যে জলকে পবিত্র ভেবে মানুষ ডুবে যাচ্ছেন, পাপক্ষয়ী জলে অবগাহন করছেন সেই জলের গুণমান কেমন? ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুসারে, যে ভক্তরা জলে ডুব দিতে চলেছে তাদের জলের গুণমান সম্পর্কে জানানো উচিত ছিল। তবে সেই নির্দেশ স্বাভবিকভাবেই মানা হয়নি। আর মানা হলেও কতজন তাতে সতর্ক হতেন সেটাও বড় প্রশ্ন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরের নির্দেশিকায় ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল বলেছিল, মহাকুম্ভের সময় প্রয়াগরাজে পর্যাপ্ত পরিমাণে গঙ্গার জল থাকা উচিত এবং এর গুণমান পানের এবং স্নানের জন্য উপযুক্ত হওয়া উচিত। মকর সংক্রান্তির সময় এই উত্সবে বিশাল জনসমাগম হয়েছে। প্রয়াগরাজের চারপাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে লক্ষ লক্ষ ভক্ত এসেছেন। তা সত্ত্বেও গঙ্গার ছোট স্রোতগুলি পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়নি।

সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের রিয়েল-টাইম ওয়াটার কোয়ালিটি মনিটরিং সিস্টেম অনুসারে, ১৪ জানুয়ারি, সংক্রান্তির দিনে দুপুর ২টোর মধ্যে প্রয়াগরাজ সঙ্গমে গঙ্গার জলে বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (BOD) মাত্রা দাঁড়ায় প্রতি মিলিলিটারে চার মিলিগ্রাম। থাকা উচিত প্রতি মিলিলিটারে ৩ মিলিগ্রাম। যত বেশি মাত্রা বিওডি, তার মানে জলে তত বেশি জৈব পদার্থের ঘনত্ব। অর্থাৎ যত বেশি জৈব পদার্থের ঘনত্ব, সেই জলের গুণমান তত খারাপ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৪৫০ মিলিয়ন মানুষের বর্জ্য! কুম্ভমেলা সামলাচ্ছেন সেই 'অস্পৃশ্য' সাফাইকর্মীরাই

Mahakumbh 2025: এবারের মহাকুম্ভে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন মানুষ আসছেন বলে আশা করা হচ্ছে। আর তাঁদের বর্জ্য পরিষ্কার করেন তাঁদেরই সহনাগরিকরা।

উত্তরপ্রদেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড অনুসারে, সংগঠিত স্নানের জন্য ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতি লিটারে ৩ মিলিগ্রামের বেশি হওয়া উচিত নয় এই বিওডি। নদীতে জলপ্রবাহের উন্নতির জন্য অবিরাম জল নিষ্কাশন সত্ত্বেও এই ফলাফল যথেষ্ট উদ্বেগজনক। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ড্রেন বা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে পয়ঃনিষ্কাশন সঠিকভাবে কাজ করছে না।

ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল এর আগে আদেশ দিয়েছিল, ভক্তদের ২৪ ঘণ্টা অনলাইনে গঙ্গার জলের রিয়েল-টাইম গুণমান সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। এই উদ্দেশ্যে তৈরি করা সাসটেইনেবিলিটি অফ রিভার গঙ্গা ওয়াটার নামক প্ল্যাটফর্মটিও কাজ করছে না। উত্তরপ্রদেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের ওয়েবসাইটেও কেবল ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত জলের গুণমানের তথ্য উল্লিখিত আছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নাগা সন্ন্যাসী কারা! রহস্যে ভরা এদের সাধনার পদ্ধতি জানলে শিউরে উঠতে হয়

Naga Sadhu: মহিলা নাগা সন্নাসিনী সম্পূর্ণ নগ্ন থাকেন না। শরীরে সেলাইবিহীন একটুকরো হলুদ রঙের কাপড় জড়িয়ে রাখতে হয় তাঁদের।

২০১৯ সালেও প্রয়াগরাজের কুম্ভে জলের গুণমান অত্যন্ত খারাপ ছিল। সেবার কুম্ভমেলায়, ১৩০.২ মিলিয়ন মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। তখনও মকরস্নানের দিন সন্ধ্যার তুলনায় সকালে বিওডি মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। যমুনা নদীতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক থাকলেও জলের pH, বিওডি, এবং কলিফর্ম মাত্রাছাড়া ছিল। গঙ্গার উপনদীগুলির মধ্যে কালী নদী ছিল সবচেয়ে দূষিত। সঙ্গমে, যেখানে ভক্তরা মূলত স্নান করেন, কুম্ভের সময় সেখানে জল মারাত্মক দূষিত ছিল।

সঙ্গমে গঙ্গার জলের গুণমান প্রতিদিন দু'বার মাপা হয়- সকাল ও সন্ধ্যায়। দেখা গেছে, সকালে, গঙ্গার জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক ছিল কিন্তু pH, বিওডি এবং কলিফর্মের মত্রা ছিল বেশি।সন্ধ্যাতেও বিষয়টি একই। আর স্নানের দিনে, সঙ্গমে বিওডি মাত্রা সকালের তুলনায় সন্ধ্যায় যথেষ্ট বেশি ছিল। মহাশিবরাত্রি এবং এর পরবর্তী দিনগুলিতে জলে কলিফর্মের মাত্রা সকালে এবং সন্ধ্যায় মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

নদীতে জলের পরিবাহিতা সাধারণত প্রতি সেন্টিমিটারে ১০০ থেকে ১,০০০ মাইক্রোসিয়েমেন। বর্তমানে, সঙ্গমে জলের পরিবাহিতা প্রতি সেন্টিমিটারে ৭০৪ মাইক্রোসিয়েমেন। যা যথেষ্ট ভালো। তবে জলের পরিবাহিতা কমে গেলেই জলের গুণমান আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।