শ্রীলঙ্কার মতোই অবস্থা হবে পাকিস্তানের! কেন অন্ধকারে ডুবে গোটা দেশ?

বর্তমান সময় যে পরিস্থিতির মাঝে দাঁড়িয়ে রয়েছে গোটা পাকিস্তান, তা যেন সংকটের চিত্র স্পষ্ট করে তুলেছে। ভবিষ্যতে পাকিস্তানের হাল শ্রীলঙ্কার মতো হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

Sayan Das
৩ মিনিট
শ্রীলঙ্কার মতোই অবস্থা হবে পাকিস্তানের! কেন অন্ধকারে ডুবে গোটা দেশ?

যে কোনও দেশে সরকারের ওপর নির্ভর করে তাদের প্রতিটি মানুষের সুরক্ষা এবং সমৃদ্ধি। দেশের অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো নিয়ন্ত্রণে সরকারি ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয় দেশবাসীকে। অর্থনৈতিক, খাদ্য, বিদ্যুৎ-সহ অন্যান্য একাধিক ক্ষেত্রে সংকটের মাঝে জেরবার হয়ে ওঠে প্রতিটি মানুষ। সরকারের ব্যর্থতা মানুষকে কী পরিমাণ দুর্দশার সামিল করতে পারে, তার উদাহরণ পাওয়া গিয়েছিল কয়েক মাস পূর্বেই। স্থান শ্রীলঙ্কা; সরকারপক্ষের ব্যর্থতার কারণে ভয়ংকর ক্ষতির মুখোমুখি হয়ে পড়ে গোটা দেশবাসী। অর্থ, খাদ্য, ওষুধ ও বিদ্যুৎ-সহ অন্যান্য একাধিক সংকটে জীবন অতিবাহিত করাই মুশকিল হয়ে পড়ে সমগ্র শ্রীলঙ্কাবাসীর পক্ষে। মুদ্রাস্ফীতির কারণে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া দাম, প্রয়োজনীয় খাদ্য এবং ওষুধ সরবরাহে টান-সহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তাদের। স্বভাবতই এই ঘটনায় পথে নামে বহু মানুষ এবং পরবর্তীকালে ইস্তফা দিতে হয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজাপক্ষকে। এবার সেই পথেই কি অগ্রসর হলো পাকিস্তানও?

বর্তমানে এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নেপথ্যে কারণ কী? বর্তমান সময় যে পরিস্থিতির মাঝে দাঁড়িয়ে রয়েছে গোটা পাকিস্তান, তা যেন সংকটের চিত্র স্পষ্ট করে তুলেছে। ভবিষ্যতে পাকিস্তানের হাল শ্রীলঙ্কার মতো হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সম্প্রতি যে সমস্যাটি পাকিস্তানজুড়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তা হল বিদ্যুৎ সংকট। যে-কোনও দেশের বুকে বিদ্যুৎ বা ইলেকট্রিসিটি হলো এমন একটি বিষয়, যা ভেঙে পড়লে সমগ্র দেশের চিত্র ভয়ংকর থেকে ভয়ংকরতর হয়ে ওঠে। বর্তমানে পাকিস্তানের হাল অনেকটা সেরকমই। আসলে দেশজুড়ে জ্বালানির অভাব এতটাই সংকটজনক হয়ে উঠেছে যে, যথাযথ পরিমাণে তৈরি হতে পারছে না বিদ্যুৎ এবং সেই কারণেই বর্তমানে দিনের অধিকাংশ সময় অন্ধকার গ্রাস করেছে গোটা দেশকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সারাদিন প্রায় অন্ধকারে ডুবে রয়েছে মানুষ। স্বভাবতই, এর ফলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকী, সংবাদমাধ্যম সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত কোনও কোনও স্থানে দিনে প্রায় ১২ ঘণ্টার অধিক সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্বভাবতই, এই ব্ল্যাকআউটে ব্যাহত হয়ে পড়ে বহু পরিষেবা এবং ভবিষ্যতে সেই সংকট আরও বৃহত্তর হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

প্রসঙ্গত, বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে জুড়ে থাকে দেশের অন্যান্য একাধিক পরিষেবা। ব্ল্যাকআউট সমস্যার কারণে অফিস, স্কুল-কলেজ এবং হাসপাতালের মতো স্থানগুলিতে ব্যাহত হয় সকল ব্যবস্থা। পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মানুষ। তবে আচমকা এই বিভ্রাটের কারণ কী? সাম্প্রতিক কালে পাকিস্তানজুড়ে ক্রমশই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে জ্বালানি ব্যবস্থা। বিগত বেশ কয়েকদিন ধরে জ্বালানি বিভ্রাট দেখা গিয়েছিল দেশজুড়ে আর বর্তমানে তার পরিমাণ ক্রমশই শেষ হয়ে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে বিগত একমাস ধরে বেশ কয়েকটি কড়া পদক্ষেপ নিতে দেখা গিয়েছে পাকিস্তান সরকারকে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী পদে বসে শাহবাজ শরিফ বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পালাতে বাধ্য হয়েছেন রাষ্ট্রপতি, জ্বলছে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি! কেন এমন হল শ্রীলঙ্কায়?

শুধুমাত্র গোটাবায়া ব্র্যান্ডের উপরে ভরসা করে নয়, সঠিকভাবে কাজ করতে হবে শ্রীলঙ্কা সরকারকে। বৃদ্ধি করতে হবে করের হার।

১. সরকারের দ্বারা দেশের সমস্ত অফিস এবং কাজের জায়গাগুলিতে work from home শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে অফিসের সকল কর্মচারীদের বাড়িতে থেকে কাজ করতে নির্দেশ দেয় পাকিস্তান সরকার।

২. বর্তমানে বিভিন্ন বিয়েবাড়ি কিংবা অন্যান্য সব অনুষ্ঠান রাত দশটার আগেই শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে এবং তার পরবর্তী সময় যে কোনও অনুষ্ঠান করতে নিষেধ করেছে শাহবাজ শরিফের দল।

৩. একাধিক জায়গায় রাস্তায় রাস্তায় আলো বন্ধ করে রাখার নির্দেশ দেয় প্রশাসন, যাতে কোনও স্থানেই বিদ্যুতের অপচয় না ঘটে। এসি, হিটার, এয়ারকুলার-সহ অন্যান্য যন্ত্রের ব্যবহার কমাতে আর্জি জানানো হয়। এছাড়াও, আলো এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধ করতে নির্দেশ দেয় পাক সরকার।

যদিও পাকিস্তান সরকারের এসব পদক্ষেপ সত্বেও ঠেকানো যায়নি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যা আর সেই কারণেই গোটা দেশ দিনের অধিকাংশ সময় অন্ধকারে ডুবে রয়েছে বলে খবর। বিশেষ করে লাহোর এবং পাঞ্জাব প্রদেশের মতো স্থানগুলিতে এই সমস্যা আরও বৃহত্তর রূপ ধারণ করেছে। তবে শুধু বিদ্যুৎ সংকটই নয়, পাকিস্তানের অর্থনীতির পরিস্থিতিও ক্রমশ তলানিতে পৌঁছেছে। বলে রাখা ভালো, অর্থনৈতিক সংকট মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে যে কোনও দেশের পরিকাঠামো একপ্রকার ধ্বংসের মুখে পড়ে। এক্ষেত্রে পাকিস্তানে মুদ্রাস্ফীতির কারণে খাদ্য সংকট ভয়ংকর রূপ ধারণ করার ফলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বেড়ে চলেছে, যা নিয়ে জেরবার হয়ে পড়েছে দেশবাসী। পেট্রোল-ডিজেল-সহ জ্বালানির দাম বহু পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে, আবার অপরদিকে শাহবাজ শরিফের দলের কোষাগারও প্রায় ফাঁকা হতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে দেশের পরিস্থিতির কী করে উন্নতিসাধন ঘটানো যায়, তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গিয়েছে সব মহল। ফলে আগামী কয়েক দিনে পাকিস্তানের হাল যদি শ্রীলঙ্কার মতো হয়, তবে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না এবং বর্তমানে খাদ্য ও বিদ্যুৎ সংকট যেন সেই ইঙ্গিত দিয়ে চলেছে।

লিখেছেন
Sayan Das
Sayan Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।