রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে শেষ হাসি হাসবে বিজেপি-বিরোধীরা? যে সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী শিবিরের প্রার্থী হিসেবে একাধিক নাম ভেসে উঠেছে। তবে এনসিপি সুপ্রিমো শারদ পাওয়ার, কাশ্মীরি পণ্ডিত করণ সিং, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন।

Kanad Dasgupta
৩ মিনিট
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে শেষ হাসি হাসবে বিজেপি-বিরোধীরা? যে সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে

কথাবার্তায় যতই 'ডোন্ট কেয়ার' ভাব দেখানো হোক, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে নিশ্চিতভাবেই গভীর উৎকন্ঠায় রয়েছে পদ্ম-শিবিরের শীর্ষ স্তর। বিজেপি-র এই 'অকুতোভয়' ভাব প্রদর্শনকে নেহাতই যুদ্ধকৌশল হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। এর কারণ একটাই। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের 'ভোটারদের' একটি হিসেব সামনে এসেছে‌। তাতে দেখা যাচ্ছে, এই মুহূর্তে বিজেপির পক্ষে রয়েছে মোট ভোটের ৪৮.৯ শতাংশ। ওদিকে বিরোধী শিবিরের হাতে আছে ৫১.১ শতাংশ ভোট‌। দু'তরফের ভোটের ব্যবধান ২.২ শতাংশ। দেশের প্রথম নাগরিক নির্বাচনের পাটিগণিত বলছে বিজেপি-বিরোধী শিবির ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে বিজেপি বা এনডিএ প্রার্থীকে সামান্য ব্যবধানে হারতে হতে পারে‌।

আর বিজেপির এই দুর্বলতার সুযোগ নিতেই চাঙ্গা হয়ে উঠেছে দেশের বিজেপি-বিরোধী শিবির‌। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দিল্লিতে আগামী সপ্তাহেই বৈঠকে বসছে বিরোধী দলগুলি। এই বৈঠকে যোগ দিতে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সূত্রের খবর মঙ্গলবারই দিল্লি যেতে পারেন তৃণমূল নেত্রী।

বিরোধী দলগুলি ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রার্থী বাছাই করার কাজ সহজ নয়। আজ পর্যন্ত কোনও ইস্যুতেই বিজেপি-বিরোধী শিবির ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেনি‌। বিজেপিকে পরাস্ত করার বিষয়টি 'কমন' হলেও অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছনোর পথ নিয়ে বিরোধীদের মতান্তরের জেরে প্রতিবারই লাভবান হয়েছে বিজেপিই। এই মুহূর্তে দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিরোধীদের ভোট ভাগাভাগির কল্যাণেই রাজ করছে বিজেপি। অথচ সব বিরোধী দলেরই লক্ষ্য এবং প্রচারের মূল বিষয় ছিল বিজেপিকে হারানো। নিন্দুকরা বলে বিরোধী শিবিরে এমন বহু দল রয়েছে, যেগুলি আসলে বিজেপি-রই 'ছায়া' সংগঠন। এই ধরনের দলগুলির নেতা-নেত্রীরা বছরভর বিজেপির অপশাসনের বিরুদ্ধে গর্জন করেন, 'বিজেপিমুক্ত' ভারত গঠনের দাবি তোলেন, মাঠে- ময়দানে দাঁড়িয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের জীবন্ত অবস্থাতেই চিতায় তোলেন। বিজেপি-বিরোধী 'ফায়ারব্র্যান্ড' দল হিসেবে গোটা দেশেই স্বীকৃতি মেলে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোবিন্দের উত্তরসূরি খুঁজতে ভোট ১৮ জুলাই, কী ভাবে হয় দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন?

ভারতীয় সংবিধানের ৬২তম অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিদায়ী রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে তৈরি হওয়া শূন্যপদ বিদায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষের আগেই নির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ৬০ দিনের মধ্যে জারি করতে হবে নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি।

কিন্তু যখনই বিজেপি অস্বস্তিতে পড়ে, তখনই এরা নানা বিচিত্র অথবা সেই মুহূর্তে অপ্রাসঙ্গিক অভিযোগ তুলে সংসদের ভেতরে বা বাইরে বিরোধী শিবিরে ফাটল লাগিয়ে দেয়। আর সেই ফাঁক গলে বেরিয়ে যায় পদ্ম-শিবির। পক্ষান্তরে বিজেপিও নীরবে এই দলগুলির এবং সেই সব দলের নেতা-নেত্রীদের নানা ধরনের স্বার্থ রক্ষা করে।

ফলে ধরে নেওয়া যায়, রাষ্ট্রপতি ভোটে একমত হয়ে বিরোধীদের প্রার্থী দেওয়া যেমন সহজ কাজ নয়, তেমন এটাও ঠিক, নিজেদের প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে বিরোধী শিবিরে ফাটল ধরানোরও মরিয়া চেষ্টা চালাবে বিজেপি৷ এখন মুখে যাই বলা হোক, বাস্তবে বিরোধী শিবির এক হয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিতেই ব্যর্থ হবে। ওদিকে তথাকথিত বিরোধী দলের একাংশ প্রকাশ্যে অথবা গোপনে এনডিএ প্রার্থীকেই সমর্থন করবে। তাই যতই মনে হোক, এই নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত, বাস্তবে তেমন হওয়ার আশা প্রায় নেই বললেই চলে। সরল পাটিগণিত এবং ভোটের অঙ্ক কোনওকালেই এক ছিল না। এবারও অঙ্ক মেলার সম্ভাবনা কম। এই ফাঁক ভরাট করার কাজ বিজেপি প্রায় সেরে ফেলেছে বলেই জানা যাচ্ছে‌। অসমর্থিত সূত্রে জানা গিয়েছে, ওড়িশা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের দুই শাসক দল, যথাক্রমে নবীন পট্টনায়েকের বিজেডি এবং ওয়াই এস জগন্মোহন রেড্ডির ওয়াইএসআর কংগ্রেসের সঙ্গে প্রাথমিক কথা সেরে ফেলেছে বিজেপি। এনডিএ প্রার্থীকে সমর্থনের আশ্বাসও নাকি নবীন-রেড্ডির কাছ থেকে পেয়ে গিয়েছে বিজেপি‌।

পাশাপাশি তেলেঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের দল টিআরএস-এর সমর্থন মিলবে না ধরে নিয়েও কথা চালাচ্ছে বিজেপি তথা এনডিএ। প্রসঙ্গত, শেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল ২০১৭ সালে। সেই নির্বাচনে প্রায় ৬৫% ভোট পেয়ে রাইসিনা হিলসে পা রাখেন এনডিএ প্রার্থী রামনাথ কোবিন্দ। কিন্তু বিজেপির সেই দিন এখন আর নেই। দুই নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে বিজেপির হাতছাড়া হয়েছে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড রাজ্যের শাসনক্ষমতা। এছাড়া মধ্যপ্রদেশ এবং কর্নাটকে বিজেপি হেরেছে, যদিও অন্য দল ভাঙিয়ে দুই রাজ্যেই সরকার চালাচ্ছে গেরুয়া বাহিনী৷ তাই বলা যায়, কোবিন্দের পাওয়া ৬৫% ভোট এবার বিজেপি প্রার্থীর কপালে জুটবে না।

এদিকে বিরোধী শিবিরের আশার আলো, কংগ্রেস চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী প্রার্থী নিয়ে ফোনে এক দফা আলোচনা সেরেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। জানা গিয়েছে, বিরোধী শিবিরের প্রার্থী বাছাই করার ভার দিয়ে সোনিয়া মমতাকে অনুরোধ করেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে৷ সোনিয়া গান্ধী প্রার্থী বাছাই করার ভার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়ার পিছনেও যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে। সোনিয়া জানেন, কংগ্রেস উদ্যোগ নিয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করলে বিরোধী শিবিরের একাধিক দল তা পছন্দ না-ও করতে পারে‌। কারণ, ওই দলগুলি কংগ্রেসেরও বিরোধী। অপরদিকে, মমতা প্রায় সব দলের কাছেই গ্রহণযোগ্য। তাই মমতার উদ্যোগ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি। সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইস্যুতে আলোচনার জন্য সোনিয়া গান্ধীকে বিরোধীদের বৈঠক ডাকতে বলেছেন। দিল্লিতেই এই বৈঠক হবে। শোনা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহে তাই দিল্লি যেতে পারেন মমতা।

এদিকে জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী শিবিরের প্রার্থী হিসেবে একাধিক নাম ভেসে উঠেছে। তবে এনসিপি সুপ্রিমো শারদ পাওয়ার, কাশ্মীরি পণ্ডিত করণ সিং, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। আগামী সপ্তাহের বিরোধী-বৈঠকেই বিরোধী প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লিখেছেন
Kanad Dasgupta
Kanad Dasgupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

২৩ দিনের অনশন থেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন, রাজপথই নেহা বোরার হয়ে ওঠার সাক্ষী

Neha Bora: ২৩ দিন ধরে অনশন করে যেমন তিনি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।